রমাদানে কুরআন তিলাওয়াত ও দান -মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

عَنِ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ، حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ جِبْرِيلُ يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ فِي رَمَضَانَ حَتَّى يَنْسَلِخَ، يَعْرِضُ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقُرْآنَ، فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ -كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ.‏

ইবনু আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সা. ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। রমাদানে জিবরাইল (আ) যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমাদান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাইল (আ) তার সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করতেন। আর নবী সা. তাকে কুরআন শোনাতেন। জিবরাইল (আ) যখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি রহমতসহ প্রেরিত বায়ুর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন। (বুখারি-১৯০২)

রাবি পরিচিতি
নাম ও পরিচয় : তার নাম আবদুল্লাহ, উপনাম আবুল আব্বাস, পিতার নাম আব্বাস ইবনে আবদুুল মুত্তালিব, মাতার নাম লুবাবা বিনতে হারেস। তিনি রাসূল সা.-এর চাচাতো ভাই।
জন্ম : তিনি রাসূল সা.-এর মদিনা হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কা নগরীর শিয়াবে আবি তালিবে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পরই তাঁকে রাসূল সা.-এর নিকট নিয়ে আসা হলে তিনি শিশু আবদুল্লাহর মুখে একটু থুথু দিয়ে তাহনিক করেন এবং দোয়া করেন। রাসূল সা.-এর ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
ইসলাম গ্রহণ : তার মাতা লুবাবা বিনতে হারেস হিজরতের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন বিধায় হযরত আবদুল্লাহ আশৈশব মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হয়।
গুণাবলি : তিনি ছিলেন উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং একজন বিখ্যাত প-িত, জ্ঞানবিজ্ঞান ও ফিকাহশাস্ত্রে তিনি অগাধ পা-িত্যের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তার নিকট থেকে খলিফা উমর রা. ও উসমান রা. পরামর্শ নিতেন। তার সম্পর্কে উমর রা. বলতেন هو فتى الكهول (তিনি বয়সে নবীন আর জ্ঞানে প্রবীণ)। তিনি ছিলেন রঈসুল মুফাসসিরিন। তার লিখিত তফসিরগ্রন্থ ‘তাফসিরে ইবনে আব্বাস’ জগদ্বিখ্যাত।
জিবরাইলের দর্শন : তিনি স্বচক্ষে হজরত জিবরাইল (আ)কে দুইবার দেখেছেন।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন : হযরত আলী রা.-এর শাসনামলে তিনি বসরার গভর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন। ৩৭ ও ৩৮ হিজরিতে সংঘটিত যথাক্রমে জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফিনে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সিফফিনের যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন।
হাদিস বর্ণনা : তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিদের অন্যতম। আল্লামা আইনির মতে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১৬৬০টি। কারো মতে ২৬৬০টি। বুখারি ও মুসলিমে যৌথভাবে ৯৫টি, এককভাবে বুখারিতে ১২০টি এবং মুসলিমে ৪৯টি হাদিস উল্লেখ রয়েছে।
ইন্তেকাল : ৬৮ হিজরি মুতাবিক ৬৮৬/৮৮ খ্রিস্টাব্দে তায়েফ নগরে তিনি ইন্তেকাল করেন। ওফাতের সময় তার বয়স হয়েছিল একাত্তর বছর। মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা তার জানাযার ইমামতি করেন। তায়েফ নগরে ‘মসজিদে ইবন আব্বাস’ নামক বিশাল মসজিদটি আজও তার স্মৃতি বহন করে চলেছে। এ মসজিদেরই পেছনের দিকে এক পাশে এ মহান সাহাবির কবর।

ব্যাখ্যা
আলোচ্য হাদিসে মূলত দুটি বিষয় ফুটে উঠেছে-
১. রমাদান মাসে রাসূল সা.-এর বেশি দান।
২. এ মাসে বেশি বেশি কুরআন পড়া।
এর কারণ হলো রমাদান মাসে সৎকাজ করলে অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেকগুণ সাওয়াব বৃদ্ধি পায়। কেননা রমাদান মাসের রয়েছে নিজস্ব সম্মান ও মর্যাদা; যা অন্যান্য মাসের নেই। হাদিসে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ لَهُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ ‏.‏ قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ‏”

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আদম-সন্তানের প্রতিটি কাজের সাওয়াব দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তবে সিয়াম ব্যতীত। কেননা তা শুধু আমার জন্য এবং আমিই তার পুরস্কার দিবো। (ইবনে মাজাহ : ৩৮২৩)
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন-

كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى مَا شَاءَ اللهُ يَقُوْلُ اللهُ : إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِيْ وَأَنَا أَجْزِيْ بِهِ يَدَعُ طَعَامَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِيْ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ : فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوْفُ فِيْهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ. الصَّوْمُ جُنَّةٌ، الصَّوْمُ جُنَّةٌ.

মহান আল্লাহ বনি আদম (আ)-এর প্রতিটি সাওয়াবকে দশগুণ করেছেন এবং তা বাড়তে বাড়তে সাত শ’ পর্যন্ত হয়ে যায়। কিন্তু সিয়ামের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “এটি বিশেষ করে আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।” সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি খুশি রয়েছে। একটি খুশি ইফতারের সময় এবং অন্যটি তার প্রভুর সাথে সাক্ষাতের সময়। সিয়াম পালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ মহান আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধি হতেও বেশি পছন্দীয়। সাওম ঢালস্বরূপ, সাওম ঢালস্বরূপ।
(মুসনাদে আহমাদ- ১/৪৪৬)

রমাদানে বেশি বেশি দান
রমাদান মাসে প্রতিটি আমলের সাওয়াব যেহেতু সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয় তাই এ মাসে এক টাকা দান করলে সাতশত টাকার সাওয়াব আশা করা যায়। এজন্য রমাদানকে দানের মাস হিসেবে গ্রহণ করতে রাসূলের সা. নির্দেশনা রয়েছে। প্রিয় নবী সা. উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন রমাদান মাসে দান ও বদান্যতার হাত সম্প্রসারিত করতে। হাদিসেও রমাদান মাসকে হামদর্দি বা ‘সহানুভূতির মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পবিত্র রমাদানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদারের অন্তরে দানশীলতা ও বদান্যতার গুণাবলি সৃষ্টি হয়।
রমাদানের অন্যতম আমল হলো দান-সাদাকা। তাই রোজাদার ব্যক্তিকে ইবাদতে মগ্ন থেকে সহানুভূতি, সদয় আচরণ, দানশীলতা ও বদান্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
দানশীলতা ও বদান্যতা একটি মহৎ গুণ। ইসলাম যেমন দানশীলতাকে উৎসাহিত করেছে, তেমনি পরনির্ভরশীল হওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছে। রমাদানে রোজাদারগণ রোজা পালনের মাধ্যমে দানশীল ও আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
আল্লাহ তায়ালা দান সাদাকা সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন-

وَ اَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰکُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَکُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَکُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ — وَ لَنْ یُّؤَخِّرَ اللّٰهُ نَفْسًا اِذَا جَآءَ اَجَلُهَا ؕ وَ اللّٰهُ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ

আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে; (অন্যথায় মৃত্যু আসলে) সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য কেন অবকাশ দাও না, দিলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
(সূরা মুনাফিকুন : ১০-১১)
তিনি আরও বলেছেন-

الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ الْکٰظِمِیْنَ الْغَیْظَ وَ الْعَافِیْنَ عَنِ النَّاسِ ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ- –

যারা সচ্ছলতা ও অভাবের মধ্যে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান : ১৩৪)
রহমতের মাস রমাদানে প্রত্যেকের জন্য বরকতময় আমল হলো নিজেদের সবচেয়ে বেশি প্রিয় বস্তু আল্লাহর রাস্তায় দান করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰی تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ ۬ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِہٖ عَلِیْمٌ- –

তোমরা কখনও নেকি পাবে না যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে খরচ কর। আর তোমরা যা কিছুই দান কর আল্লাহ তা জানেন। (সূরা আলে ইমরান : ৯২)
এই আয়াত যখন নাজিল হয়, সাহাবাগণ কীভাবে উত্তম বস্তু দান করায় লেগে পড়েছিল তা এই ঘটনা দ্বারা অনুমান করা যায়। আনাস ইবনে মালিক রা. বলেন, মদিনার আনসারগণের মধ্যে আবু তালহা রা. ছিলেন সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি। তার সবচাইতে বেশি খেজুরবৃক্ষ ছিল। সমস্ত বাগানের মধ্যে ‘বাইরহা’ নামক বাগানটি ছিল তার (আবু তালহার) অধিক পছন্দনীয়। বাগানটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সা. সেই বাগানে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন। সেখানকার পানি খুবই উত্তম ছিল, তিনি তা পান করতেন। আনাস রা. বলেন, যখন এই আয়াত নাজিল হয়, (لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ) অর্থাৎ যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয়বস্তু (আল্লাহর রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা নেকির অধিকারী হবে না)। তখন আবু তালহা রা. রাসূল সা.-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! আল্লাহ তায়ালা বলেন যে, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহর রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা সাওয়াবের অধিকারী হবে না। আর আমার প্রিয়বস্তু হলো এই ‘বাইরহা’। আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় সদকা করলাম। এর বিনিময়ে আমি নেকির আশা রাখি এবং এটা আল্লাহর নিকট জমা রাখছি। সুতরাং ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! আপনি এটাকে যেভাবে ইচ্ছা কবুল করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, বাহবা! এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল, এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল। তুমি এই বাগান সম্বন্ধে যা কিছু বলেছ আমি তা শুনেছি। আমার মনে হয়, তুমি এই বাগান তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। আবু তালহা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! আমি তা বিতরণ করে দিব। অতএব আবু তালহা রা. তার আত্মীয়-স্বজন ও চাচাতো ভাইগণের মধ্যে তা বণ্টন করে দিলেন।
(মুয়াত্তা মালিক, সদকা সম্পর্কিত অধ্যায় : ১৮৭৩)
তিনি আরও বলেছেন-

مَثَلُ الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ كَمَثَلِ حَبَّۃٍ اَنْۢبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِیْ کُلِّ سُنْۢبُلَۃٍ مِّائَۃُ حَبَّۃٍ ؕ وَ اللّٰهُ یُضٰعِفُ لِمَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ- –

যারা আল্লাহর পথে তাদের মাল খরচ করে তাদের উদাহরণ হচ্ছে একটি শস্যদানা যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে। প্রত্যেক শীষে এক শত শস্যদানা থাকে আর আল্লাহ যাকে চান তাকে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ প্রশস্তকারী, মহাজ্ঞানী। (সূরা বাকারা : ২৬১)
দানের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে- ‘ইয়ায ইবনু গুতাইফ রা. বলেন যে, আবু উবায়দাহ্ ইবনুল র্জারাহ রা. অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে দেখতে যাই। তার স্ত্রী শিয়রে উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম আবু উবাইদাহ্ রা. এর রাত কীরূপ অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে? তিনি বলেন, রাত্রি অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে। সেই সময় তার মুখম-ল দেয়ালের দিকে ছিলো। এই কথা শুনা মাত্রই তিনি জনগণের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, আমার এ রাত্রি কঠিন অবস্থায় কাটেনি। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন-

مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فَاضِلَةً فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَبِسَبْعِمِائَةٍ وَمَنْ أَنْفَقَ عَلٰى نَفْسِهِ وَأَهْلِهِ أَوْ عَادَ مَرِيْضًا أَوْ مازَ أَذًى فَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرُقْهَا وَمَنِ ابْتَلَاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِبَلَاءٍ فِيْ جَسَدِهِ فَهُوَ لَهُ حِطَّةٌ.

‘যে ব্যক্তি নিজের উদ্বৃত্ত জিনিস মহান আল্লাহর পথে দান করে, সে সাত শ’ পুণ্যের অধিকারী হয়। আর যে ব্যক্তি নিজের জীবনের ওপর ও পরিবারবর্গের ওপর খরচ করে সে দশগুণ পুণ্য লাভ করে। যে রোগাগ্রস্ত ব্যক্তিকে পরিদর্শন করতে যায় তারও দশগুণ পুণ্য লাভ হয়। সাওম হচ্ছে ঢালস্বরূপ যে পর্যন্ত না তা নষ্ট করা হয়। যে ব্যক্তি শারীরিক বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা ও রোগে আক্রান্ত হয়, ঐগুলো তার পাপসমূহ ঝেড়ে ফেলে।’
(মুসনাদে আহমাদ- ১/১৯৫, ১৯৬)
অন্য আরেকটি হাদিসে রয়েছে যে, একটি লোক লাগামবিশিষ্ট একটি উষ্ট্রী দান করে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন : লোকটি কিয়ামতের দিন সাত কোটি লাগামবিশিষ্ট উষ্ট্রী প্রাপ্ত হবে।
(মুসনাদে আহমাদ- ৪/১২১)
তবে ইমাম মুসলিম (রহ.) আরো বর্ণনা করেছেন- এক ব্যক্তি লাগামসহ একটি সুসজ্জিত উট নিয়ে এসে বলেন- হে রাসূলুল্লাহ সা. এটি মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে দিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন : কিয়ামত দিবসে তুমি এ জন্য সাত শতটি উট প্রাপ্ত হবে। (মুসলিম-১৫০৫)

দান-সাদাকা করলে সম্পদ কমে না
আবু কাবশা আল আনমারী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেন :্রمَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍগ্ধ.
“সাদাকা করলে কোন মানুষের সম্পদ কমে না।”
(তিরমিজি-২৩২৫)
দান সম্পদকে বৃদ্ধি করে
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

﴿مَثَلُ الَّذِيْنَ يُنْفِقُوْنَ أَمْوَالَهُمْ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِىْ كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيْمٌ﴾

“যারা আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করে তার উদাহরণ হচ্ছে সেই বীজের মতো যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। আর প্রতিটি শীষে একশটি করে দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অতিরিক্ত দান করেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত সুবিজ্ঞ।” (সূরা বাকারা : ২৬১)
রাসূলুল্লাহ সা. বলেন-

“مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِىْ سَبِيْلِ اللهِ كَانَتْ لَهُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ”.

“যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করবে তাকে সাতশত গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।” (মুসনাদে আহমাদ : ১৯০৩৫)
রাসূলুল্লাহ সা. আরও বলেন- “যে ব্যক্তি নিজের হালাল কামাই থেকে (আল্লাহ তায়ালা হালাল কামাই ছাড়া দান কবুল করেন না) একটি খেজুর সাদাকা করে, আল্লাহ তায়ালা সেটা ডান হাতে কবুল করেন, অতঃপর তা বৃদ্ধি করতে থাকেন, যেমন তোমরা ঘোড়ার বাচ্চাকে প্রতিপালন করে থাকো, এমনকি সেটা একটি পাহাড় পরিমাণ হয়ে যায়।” (বুখারি ও মুসলিম)

দানকারীর জন্য ফেরেশতা দোয়া করে
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : “প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন দানকারীর জন্য দোয়া করে বলেন, “اَللّٰهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا”. “হে আল্লাহ! দানকারীর মালে বিনিময় দান করো (বিনিময় সম্পদ বৃদ্ধি কর)।” আর দ্বিতীয়জন কৃপণের জন্য বদ দোয়া করে বলেন, “اَللّٰهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا”. “হে আল্লাহ! কৃপণের মালে ধ্বংস দাও।” (বুখারি-১৪৪২ ; মুসলিম-১০১০)

দানকারীর দুনিয়া আখিরাতের সকল বিষয় সহজ করে দেওয়া হয়
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন-

مَنْ يَسَّرَ عَلٰى مُعْسِرٍ، يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِىْ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ.

“যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তায়ালা তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয় সহজ করে দিবেন।” (মুসলিম-২৬৯৯)

গোপনে দান করার ফজিলত
গোপন-প্রকাশ্যে যে কোনোভাবে দান করা যায়। সকল দানেই সাওয়াব রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

﴿إِنْ تُبْدُوْا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوْهَا وَتُؤْتُوْهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ﴾

“যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত করো, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে ফকির-মিসকিনকে দান করে দাও, তবে এটা বেশি উত্তম। আর তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।” (সূরা বাকারা : ২৭১)
গোপনে দানকারী কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া লাভ করবে। নবী সা. বলেন, “কিয়ামত দিবসে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া লাভ করবে। তন্মধ্যে এক শ্রেণি হচ্ছে-

وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتّٰى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِيْنُهُ.

“এক ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে বাম হাত জানতেই পারে না।” (বুখারি-১৪২৩)

দান-সাদাকাহ্ গুনাহ মাফ করে ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচায়
নবী সা. বলেন, “হে কাব ইবনু উজরাহ্! সালাত (মহান আল্লাহর) নৈকট্য দানকারী, সিয়াম ঢালস্বরূপ এবং দান-সাদাকা গুনাহ মিটিয়ে ফেলে যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে ফেলে।” (আবু ইয়ালা)
রাসূলুল্লাহ সা. বলেন-
্রاَتَّقُوْا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ
“খেজুরের একটি অংশ দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করো।”
(বুখারি-১৪১৭ ; মুসলিম-১০১৬)

মানুষ কিয়ামতে দান-সাদাকার ছায়াতলে থাকবে
উকবাহ্ ইবনু আমের রা. থেকে বর্ণিত। নবী সা. বলেন, “নিশ্চয় দান-সাদাকা দানকারী থেকে কবরের উত্তাপ নিভিয়ে দিবে। আর মুমিন কিয়ামত দিবসে নিজের সাদাকার ছায়াতলে অবস্থান করবে।” (তাবারানি, বাইহাকি)

রমাদানে জাকাত ফরজ না হলে বেশি করে সাদাকা করুন
যাদের ওপর জাকাত ফরজ নয়, তারা এই মাসে বেশি বেশি সাদাকা করতে পারেন। যাদের ওপর জাকাত ফরজ, তারাও জাকাত আদায়ের পর অতিরিক্ত সাদাকা করতে পারেন। সাদাকার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রিজিকে বরকত এনে দেন। বিপদাপদ দূর করে দেন। মানুষের হায়াতে বরকত হয়, অপমৃত্যু কমে ও অহঙ্কার-অহমিকা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
(আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ২/৬৫)

রমাদানে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা
রমাদান মাসে আমরা কুরআন বেশি বেশি তিলাওয়াত করব। আয়েশা রা. থেকে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আরো বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন-

اَلْمَاهِرُ بِالْقُرْا ٰنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِىْ يَقْرَاُ الْقُرْا ٰنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيْهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ اَجْرَانِ-

আল কুরআনে দক্ষ ও প-িত ব্যক্তিবর্গ সম্মানিত পুণ্যবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবেন। যে ব্যক্তি কুরআন আটকে আটকে তিলাওয়াত করে এবং তা তার জন্য কষ্টকর হয়, তার জন্য দু’টি প্রতিদান রয়েছে। (বুখারি-৪৯৩৭; মুসলিম-৭৯৮)
দুটি প্রতিদানের প্রথমটি হলো: তিলাওয়াতের, দ্বিতীয়টি হলো: পাঠকারীর কষ্টের। অনুরূপভাবে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আবু মূসা আল-আশআরী রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন-

مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِىْ يَقْرَاُ القُرْا ٰنَ كَمَثَلِ الْاُتْرُجَّةِ، رِيْحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ، وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِىْ لاَ يَقْرَاُ الْقُرْا ٰنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ، لاَ رِيْحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْوٌ-

যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত কমলালেবুর মতো, যা সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায় যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু তার স্বাদ মিষ্টি। (বুখারি-৫৪২৭; মুসলিম-২৪৩)
সহিহ মুসলিমে আবু হুরাইরা রা. বর্ণিত হাদিসে রয়েছে। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নবী সা. বলেছেন-

مَا اِجْتَمَعَ قَوْمٌ فِىْ بَيْتٍ مِنْ بُيُوْتِ اللهِ تَعَالَى، يَتْلُوْنَ كِتَابَ اللهِ وَيَتَدَارَسُوْنَهُ بَيْنَهُمْ، اِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِيْنَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللهُ فِيْمَنْ عِنْدَهُ-

যখন আল্লাহর কোনো ঘরে (মসজিদে) লোকজন একত্রিত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে এবং নিজেদের মাঝে তা অধ্যয়ন করে, তখন তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, আল্লাহর রহমত তাদেরকে আবৃত করে রাখে, ফেরেশতাগণ তাদের বেষ্টন করে রাখেন এবং আল্লাহ তাঁর কাছে অবস্থিত ফেরেশতাদের কাছে তাদের আলোচনা করেন। (মুসলিম-২৬৯৯; আবু দাউদ-১৪৫৫)
কুরআন তিলাওয়াতে প্রতিটি হরফে নেকি রয়েছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন-

مَنْ قَرَاَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ اَمْثَالِهَا، لَا اَقُوْلُ الٓمّٓ حَرْفٌ، وَلٰكِنْ اَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيْمٌ حَرْفٌ-

যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ (অক্ষর) পাঠ করবে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হবে। আর প্রতিটি নেকি দশগুণ বৃদ্ধি করা হবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মিম একটি হরফ।
(তিরমিজি-২৯১০)
কুরআন মাজিদের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদকে রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আল্লাহর বাণী-
وَاِنَّهٗ لَهُدًى وَّرَحْمُةٌ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ.
এবং নিশ্চিত এটা (কুরআন) মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। (সূরা নামল : ৭৭)
অন্য এক স্থানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন-
هُدًى وَّرَحْمَةً لِّلْمُحْسِنِيْنَ.
(এই কুরআন) হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য।
(সূরা লোকমান : ৩)
প্রত্যেক মানুষ এই পৃথিবীতে সম্মান, আত্মতৃপ্তি ও ভালো অবস্থা নিয়ে জীবন যাপন করার জন্য আল্লাহ্ তায়ালার রহমতের মুখাপেক্ষী। এই পৃথিবী ত্যাগ করার পর আলমে বারযাখ (কবরের) জিন্দেগিতেও প্রত্যেক মানুষ আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং আরামদায়ক ঘুমের জন্য আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। কবরের জীবনের পর কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত প্রাপ্তির জন্যও প্রত্যেক মানুষ আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। পৃথিবী, কবর, পরকাল এই তিনটি স্থানে আমরা সম্মানজনক জীবন যাপনের জন্য আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। ঐ রহমত যার আমরা কদমে কদমে মুখাপেক্ষী, তা কুরআন মাজিদ দ্বারাই হাসিল করা সম্ভব। আসুন গভীরভাবে চিন্তা করি যে, কুরআন মাজিদ কীভাবে পৃথিবী, কবর এবং পরকালে আমাদের জন্য রহমত।
কুরআনের আয়াত শ্রবণে ঈমানদারদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ বলেন-

اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَ اِذَا تُلِیَتْ عَلَیْهِمْ اٰیٰتُہٗ زَادَتْهُمْ اِیْمَانًا وَّ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَلُوْنَ ‐

“নিশ্চয়ই মুমিনরা এরূপ হয় যে, যখন (তাদের সামনে) আল্লাহ্কে স্মরণ করা হয়, তখন তাদের অন্তরসমূহ ভীত হয়ে পড়ে, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন ঐ আয়াতসমূহ তাদের ঈমানকে আরও বৃদ্ধি করে দেয়, আর তারা নিজেদের প্রতিপালকের ওপর নির্ভর করে।”
(সূরা আনফাল : ২)

শিক্ষা
১. রমাদান মাসে আমরা আমাদের দানের হাতকে প্রসারিত করবো। অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়াব এবং দ্বীনি আন্দোলনের কাজে সর্বোচ্চ ব্যয় করার চেষ্টা করবো।
২. এ মাসে বেশি বেশি কুরআন পড়ব, কুরআন বুঝবো এবং কুরআনের সমাজ কায়েমের আন্দোলনে শরিক হবো।
লেখক : প্রভাষক, সিটি মডেল কলেজ, ঢাকা

SHARE

Leave a Reply