মহামারী ডেঙ্গু : প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নাকি কর্মফল? । মো: কামরুজ্জামান (বাবলু)

মহামারী ডেঙ্গু : প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নাকি কর্মফল? । মো: কামরুজ্জামান (বাবলু)পবিত্র কুরআনের ৪২তম সূরা আস শুআরা’র ৩০তম আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন : “তোমাদের ওপর যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কর্মফল। আমি তোমাদের অনেক অপরাধ মাফ করে থাকি।” বিষয়টি আরো খোলাসাভাবে বলা হয়েছে পবিত্র কুরআনের ৩০তম সূরা আর রুম-এর ৪১তম আয়াতে। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেন : “মানুষের কৃতকর্মের জন্য জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোনো কোনো কর্মের শাস্তি আস্বাদন করানো হয়, যেন তারা সৎ পথে ফিরে আসে।” এ ছাড়া পবিত্র সহিহ আল বুখারি শরিফের হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলে কারিম (সা) বলেছেন, “ছোট-বড় যত দুর্ভোগ বা হয়রানি বান্দার ওপর আপতিত হয় সবই নিজ কর্মদোষে। আর অধিকাংশই আল্লাহ মাফ করে দেন।”
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসবে- তাহলে মহামারী আকারে যেই ডেঙ্গু বিপর্যস্ত করে দিয়েছে গোটা বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে সেটাও কি কর্মফল? ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠছে দেশের হাসপাতালগুলো। তাদের কী অপরাধ? সুইয়ের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে শিশুদের কোমল হাতগুলো। এরই মধ্যে রোগ আর সুইয়ের আঘাত সহ্য করতে না পেরে অনেক শিশুই পিতা-মাতা ও স্বজনদের কাঁদিয়ে চিরদিনের জন্য পাড়ি জমিয়েছে না ফেরার দেশে। কোন দোষের কারণে এই বিপর্যয়ের শিকার হলো ওই শিশুরা?
ডেঙ্গু এরই মধ্যে কেড়ে নিয়েছে শতাধিক ব্যক্তির জীবন। আক্রান্ত হয়েছেন আরো হাজার হাজার মানুষ। দেশের সর্বত্র ডেঙ্গু এখন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। তবে, এই আক্রান্তদের সিংহভাগই রাজধানী শহর ঢাকায় বসবাসকারী। ডেঙ্গু জ¦রে হতাহত ও আক্রান্তদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ঢাকার বাসিন্দা। কেন ঢাকায় এত বেশি লোক এই রোগে আক্রান্ত হলেন? এখানে বসবাসরত মানুষগুলোর মধ্যে শিক্ষার হার এবং সচেতনতাবোধ বেশি, নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও অনেক বেশি ভোগ করে থাকেন রাজধানীতে বসবাসরত প্রায় দুই কোটি বাসিন্দা। অথচ ডেঙ্গুর আঘাতে এরাই সবচেয়ে বেশি জর্জরিত।
জটিল গবেষণা কিংবা জরিপে না গিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ঢাকায় বসবাসকারী একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই শহরের যে দৃশ্য বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি তার খানিকটা তুলে ধরছি। এখনো একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে বেশির ভাগ বড় বড় ভবনের পিছনে ও দুই পাশে বিশেষ করে দুই ভবনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় পলিথিন থেকে শুরু করে হাজারো রকমের ময়লা পাওয়া যাবে। প্লাটিকের বোতল, কান চুলকানোর কটন বার ও শিশুদের ন্যাপকিন থেকে শুরু করে সব। এগুলোর বেশির ভাগই আমাদের মতো বড় মানুষগুলোই জানালা দিয়ে ফেলেছেন। দুই কদম হেঁটে রান্নাঘরে গিয়ে ময়লার ঝুড়িতে রাখবেন এই সামান্য পরিশ্রমটুকু না করার জন্যই আমরা অহরহ জানালা দিয়ে এগুলো ফেলছি।
আমি তো থাকি ভবনের তিন, চার কিংবা পাঁচ বা আরো অনেক অনেক উপরের তালায়। ভবনের পেছনে কিংবা পাশের সংকীর্ণ জায়গায় কী পড়ে থাকলো তাতে আমার কী যায় আসে? এমনই একটা ধারণা আমরা পোষণ করে আসছি যুগের পর যুগ। আসলে সামান্য একটা ম্যাচের কাঠি খরচ না করার জন্য যেই আমরা সারারাত গ্যাসের চুলা জ¦ালিয়ে রাখি তাদের কাছে উঁচু ভবনের ওপরের তলা থেকে জানালা দিয়ে সহজেই ময়লা আবর্জনা ফালানো তো মামুলি বিষয়। অথচ ওই পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল কিংবা ডায়পারে জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়া ও বিস্তারলাভকারী ডেঙ্গু মশাই আজ মরণঘাতী আঘাত হানছে সবার ওপরে।
ঢাকা শহরে এখনো অহরহ আমরা দেখতে পাই ড্রেনের মধ্যে সবকিছু ফেলতে। ডাবের খোসা, পানির বোতল ও উচ্ছিষ্ট পলিথিন থেকে শুরু করে সব কিছুই আমরা ড্রেনের মধ্যে ফেলছি। আর এসব কারণে ড্রেন আটকে যাওয়ার ঘটনা হরহামেশাই দেখা যায়। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা যায় ঢাকার অধিকাংশ এলাকায়। আর ওই পানির সাথে মিশছে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা। এ ছাড়া প্লাটিকের বোতল, পলিথিন ও ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে ডেঙ্গু থেকে শুরু করে সব ধরনের মশা।
