post

মহানবী সা. এর অবমাননায় মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ

জালাল উদ্দিন ওমর

০৭ অক্টোবর ২০২২

হজরত মুহাম্মাদ সা. সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সর্বাধিক পরিচিত নাম। তিনি শুধু মুসলিমদের একার সম্পদ নয় বরং মানবজাতি সকলের সম্পদ। ইসলাম প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে তিনি গণ-মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়েছেন। অথচ দেশ-বিদেশে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কসম্পন্ন লোক নিয়মিত বিশ্বনবী সা. এবং ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও অবমাননা করে যাচ্ছে। তারা তাদের বক্তৃতা আর লেখালেখিতে নিজেদেরকে আধুনিক, প্রগতিশীল এবং মুক্তমনা বলে পরিচয় দেয় আর মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার কথা বলে ইসলাম ধর্মের সমালোচনায় মুখর থাকে। ইসলামী মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং এর বিধিবিধানকে কটাক্ষ করে বিবৃতি দেয় ও লেখালেখি করে। মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনর্কতা এবং নিয়ন্ত্রণকর্তা মহান আল্লাহ এবং তার প্রেরিত মানবতার মুক্তির দূত, সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হজরত মুহাম্মাদ সা.কে কটাক্ষ, অবজ্ঞা এবং অপমানিত করে। একই সাথে তারা পবিত্র কুরআন-হাদিস এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য মন্তব্য করে। এসব ব্যক্তিদের ইসলাম অবমাননার কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ব্যথিত। আল্লাহ, মহানবী সা. এবং কুরআন-হাদিসসহ ইসলামকে অবজ্ঞার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। এই ধরনের অন্যায়, অসভ্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের জন্য প্রতিটি দেশের সংবিধানে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আইন থাকা চাই। সাথে এ ধরনের গর্হিত কাজ চিরতরে বন্ধ করার জন্য জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রবক্তা বলে দাবিদার কিছু মানুষ এসব অপকর্মকে মুক্তচিন্তা এবং বাকস্বাধীনতা হিসেবে অভিহিত করে এবং এ কাজকে সমর্থন করে। তারা বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে এই অপকর্মের পক্ষে সাফাই গায়। কিন্তু অপরের ধর্ম, ধর্মবিশ্বাস এবং ধর্মের প্রবক্তা এবং এর সম্মানিত ব্যক্তিদের অপমান ও অবজ্ঞা করাটা কখনো বাকস্বাধীনতা হতে পারে না। এটা কখনো মুক্তচিন্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়। বরং এটা হচ্ছে চরম অন্যায়, অভদ্রতা, অসভ্যতা এবং বিকৃত রুচির পরিচয়। আর এ ধরনের গর্হিত কাজ কখনো সুফল বয়ে আনে না। মনে রাখা দরকার, কোনো ব্যক্তিকে বা কোনো ধর্মকে মানার বা অস্বীকার করার অধিকার রয়েছে। স্বয়ং ¯্রষ্টাও মানুষকে সে অধিকার দিয়েছেন। কিন্তু অপরের ধর্মকে অবজ্ঞা করার অধিকার কারো নেই। 

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় সাতশ আশি কোটি মানুষের বাস। এর প্রায় ৯৯% মানুষই কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। অর্থাৎ প্রায় সব মানুষই ধর্মে বিশ্বাসী। হয়তো কারো মাঝে ধর্মের প্রভাব কম আর কারো মাঝে ধর্মের প্রভাব বেশি। কিন্তু এক কথায় তারা ধর্মে বিশ্বাসী। এই ধারাবাহিকতাই আদিকাল থেকে চলে আসছে, বর্তমানেও চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। এই ধর্মই নিয়ন্ত্রণ করছে মানুষের সভ্যতা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং জীবনধারা। এই ধর্মই গঠন করেছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং দেশ। একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছুই ধর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কেউ যদি না মানে সেটা হচ্ছে ধর্ম থেকে বিচ্যুতি। তাই একজন ব্যক্তি সেক্যুলার হলেও তার বিয়ে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ধর্মীয় রীতিতেই সম্পন্ন হয়। সমাজের যা কিছু সত্য, সুন্দর এবং মহৎ, তার সবকিছুই ধর্ম হতে উৎপন্ন। আর ভিন্ন ধর্মের রীতিনীতি ভিন্ন হলেও সবাই বিশ্বাস করে এই সৃষ্টিজগতের একজন ¯্রষ্টা আছেন। তিনিই সবকিছুর সৃষ্টিকারী, লালনকারী এবং পালনকারী। ধার্মিকরা বিশ্বাস করে মৃত্যুর পরে তার কৃতকর্মের জন্য ¯্রষ্টার কাছে বিচারের মুখোমুখি হবে এবং কৃতকর্মের ফলাফলের ওপর কেউ চিরসুখের জান্নাত আবার কেউ চির দুঃখের জাহান্নামে স্থান লাভ করবে। প্রত্যেক ধর্মেরই একজন প্রধান ব্যক্তি রয়েছে যারা এই ধর্মকে ধারণ করেছেন, অনুসরণ করেছেন এবং প্রচার করেছেন। এই সব ব্যক্তিরা নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত এবং পবিত্র। তাই এই সব ব্যক্তিদের অপমান তাদের অনুসারীদের কেউই সহ্য করতে পারে না। হজরত ঈসা (আ) যেমন খ্রিষ্টানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, গৌতম বুদ্ধ যেমন বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, শ্রীকৃষ্ণ যেমন হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, ঠিক তেমনি হজরত মুহাম্মদ সা.ও মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত। আর হযরত ঈসা (আ) এর অপমান যেমন কোনো খ্রিষ্টান সহ্য করতে পারে না, গৌতম বুদ্ধের অপমান যেমন কোনো বৌদ্ধ সহ্য করতে পারে না, শ্রীকৃষ্ণের অপমান যেমন কোনো হিন্দু সহ্য করতে পারে না, ঠিক তেমনি হজরত মুহাম্মদ সা.-এর অপমানও কোনো মুসলমান সহ্য করতে পারে না। সুতরাং প্রত্যেক মানুষের উচিত তার নিজ ধর্ম এবং নিজ ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান করার পাশাপাশি অপরের ধর্ম এবং অপরের ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের ও সম্মান করা। আর সম্মান না করলেও কখনোই এবং কিছুতেই অসম্মান করা যাবে না। কারণ এতে সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি এবং ভালোবাসা নষ্ট হয়। সৃষ্টি হয় অশান্তি, অরাজকতা এবং হিংস্রতা ও বর্বরতা। যার আগুনে পুড়ে সর্বনাশ হয় সমাজ; ধ্বংস হয় সভ্যতা। সুতরাং এই ধ্রুব সত্যটুকু জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবারই অনুসরণ করা উচিত এবং করতে হবে। 

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় দেড়শত কোটি মুসলমানের বাস। সুতরাং ইসলাম এবং মুসলমানরা বিশ্বশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তারা বর্তমান বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ কিছু ব্যক্তি মুসলমানদের বিশ্বাস, রীতিনীতি এবং এর প্রধান ব্যক্তি হজরত মুহাম্মদ সা.-কে অবজ্ঞা এবং হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আজ মাঠে নেমেছে। সম্প্রতি ভারতের বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা এবং দলটির নয়াদিল্লি শাখার নেতা নবীন কুমার জিন্দাল মহানবী সা.-কে অবমানা করে বক্তব্য দিয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশ এবং ওআইসি’-র জন্য ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিজেপি ইতোমধ্যেই এ দু’জনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে এবং ভারত সরকার বলেছে এ বক্তব্য তাদের ব্যক্তিগত এবং এটি দল ও সরকারের মতামত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১২ সালে নির্মিত হয় ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ নামক একটি চলচ্চিত্র যেখানে নাকুলা বাসিলে অত্যন্ত কৌশলে মানবতার মুক্তিরদূত, সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা.কে অপমানিত করেছেন। এই চলচ্চিত্রকার সিনেমার মাধ্যমে কৌশলে ইসলামের প্রবক্তা এবং ইসলামের নবীকে হেয়প্রতিপন্ন করেছে। এ ঘটনার কিছুদিন পর ফ্রান্সের একটি ম্যাগাজিন শারলি এবদো হজরত মুহাম্মদ সা.-কে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশ করে। হজরত মুহাম্মদ সা.-কে অবমাননা করে সালমান রুশদি ১৯৮৮ সালে লিখেছিল স্যাটানিক ভার্সেস নামক উপন্যাস। পশ্চিমা বিশ্বের কিছু ব্যক্তি বরাবরই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে এসব কাজকে সমর্থন করেছে। এভাবে মুসলমানদেরকে আঘাত করার জন্য এবং হজরত মুহাম্মদ সা.-কে অবজ্ঞা করার জন্য কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিত কাজ করছে, যা ধারাবাহিকভাবেই ঘটে চলেছে। কিন্তু শান্তি ও মানবতার স্বার্থেই এসব কাজ চিরতরে বন্ধ করতে হবে। 

