মানবতার শিক্ষক মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ -অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

ইন্নাল হামদা লিল্লাহ আসসালাতু আসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ। ১৪৪২ হিজরির শুরুতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার কাছে দোয়া করি সারা দুনিয়ার মুসলিমকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে আসার তাওফিক দিন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.-এর পূর্ণ অনুসরণ করার তাওফিক দিন। সারা দুনিয়ার মুসলিম উম্মাহকে করোনাভাইরাস থেকে হেফাজত করুন।

মানব সভ্যতার ইতিহাস মহামানবদের ত্যাগ ও কুরবানির ইতিহাস। পৃথিবীতে আগত মহামানবদের অন্যতম হলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.। মানবকল্যাণের মতো অসংখ্য সুন্দর গুণাবলির অধিকারী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.কে বলা হয়ে থাকে সর্বযুগের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, আদর্শ মহাপুরুষ এবং একজন অসাধারণ মহৎ ব্যক্তি। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. শুধু কথায় নয়, স্বীয় আদর্শ বাস্তবায়নে বিরামহীন প্রচেষ্টা তাঁর জীবনকে করে তুলেছে বিপুল কর্মময়। প্রফেসর লামাটিন তাঁর ‘তুরস্কের ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন- “দার্শনিক, বাগ্মী, ধর্ম প্রচারক, আইনপ্রণেতা, যোদ্ধা, আদর্শ বিজেতা, মানবিক রীতি-নীতির প্রবর্তনকারী এবং একটি ধর্মীয় সা¤্রাজ্য ও বিশটি জাগতিক সা¤্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা যিনি তিনি বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.।”

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গেটে লিখা আছে- As a father, as a teacher, as a lawgiver and as a reformer MUHAMMAD SM IS A SUPERMAN OF THE WORLD.. অর্থাৎ একজন পিতা, একজন শিক্ষক, একজন আইনপ্রণেতা ও একজন সংস্কারক হিসেবে মুহাম্মাদ সা. পৃথিবীর একজন শ্রেষ্ঠ মানব।
বর্তমান বিশ্বে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.-এর আদর্শ আজ খুবই প্রয়োজন। সমস্যাসঙ্কুল অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবজাতির সর্বাত্মক মুক্তির একমাত্র পথ বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.-এর জীবনাদর্শ বাস্তবায়ন। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক প্রভৃতি সার্বিক মুক্তির সর্বোত্তম পথ তিনি বাতলে দিয়েছেন।
স্বাধীন রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা ও সংবিধান প্রণয়ন
মুহাম্মাদ সা. মদিনায় গিয়েছিলেন একজন মধ্যস্থতাকারী এবং শাসক হিসেবে। তখন বিবদমান দুটি মূল পক্ষ ছিল আওস ও খাজরাজ। তিনি তার দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করেছিলেন। মদিনার সকল গোত্রকে নিয়ে ঐতিহাসিক মদীনা সনদ স্বাক্ষর করেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম সংবিধান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই সনদের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে সকল রক্তারক্তি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এমনকি এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতির গোড়াপত্তন করা হয় এবং সকল গোত্রের মধ্যে জবাবদিহিতার অনুভূতি সৃষ্টি করা হয়। আওস, খাযরাজ উভয় গোত্রই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এছাড়াও প্রধানত তিনটি ইহুদি গোত্র (বনু কাইনুকা, বনু কুরাইজা এবং বনু নাদির) এগুলোসহ মোট আটটি গোত্র এই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। এই সনদের মাধ্যমে মদিনা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুহাম্মাদ সা. হন তার প্রধান। যে সকল মদিনাবাসী ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মুসলিম মুহাজিরদের আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেন তারা আনসার (সাহায্যকারী) নামে পরিচিত হন।
এ সত্য আজ প্রতিষ্ঠিত যে, তাঁর প্রবর্তিত অর্থনৈতিক নীতিমালা অনুসরণে আজও মানবজাতিকে রাষ্ট্রের দাসত্ব ও পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে প্রকৃত সুখী করা সম্ভব। রাজনৈতিক মুক্তির দিকনির্দেশনা উল্লেখ করে পাশ্চাত্যের খ্যাতিমান মনীষী জর্জ বার্নার্ড শ স্পষ্টভাবে বলেছিলেন- ও I belive if a man like prophet Muhammad (sallallahu alaihi wa sallam) were to assume the dictatorship of modern world, he would succeed in solving the problems in waz that would bring much needed peace and happiness. “আমি বিশ্বাস করি আজ যদি নবী মুহাম্মাদ সা. আধুনিক বিশ্বের সর্বময় কর্তৃত্ব গ্রহণ করতেন তা হলে আমি বিশ্বাস করি যে তিনি যে পরিমাণ সুখ শান্তি দরকার তার চেয়েও অনেক বেশি সুখ শান্তি বিশ্বকে উপহার দিতে পারতেন।” ফরাসি স¤্রাট মুহাম্মাদ সা.কে একজন আদর্শ আইন নির্মাতা এবং মহামানব আখ্যা দিয়ে মুহাম্মাদ সা. এবং ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ইতিহাসবিদগণ তাদের নিজ নিজ বইয়ে মুহাম্মাদ সা.কে একজন অন্যতম ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তার একশ মনীষীর জীবনী গ্রন্থে মুহাম্মাদ সা.-কে প্রথম স্থানে রেখেছেন।-উইকিপিডিয়া থেকে।

বর্তমান নারীরা নির্যাতিত, নিগৃহীত সর্বত্র। এমতাবস্থায় বিশ্বনবীর মুহাম্মাদ সা.-এর দিকনির্দেশনাই নারীকে দিতে পারে মুক্তি। প্রাচ্য পণ্ডিত গিবন তাঁর “মোহাম্মডানিজম” গ্রন্থে বলেছেন- “আজ এটা এক বিশ্বজনীন সত্য যে, মুহাম্মাদ সা. নারীদেরকে উচ্চতর মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন।” সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সা.-এর আগমনে সুন্দরের সৌন্দর্য পূর্ণরূপ পেয়েছে, পৃথিবী খুঁজে পেয়েছে তার সার্থকতা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আল-আম্বিয়ার ১০৭, আয়াতে বলেন,
“হে মুহাম্মাদ! আমি যে তোমাকে পাঠিয়েছি, এটা আসলে দুনিয়াবাসীদের জন্য আমার রহমত।”
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. বিশ্বমানবতার জন্য রহমতস্বরূপ এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বিশ্ব মানবকে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে কিতাব দিয়েছেন আর সেই কিতাব অনুযায়ী চালানোর জন্য নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। মানুষ আল্লাহর পথে চললে ভালো আমল করলে জান্নাতের অধিকারী হবে আর আল্লাহর পথে না চললে ভালোর পরিবর্তে খারাপ কাজ করলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সারা দুনিয়ার মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. বিদায় হজে বলেছিলেন আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু রেখে যাচ্ছি দু’টি কেতাব- যতদিন তোমরা এই দুটি শক্তভাবে ধারণ করে জীবন যাপন করবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না। আল্লাহর বিধানকে দাঁতের মধ্যে সবচাইতে শক্ত মাড়ির দাঁত সেই দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে।

মহামারী সম্পর্কে
বর্তমান করোনা ভাইরাস মহামারী সারা দুনিয়াকে তছনছ করে দিয়েছে। এই মহামারী সম্পর্কে বিশ্ব মানবতার শিক্ষক মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. প্রায় দেড় হাজার বছর আগেই বলে গেছেন। হযরত আয়িশাহ্ রা. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন- আমি একবার রাসূলুল্লাহ সা.কে মহামারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি আমাকে বললেন, এটা এক রকম আজাব। আল্লাহ যার উপর চান এ আযাব পাঠান। কিন্তু মুমিনদের জন্য তা তিনি রহমাত গণ্য করেছেন। তোমাদের যে কোন লোক মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায় সবরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে, তা ছাড়া আর কিছু হবে না, তার জন্য রয়েছে শহীদের সাওয়াব। (সহীহ বুখারী-৩৪৭৪)
অতএব করোনা ভাইরাসকে ভয় না করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে ভয় করতে হবে, তার বিধান কুরআনকে মেনে চলতে হবে। রাসূলুল্লাহ সা.কে নবী ও শিক্ষক মেনে নিয়ে তার উপদেশ মেনে চলতে হবে। তাহলেই হবে মুক্তি। পাঠক-পাঠিকার জন্য এখানে রাসূলুল্লাহ সা.-এর কিছু উপদেশ পেশ করা হলো-

সকলের জন্য মুআজ বিন জাবাল রা.কে রাসূলুল্লাহ সা. যে ১০টি উপদেশ দিয়েছিলেন-

১. ‘আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।’ শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অসংখ্য জায়গায় বান্দাকে শিরকের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকার আদেশ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক কর না। (সূরা নিসা : ৩৬)
শিরক অমার্জনীয় অপরাধ। মহান আল্লাহ শিরককারীকে ক্ষমা করেন না। মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। (সূরা নিসা : ৪৮) তাই আমাদের উচিত শিরক থেকে মুক্ত থাকা এবং শিরকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।
২. ‘পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না, যদি মাতা-পিতা তোমাকে তোমার পরিবার-পরিজন বা ধনসম্পদ ছেড়ে দেওয়ার হুকুমও দেয়।’ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমার রব ফায়সালা করে (আদেশ) দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারোর ইবাদত না করতে ও মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন বা উভয়েই তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিরক্ত জনিত শব্দ ‘উফ্’ পর্যন্ত বলো না এবং তাদের ধমকও দিয়ো না। বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো। (সূরা বনি ইসরাইল : ২৩)
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার পরেই মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, মহান আল্লাহ মানুষের প্রকৃত স্রষ্টা ও প্রতিপালক। কিন্তু মানুষ পৃথিবীতে আসার বাহ্যিক উপায় ও মাধ্যম হলেন মাতা-পিতা। তাই আল্লাহর ইবাদতের পরেই মাতা-পিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, তিন ধরনের মানুষের দিকে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন দৃষ্টিপাত করবেন না- মাতা-পিতার প্রতি অবাধ্য, পুরুষের মত পোশাক পরিধানকারী নারী এবং দাইয়ুস। আর তিন প্রকার লোক জান্নাতে যাবে না। মাতা-পিতার অবাধ্য, মদ পানে আসক্ত এবং দান করার পর খোঁটাদাতা।’ (মুসনাদ আহমদ-৬১১)
৩. ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো কোনো ফরজ নামাজ ছেড়ে দিয়ো না। কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তায়ালা তার থেকে দায়িত্ব উঠিয়ে নেন।’ অর্থাৎ নামাজ বর্জনকারী আল্লাহর নিয়ামত, বরকত ও রহমত থেকে বঞ্চিত হবে। আল্লাহর ফেরেশতারা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন, তার দোয়া কবুল হয় না, তার চেহারার নূর উঠে যায়, তার জীবিকা সংকীর্ণ করা হয়। ফলে সে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কষ্ট পায়। রাসূল সা. ফরজ নামাজ বর্জনকারীর ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি বাক্য উচ্চারণ করেছেন। জাবির রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (মুসলিম-১৪৮) তাই কোনো মুসলিম ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ ত্যাগ করতে পারে না।
৪. ‘মদপান থেকে বিরত থাকবে। কেননা তা সব অশ্লীলতার মূল।’ মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, তার গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সমাজে তাদের মাথা নিচু করে দেয়। মানুষকে অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের অভ্যাস জীবনের সফলতার অন্তরায়। যারা এগুলো ত্যাগ করতে পারে না তারা সফল হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা মায়েদা : ৯০)
৫. ‘সাবধান! আল্লাহর নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকো, কেননা নাফরমানি দ্বারা আল্লাহর ক্রোধ অবধারিত হয়ে যায়।’ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পাপ বর্জন করো, যারা পাপ করে অচিরেই তাদের পাপের সমুচিত শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সূরা আনআম : ১২০)
৬. ‘জিহাদ থেকে কখনো পালিয়ে যাবে না, যদিও সব লোক মারা যায়।’ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। অতএব তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। আর ওয়াদা পূরণকারী আল্লাহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা (আল্লাহর সঙ্গে) যে সওদা করেছ, সে সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং সেটাই মহাসাফল্য। (সূরা তাওবা : ১১১)
৭. মহামারী দেখা দিলে অবস্থানরত জায়গা থেকে চলে এসো না। যখন মানুষের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে আর তুমি সেখানেই রয়েছ, তখন সেখানে তুমি অবস্থান করবে (পলায়নপর হবে না)।’ মহামারী প্রসঙ্গে রাসূল সা. আলোচনা করলেন এবং বললেন, যে গজব বা শাস্তি বনি ইসরাইলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে মহামারী। অতএব, কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না। (তিরমিজি-১০৬৫)৮. সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের জন্য খরচ করবে (কার্পণ্য করে তাদের কষ্ট দেবে না)।’ কৃপণতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। কোনো মুমিন কৃপণ হতে পারে না। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তির চরিত্রে কৃপণতা, ভীরুতা ও হীন মানসিকতা রয়েছে সে খুবই নিকৃষ্ট। (আবু দাউদ-২৫১১)
৯. ‘পরিবারের লোকেদের আদব-কায়দা শিক্ষার জন্য কখনো শাসন হতে বিরত থাকবে না।’ রাসূল সা. বলেছেন, সাবধান! তোমরা সবাইকে রাখাল (দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার রাখালি (দায়িত্ব পালন) প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (তিরমিজি- ১৭০৫) তাই পরিবারের লোকদের সর্বাবস্থায় আল্লাহর হুকুম পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে শাসন করতে হবে। সব পাপ কাজ বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে।
১০. ‘আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করতে থাকবে।’
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো। (সূরা শুয়ারা : ২১৪) এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর রাসূল সা. বললেন, হে সাফিয়্যা বিনতু আবদিল মুত্তালিব, হে ফাতিমা বিনতু মুহাম্মদ, হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! আল্লাহ তায়ালার (পাকড়াও) হতে তোমাদেরকে বাঁচানোর ক্ষমতা আমার নেই। (তিরমিজি- ২৩১০, বাংলাদেশ জার্নাল)

তিনটি কাজ করার উপদেশ
আবু হুরায়রাহ্ রা. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমার বন্ধু (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ সা.) আমাকে তিনটি কাজ করতে উপদেশ দিয়েছেন। সেগুলো হলো-
১. প্রতি মাসে তিনটি করে সওম (রোজা) পালন করতে,
২. যুহা’ বা চাশ্তের দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে এবং
৩. ঘুমানোর পূর্বে পবিত্র সালাত আদায় করতে।
(সহিহ মুসলিম-১৫৫৭)

খুতবাতে আল্লাহর প্রশংসা, নবী সা.-এর প্রতি দরূদ, সমবেত জনগণকে উপদেশ এবং দুআ থাকতে হবে। এতদভিন্নতা খুতবাহ্ হবে না। উল্লেখ্য যে, যে নাসিহত জনগণের বোধগম্য ভাষায় হয় না তা কিছুতেই খুতবাহ্ হবে না। আল্লাহ প্রত্যেক রাসূলকে আপন জাতির ভাষার উপরই পাঠিয়েছেন যেন তাদের বর্ণনা দিয়ে বুঝাতে পারেন। (সূরা ইবরাহিম : ৪, সহিহ মুসলিম- ১৮৮০)
নবী সা.-এর শিক্ষা অনুযায়ী সারা জীবন পরিচালনা করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার রহমত ও মাগফিরাত দিয়ে লেখক পাঠক পাঠিকাসহ প্রকাশনার সাথে জড়িত সকলকে জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছার তাওফিক দান করুন-আমিন। সুবহানাকা আল্লাহুম্মা অবিহামদিকা আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা অআতুবু ইলায়কা।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য

SHARE

Leave a Reply