মতিউর রহমান মল্লিক রচনাবলী স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ -ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

সমকালীন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্বতন্ত্র ধারার প্রবর্তক কবি মতিউর রহমান মল্লিক। গীতলতাকে ধারণ করে তিনি কবিতায় আধুনিক শব্দচয়ন, উপমায় শেকড়ের ডাক, ঐতিহ্যের অনুসন্ধান এবং বিষয়বস্তু নির্বাচনে বিশ্বাস ও মানবতাকে ঠাঁই দিয়েছেন অবলীলায়। শিল্পের জন্য শিল্পচর্চা, যৌনতা বা অশ্লীলতা কিংবা নারীদেহের রসালো বর্ণনা ছাড়াই মননশীল কবিতা রচনার মাধ্যমে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় মতিউর রহমান মল্লিক তা প্রমাণ করে গেছেন। কবিতার প্রতিটি শব্দ বাক্য উপমা উৎপ্রেক্ষা আঙ্গিক নির্মাণ সবকিছুতেই তিনি মননশীলতার পথে হেঁটেছেন। তৈরি করেছেন নিজস্ব কাব্যভাষা- যা একজন কবির জন্য অপরিহার্য বিষয়। তাঁর কাব্যভাষার যে আধুনিকতা, শব্দের তৎসমতা ব্যবহাররীতি, নন্দিত শব্দের উৎসারণ সবকিছু তাঁর নিজস্ব ঢঙে। সমকালীন ছড়াকারদের মধ্যেও অন্যতম ছড়াশিল্পী তিনি। ‘রঙিন মেঘের পালকি’ তাঁর প্রকাশিত একমাত্র ছড়াগ্রন্থ হলেও এ গ্রন্থে তাঁর অনেকগুলো টেকসই ছড়ার সন্নিবেশ ঘটেছে। গানের জগতেও নতুন বিপ্লবের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন তিনি। একটি স্বতন্ত্র ধারার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল নির্মাণে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছেন। গদ্য রচনাতেও তাঁর সফলতা ঈর্ষণীয়। ব্যক্তি হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত উঁচু স্তরের, সত্যিকারার্থেই অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। প্রকাশনার জগতে পিছিয়ে থাকলেও সময়ের চাহিদার সাথে সাথে তাঁর কিছু কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু তার অধিকাংশই বর্তমানে ‘আউট অব প্রিন্ট’। তাই শূন্যতা পূরণের জন্য তাঁর রচনাবলী প্রকাশ করা সময়ের যৌক্তিক দাবি। সে দাবি পূরণের প্রথম প্রয়াস ‘মতিউর রহমান মল্লিক রচনাবলী’ ১ম খণ্ড। এমন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদকে অভিনন্দন জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই গ্রন্থটির প্রধান সম্পাদক কবি আল মাহমুদ, সম্পাদক আবুল আসাদ, নির্বাহী সম্পাদক কবি আসাদ বিন হাফিজ, সহকারী সম্পাদক কবি আফসার নিজামসহ সম্পাদনা পরিষদের সদস্যবৃন্দকে। সেইসাথে বিশিষ্ট সাহিত্যিক আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোস্তফা মনোয়ারসহ বাস্তবায়ন কমিটির সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

কবিতার বৃক্ষ

