রাসূলুল্লাহ সা.-এর প্রশিক্ষণ -রাশেদুল ইসলাম

(আগস্ট সংখ্যার পর)

ষষ্ঠ কিস্তি

বুদ্ধিবৃত্তির প্রশিক্ষণ
জীবন চলার পথে মানব প্রশিক্ষণের ইসলামী পদ্ধতি হলো- জীবনের কোনো বিশেষ দিক বা বিভাগ নয়, বরং মানুষের গোটা জীবনকেই ইসলাম তার আওতায় নিয়ে আসে। খুব সংক্ষেপে বলা যায়, আধুনিকতা-উত্তরাধুনিকতা বলে যাই সীমাবদ্ধ করা হোক না কেন, সকলকিছুই ইসলামী ব্যবস্থার আওতাধীন। একইভাবে মানুষের জৈবিক, আধ্যাত্মিক জীবন, তার চিন্তা ও কর্মতৎপরতা ইসলামের গণ্ডির ভিতর একাকার হয়ে যায়। কথাটি আমরা এ প্রবন্ধের দ্বিতীয় কিস্তির ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলাম।
এখানে বিশ্লেষণ করার বিষয় হলো, ইসলামের এই বিশাল ব্যবস্থা আজ গোটা বিশ্ব মানবতা উপেক্ষা করে চলছে। খোদ বিশ্বব্যাপী মুসলিম কমিউনিটিতেও এই উপেক্ষা বিদ্যমান। হোক তা না বুঝে, হোক বুঝে। সংস্কৃতিগতভাবে যারা ইসলামের কিছু কিছু অনুশীলন করে চলেন, বিশ্বে মুসলিমদের এমন সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। বিশ্বের যে ছাপ্পান্নটি দেশকে মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে আমরা দেখতে পাই; তার অধিকাংশ দেশেই কম হোক কিংবা বেশি, ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা আছে। এবং এটি আরব জাহেলিয়াত উত্তর ইসলামী ব্যবস্থা থেকে আজ পর্যন্ত চলে আসছে। যা বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.-এর বিদায় হজ্জের ভাষণ থেকে তথা আরাফাহ’র ময়দান থেকে ছড়িয়ে আজ এখন আমরা অবিকৃত কুরআন এবং সুন্নাহ হিসেবে পেয়েছি।
এই সংস্কৃতি গ্রহণ এবং মানা নিয়ে যতো কম বেশ দেখা যাচ্ছে, তার মূখ্য কারণ হিসেবে বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ মুফাসসিরিন-স্কলার একটাই বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তা হলো জানা এবং মানার মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকা। এ বিষয়ে সূরা সফের ৪ নং আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা খুব সুস্পষ্ট যে, আমলের প্রবণতা ছাড়া কোনো বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা যদি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের দৈনন্দিন কাজের চেকলিস্ট তৈরি করি, তাহলে বিচার করতে পারবো যে, আমার একদিনের সকল কাজ এবং কথা-চিন্তাভাবনার মধ্যে মিল আছে নাকি অল্প হলেও গড়মিল পাচ্ছি! এই গড়মিলের বিপরীতে আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যুক্তি হিসেবে একটি খোঁড়া যুক্তি পেশ করে থাকি, তা হলো- জাহেলিয়াতপূর্ণ সমাজে জাহেলিয়াতের সাথে সম্পর্ক না রাখার উপায় তো সব ক্ষেত্রে থাকে না। এই প্রশ্নের আমি দু’টো উত্তর বলবো-
১. রাসূলে আরাবি’র সাহাবীগণ এ বিষয়টি উৎরে চলেছেন কিনা? এর উত্তর তো আমরা সবাই জানি যে, জিহাদের মূল বিষয়ই ছিলো গতানুগতিক জীবনের বিপরীতে আল্লাহ প্রদত্ত জীবনধারা অনুযায়ী চলা। এবং সাহাবাগণ তার দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রেখেছেন। আপোষ না করার পরীক্ষায় খাব্বাব রা.কে উত্তপ্ত পাথরের উপর ফেলা হতো, সে অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সা.-এর বর্ণনা অনুযায়ী পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের বিজয় পূর্ব নির্যাতনের ইতিহাস মনে করে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।
২. সাহাবাগণ জাহেলিয়াতের নিষ্পেষণ সহ্য করেই জীবন পার করার সিদ্ধন্ত নিয়েছিলেন কিনা? সংক্ষিপ্ত উত্তর- না। কারণ, তাঁদের প্রচেষ্টার ফল হিসেবে ইসলামের বিজয় এবং ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির বিস্তার গোটা বিশ্বের মানুষকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে অকাট্য এবং আগ্রহের ব্যাপারে পরিণত করেছিলো।
বর্তমান সময়ের বিশ্লেষণে আমাদের অবস্থা
আমাদের জীবনবোধের কেন্দ্রবিন্দু ইসলাম ভাবাপন্ন হলেও আমরা অধিকাংশ মুসলিমরা তার প্রভাব সার্বিক জীবনে কেন গেঁথে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখছি না, যদি এটি একটি প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়ায় (আমার বিশ্বাস আমার মতো প্রায় অধিকাংশ মুসলিমেরই এমন প্রশ্ন আছে) তাহলে তার উত্তর হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় মাথায় নেওয়া যেতে পারে-
১. আমাদের চিন্তাধারার মধ্যে ইসলামকে এখনো একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রবেশ করাতে পারিনি।
২. ইসলামের বাইরেও কতিপয় বিষয় জীবন চলার কিছু ক্ষেত্রে অকাট্য নিয়ম-পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ এবং তার পূর্ণ অনুশীলন করছি।
৩. ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে পালন করার মূল চালিকা শক্তি রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা না থাকার বিষয়টি মেনে না নিয়ে কিছু করার নেই বা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না, এমন ভাবছি। এমনকি মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকেই মেনে নিয়ে চলা বাস্তবতা মনে করছি।
এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো মূলত ইসলামে সেক্যুলারিজমের প্রভাবকে প্রতিষ্ঠা করে। বস্তুত: এভাবে আমরা আমাদের জীবনধারাকে সেক্যুলারিজমের আদলে সাজিয়ে নিচ্ছি। আর এরকম জীবনধারা চর্চা করা খুব সহজ। ইসলামী জীবন চর্চার অন্যতম অনুষঙ্গ জাহেলিয়াতের সাথে আপস না করে চলা এবং তা করতে গেলে বাঁধার সম্মুখীন হওয়ার বিপরীতে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করার যে অমোঘ ঐতিহ্য, তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত জীবন হয় এভাবে।
জীবনধারার প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বের হওয়ার মৌল বিষয়
আমরা জানি, আল্লাহ আমাদেরকে প্রচলিত জীবনধারা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পথ ও পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। তা হচ্ছে, ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা রূপে গ্রহণ করা। একজন মানুষকে এ পথ ধরে হাটতে হলে যে পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, তা হলো- শুনলাম ও মানলাম। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন-
“রাসূল তার রবের পক্ষ থেকে তার ওপর যে হিদায়াত নাজিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছে। আর যেসব লোক ঐ রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে তারাও ঐ হিদায়াতকে মনে-প্রাণে স্বীকার করে নিয়েছে। তারা সবাই আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাদেরকে, তাঁর কিতাবসমূহকে ও তাঁর রাসূলদেরকে মানে এবং তাদের বক্তব্য হচ্ছেঃ “আমরা আল্লাহর রাসূলদের একজনকে আর একজন থেকে আলাদা করি না। আমরা নির্দেশ শুনেছি ও অনুগত হয়েছি। হে প্রভু! আমরা তোমার কাছে গোনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করছি। আমাদের তোমারই দিকে ফিরে যেতে হবে।” (সূরা বাকারাহ : ২৮৫)
আল্লাহর নির্দেশ শোনা এবং তার পূর্ণ অনুগত হওয়া, এই দু’টি বিষয়ের প্রথমোক্ত বিষয় অর্থাৎ শ্রবণ করা তথা জানা- মূলত নবুওয়াতের প্রধান ফ্যাক্ট। আর জানা মানে শুধুমাত্র অবগত হওয়া নয়। কেননা, মুসলিম শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবন পরিচালনার জন্য জ্ঞানার্জন করে না। বরং বিশ্ব মানবতার প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য যে মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে, তা পালন করার জন্য। তাই তাকে বুদ্ধিবৃত্তি সমৃদ্ধ করতে হয় তথা প্রজ্ঞার অধিকারী হতে হয়। একজন প্রজ্ঞাবাণের পক্ষেই সম্ভব- মানবিক মনস্তত্ব অনুধাবন করে কোনো ব্যক্তিকে ভুল চর্চার বিষয়টি তার মন থেকে স্ব-উদ্যোগে মুছে ফেলে তথায় সত্য-সঠিক বিষয় স্থাপন করা। যার ফল হিসেবে উক্ত ব্যক্তির পদক্ষেপগুলো রাসূলুল্লাহ সা.-এর পদাঙ্ক অনুসারে হতে পারে।
এই আলোচনার সার হিসেবে তাহলে আমরা বলেতে পারি যে, জীবনধারার প্রচলিত পথ ও পদ্ধতি থেকে বের হয়ে প্রকৃত যে কর্মকৌশল ও কর্মপন্থা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা হলো বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা। যে বুদ্ধিবৃত্তির বিষয় আল্লাহই আমাদের অন্তরে স্থাপন করেন। যার মাধ্যমে আমরা সঠিক পথের দিশা খুঁজি এবং এই পথ ধরে এগুনোর সময় যারা এদিক সেদিক মন ফিরাই না, তারা সফলতার পথ পাই। যার অবাক করা বর্ণনা আল্লাহ চমৎকার করে উপস্থাপন করেছেন-
“ভেবে দেখো, যে ব্যক্তি মুখ নিচু করে পথ চলছে সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, না যে ব্যক্তি মাথা উঁচু করে সোজা হয়ে সমতল পথে হাঁটছে সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত? এদেরকে বলো, আল্লাহই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তোমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন। তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো।” (সূরা মুলক : ২২-২৩)
রিসালাতের পতাকাবাহীদের পথ মূলত বুদ্ধিবৃত্তির
আরবের তৎকালীন জীবনব্যবস্থা রেওয়াজ-রসম অনুযায়ী পরিচালিত হতো। এবং এই রেওয়াজ-রসমের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে গিয়ে তাদের ভুলগুলো কেউ ধরিয়ে দিতে চাইলেও তা মানতো না। বরং তাদের ধ্যান-ধারণার বিপরীতে কোনো অকাট্য দলিল এনে হাজির করলেও তারা তা মানতে নারাজ ছিলো। এই জাহেলি চিন্তাধারার ধারকবাহকরা সবাই অবিশ্বাসী ছিলো, তা নয়। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী করতো। তবে একইসাথে বাপ-দাদাদের অনুসরণের বিষয়টিও মাথায় রাখতো। মূলত: আল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী সত্য বিষয় হচ্ছে, তারা ছিলো অজ্ঞতায় পরিপূর্ণ নিমজ্জিত।
“তা নয়, বরং এরা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে একটি পন্থার ওপর পেয়েছি, আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছি। এভাবে তোমার পূর্বে আমি যে জনপদেই কোন সতর্ককারীকে পাঠিয়েছি, তাদের স্বচ্ছল লোকেরা একথাই বলেছে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে একটি পন্থার অনুসরণ করতে দেখেছি। আমরাও তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।” (সূরা জুখরুফ : ২২-২৩)
রিসালাতের মূল মেসেজ ছিলো জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতা থেকে বের হয়ে আসা। এই অজ্ঞতা ছিলো জ্ঞানগত। আল্লাহ তার হাবীবকে শুরুতেই সেই অজ্ঞতা দূরীকরণের তাগাদা দিয়েছেন এবং ‘ইকরা’ বলে বাধ্য করেছেন। রাসূলে আকরাম সা.-এর গোটা পথ পরিক্রমা মহান আল্লাহ নির্ভুলভাবে মিল্লাতের সামনে নজির হিসেবে পেশ করে রেখেছেন জ্ঞানের আকরে।
বর্তমান বিশ্বে অমুসলিমরা এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা ট্রাডিশনাল ধ্যান-ধারণার, তাদের জ্ঞানহীনতা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এখন গোটা ইসলামকে এবং ক্ষেত্র বিশেষে ইসলামের কিছু মৌলিক সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এবং আজকে মুসলিমদের মধ্য থেকে যারা কিছু ইসলামী জীবন পদ্ধতি অনুসরণ করেন তবে সেক্যুলার ধারণা থেকে বের হতে পারছে না, তারাও ইসলামকে পরিপূর্ণ মনে করেন না।
এই সমস্যা থেকে বের হতে হলে ইসলামের সুমহান এবং পরিপূর্ণ আদর্শ মানবকূলের কাছে সাবলীল এবং সুস্পষ্টরূপে উপস্থাপন করা জরুরি। যার বাস্তবতা হচ্ছে জ্ঞান চর্চা তথা বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা। অর্থাৎ আমরা যদি রাসূলুল্লাহ সা.-এর প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ইসলামী বিধান বিবেচনায় নিই, তাহলে দেখবো যে, ইসলাম মানুষকে জীবনবোধ শেখানোর জন্য এবং সত্য ও সঠিক জানার জন্য দু’টি মাধ্যম কাজে লাগিয়েছে-
১. কোনোকিছু সঠিকভাবে জানার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিই সঠিক মাধ্যম।
২. মহাবিশ্বের সকল রহস্য জানার জন্য জ্ঞান-গবেষণা জরুরি।
সমাজ পরিবর্তন ও বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা
একটা বিষয় খুব সুস্পষ্ট যে, নবুওয়াতের প্রথম স্তরে রাসূল সা. স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে ইসলামের পথে আসার আহবান রাখেন। তবে এই স্বাভাবিকতার অভ্যন্তরে কয়েকটি মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
১. চারিত্রিকভাবে মজবুত ছিলেন তিনি। যা তার স্ব-শিক্ষা থেকে হয়েছে।
২. আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন তিনি। যা অর্জন করেছিলেন তার পেশাদারিত্ব থেকে। অর্থাৎ তা-ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে।
৩. কোমল ছিলেন তিনি। যা সৃষ্টিকর্তার প্রতি একাগ্র মনোভাব থেকে হয়েছে।
এই কৌশলগুলো আরবের জাহেলি সমাজ যখন না মেনে বিরোধিতা করা শুরু করে, তখন রাসূল সা. মূল সঙ্কট (বুদ্ধিবৃত্তির সংকট) উত্তোরণে ভূমিকা রাখা শুরু করেন। অর্থাৎ জ্ঞানের সঙ্কট দূরীকরণে জ্ঞানবান ব্যক্তিদের মাঝে দাওয়াত দান শুরু করেন। বলাই বাহুল্য, চার খলিফা এবং প্রসিদ্ধ সাহাবাদের অধিকাংশই জ্ঞানার্জনকারী হিসেবে ইতিহাস স্বীকৃত।
মদিনা এবং পরবর্তীতে মক্কার সমাজ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে জ্ঞান কেন্দ্রিক। সমাজের প্রত্যেক মানুষ এবং মহাবিশ্বের প্রাণিকূলের একজন সেরা প্রতিনিধি হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করাই ছিলো এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ার বড় বিষয়। সমাজ পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় বুদ্ধিবৃত্তির চর্চার একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে দায়িত্ববোধ এমন একটা উন্নতির পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের এক নাগরিক অপর নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে। এমনকি কোনো প্রাণিও যেন অধিকার বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুবরণ না করে, তার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। আসলে যখন জ্ঞান ও জ্ঞানভিত্তিক আমল জবাবদিহিতার বিষয়ে পরিণত হয়, তখন মানুষ সোনার মানুষে পরিণত হয়। তৎকালীন আরবে সেটাই হয়েছিলো। (চলবে)
লেখক : সম্পাদক, ছাত্র সংবাদ

SHARE

Leave a Reply