ঢাকার আরেকটা সাধারণ দৃশ্য হলো উন্মুক্ত ময়লার ডাস্টবিন। সেখানে নামমাত্র সিটি কর্পোরেশনের বড় স্টিলের কন্টেইনার থাকলেও তা খুব সামান্যই কাজে আসে। এমনভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ময়লা আবর্জনা স্তূপ হয়ে থাকে যে সেই কন্টেইনারও যেন ময়লারই একটা বড় অংশ। এইসব ডাস্টবিনেও প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা ও পলিথিন অহরহ দেখা যায়। আর এতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যা এডিস বা ডেঙ্গু মশার বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রশ্ন আসতে পারে ডাস্টবিন তো নোংরা জায়গা। এডিস মশা তো জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ওইসব ডাস্টবিনে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, কিংবা পলিথিন বা ডাবের খোসায় যখন বৃষ্টির পানি জমে তখন সেটা বেশ পরিষ্কার এবং ডেঙ্গু মশার বিস্তারে অত্যন্ত সহায়ক।
মহামারী ডেঙ্গু : প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নাকি কর্মফল? । মো: কামরুজ্জামান (বাবলু)ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত নির্মিত হচ্ছে হাজার হাজার সুউচ্চ ভবন। এসব ভবন নির্মাণের সময় শুরুতেই পানি রাখার বাংকার তৈরি করা হয়। সেখানে দিনের পর দিন পানি জমিয়ে রাখা হয় যাতে ইট থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ধোয়া যায়। অনেক ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞই এই জমানো পানিকেই ঢাকায় ডেঙ্গুর বংশবিস্তারের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এটি নিয়ে অনেক কথাবার্তা হলেও এর কোনো সহজ সমাধান এখনো খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে, সম্প্রতি অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন এই পানিতে কিছুটা লবণ মিশিয়ে রাখলে সেখানে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করতে পারবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শ আদৌ কেউ গ্রহণ করবে বলে মনে হচ্ছে না।
এ ছাড়া বাসাবাড়িতে ফুলের টবে কিংবা বাথরুমে বালতি বা ড্রামে একাধারে কয়েকদিন পর্যন্ত জমে থাকা পানির ব্যাপারে প্রতিনিয়ত সতর্ক করা হচ্ছে। হয়তোবা এ ব্যাপারে এরই মধ্যে অনেকেই সজাগ হয়েছেন। কারণ সবার আগে ভোগান্তিটা যে তার নিজের ওপরেই আসতে পারে সেই জ্ঞান নিশ্চয়ই সবার আছে।
সুতরাং একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি যে ডেঙ্গুর বিস্তারের জন্য অনেকাংশেই আমাদের কর্মকাণ্ড দায়ী। আমরা যদি একটু সচেতন হতাম তবে ডেঙ্গুর এত বেশি বিস্তার ঘটতো না। আর আমরা নিজেরাসহ আমাদের কোমলমতি শিশুরা এত কষ্ট পেতো না। মশা তো আর হিসাব করে কামড়ায় না কে শিশু আর কে বড়! অনেকাংশেই মশা বরং শিশুদের বেশি কামড়ায়, কারণ তারা বেশি সময় ঘরে থাকে এবং হাত পা উন্মুক্ত থাকে।
সবচেয়ে দুঃখজনক হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সেই মার্চ-এপ্রিল মাস থেকেই গণমাধ্যমে বার বার সতর্ক করা হচ্ছিল যে এবারের বর্ষা মৌসুমে মশার প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। কিন্তু এসব সতর্কবার্তার প্রতি সরকার সামান্যতম ভ্রুক্ষেপ করেনি। এমনকি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনকে আমরা দেখেছি বেশ রাজকীয় ভঙ্গিতে টিভি ক্যামেরার সামনে এসে বলছেন যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, সব কিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে।
সবচেয়ে হতবাক করা বিষয় হলো- মশানিধনে সিটি কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি টাকাও দেদারছে লোপাট হওয়ার খবর আসছে অহরহ। এতটাই অভিযোগ উঠেছে যে শেষমেশ উচ্চ আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। অসাধু কর্তাব্যক্তিরা যে কতটা বেপরোয়া তা বোঝা যায় জাগোনিউজে প্রকাশিত গত ৬ই আগস্টের এক প্রতিবেদন থেকে। “মশা মারার টাকায় বিদেশ ভ্রমণে ডিএসসিসির কর্তারা”- এই শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের খানিকটা তুলে ধরা হলো:
“ওষুধের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। মশার ওষুধ কম ছিটিয়ে সেই টাকায় ডিএসসিসির (ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন) কর্তাব্যক্তিরা বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে, ওষুধের গুণগতমান খারাপ, নিয়মিত ওষুধ না ছিটানো এবং মশকনিধন কার্যক্রম মনিটরিং না করার অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা জানতে পারেন, মশকনিধনের জন্য বরাদ্দ টাকা খরচ করে কর্মকর্তাদের অনেকেই বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন।”
শুধুমাত্র মশাকে ঘিরেই দুই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বহীনতা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে দেশের মানুষকে। ডেঙ্গুর প্রকোপ এভাবে না বাড়লে হয়তোবা এই বিষয়টি এভাবে জনসম্মুখে আসতোই না। এই একটি ঘটনার মধ্য দিয়েই বোঝা যায় কতটা বহুমুখী দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো। দৈনিক যুগান্তরে গত ২৬শে জুলাই “মশার ওষুধ নিয়ে হাইকোর্ট : আগে ঝাঁজ পেতাম, এখন গন্ধও পাই না”- এই শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের খানিকটা তুলে ধরছি:
“সিটি কর্পোরেশন মশা নিধনে কেন কার্যকর ওষুধ ছিটাতে পারছে না- এই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট বলেছেন, ওষুধ কার্যকর কিনা সে পরীক্ষা আগে কেন করা হয়নি?
– সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, গত বছর ওষুধ ছিটানোর পর ঘরে বসেই তার ঝাঁজ পেতাম, এবার গন্ধও পাওয়া যায় না।
– মানুষের ধারণা এবারের ওষুধে কাজ হচ্ছে না। আদালত বলেন, দিনের পর দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। অথচ জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ওষুধ আমদানি হচ্ছে না। আমরা চাই মশা মরুক।
– সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলছেন, যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে কাজ হচ্ছে না। আর আপনারা বলছেন ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিলে মশা নির্মূল হবে। কোনটা সত্যি?”
কতটা হতভাগা জাতি আমরা। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সবার একজোটে কাজ করা জরুরি। সরকার সবার সহযোগিতা চাইবেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এমন সময়ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ এবং ঠাট্টা বিদ্রƒপ করছেন খোদ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা পর্যন্ত। গত ২৫শে জুলাই এক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা রোহিঙ্গাদের মতো, তাই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।”
কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে একজন মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। তাও আবার কোনো রাজনৈতিক সভায় নয়, একটি সেমিনারে। ‘ডেঙ্গু: চেঞ্জিং ট্রেন্ডস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঐরকমই মন্তব্য করেছিলেন। একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এমন অর্বাচীনের মতো বক্তব্য দেয়ার কারণই অনেক দেশে যথেষ্ট হতো ওই মন্ত্রীকে তার পদ ছেড়ে দেয়ার জন্য। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে আমরা সে রকমটি ভাবতে পারি না। বরং এই ধরনের মন্ত্রীরাই স্বপদে থেকে পালন করতে থাকেন তাদের দায়িত্ব।
এমন পরিস্থিতি মানুষ সাধারণত আশা করে আর যাই হোক অন্তত সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার জায়গায় থেকে প্রধানমন্ত্রী কোনো ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের উদ্যোগ নিবেন যাতে করে ডেঙ্গু মোকাবেলায় একটি সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু তিনিও ফের দোষারোপের রাজনীতির আশ্রয় নিলেন। লন্ডনে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রী গত ৬ই আগস্ট বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংবাদমাধ্যমকে দোষারোপ করে বলেন, ডেঙ্গুবিষয়ক খবর অনেক বেশি প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন, আর সেটাই সমস্যা তৈরি করছে।
দেশের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে যখন দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিও বিষয়টিকে অত্যন্ত সংকীর্ণ পরিসরে দেখে থাকেন তখন সাধারণ মানুষের আর কিইবা করার থাকে। কুরআন শরিফের ৯ নম্বর সূরা আত-তাওবার ১২৬ নম্বর আয়াত দিয়ে এই লেখার সমাপ্তি টানছি। মহান আল্লাহ বলেন, “তারা কি দেখে না যে তারা প্রতি বছর দু-একবার বিপর্যস্ত হয়? এর পরও তারা তাওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না”।

লেখক : সাংবাদিক

SHARE

Leave a Reply