মতিউর রহমান মল্লিক আপাদমস্তক একজন কবি। আবর্তিত তৃণলতা, অনবরত বৃক্ষের গান, চিত্রল প্রজাপতি, তোমার ভাষায় তীক্ষ্ণ ছোরা, নিষণ্ণ পাখির নীড়ে প্রভৃতি তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ। সেখান থেকে প্রথম তিনটি অর্থাৎ আবর্তিত তৃণলতা, অনবরত বৃক্ষের গান, চিত্রল প্রজাপতি গ্রন্থের কবিতাসমূহ সংকলন করা হয়েছে রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে। প্রতিটি কাব্যগ্রন্থের কবিতাসমূহে রয়েছে আধুনিকতা ও মানবিকতার অনুরণন। বাংলাভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার মতো অনেকগুলো পঙক্তির সমাবেশ ঘটেছে কাব্যসমূহে। পঙক্তির ভাঁজে ভাঁজে স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার স্ফুরণ দেখা যায়; পাওয়া যায় দেশ-জাতি ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার শৈল্পিক চেতনা। বৃক্ষের বাকল ছুঁয়েই তিনি নির্মাণ করেছেন বিশ্বাসের নতুন ক্যানভাস, কবিতার মানবিক শব্দকলা। তাঁর এ শব্দ-দর্শনে জন্ম নিয়েছে নতুন চেতনা, আবিষ্কৃত হয়েছে বিশ্বাসের পতাকা। বৃক্ষের সাথে মানবাত্মার উপমা টানতে গিয়ে তিনি বলেন- ‘একটি হৃদয় লতার মত, লজ্জাবতীর পাতার মত/ অনেক কথকতার মত।/ একটি হৃদয় ফুলের মত, সুরমা নদীর কূলের মত/ বট পাকুরের মূলের মত।’ [একটি হৃদয়, আবর্তিত তৃণলতা, পৃ.১৮]। বৃক্ষের মতোই মানুষকে বিস্তারিত হবার আহ্বানে তিনি বলেন, ‘বৃক্ষের বিস্তার আছে/ হৃদয়েরও বিস্তার আছে/ খুব কম লোকই বিস্তারিত হতে পারে।, [বিস্তার, আবর্তিত তৃণলতা, পৃ.১১] বৃক্ষকে প্রেরণার নদীর মতো দেখেছেন তিনি। বৃক্ষের হৃদয়ের গভীরতা অতল সাগরের মতো। নিখাদ ভালবাসার সবক পাওয়া যায় বৃক্ষের কাছেই। তাইতো তিনি বলে উঠেন- ‘এই গাছের নীচেয় একটু দাঁড়াও/ হৃদয় হৃদয় হোক/ শরীরে সান্নিধ্য দিক মাতাল হাওয়া/… এসো এ গাছের নীচেয় একটু দাঁড়াই/ তারপর/ ভালবাসি পৃথিবীর সকল মানুষ।’ [গাছ সম্পর্কিত, আবর্তিত তৃণলতা, পৃ. ৩২] বৃক্ষ ধ্বংস মানে পরিবেশ ধ্বংস আর পরিবেশ বিপর্যয় মানেই প্রাণিজগতের বিপর্যয়, ভয়াবহ দুর্যোগ। তাইতো কবির তীব্র প্রতিবাদ- ‘পাখিদের নীড় কারা ভেঙ্গে দেয়/ আর্থিক অজগর/ উজাড় বনের সবুজাভ প্রেম/ বাতাসের দাপাপি/ যত দ্রুত কমে বৃক্ষ এবং/ বৃক্ষের সমারোহ/ ধসে দ্রুত তত হৃদয়ের রং/ জীবনের হিমালয়।’ [ক্রমাগত, আবর্তিত তৃণলতা, পৃ.৪৬]
কবি মল্লিক স্বদেশকে ভালোবেসেছেন হৃদয় দিয়ে; মমত্ববোধের রজ্জু দিয়ে স্বদেশকে বেঁধেছেন বিশ্বাসের আবহে। তাইতো দেশের বুকে যে কোন ক্ষতচিহ্ন তাঁকে ব্যথিত করে, করে তোলে বিচলিত। নদীদখল আর পুকুর ভরাটের চিত্র আঁকতে গিয়ে বিচলিত মনের আধুনিক পঙক্তি নির্মাণ করেছেন কবি মতিউর রহমান মল্লিক। উপমা-উৎপ্রেক্ষার অসাধারণ ব্যবহারে কবি যেমন আধুনিকতার শেকড় ছুঁয়েছেন তেমনি জীবন-সবুজের মালা গেঁথে তিনি মানবতাবোধকে ধারণ করেছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সৌকর্যে। তাঁর বেশিরভাগ কবিতায় এমনতরো ছোঁয়া লেগেছে নানা রকম নান্দনিক ঢঙে। ‘অরণ্যের গভীর থেকে নেমে এলো কোকিলের নদী :/ তারপর ভেসে গেল পত্রাবলীর পাহাড়/ ভেসে গেল ডাল-পালার পথঘাট/ ভেসে গেল কুঁড়ি ও কাঁটার ঘরবাড়ী/ অথবা বৃক্ষের তীরে তীরে ডেকে গেল শিল্পকলার হাওয়া/ বসন্তের ছায়া বুঝি মৃত্তিকার গান/ তাছাড়া ঘাসের ঘটনা থেকে রটে যায়/ নিচোলিত হরিতের ঝাঁক/ বসন্তের চোখ বুঝি নীলিমার ঢেউ/ তাছাড়া শুকনো লতার মত উড়ে উড়ে দূরে যায়/ হতাশার চুল।’ [কবিতার ধ্রুব, অনবরত বৃক্ষের গান, পৃ. ১৬]। জীবনের সমস্ত রুক্ষতা, বক্রতা এবং স্বার্থন্ধতাকে পদদলিত করে তাপময় মরুভূমিতে শান্তিময় স্বদেশ গড়তে তিনি নির্মাণ করেছেন এমন সব মানবিক কাব্যকলার আধুনিক পঙক্তিমালা।
মানুষ্যপ্রকৃতি কিংবা সবুজমানব তৈরির জন্য শুধু বাংলাদেশ নয়; সারা বিশ্বের রক্তাক্ত জনপদ তাঁর কাব্য-ক্যানভাসের অংশীদার। বিশ্বমানচিত্রের যেখানেই ছোপ ছোপ রক্তের দাগ সেখানেই প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে মল্লিকের কাব্যপঙক্তি। মিয়ানমারের আরাকানে বুকের তাজা খুনের উপর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পরাধীনতার কলঙ্কিত ইতিহাস। হাজার হাজার মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে নাফ নদীর পানি। রোহিঙ্গা মুসলমান জনপদ জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা আজ দেশছাড়া। নারী শিশু বৃদ্ধের অমানবিক জীবন বিশ্বের অসভ্যতার ইতিহাসকে ম্লান করে দিচ্ছে। বিশ্ব মোড়লরা আজ যেন নীরব দর্শক। তাইতো কবি মতিউর রহমান মল্লিকের আক্ষেপ- ‘রোহিঙ্গাদের বুকের উপরে স্বাধীনতা বিরোধীরা/ আরাকানীদের মাথার উপরে গৃধ্নের কালো ছায়া’ (তবু আকাশে চাঁদ: তোমার ভাষায় তীক্ষ্ণ ছোরা, পৃ. ২৯)। রোহিঙ্গাদের এ দৃশ্য যেমন আমাদের কষ্ট দেয় তেমনি কসোভো, কাশ্মির, ইরাক, ফিলিস্তিন ফিরে ফিরে আসে কষ্টের অবর্ণনীয় ইতিহাস নিয়ে। কবিদের হৃদয়ও কেঁদে ওঠে বারবার। কবি মতিউর রহমান মল্লিক তাইতো লিখেন- ‘কসোভোয় নামে সার্বীয় বর্বর/ দাঁতাল শুয়োর/ কাশ্মিরে নড়েচড়ে/ দাঁতাল শুয়োর ঝিলাম নদীতে নামে/ শিরি নগরের অলিতে-গলিতে/ দাঁতাল শুয়োর নামে’ (তবুও আকাশে চাঁদ: তোমার ভাষায় তীক্ষè ছোরা, পৃ. ২৯)। কবি মল্লিক আরো বলেন- ‘কী চমৎকার গেলো’র মতো পেন্টাগনের/ ভূগোলখেকো জঠর থেকে বেরিয়ে আসে ইরাকের কঙ্কাল/ ফিলিস্তিনীদের খুলি এবং হাড়গোড়’ [পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রের ভেতরে: চিত্রল প্রজাপতি, পৃ. ২৪]। এমন অসংখ্য মানিবক পঙক্তিমালা ঝুলে আছে তাঁর কাব্যসম্ভার জুড়ে। সত্যিকারার্থে, আধুনিক বাংলাসাহিত্যে মতিউর রহমান মল্লিক এক স্বতন্ত্র ধারার কবি। তাইতো তিনি মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত সকল পাঠকের হৃদয়ের কবি, ভালোবাসার কবি, স্বপ্ন-প্রেরণার কবি।

গানের পাখি

গানের ভুবনেও মতিউর রহমান মল্লিক নিঃসন্দেহে একটি বৈপ্লবিক ধারার স্রষ্টা। কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে আধুনিক ধারার প্রবর্তন করে গেছেন কবি মতিউর রহমান মল্লিকের হাতে তা ফুলে ফলে সুশোভিত ও বিকশিত হয়ে উঠেছে। বিশ্বাস বা ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে নির্মিত সবগুলো গানের অঙ্গ। তাইতো তাঁর গানগুলো সারাদেশের ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ জনগোষ্ঠীর খোরাক হিসেবে অতিদ্রুত ছড়িয়ে যায়। বিশেষকরে মফস্বল অঞ্চলের মাদরাসা, স্কুল, কলেজ পড়–য়া ইসলামী ভাবাদর্শে উজ্জীবিত ছাত্র-ছাত্রী কিংবা মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক, মাহফিলের বক্তা ও ওয়ায়েজিন মহোদয়গণ তাঁর গান গেয়েছেন। গানের বই ঝংকার এবং সুরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে কবির স্বকণ্ঠে গাওয়া একক অ্যালবাম ‘প্রতীতি-১’ এবং ‘প্রতীতি-২’। গ্রামীণ জনপদে রেকর্ড প্লেয়ার কম থাকলেও গানগুলো মুখে মুখে ছড়িয়ে গিয়েছিল। এরপর যত গান গেয়েছি এবং প্রাণের ভেতরে প্রাণ গ্রন্থসমূহ গানের কথাকে সকলের সামনে উপস্থাপনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। মতিউর রহমান মল্লিক রচনাবলীতে তিনটি সংকলনের গানই স্থান পেয়েছে।
কবি মতিউর রহমান মল্লিকের গানগুলো সর্বমহলে বিশেষত আদর্শিক চেতনাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে সামান্য সময়ের ব্যবধানে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠে।
প্রথমত, মানুষ স্বভাবগতভাবেই আদর্শিক বিষয়ের প্রতি স্পর্শকাতর। আল্লাহ-রাসূল, ইসলামের সুমহান আদর্শিক কথা সংবলিত বাণীর প্রতি প্রত্যেক বিশ্বাসী মানুষের হৃদয়ের টান থাকে বিশ্বাসের কারণেই। সে কথাগুলো যদি সুরেলা কণ্ঠে, উন্নত ভাষায় ও আকর্ষণীয় ঢঙে পরিবেশন করা হয় তাহলে মানুষের হৃদয় কাড়বে সহসাই। কবি মতিউর রহমান মল্লিকের গান সে কাজটিই করতে সক্ষম হয়েছে। কেননা মল্লিকের গানে আল্লাহর প্রশংসা, রাসূলের প্রশংসা, স্বদেশের কথা, মানবতার কথা, দুনিয়া ও আখিরাতের কথা উঠে এসেছে একেবারে আধুনিক ভাষায়, হৃদয়গ্রাহী সুরে। তাঁর বিশ্বাস অত্যন্ত প্রগাঢ় এবং ইসলামের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকার কারণে তাঁর কোন গানেই শির্কের মিশ্রণ ঘটেনি। সেইসাথে শব্দ চয়নে কবি মল্লিক ভীষণ সুকৌশলী ছিলেন। যে গানে যেমন ভাষা দরকার সে গানে তেমন ভাষাই ব্যবহার করেছেন তিনি। অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সহজ-প্রাঞ্জল ভাব-ভাষা তাঁর গানকে মানুষের কাছে অতিদ্রুত সমাদৃত করেছে।
দ্বিতীয়ত, মতিউর রহমান মল্লিক একজন সফল গীতিকবি। গ্রামীণ জনপদে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পরিণত বয়সে রাজধানী শহরের জীবনযাত্রা তাকে বৈচিত্র্যময় জ্ঞানের অধিকারী করে তুলেছে। তাঁর গানের পরতে পরতে বৈচিত্র্যময় উপমার সমাবেশ ঘটেছে। যে গানে যে ধরনের উপমার প্রয়োজন সে গানে সে ধরনের যুতসই উপমাই তিনি ব্যবহার করেছেন। গ্রামীণ ঐতিহ্য, ফুল-পাখি প্রকৃতি, বৃক্ষের সজীবতা, নদীর কলতান, উদার আকাশ, ঝর্ণার গান, শহুরে জৌসুল-খরা, মানবতার জীবনবোধ, জাহিলিয়াতের রক্তচক্ষু, মুমিনের রহম দিল সবকিছুই তাঁর গানে সাবলীলভাবে এসেছে। সে কারণে মল্লিকের হামদ-নাত, ইসলামী গান ও জীবনমুখী গানগুলো ভীষণভাবে হৃদয়গ্রাহ্য হয়ে উঠেছে।
তৃতীয়ত, বিষয়বস্তুর সাথে কালকে ধারণ করা একজন বড় কবির প্রধানতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমানের উপযোগিতাকে পুরোপুরিভাবে ধারণ করে তা ভাষা ও উপমার লালিত্যে কালজয়ী করে তোলা একজন প্রতিষ্ঠিত কবির পক্ষেই সম্ভব। কবি মতিউর রহমান মল্লিক তা সার্থকভাবেই করেছেন। সময়ের সব বড় বড় বাধাগুলো- যা জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে তা ফিরে আসে আবার ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে। কবি মল্লিক আঙ্গিকগুলো ভালোভাবে রপ্ত করে সুকৌশলে তা গানে প্রয়োগ করেছেন। যে কারণে তাঁর গান হয়ে উঠেছে কালজয়ী ও হৃদয়গ্রাহী।
চতুর্থত, সুর হচ্ছে গানের প্রাণ। কথার সাথে সুরের সঠিক সমন্বয় হলেই গান হৃদয়গ্রাহী হয়- গানটি হয়ে ওঠে কালজয়ী। মতিউর রহমান মল্লিক নিজে যেমন লিরিক লিখেছেন তেমনি সুরও করেছেন অধিকাংশ গানে। এ ছাড়া যেগুলো তিনি সুর করেননি তাঁর একটি বৃহত্তম অংশের গানে সুর দিয়েছেন বিশিষ্ট সুরকার ও শিল্পী মশিউর রহমান। এ ছাড়া অনেক তরুণ প্রবীণ সুরকারগণ তাঁর গান নিয়ে কাজ করেছেন। ফলে তাঁর গানগুলো নানা আঙ্গিকে বৈচিত্র্যময়তার সাথে সাথে মাধুর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পঞ্চমত, কবি মতিউর রহমান মল্লিকের কণ্ঠ ছিল অসাধারণ সুরেলা। তিনি নিজে গান লিখতেন, সুর করতেন এবং স্বকণ্ঠে তা ছড়িয়ে দিতেন। হৃদয়ের মাধুরী মিশিয়ে গাওয়া তাঁর দরদভরা কণ্ঠের গান শুনে সমস্ত জনপদের মানুষ স্তব্ধ হয়ে যেতেন, আল্লাহ-রাসূলের প্রেমে গদগদ হয়ে উঠতেন। দুনিয়া ও আখিরাতের এক অসাধারণ সমন্বয়ের আহ্বানে মুমিন হৃদয় আলোড়িত হয়ে ওঠে তাঁর গানে। তাঁর কণ্ঠও ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এ প্রসঙ্গে তাঁর সংস্কৃতি জীবনের নিকটতম সহযাত্রী অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুর মন্তব্য করেন- ‘যিনি গান লেখেন তিনি নিজে সুর সাধারণত কমই দেন আর নিজ কণ্ঠে তার ধারণ খুব কম দেখা যায়। কবি মল্লিক এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কলম যেমন ছিলো শাণিত ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ তাঁকে মধুর একটা কণ্ঠ দিয়েছিলেন। মিডিয়াতে যে ধরনের কণ্ঠ আমরা সবাই সাধারণভাবে শুনে অভ্যস্ত তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কণ্ঠ ছিলো তাঁর। এক ধরনের মায়াময় পরিবেশ তৈরি করতো। শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যেতো তাঁর কণ্ঠ। তিনি নিজে খুব যে বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তা নয় তবে যে কয়টি অ্যালবাম আছে তার ব্যাপক কাটতি সে সত্যতারই প্রমাণ বহন করে।’
ষষ্ঠত, বহু ভাষাবিদ না হলেও বিভিন্ন ভাষার উপর দখল ছিল কবি মতিউর রহমান মল্লিকের। মাতৃভাষা ও কবি পরিবারের প্রিয় ভাষা হিসেবে বাংলার উপর তাঁর যেমন দখল ছিল তেমনি আরবি, উর্দু ও ফার্সি ভাষার উপরও ছিল তাঁর আধিপত্য। ইংরেজি ভাষা চর্চাও তিনি পছন্দ করতেন। সে দৃষ্টিতে তাঁর কবিতা ও গানে অন্যান্য ভাষার প্রভাব কম থাকলেও সেসব ভাষার সাহিত্যকে তিনি হজম করে খুব সহজে বাংলা ভাষায় উপস্থাপন করতেন। গান নির্মাণের ক্ষেত্রেও তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদে আগ্রহী ছিলেন। যে কোন দেশের ও ভাষার গান তিনি শুনতে পছন্দ করতেন। যেসব গান তাঁর হৃদয় কাড়তো, সেসব গান তিনি কখনো হুবহু আবার ভাবগতভাবে অনুবাদও করতেন। অনেক উর্দু, আরবি ও ফার্সি গানের অনুবাদ তিনি সফলভাবে করেছেন। ছন্দের হাত ছিল তাঁর ভীষণ দক্ষ। যে কারণে তাঁর প্রতিটি গান যেন এক একটি কবিতা। ছন্দ, মাত্রা, উপমা, উৎপ্রেক্ষা ও বিষয়বস্তুর অসাধারণ সমন্বয়ে গানগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
সপ্তমত, মতিউর রহমান মলিক তাঁর গানের একটি বৃহত্তম বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে নিজের কণ্ঠে তিনি সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গান শুনিয়েছেন। সেইসাথে সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর মতো অসংখ্য শিল্পীগোষ্ঠী তিনি সারাদেশে তৈরি করেছিলেন যারা তাঁর গানগুলো ছড়িয়ে দিয়েছে সারাদেশে। এছাড়াও বিভিন্ন অডিও-ভিজুয়্যাল ক্যাসেট, সিডি-ভিসিডি তাঁর গানকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। যে কারণে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় মাহফিলসহ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিযোগিতাসমূহে অদ্যাবধি কবি মতিউর রহমান মল্লিকের গান সবচেয়ে বেশি গাওয়া হয়ে থাকে।
মূলত, ইসলামের পরিপূর্ণ উপস্থাপনা ও শিক্ষাকে গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন কবি মতিউর রহমান মল্লিক। তিনি কখনো মানবতার দুর্গতি থেকে উত্তরণের জন্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার জন্য, মানবিকতার বিকাশের জন্য, নৈতিকতা গঠনের জন্য; সর্বোপরি দীন প্রতিষ্ঠার ফরজিয়াতকে তিনি গানের মাধ্যমে উপস্থাপিত করে মুমিন হৃদয়ে সর্বোচ্চ ও স্থায়ী আসন করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

বিশুদ্ধ ছড়াশিল্পী

মতিউর রহমান মল্লিক সমকালীন ছড়াকারদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত ও বিশুদ্ধ ছড়াশিল্পী। রঙিন মেঘের পালকি তাঁর প্রকাশিত একমাত্র ছড়াগ্রন্থ হলেও অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাঁর অসংখ্য ছড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ছড়াগুলোকে শিশুমনের কল্পনা ও কৌতূহল, উপদেশমূলক, প্রকৃতি বিষয়ক, উৎসব আনন্দ বিষয়ক এবং জীবনবোধের চটুল অনুরণন বললেও ভুল হবে না। ‘বাউণ্ডুলে’ স্বভাব ও তারুণ্য কবি মতিউর রহমান মল্লিকের হৃদয়ে বাসা বেঁধে ছিলো চিরদিন। তিনি খোলা আকাশ, সাগর, নদী, খাল-বিল কিংবা সবুজ প্রকৃতি ও ক্ষেত খামার দেখলে নিজেকে হারিয়ে ফেলতেন। মনটাকে উড়িয়ে দিতেন সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো। বকের সারি কিংবা বাবুই পাখির মতো উড়ে উড়ে যেতে হতো এখানে সেখানে। ১৯৯৫ সালে বগুড়া সফরে এসে মহাস্থানগড়ে গিয়েছিলাম। সবুজ আর পাহাড়ি আবেশ পেয়ে পাখির মতো উড়াল দিলেন। এক দৌড়ে মহাস্থানের টিলা অতিক্রম করে নেমে পড়লেন ধানের ক্ষেতের ভেতর। কিছুক্ষণ পরে কাদামাখা শরীর নিয়ে উঠে এলেন। সফরসঙ্গীরা সবাই হেসে কুটিকুটি। তিনি অবলীলায় মৃদু হাসি ঝরিয়ে বললেন, ‘এমন সবুজের ভিড়ে পায়ের চাকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়? তাই ওকে মুক্ত করে দিলাম। দে উড়াল দে। ভাবলাম পারবে না। কিন্তু সে এখনো পারে তা আবারো প্রমাণ করলো।’ অবাক হয়েছিলাম সেদিন তাঁর প্রকৃতিপ্রেমে উজাড় হওয়া দেখে। তাঁর ছড়াতেও সেই প্রতিধ্বনি মেলে। মন হতে চায় বকের পালক/ বাবুই পাখির বাসা/ উধাও আকাশ সাত সাগরের/ গভীর ভালবাসা। [রঙিন মেঘের পালকি, পৃ. ১৪]। বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য ও পরিবেশও তাঁর ছড়ায় উপজীব্য হয়ে ওঠে। বোশেখের মতো তিনিও জরা-জীর্ণতা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সিদ্ধান্তহীনতাকে মাড়িয়ে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনার স্বপ্ন দেখান। বোশেখ আসে জীর্ণপাতা ঝরিয়ে/ সকল জরা সব পুরাতন সরিয়ে/ সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আগুন ধরিয়ে/ বোশেখ আসে স্বপ্নে দু’চোখ ভরিয়ে।
কবি মল্লিকের সকল ছড়া-কবিতার প্রতিটি শব্দ বাক্য উপমা উৎপ্রেক্ষা আঙ্গিক নির্মাণ সবকিছুতেই তিনি মননশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তৈরি করেছেন নিজস্ব ছড়াঢঙ, কাব্যভাষা- যা একজন সফল ছড়াকবির জন্য অপরিহার্য বিষয়। তাইতো তাঁর প্রতিটি ছড়াই হয়ে উঠেছে বিশুদ্ধতার রঙিন পোস্টার। ‘রঙিন মেঘের পালকি’ এবং প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপি ‘নতুন চাঁদের আলো’র সবগুলো ছড়া গ্রন্থিত করা হয়েছে রচনাবলী প্রথম খণ্ডে।

গদ্যময় মাঠে ছন্দময় মানুষ

কবি মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন সত্যিকারার্থে একজন শুদ্ধ সংস্কৃতিচিন্তক। বক্তৃতা, আলোচনা এমনকি লেখালেখিতেও তিনি সংস্কৃতির শেকড় অনুসন্ধান করে বিশ্বাসী সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তিতে সমাজ গড়ার পরিকল্পিত প্রয়াস চালিয়েছেন। তাইতো কবি মতিউর রহমান মল্লিক শুধু একজন ব্যক্তি নন, বরং তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে তিনি দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন দৈহিক ও মানসিকভাবে। নিজের দুনিয়াদারি, তথাকথিত উন্নত ক্যারিয়ার, অর্থবিত্ত, বিষয়বৈভব কোন কিছুর প্রতি তাঁর কোনো টান ছিল না, ছিল না কোন আকর্ষণ। এমনকি ব্যক্তিগত আরাম আয়েশ, উন্নত পোশাক পরিচ্ছদ খাওয়া-দাওয়া, সুখ-সমৃদ্ধি কোন কিছুই তাঁর মগজে ঠাঁই পায়নি। তাঁর মগজ জুড়েই ছিল একটাই চিন্তা, অপসংস্কৃতির মূলোৎপাটন করে আদর্শিক চেতনার বিশ্বাসী সংস্কৃতির লালন ও প্রতিষ্ঠা; জাতিকে র্শিক ও অশ্লীলতা মুক্ত করে মননশীলতার আবহে গড়ে তোলা। তাঁর প্রধান ধ্যান-জ্ঞানই ছিল প্রিয় বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তাঁর চিন্তা চেতনার পুরোটা জুড়েই এই একটি বিষয়ই আবর্তিত হতো। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিষয়গুলো সম্পর্কে নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. কী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন তার অসংখ্য বিবরণ তাঁর যেন নখদর্পণে থাকতো। সাহাবী আজমাঈন রা. এ বিষয়ে কী ভাবতেন, তা‘বেয়িন, তাবে-তাবেয়িন রহ., মুসলিম মনীষীগণ কী বক্তব্য দিয়ে গেছেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপসংস্কৃতির মোকাবেলায় কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার সে সব বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণামূলক বেশকিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর প্রবন্ধসমূহে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে মতিউর রহমান মল্লিকের প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপি ‘মহানবী (সা.) ও মানবতাবাদ’ সংযুক্ত করা হয়েছে। সেইসাথে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘গল্প দাদুর আসর’ সংযুক্ত করে যেমন নতুনমাত্রা সংযোজিত হয়েছে তেমনি তাঁর দু’টি স্বহস্তে লেখা চিঠি এবং একটি রঙিন অ্যালবাম রচনাবলীকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে বৈকি।
পরিশেষে বলা যায়, সময়ের পথঘাট পেরিয়ে অবশেষে ২০১৮ সালে মতিউর রহমান মল্লিক রচনাবলী প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হলো। যদিও বেশকিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষকরে সম্পাদক ও সম্পাদনা পরিষদের সদস্যদের নামের প্রথমে কবি, শিল্পী, সাংবাদিক, কথাশিল্পী শব্দগুলোর ব্যবহার মানানসই হয়নি। মল্লিকের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ আবর্তিত তৃণলতা’র ১৬ ও ১৭ পৃষ্ঠার দুটি কবিতা অর্থাৎ ‘শেকসপিয়রের বাড়ি’ এবং ‘অপার্থিব সবুজ বাসীর কথা’ কবিতা দুটি ছাড় পড়েছে এবং ‘বাতাসের দাপাদাপি’ নামে একটি নতুন কবিতা সংযোজিত হয়েছে।
এ ছাড়া অনবরত বৃক্ষের গান কাব্যের ‘প্রকৃত পশ্চাৎগামীরা’ কবিতার শিরোনামে ‘প্রকৃত পশ্চাৎগামিতা’ উল্লেখ হয়েছে এবং তোমার ভাষায় তীক্ষè ছোরা কাব্যগ্রন্থের ‘কষ্ট ৯৭’ শিরোনামের কবিতাটির শিরোনাম থেকে ৯৭ বাদ পড়েছে। দাঁড়ি, কমা এবং কবিতার লাইন ব্যবচ্ছেদেও কোন কোন স্থানে মূলগ্রন্থের সাথে কিছুটা বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
তবে শিল্পী হামিদুল ইসলামের আঁকা চাররঙা নান্দনিক প্রচ্ছদ, গ্লোসি পেপারে কবির ছবি, নিজ হাতে লেখা কবির নামলিপির ব্যবহার এবং পরিশিষ্টের চাররঙা অ্যালবাম পাঠকের জন্য আলাদা আকর্ষণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। সর্বোপরি রচনাবলীটি বিশুদ্ধ সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমিকদের জন্য একটি আনন্দময় সুখবর। চারশো বাহাত্তর পৃষ্ঠার এ অমূল্য গ্রন্থটির দাম রাখা হয়েছে ছয়শত টাকা মাত্র। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতে হলে আজ প্রত্যেক স্বপ্নবাজ মুমিনের ঘরে ঘরে এ গ্রন্থটি সংরক্ষিত থাকা বাঞ্ছনীয় বলেই আমি মনে করি।

SHARE

Leave a Reply