রোজা অনুপম রহমের মূর্ছনা -মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

عَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ (رضي الله عنه) قَالَ : قَلَتْ : يَا رَسُوْلَ الله، مُرْنِيْ بعمل، قَالَ : “عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ، فَإِنهُ لَا عِدْلَ لَهُ”. قَلَتْ : يَا رَسُوْلَ الله، مُرْنِيْ بعمل، قال : “عَلَيْكَ بِالصَّوْم، فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَهُ” قَلَتْ : يَا رَسُوْلَ الله مُرْنِيْ بعمل؟ قال : “عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ”.
অনুবাদ
আবু উমামাহ্ বাহেলি রা. বর্ণনা করেন, আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল সা.! আমাকে একটি আমলের কথা বলুন। তিনি বললেন : তুমি রোজা রাখো। নিশ্চয়ই রোজার সমতুল্য কোনো ইবাদত নেই। আমি আবার বললাম : হে আল্লাহর রাসূল সা.! আমাকে একটি আমলের কথা বলুন। তিনি বললেন, তুমি রোজা রাখো। রোজার সমপর্যায়ে কোনো ইবাদত নেই। আমি আবারও বললাম : হে আল্লাহর রাসূল সা.! আমাকে একটি আমলের কথা বলুন। তিনি বললেন, তুমি রোজা রাখো। রোজার মতো কোনো ইবাদত নেই। (সুনানে নাসায়ি- ৪/১৬৫, হাদীস নং-২২২০; মাকতাবাতুশ্ শামেলা, ১/২৬৮, হাদীস নং-৫১৯)

রাবি পরিচিতি
বর্ণনাকারী আবু উমামা বাহেলি রা. রাসূল সা.-এর বিশিষ্ট সাহাবী। নাম সাদি বিন আজলান আল-বাহেলি। উপাধি, আবু উমামা। পিতার নাম আজলান, বাহেল নামক স্থানের অধিবাসী হওয়ার ফলে তাকে বাহেলি বলা হয়। তিনি রাসূল সা. থেকে জ্ঞানের এক বিশাল ভা-ার সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি রোম স¤্রাট হিরাকলের কাছে রাসূল সা.-এর পক্ষ থেকে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলেন। আবু উমামাহ্ আল বাহেলি রা.-এর দাওয়াতে তাঁর স্বীয় কাওম ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তিনি সিরিয়ায় বসবাস করতেন। সিরিয়ায় বসবাসকারী সাহাবীগণের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ। ৮১ মতান্তরে ৮৬ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

হাদীসের ব্যাখ্যা
্রقَلَتْ : يَا رَسُوْلَ الله، مُرْنِيْ بعملগ্ধ.
হে আল্লাহর রাসূল সা.! আমাকে একটি আমলের আদেশ করুন। সাহাবী আবু উমামাহ্ রা. রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে মূল্যবান এবং ফজিলতপূর্ণ আমলের শিক্ষা চেয়েছিলেন। নেক আমল ছিল সাহাবীগণের আগ্রহের চরম লক্ষ্যবস্তু, এই হাদীস থেকে তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়। রাসূল সা. তার কথার জবাবে বললেন-
“عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ، فَإِنهُ لَا عِدْلَ لَهُ”.
তুমি রোজা রাখো, নিশ্চয়ই রোজার তুলনীয় কোনো ইবাদত নেই।

রোজা আল্লাহ তায়ালার নিকট পছন্দনীয় ইবাদত। আত্মার পরিশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, মহান আল্লাহর সাথে ঐকান্তিক সম্পর্ক স্থাপন, মানবিকতার বিকাশ, নৈতিক উন্নতি এবং আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চয়ে রোজার মতো তুলনাবিহীন ইবাদত আর নেই।
সকল বান্দাই আল্লাহর দয়া, রহমত ও অনুগ্রহের ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। তাঁর সাথে বান্দার সম্পর্ক চিরস্থায়ী। তবে বান্দার উদাসীনতা, অবহেলা, উদ্ধত প্রকৃতি এবং অজ্ঞতার কারণে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মুসলিম উম্মাহ ব্যতিরেকে অন্যদের সাথে সম্পর্ক বরাবরই দূরত্বে থাকে। আল্লাহর সাথে বান্দার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মান সারা বছর ওঠা-নামা করে। তবে প্রতি বছর পবিত্র রমজানে মুমিন বান্দারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পায়। এ জন্যই পবিত্র রমজান রহমতের মাস, আল্লাহর সান্নিধ্যে ফিরে আসার মাস। মুসলিম উম্মাহর ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহের নিদর্শন পবিত্র রমজান। আত্মসংযমে ধৈর্যসহ রোজা রাখায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারণেই রোজা রাখতে বান্দার যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য মুসলমানদের প্রতি সহজ বিধান দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫)

রমজানের রোজার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য
রমজানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে হাদীসে এসেছে-
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ  قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَفِىْ رِوَايَةٍ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنُ وَفِىْ رِوَايَةٍ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ.
আবু হুরায়রাহ্ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সা. ইরশাদ করেছেন : যখন রমজান মাস আসে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়। আর শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয়। অপর বর্ণনায় আছে, রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।
(সহিহ আল বুখারী-১৮০০ ও সহিহ মুসলিম- ২৫৪৮)

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : রমজানের প্রথম রাত যখন আসে, তখন শয়তানদের এবং জিনের উদ্ধতদের কয়েদে আবদ্ধ করা হয়। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর তার মধ্যে কোনো দরজাই খোলা হয় না। আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। তারপর তার মধ্যে কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না। আর একজন আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে। হে কল্যাণের প্রত্যাশী অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী থাম। মহান আল্লাহ এ মাসে বহু ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতেই হয়ে থাকে। (তিরমিজি-৬৮২, ইবনু মাজাহ্-১৬৪২, আহমাদ)
সাহ্ল ইবনু সা‘দ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সা. ইরশাদ করেছেন :
فِى الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ مِنْهَا بَابٌ يُسَمَّى الرَّيَّانَ لَا يَدْخُلُهُ اِلَّا الصَّائِمُوْنَ.
জান্নাতে আটটি দরজা রয়েছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়্যান’। রোজা পালনকারী ব্যতীত ঐ দরজা দিয়ে আর কোনো ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবে না।
(সহিহ আল বুখারী-১০৮৫ ও সহিহ মুসলিম- ২৭৬২)
আবু হুরায়রাহ্ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সা. ঘোষণা করেছেন : মানব সন্তানের নেক আমল বাড়ানো হয়ে থাকে- প্রত্যেক নেক আমল দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত। মহান আল্লাহ বলেন, কিন্তু সাওম ব্যতীত। কেননা সাওম আমারই জন্য এবং আমিই তার প্রতিফল দান করব। সে আমারই জন্য আপন প্রবৃত্তি ও পানাহার ত্যাগ করে থাকে। সাওম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে, একটি তাঁর ইফতারের সময় অপরটি জান্নাতে আপন পরওয়ারদিগারের সাথে সাক্ষাৎ লাভের সময়। নিশ্চয় সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ মহান আল্লাহর নিকট মিশকের খোশবু অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধ। সাওম হচ্ছে মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ। সুতরাং যখন তোমাদের মধ্যে কারও নিকট সাওমের দিন আসে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে ঝগড়া করতে চায়- সে যেন বলে, আমি সাওম পালনকারী।
(সহিহ আল বুখারী ও সহিহ মুসলিম)
উসমান ইবনু আবিল আস রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন-
اَلصَّوْمُ جُنَّةٌ مِّنَ النَّارِ كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْقِتَالِ.
রোজা হচ্ছে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ। যেমন হত্যা থেকে বাঁচার জন্য তোমাদের কারও ঢাল থাকে।
(সহিহ ইবনু খুযায়মাহ্-২১২৫, ৩য় খ-, পৃ: ১৯৩)
আবদুল্লাহ ইবনু আমর রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারীম সা. ইরশাদ করেছেন-
রোজা এবং কুরআন মহান আল্লাহর নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে দিনের বেলায় তার পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছি, সুতরাং তাঁর ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তাঁর ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। মহানবী সা. বলেন, তারপর তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান-১৯৯৪)

সারা বছর রোজার অব্যাহত কল্যাণ
আলোচ্য হাদীসে রোজাকে তুলনাহীন ইবাদত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রোজার কল্যাণধারা শুধু রমজান মাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এ কল্যাণধারা মহান আল্লাহর বান্দাগণ বছরব্যাপী জারি রাখতে পারেন। মহান আল্লাহর পরিতুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি রোজা বান্দাহর জন্য অনেক বেশি উপকারী ও প্রাপ্তির। রাসূল সা. ইরশাদ করেন-
্রمَنْ صَامَ يَوْمًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ جَعَلَ اللهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ خَنْدَقًا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِগ্ধ.
“যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা পালন করে, আল্লাহ তা‘আলা তার ও জাহান্নামের মাঝে আসমান ও জমিনের মধ্যকার দূরত্ব সমান পরিখা সৃষ্টি করেন।”
(তিরমিজি-১৬২৪, হাসান সহিহ; মিশকাত-২০৬৪)
রাসূলুল্লাহ সা. রোজার আমলকে বছরব্যাপী বিভিন্ন সময়ে ও পর্যায়ে পালন করার উৎসাহ দিয়েছেন। নি¤েœ সেসব নফল রোজার বর্ণনা তুলে ধরা হলো-

শাবান মাসের রোজা
রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বহু সহিহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُوْمُ حَتَّى نَقُوْلَ لَا يُفْطِـرُ، وَيُفْطِـرُ حَتَّى نَقُوْلَ: لَا يَصُوْمُ‏.‏ وَمَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْـرٍ اِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِيْ شَعْبَانَ‏.
হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : রাসূল সা. একাধারে রোজা রাখা শুরু করতেন, এমনকি আমরা বলাবলি করতাম তিনি (হয়ত আর) রোজা পরিত্যাগ করবেন না। আবার তিনি রোজা রাখা বন্ধ করতেন। তখন আমরা মনে মনে বলতাম, তিনি হয়তো আর রোজা রাখবেন না। আমি নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ মাস রোজা রাখতে এবং শাবান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে এত বেশি (নফল) রোজা রাখতে দেখিনি।
(সহিহ আল বুখারী-১৯৬৯)
হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : নবী সা. শাবান মাসের ন্যায় এত বেশি (নফল) রোজা আর কোনো মাসে রাখতেন না। তিনি শাবান মাস (প্রায়) পুরোটাই রোজা রাখতেন। তিনি সকলকে এ হুকুম দিতেন যে, তোমরা যতদূর আমলের সামর্থ্য রাখ, ঠিক ততটুকুই কর। আল্লাহ (সওয়াব দানে) অপারগ নন যতক্ষণ না তোমরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়। রাসূল সা.-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো এমন নামায- যা সর্বদা আদায় করা হয়- পরিমাণে তা যত কমই হোক না কেন। রাসূল সা.-এর অভ্যাস ছিল- যখন তিনি কোন (নফল) সালাত পড়তেন পরবর্তীতে তা জারি রাখতেন। (সহিহ আল বুখারী-১৯৭০)
উম্মু সালামা রা. বলেন,
مَا رَأَيْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم يَصُوْمُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلاَّ شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ-
‘নবী করীম সা.-কে শাবান ও রমজান ব্যতীত একাধারে দুই মাস রোজা পালন করতে দেখিনি।’ (তিরমিজি-৬৩৬, সনদ সহিহ)
আয়েশা রা. বলেন-
,مَا رَأَيْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم فِىْ شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِىْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُوْمُهُ إِلاَّ قَلِيْلاً بَلْ كَانَ يَصُوْمُهُ كُلَّهُ-
‘শাবান মাসের মত আর কোন মাসে এত অধিক নফল রোজা রাখতে আমি রাসূল সা.-কে দেখিনি। এ মাসের কিছু ব্যতীত বরং পুরো মাসই তিনি রোজা রাখতেন।’ (তিরমিজি-৬৩৭, সনদ হাসান সহিহ)
শাবান মাসের কয়েকদিন ব্যতীত রোজা পালন করা রাসূল সা.-এর জন্য খাস ছিল। উম্মতের জন্য তিনি প্রথম অর্ধাংশ পছন্দ করেছেন। তিনি বলেন,
إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ فَلاَصَوْمَ حَتَّى يَجِئَ رَمَضَانُ.
‘শাবান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে রমজান না আসা পর্যন্ত আর কোন রোজা নেই।’
(ইবনু মাজাহ-১৬৫১, সনদ সহিহ; তিরমিজি-৭৩৮)

শাওয়াল মাসের রোজা
রমজান মাসে এক মাস রোজা রাখার দ্বারা বান্দা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে পারে। নফল নামাজ, রোজার দ্বারাও বান্দা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে পারে। এ জন্য রমজানের রোজার পর শাওয়ালের রোজা রাখা একান্ত প্রয়োজন। রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার দ্বারা পুরো বছর রোজা রাখার সাওয়াব অর্জিত হয়। শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসে এসেছে-
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، – رضى الله عنه – أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ ‏”‏ ‏.‏
আবু আইয়ুব আল আনসারি রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, রমজান মাসের রোজা পালন করার পরে শাওয়াল মাসে ছয় দিন রোজা পালন করা সারা বছর রোজা রাখার মত।
(সহিহ মুসলিম-২৬৪৮)
ইমাম আন্ নাসায়ি সহিহ সনদে বর্ণনা করেন :
اَللهُ الْحَسَنَةَ بِعَشْرٍ فَشَهْرٌ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ وَسِتَّةُ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ تَمَامُ السَّنَةِগ্ধ.
“আল্লাহ তায়ালা একটি নেকিকে দশটি নেকির সমান করেছেন। অতএব, এক মাস দশ মাসের সমান এবং ফিতরের পর ছয় দিন (৬দ্ধ১০=৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাস) পূর্ণ বছর। (সুনানে নাসায়ি- সুনানুল কুবরা-২৮৬২, মাকতাবাতুশ্ শামেলা-২৮৭৪)
একই হাদীস ইবনু খুযাইমাহ্ সহিহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন এভাবে-
্রصِيَامُ رَمَضَانَ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ،وَصِيَامُ السِّتَّةِ أَيَّامٍ بِشَهْرَيْنِ، فَذَلِكَ صِيَامُ السَّنَةِ.
“রমজানের রোজা দশ মাসের সমান এবং শাওয়ালের ছয় দিনের রোজা দুই মাসের সমান, এটাই পূর্ণ বছরের রোজা।
(সহিহ ইবনু হিব্বান-২১১৫)
হাফিজ ইবনু রজব (রহ.) বলেন : শাওয়াল ও শাবান মাসের রোজা র্ফয সালাতের পূর্বে ও পরে সুন্নাত সালাত আদায়ের ন্যায়। র্ফয সালাতে যেমন কোন ভুল বা কমতি থাকলে তা সুন্নাত ও নফল সালাত পূর্ণ করে দেয়, তেমনি শাওয়াল ও শাবানের রোজা র্ফজ রোজা ভুল বা কমতি পূর্ণ করে দেয়। সুতরাং রমজানের রোজার পর শাওয়ালের রোজা পালন করা উচিত।

আরাফার দিনের রোজা
আরাফার দিন হলো এক মর্যাদাসম্পন্ন দিন। যিলহজ মাসের ৯ তারিখকে আরাফার দিন বলা হয়। এ দিনটি অন্যান্য অনেক ফজিলত সম্পন্ন দিনের চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী। নফল রোজার মধ্যে যিলহজ মাসের প্রথম দশক ও আরাফার দিনের রোজার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। আরাফার দিনের রোজা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন-
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّىْ اَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ اللَّتِىْ قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ اللَّتِىْ بَعْدَهُ.
‘আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।’
(সহিহ মুসলিম, মিশকাত-১৯৪৬; তিরমিজি-৭৪৯)

যিলহজের প্রথম দশকের রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,
مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيْهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِىْ الْعَشْرَ، قَالُوْا يَارَسُوْلَ اللهِ وَلاَ الْجِهَادُ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ، قالَ وَلاَ الْجِهَادُ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَالِكَ بِشَيْءٍ-
‘আল্লাহর নিকট যিলহজ মাসের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় নেক আমল আর নেই। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল সা.! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান, মাল নিয়ে বের হয়ে ফিরে আসেনি (তার সৎকাজ এর চেয়েও বেশি মর্যাদাপূর্ণ)।’ (ইবনু মাজাহ-১৭২৭; তিরমিজি-৭৫৭, সনদ সহিহ)
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “আরাফার দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের এত অধিক সংখ্যক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য দিনে দেন না। তিনি এ দিনে বান্দাদের নিকটবর্তী হন ও তাদের নিয়ে ফেরেশতাগণের কাছে গর্ব করে বলেন, ‘তোমরা কি বলতে পার আমার এ বান্দাগণ আমার কাছে কী চায়?’ (সহিহ মুসলিম-৩৩৫৪)
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, ‘এ হাদীসটি আরাফাহর দিনের ফজিলতের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেছেন, ‘এ দিনে মুু’মিন বান্দারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হন। কেননা, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন গুনাহগারদের নিয়ে ফেরেশতাগণের কাছে গর্ব করেন না। কিন্তু তওবা করার মাধ্যমে ক্ষমা-প্রাপ্তির পরই তা সম্ভব।’

আশুরার রোজা
রাসূল সা. যখন হিজরত করে মদিনায় গেলেন তখন রাসূল সা. দেখলেন, ইয়াহুদিরা এই দিনে রোজা পালন করছে, রাসূল সা. কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, এই দিনে আমাদের নবী হজরত মূসা (আ) জালেম ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তাই আমাদের নবী মূসা (আ) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য এ দিন রোজা পালন করতেন। এ জন্য আমাদের নবীর অনুসরণ করে আমরা এই দিনে রোজা পালন করি। তখন রাসূল সা. বললেন ‘আমরাই বেশি হকদার মূসা (আ) এর সঙ্গে সুসম্পর্কের।’ তারপর তিনি সাহাবাদেরকেও এ দিনের রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِيْنَةَ، فَرَأَى الْيَهُوْدَ تَصُوْمُ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ، فَقَالَ: ‏”‏ مَا هَذَا؟‏”‏‏.‏ قَالُوْا: هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ، هَذَا يَوْمٌ نَجَّـى اللَّهُ بَنِيْاِسْرَائِيْلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ، فَصَامَهُ مُوْسَى‏.‏ قَالَ: ‏”‏ فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوْسَى مِنْكُمْ‏”‏‏.‏ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِه‏ِ.‏
ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : নবী সা. (হিজরাত করে) মদিনায় এসে দেখলেন, ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, এটি কী ধরনের (রোজা)? তারা উত্তর দিলো, এটি একটি পবিত্র দিন। এ দিন আল্লাহ শত্রুর কবল থেকে বনি ইসরাইলকে মুক্তি দিয়েছেন। তাই এ দিন মূসা (আ) রোজা রেখেছেন। রাসূল সা. বললেন, তোমাদের তুলনায় মূসার বেশি হকদার হলাম আমি। অতঃপর তিনি নিজেও রোজা রাখলেন এবং এ দিনে রোজা রাখার হুকুম দিলেন।
(সহিহ আল বুখারী-২০০৪, সহিহ মুসলিম-১১৩০)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْـرِهِ، اِلَّا هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَهَذَا الشَّهْرَ ‏.‏ يَعْنِيْ شَهْرَ رَمَضَانَ‏.‏
ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সা.-কে এ দিন অর্থাৎ আশুরার দিন এবং এ মাস অর্থাৎ মাহে রমজান ছাড়া আর কোন দিনকে বেশি ফজিলতের মনে করে রোজা রাখতে দেখিনি। (সহিহ আল বুখারী-২০০৬, সহিহ মুসলিম-১১৩২)
দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলে রাসূল সা. এই নির্দেশ শিথিল করে দেন। আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সা. প্রথমে আশুরার রোজা পালনের নির্দেশ দেন। পরে যখন রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয় তখন আশুরার রোজা ছেড়ে দেয়া হলো। যার ইচ্ছা সে পালন করত, যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিত। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন-
صُوْمُوْا يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَخَالِفُوا الْيَهُوْدَ وَصُوْمُوْا قَبْلَهُ يَوْمًا أَوْ بَعْدَهُ يَوْمًا-
‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইহুদিদের বিপরীত কর। তোমরা আশুরার সাথে তার পূর্বে একদিন অথবা পরে একদিন রোজা পালন কর।’ (বায়হাকি ৪/২৮৭ পৃ.)
সুতরাং আশুরার রোজা মুহাররমের ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখে রাখা যায়। এ রোজার ফজিলত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,
وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُوْرَاءَ اَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُّكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِىْ قَبْلََهُ-
‘আশুরার রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর নিকটে আশা রাখি যে, উহা বিগত এক বছরের পাপ মোচন করে দিবে।’
(সহিহ মুসলিম, মিশকাত-১৯৪৬)

প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা
প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা রাসূল সা.-এর নিয়মিত ও পছন্দনীয় আমল।
রাসূল সা. আইয়ামে বিজ তথা প্রতি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে রোজা পালন করতেন-
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: أَوْصَانِيْ خَلِيْلِـىْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثٍ صِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَـىِ الضُّحَـى، وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ.
আবু হুরাইরাহ্ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমার প্রিয় বন্ধু সা. আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ করে গেছেন। (১) আমি যেন প্রতি মাসে (১৩, ১৪, ১৫ তারিখে) তিনটি রোজা রাখি, (২) চাশতের সময় দুই রাকআত নামাজ পড়ি, (৩) রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই বিত্রের নামাজ আদায় করি।
(সহিহ আল বুখারী-১৯৮১)
তিন দিন রোজা রাখার বিনিময়ে পুরো মাস রোজা রাখার সমান নেকি পাওয়া যায়। আবু যার রা. হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা. বলেন,
مَنْ صَامَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَذَالِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيْقَ ذَالِكَ فِىْ كِتَابِهِ: مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا اَلْيَوْمُ بِعَشْرَةِ أيَّامٍ-
‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে তা যেন সারা বছর রোজা রাখার সমান। এর সমর্থনে আল্লাহ তাঁর কিতাবে নাজিল করেন, ‘যদি কেউ একটি ভালো কাজ করে তার প্রতিদান হলো এর দশগুণ’ (সূরা আনআম : ১৬০)। সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান। (তিরমিজি-৭৬২, ইবনু মাজাহ-১৭০৮, সনদ সহিহ)

সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা
সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সা.! আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ والْخَمِيْسِ فأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِىْ وَأَنَا صَائِمٌ- ‘প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আমলনামাসমূহ আল্লাহর নিকটে পেশ করা হয়। আমি পছন্দ করি যে, রোজা অবস্থায় আমার আমলনামা আল্লাহর নিকট পেশ করা হোক।’ (তিরমিজি-৭৪৭, সনদ সহিহ)
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ ‏ “‏ فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ ‏”‏ ‏.‏
আবু কাতাদা (রহ.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাজিল হয়েছে। (সহিহ মুসলিম-২৬৪০)
প্রতিপাদ্য হাদীসটির দ্বিতীয়াংশে আবু উমামাহ্ রা.-এর বারবার আমল প্রসঙ্গে জানতে চাওয়ার জবাবে রাসূলুল্লাহ সা. রোজার কথাই বললেন এবং সিয়াম তুলনাহীন আমল তাই জানালেন।

বছরব্যাপী রোজার পার্থিব উপকার
কোন পুরুষ ও নারী যখন যৌবনে পা দেয় তখন দৈহিক কারণে তারা একে অপরকে প্রয়োজন বোধ করে। তখন তাদের এ প্রয়োজন মিটাবার জন্য তাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধন তৈরি করতে হয়। কিন্তু যে যুবক পুরুষের যৌবনশক্তি আছে, অথচ একজন নারীকে ভরণপোষণের সামর্থ্য তার নেই, এমতাবস্থায় ঐ যুবকটি কী করবে? সে কি ডুবে ডুবে পানি পান করবে। অর্থাৎ সে কি ব্যভিচার করে সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো মরণরোগে আক্রান্ত হবে? না, সে সাওম পালন করে মাথাকে ঠা-া করার উপায় খুঁজবে। তার মাথা ঠা-া করার ঔষধ হচ্ছে সিয়ামব্রত পালন করা। এ সম্পর্কে একটি হাদীস প্রণিধানযোগ্য।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত। রাসূলে কারীম সা. ইরশাদ করেছেন-
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَّمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصُّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ.
হে যুবক দল! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ তা চোখটাকে অতি সংযতকারী ও লজ্জাস্থানকে অতি হিফাজতকারী। আর যে ব্যক্তি বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তার জন্য সাওম পালন করা অবশ্য কর্তব্য। কারণ সাওম পালন করা তার জন্য ব্যভিচার থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ। (সহিহ বুখারী-৪৭৭৮ ও সহিহ মুসলিম-৩৪৬৪)

আসুন! আমরা মাহে রমজানের শিক্ষা অনুযায়ী বাকি এগারোটি মাস জীবন পরিচালনা করি। প্রতিদিন নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, মহানবী সা.-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নফল রোজা পালন করি, মহান আল্লাহর পথে ব্যয় করি, সর্বাবস্থায় ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় প্রদান করি এবং ভালো কাজের আদেশ করি ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করি। সর্বোপরি মহান আল্লাহর বিধান পালন করি এবং মহানবী সা.-এর সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি। আর যাবতীয় র্শিক, কুফ্র ও বিদআত এবং সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকি।

হাদীসটির শিক্ষা
১. আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রিয় আমল হলো রোজা
২. আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার জন্য রোজার সমতুল্য আর কোনো ইবাদত নেই।
৩. আমরা রমজান হতে শিক্ষা নিয়ে সারা বছর বিভিন্ন নফল রোজা রাখার চেষ্টা করা।

লেখক : প্রভাষক, সিটি মডেল কলেজ, ঢাকা

SHARE

Leave a Reply