যেসব ব্যক্তি আজ মহান আল্লাহ, ইসলাম এবং নবী হজরত মুহাম্মদ সা.-কে হেয়প্রতিপন্ন করছে আর যারা একে মুক্তচিন্তা এবং বাকস্বাধীনতা বলে সমর্থন করছে, তাদের জানা উচিত এই বাকস্বাধীনতা তাদের কারো জন্য কোনো ধরনের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং এটা কেবল তাদের জন্য ক্ষতিই নিয়ে আসবে। কোনো ব্যক্তি যদি মহান আল্লাহকে অস্বীকার বা কটাক্ষ করে, তাহলে তাতে মহান আল্লাহর মান সম্মান এবং ক্ষমতা কিছুই কমবে না। মহান আল্লাহ হচ্ছেন মহাবিশ্বের সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা এবং পালনকর্তা। তিনি একক, অদ্বিতীয় এবং চিরঞ্জীব। তিনি সর্বময় ক্ষমতার মালিক এবং অভাবমুক্ত। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন বরং সবাই তার মুখাপেক্ষী। একইভাবে হজরত মুহাম্মদ সা.-কে কটাক্ষ করার কারণে তাহার মান সম্মান যেমন কমবে না ঠিক তেমনি ইসলামকে কটাক্ষ করায় ইসলামেরও কোনো ক্ষতি হবে না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. হচ্ছে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত একজন ব্যক্তি যার খ্যাতি, সুনাম এবং প্রভাব শত শত বছর ধরে পৃথিবীকে যেমন আলোড়িত, আলোচিত এবং প্রভাবিত করছে, ঠিক তেমনি আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা অধ্যাপক এবং বুদ্ধিজীবী মাইকেল এইচ হার্ট বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে পৃথিবীর শুরু থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ একশত জন মানুষ নিয়ে ১৯৭৮ সালে লিখেছেন আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘দি হান্ড্রেড’ নামক বই যেখানে তিনি হজরত মুহাম্মদ সা.-কে এক নম্বর পজিশনে স্থান দিয়েছেন। অথচ মাইকেল এইচ হার্ট একজন খ্রিষ্টান। তিনি বলেন– Muhammad (saw) is the only man in history who was supremely successful on both the religious and secular level. বিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয় বলেন- Muhammad (saw) has always standing higher than Christianity. তিনি যখন মারা যান তখন তার পকেটে মুহাম্মদ সা.-এর বাণী সংবলিত একটি বই পাওয়া গিয়েছিল। খ্যাতনামা ব্রিটিশ দার্শনিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেন- As a father, as a teacher, as a law giver, as a law maker, as a reformer of the society, as a messenger, as a commander Muhammad (saw) is the superman of the world. আর এটা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের দেয়ালে লিখিত আছে। প্রফেসর রামকৃষ্ণ রাও বলেন- In all the department of human activities Muhannad (saw) is alike a hero. ïay ZvB bqÑ Muhammad (saw) honoured by united state supreme court as one of the greatest law givers of the world in 1935. এরকম হাজারো উদাহরণ দিতে পারব। কিন্তু প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি পাবে বিধায় দিলাম না। আর অপরকে অসম্মান করে নিজেকে কখনো যেমন সম্মানিত করা যায় না, ঠিক তেমনি অপরকে ছোট করে নিজেকে কখনো বড়ো করা যায় না। সবারই মনে রাখা উচিত ইসলাম হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবন দর্শন এবং এটা তার আপন মহিমায় মহিমান্বিত। সুতরাং ইসলামকে অবমাননা করলে ইসলামের কোনো ক্ষতি হয় না। অপরদিকে আল্লাহ, ইসলাম এবং মহানবী সা.কে কটাক্ষ করে এই সব ব্যক্তি মুসলমানদের নয় বরং নিজেদের ক্ষতি করছে এবং এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে। এসব করে কখনো মানুষের ভালোবাসা, সম্মান এবং শ্রদ্ধা অর্জন করা যায় না। 

এদিকে ইসলাম এবং মহানবীকে অবমাননার কারণে মুসলমানরা মানসিকভাবে কষ্ট পেলেও তাদের কিন্তু ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং কখনো সহিংস হওয়া যাবে না। মুসলমানদেরকে হতে হবে ধৈর্যশীল, সহনশীল এবং ক্ষমাশীল। আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না এবং কখনোই আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। অমুসলিমরা মুসলমানদের ¯্রষ্টা, ধর্ম ইসলাম এবং নবী হযরত মুহাম্মদ সা.-কে অপমান এবং অবজ্ঞা করলেও মুসলমানরা কখনো অন্য ধর্ম এবং তাদের প্রধান ব্যক্তিদেরকে কটাক্ষ করবে না। কারণ আল্লাহ মুসলমানদেরকে ইসলামকে অনুসরণ এবং মহানবীকে সম্মান করার পাশাপাশি অমুসলিমদের ধর্ম এবং তাদের দেবতা এমনকি সম্মানিত ব্যক্তিদেরকেও সম্মান করার নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়লা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাকে ডাকে, তাদেরকে তোমরা গালি দিও না, কেন না তারা সীমালঙ্ঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকেও গালি দিবে।” (সূরা আনয়াম : ১০৮)।

সুতরাং অমুসলিমরা, তাদের ধর্ম, তাদের দেবতা এবং তাদের ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তি সবই মুসলমানদের কাছে নিরাপদ। মুসলমানদের উদ্দেশে বলছি, মন্দের প্রতিবাদ কখনো মন্দ দিয়ে হয় না। ভালো কাজ দিয়েই আমরা মন্দ কাজের প্রতিবাদ করব। আর ইসলাম আমাদেরকে সেটাই শিক্ষা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- “মন্দের মোকাবেলা কর যা উত্তম তা দ্বারা।” (সূরা মুমিনুন : ৯৬)। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন- “ভালো কাজ এবং মন্দ কাজ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা, ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো। (সূরা হামিম সিজদা : ৩৪)। সুতরাং আমাদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে ধর্ম এবং ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে অবমাননা করে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাচ্ছে। এ অবস্থায় মুসলমানদেরকে কৌশলী হতে হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা যাবে না। আর ইসলাম কখনো সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না এবং তা সমর্থনও করে না। ইসলাম হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সার্বজনীন মানবাধিকারের গ্যারান্টি। পরিশেষে ধর্মবিদ্বেষী এসব ব্যক্তির প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলছি- অনুগ্রহ করে মুক্তচিন্তা এবং বাকস্বাধীনতার নামে কারো ধর্মবিশ্বাসকে অবজ্ঞা করবেন না। একইভাবে আল্লাহ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এবং ইসলামকেও আর অবমাননা করবেন না। আপনার ইচ্ছা হলে আপনি নাস্তিক হোন এবং ধর্ম ও স্রষ্টাকে অস্বীকার করুন। কিন্তু অপরের ধর্মবিশ্বাসকে অপমান করবেন না। কারণ এই অধিকার আপনার নেই এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের আইনে এই অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। আর আপনাদের তুচ্ছ তচ্ছিল্য বক্তব্য এবং লেখায় ইসলামের কোনো ক্ষতি হবে না এবং আপনাদেরও কোনো উপকার হবে না। বরং এতে ইসলাম আরো বিকশিত এবং গতিশীল হবে। আর মুক্তচিন্তা মানে স্রষ্টাকে অস্বীকার করা এবং ধর্মের প্রভাব ও বিশ্বাস থেকে মুক্ত হওয়া নয়। একইভাবে বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করা নয়। যে কাজ দ্বারা অন্যের স্বাভাবিক কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেই কাজ করার অধিকারটা ব্যক্তিস্বাধীনতা নয়। আর বিশ্বজুড়ে যারা আজ স্রষ্টাকে মানছে এবং নিজ নিজ ধর্মের পথে চলছে তারা কেউই জ্ঞান-বিজ্ঞান-আভিজাত্য আর আধুনিকতায় এসব ধর্মনিরপেক্ষ, নাস্তিক এবং মুক্তমনাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। বরং এসব ধার্মিক অনেক উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের জীবন অনেক সুন্দর, উন্নত এবং আধুনিকতায় পরিপূর্ণ। তাদের জীবন বেশ ভালোভাবেই কাটছে। হে মুক্ত চিন্তার অধিকারী ব্যক্তিরা- আপনারা নিজের সৃষ্টি, হাজারো প্রাণী/উদ্ভিদের সৃষ্টি এবং এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে একবার ভাবুন। একইভাবে মহাবিশ্বের পরিচালনা নিয়েও একবার ভাবুন। তাহলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। আসুন আমরা অপরের ধর্মকে অবমাননা করা থেকে বিরত থাকি এবং অপরের ধর্মকে সম্মান করি। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এটি শান্তি এবং সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলি। এতেই বিশ্বমানবতার জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

লেখক : প্রকৌশলী ও উন্নয়ন গবেষক

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির