যে কারণে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষায় ফেলেন -আলী আহমাদ মাবরুর

আমাদের অনেকের মনেই প্রায়শই একটি প্রশ্ন জাগে। যদি আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনি, তাঁর হুকুম মতো চলি, সমাজের অন্য দশজনের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে সততার সাথে চলার চেষ্টা করি, তাহলে কেন আল্লাহ তায়ালা বারবার আমাদের পরীক্ষায় ফেলেন। কেনইবা আমাদের পরীক্ষার মেয়াদ এতটা দীর্ঘ হয়। আমরা পরিশ্রম করার পর, ত্যাগ স্বীকার করার পরেও কেন প্রত্যাশিত রেজাল্ট পাই না। আরেকজন এত কিছু না করেই কিভাবে এত সহজে বেশি পেয়ে যায়?

এই প্রশ্নগুলো মনে আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে, ঈমানদার বান্দা হিসেবে আমাদেরকে জানতে ও মানতেই হবে যে, আল্লাহ কখনো জুলুম করেন না। আল্লাহ সবার ওপর ইনসাফ করেন এবং করবেন। আল্লাহ তায়ালা উত্তম ন্যায়বিচারক। আল্লাহ তায়ালা পরম করুণাময় ও দয়ালু। আল্লাহর চেয়ে হিতাকাক্সক্ষী আমাদের জন্য আর কেউ নয়, হতেও পারে না। তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন, কখন কোন সময়, কোন বিষয়টা আমাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম। তাই আমাদের পরীক্ষার নেপথ্যেও আল্লাহর প্রজ্ঞা রয়েছে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়টি বারবার আমাদের সামনে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে সবার আগে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। আমরা পৃথিবীতে আসার আগেই সকলেই এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি। আমরা এ প্রতিশ্রুতির ওপর কতটা জারি আছি, এটা নির্ণয় করার জন্য পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে কার ঈমান কতটা শক্তিশালী কিংবা যিনি মুখে ঈমানের কথা বলছেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে কতটা ঈমান ধারণ করে আছেন তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষা দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। ছাত্রাবস্থায় আমরা সারা বছর কতটা পড়াশুনা করলাম তা নির্ধারণ করার জন্য যেমন বছর শেষে পরীক্ষা নেয়া হয়, আল্লাহও এই দুনিয়ায় আমাদের জীবন চলাকালে নানা ধরনের অনুকূল ও প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আমাদের ঈমানের পরীক্ষা নেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ ইরশাদ করেন, “মানুষ কি মনে করে যে, আমরা ঈমান এনেছি এ কথা বলেই তারা ছাড় পেয়ে যাবে অথচ তাদে কোনো পরীক্ষা করা হবে না? তোমাদের আগে যারা পৃথিবীতে গিয়েছিল আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে।” (সূরা আনকাবুত : ২-৩)।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পরিশোধিত করার জন্য এবং সব ধরনের পাপ ও পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করার জন্যও পরীক্ষায় ফেলেন। এ প্রসঙ্গে নবীজির সা. একটি হাদিস আছে। নবীজি সা.-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির উপর যে সকল বিপদ-আপদ আসে এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফুটে এর দ্বারাও। (মুসলিম-২৫৭২, আহমাদ-২৪৮৮২) তাই যেকোনো পরীক্ষা বা বিপদকে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। বরং এভাবে ভাবা উচিত যে, আল্লাহ হয়তো এই সামান্য বিপদটুকু দিয়ে এর বিনিময়ে বড়ো আকারের শাস্তি থেকে পানাহ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কেননা, দুনিয়ার এই সব সাময়িক শাস্তি ও দুর্ভোগের তুলনায় আখেরাতের শাস্তি ও আজাব আরো অনেক বেশি কঠিন।

শুধু চলার পথের পরীক্ষা নয়, মানুষের রোগ ব্যাধিও তার গুনাহ মাফের অসিলা হতে পারে। আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সা.-এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি বললাম, নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। আমি এও বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেন, হ্যাঁ। যে কেউ রোগাক্রান্ত হয়, তা থেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়। (বুখারি-৫৬৪৮ মুসলিম-২৫৭১)

তৃতীয়ত, এভাবেও ভাবতে হবে যে, আল্লাহ হয়তো এই বিপদ বা পরীক্ষাটুকু দিয়ে সামনের কোনো বড় বিপদ থেকে আমাকে হেফাজত করলেন। আমরা যখন প্রত্যাশিত কিছু একটা না পাই, আমরা মন খারাপ করি। কারণ আমরা নিজেদের দায়িত্বেই এ বিষয়টিকে সঠিক ও উত্তম বলে মনে করি। অথচ, আদৌ এ বিষয়টি ভবিষ্যতে আমাদের জন্য ভালো হতো কিনা- তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। কারণ মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা হলো, আমরা ভবিতব্য বিষয়ে কোনো জ্ঞান রাখি না। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “হয়তো তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ তোমাদের জন্য অনেক বেশি কল্যাণ রেখেছেন।” (সূরা নিসা : ১৯)। যাকে আপনি বিপদ বা পরীক্ষা হিসেবে ভাবছেন, শেষ পর্যন্ত তা হয়তো আপনার সামগ্রিক জীবনের জন্য কল্যাণকর হয়েই দেখা দেবে।

আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে পরীক্ষায় ফেলেন তার ঈমানকে মজবুত করার জন্য। সা’দ বিন আবু ওয়াককাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ মানুষের সর্বাপেক্ষা কঠিন পরীক্ষা হয়? তিনি বলেন, নবীগণের। অতঃপর মর্যাদার দিক থেকে তাদের পরবর্তীদের, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণের। বান্দাকে তার দীনদারির মাত্রা অনুসারে পরীক্ষা করা হয়। যদি সে তার দ্বীনদারিতে অবিচল হয় তবে তার পরীক্ষাও হয় কঠিন। আর যদি সে তার দীনদারিতে নমনীয় হয় তবে তার পরীক্ষাও সে অনুপাতে হয়। অতঃপর বান্দা অহরহ বিপদ-আপদ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। শেষে সে পৃথিবীর বুকে গুনাহমুক্ত হয়ে পাকসাফ অবস্থায় বিচরণ করে।” (বুখারি, ইবনে মাজাহ-৪০২৩)

মূলত আল্লাহ পাক আমাদের ভালোবাসেন বলেই আমাদেরকে সংশোধনের উদ্যোগ নেন, আমাদের পরিশোধিত করেন। যাতে আমরা শুধু জান্নাত লাভের জন্য যোগ্য না হই, বরং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে যে নেককার মানুষগুলো থাকবেন, সেই কাতারেও যেন নিজেদেরকে শামিল করতে পারি। সবসময় ভালো ও অনুকূল অবস্থায় থাকলে নিজেদের ত্রুটিগুলো গোচরে আসে না। ফলে মানুষ নিজের ভুল বুঝতেও পারে না। ফলশ্রুতিতে, একটা সময়ে সে অহঙ্কারী ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে যায়। পরীক্ষায় পড়ি বলেই আমরা নিজেদের বিগত সময়ের দুর্বলতাগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করি, নিজেদের চরিত্র সংশোধনে সক্রিয় হই এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরো বেশি মনোযোগী ও সৎ হওয়ার চেষ্টা করি।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, আল্লাহ তাঁর প্রিয়তম বান্দাদেরকেই বারবার পরীক্ষায় ফেলেন। সাধারণ পরীক্ষা নয়, বরং কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ যখনই তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ করতে চান, তখনই তিনি তার সামনে বিপদাপদ নির্ধারণ করে দেন। (বুখারি)। কেন এমনটা করেন? কারণ যদি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার পর বান্দা ধৈর্য ধারণ করতে পারে এবং আল্লাহর ফায়সালাকে সন্তুষ্টির সাথে মেনে নিতে পারে তাহলে আগের তুলনায় এই বান্দা আল্লাহর আরো বেশি নিকটে চলে আসতে পারেন। কারণ আল্লাহ ধৈর্যশীল বান্দাদের অধিক ভালোবাসেন।

বিপদাপদ মোকাবেলায় যা করণীয়
ইমাম ইবনুল কাইউম (রহ.) বলেন, যখন আমরা পরীক্ষায় পড়ি, তখন আমাদের দু’ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। হয় আমরা ধৈর্যধারণ করতে পারি অথবা অধৈর্য হয়ে অস্থির হয়ে যেতে পারি। যখন আমরা ধৈর্যহারা হই, আমরা হতাশ হয়ে যাই। আল্লাহকে দোষ দিতে শুরু করি। কিন্তু এ ধরনের আচরণ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু যে মানুষটি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ধৈর্যধারণ করার পথ বেছে নেয়, সে এই সাময়িক বিপদ থেকে কল্যাণ অর্জন করতে পারে এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখার বিনিময়ে পরকালে জান্নাত পাওয়ার পথেও অনেকটুকু এগিয়ে যেতে পারে।
আপৎকালীন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার জন্য আমরা কিছু টিপস অবলম্বন করতে পারি। যেমন:
বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করতে পারি। কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পারি। আল্লাহর জিকির করতে পারি। কেননা আল্লাহর স্মরণ তথা জিকির মনে স্বস্তি এনে দেয়। আল্লাহ পাক বলেন, “যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে শান্তি লাভ করে; জেনে রাখো, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।

আল্লাহর সাহায্য, শক্তি এবং বিপদ থেকে পরিত্রাণ কামনা করে দুআ করতে হবে, যাতে আল্লাহ সেভাবেই বিপদ থেকে আমাদের উদ্ধার করেন, যেভাবে তিনি হযরত ইয়াকুব (আ) এবং হযরত মারইয়াম (আ)কে এবং আমাদের নবীজিকে সা. বারবার উদ্ধার করেছিলেন, সাহায্য করেছিলেন।
আল্লাহর প্রতি শুকরগুজারি হতে হবে। কৃতজ্ঞতাবোধ বিপদ সম্পর্কে আমাদের ধারণা পরিষ্কার করে এবং অভিযোগ দেয়ার মানসিকতা থেকে নিষ্কৃতি দেয়। সবর বা ধৈর্য ধারণ করার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম উপায় হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
আশপাশের লোকজন কিভাবে কষ্টকর সময় পার করছে বারবার তা স্মরণ করা। আমাদের প্রিয় নবী সা. আল্লাহ তায়ালার হাবিব হওয়ার পরও কত বেশি কষ্ট সহ্য করেছেন তা চিন্তা করা। তাহলে আমরা বিপদে স্থির থাকার প্রেরণা পাবো। মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি মানুষকেই আল্লাহ আলাদা আলাদাভাবে পরীক্ষা করেন।

মনে রাখতে হবে যে, পৃথিবীতে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। তাই যে বিপদাপদ এসেছে, তাও একটা সময়ে শেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।” (সূরা ইনশিরাহ : ৫-৬)
আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে।” (সূরা বাকারা : ২৮৬)। আমাদের ওপর আল্লাহ পাকের বিশ্বাস আছে। তাই আমাদেরও বিপদাপদ মুকাবেলা করার সময় ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে আল্লাহর সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে। যেহেতু বোঝাকে তিনি আমাদের জন্য বাড়তি বা সাধ্যাতীত মনে করেননি, তাই আমাদেরও তা মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

নিজেদের আত্ম সমালোচনা করতে হবে। আমার ভেতর কী কী অসঙ্গতি বা দুর্বলতা আছে তা যাচাই করতে হবে। ভবিষ্যতে নিজের চরিত্রে ও মানসিকতায় কোন বিষয়গুলো উন্নত করতে পারলে আমরা কাক্সিক্ষত ফলাফল লাভ করতে পারি- তা শনাক্ত করে আমাদের এ বিষয়ে কাজ করে যেতে হবে।
একটা সময়ে একটা কাজ করার বিষয়টি রপ্ত করা উচিত। যদি আপনাকে বড় কোনো কাজ করতে হয়, তাহলে ছোট ছোট করে কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। প্রতিদিন কতটুকু করে কাজ এগোবেন, তা নির্ধারণ করুন এবং সেই আলোকে কাজ করুন। প্রতিটি দিনের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে কাজটি করুন।

আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। যেই পরীক্ষাই আসুক, সবকিছুই আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ আর আল্লাহ হলেন সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। প্রতিটি ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ আমাদের উত্তম শিক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
নামাজের পরিমাণ বৃদ্ধি করুন। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন। কেননা আল্লাহ শিখিয়ে দিয়েছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (সূরা বাকারা : ১৫৩)

যারা বাহ্যত বিপদে পড়ছেন না…
প্রায়শই একটি প্রশ্ন করা হয়, যদি কেউ তেমন কোনো সঙ্কটের ভেতর দিয়ে না যায় এবং শুধুই নেয়ামত উপভোগ করে তাদের এই পরিণতির কারণ কী? আল্লাহ কি এই বান্দাকে বিপদাপন্ন বান্দার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন? প্রকৃতপক্ষে বিপদের অনেক ধরন আছে। বিপদ যেমন বড় বা ছোট হতে পারে। আবার বিপদ কারো জন্য ধারাবাহিকভাবে আসতে পারে, আবার কারো ক্ষেত্রে মাঝে মাঝেও আসতে পারে। আল্লাহ কাউকে না দেয়ার মাধ্যমে যেমন পরীক্ষা করতে পারেন, তেমনি অনেক বেশি দিয়েও পরীক্ষা করতে পারেন।

বেশি নেয়ামত পাওয়া অনেক সময় আপাত বিপদের চেয়ে বড় সঙ্কট হয়ে দেখা দিতে পারে। নেয়ামতের মাধ্যমে পরীক্ষার বিষয়টি কঠিন হয়ে যায় কেননা মানুষ বুঝতেই পারে না যে, বিষয়টি তার জন্য পরীক্ষা হিসেবে দেয়া হয়েছে। আমরা যখন বেশি নেয়ামত পাই, তখন আমাদের আর আল্লাহর সাহায্যের কথা মনে পড়ে না। ফলে অনুকূল পরিবেশে থাকা বান্দারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আল্লাহকে ডাকতে ভুলে যায়। আনুকূল্য দিয়েও আমাদের পরীক্ষা করা হয়। কারণ মানুষ যখন আনুকূল্যের মধ্যে থাকে তখন তাকে আল্লাহর ব্যাপারে বেখবর ও অকৃতজ্ঞ বানিয়ে ফেলা শয়তানের জন্য সহজ হয়ে যায়।

বিপদাপদে ধৈর্য রাখার সহজ কৌশল হলো আল্লাহর প্রতি অধিকমাত্রায় কৃতজ্ঞ হওয়া, আল্লাহর নেয়ামতগুলোকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো। নিজের ইগো ও অহঙ্কারকে সংযত করা। মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা। আল্লাহর পথে দান-সাদাকা বাড়িয়ে দেয়া। যে ব্যক্তি বিপদ থেকে উত্তরণ পেয়ে যায়, সে অবশ্যই পুরস্কৃত হয়, আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারে। কিন্তু যে বিপদেই পড়ে থাকে এবং ধৈর্যের সাথে বিপদকে মুকাবেলা করে তার পুরস্কারও কম নয়, বরং অনেকাংশে বেশি।
আল্লাহ তায়ালা যেন পরীক্ষার অসিলায় আমাদের গোমরাহির দিকে না নিয়ে যান। বরং আমরা যেন পরীক্ষার সময় আল্লাহর নির্দেশিত পথে থেকে পরীক্ষার ফায়দা হাসিল করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : সাংবাদিক, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply