post

সম্পাদকীয়

ছাত্রসংবাদ ডেস্ক

১২ মে ২০২৩


হজ এবং কুরবানি আদায় করা মুসলিম উম্মাহর প্রতি মহান আল্লাহর মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দুটি হুকুম। মুসলমানদের মুক্তির মূলমন্ত্র হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই সন্তুষ্টি লাভের অদম্য বাসনা নিয়ে সারা বিশ্বের সক্ষম ও সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর দুটি বিধান পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। আর্থিক কুরবানি মুসলমানদের হৃদয়ে তাকওয়ার অনুভূতি জাগ্রত করে, আর ঈমানী স্পৃহাকে করে অধিকতর শাণিত। এর মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম ঐতিহ্য ঈদুল আজহা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত করে মানুষকে। হজ বিশ্ব মুসলিমের আন্তর্জাতিক মিলনমেলা। বিশ্বভ্রাতৃত্বকে সুদৃঢ় করতে এবং এক মুসলমানের প্রতি আরেক মুসলমানের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করতে ইসলামের অমোঘ এ নিয়মগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকেই পুরস্কার।

পৃথিবীর আলো, নির্মল বাতাস ও বিশুদ্ধ পানির মতো নিয়ামতগুলো মহান আল্লাহর অপার করুণা। এগুলো সুন্দরভাবে ব্যবহার করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা মানুষের কর্তব্য। কিন্তু পরিবেশের প্রতি মানুষের নানা ধরণের অনিয়ম-উৎশৃঙ্খল আচরণের জন্য এখন পৃথিবীজুড়ে ঘনিয়ে আসছে সংকট। মানুষের যান্ত্রিক ব্যবহারের উপযুক্ত নিয়মনীতির গুরুত্ব না থাকার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হচ্ছে নষ্ট। চারপাশের বিষাক্ত পরিমণ্ডল নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছে মারাত্মক বিষক্রিয়ায়। মোখা, সিত্রাং, আম্পান, আইলা, নার্গিস, সিডরসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছাস ও ভূমিকম্প যার জ্বলন্ত প্রমাণ। নির্বিচারে বনায়ন ধ্বংস করে মানুষ ডেকে আনছে বিপদ। অপরদিকে বিশুদ্ধ বাতাস যখন আমাদের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান বিশ্বে তখন সমান তালে চলছে বায়ু দূষণ। জ্বালানী তেল, কয়লা, কুয়াশা পুড়ে তৈরি হচ্ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও রাসায়নিক ধোঁয়া যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। যে কারণে মাথাধরা, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, ব্রংকাইটিস, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং এলার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। পরিবেশ দূষণ রোধে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে; সজাগ করতে হবে সবাইকে। পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগানোর জন্য নিজে তৎপর এবং অন্যদেরকে উৎসাহিত করতে হবে। 

পলাশীর আম বাগানে স্বদেশীয় বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তে ও বিদেশী বেনিয়াদের হাতে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতাসূর্য অস্তমিত হয়েছে। বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের প্রতি হিংসা ও স্বার্থান্ধের মোহে হিন্দু বিশ্বাসঘাতক জগৎশেঠ, উর্মিচাঁদ, রায়দুর্লভ, মানিকচাঁদ, রাজভল্লভ, নন্দনকুমার, কৃষ্ণভল্লভ, রাম নারায়ণ, সেতাব রায়রা সেদিন দেশের স্বাধীনতাকে ইংরেজদের হাতে তুলে দেয়। তখনকার বাংলার প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা জাতি কোনোদিন ক্ষমা করবে না। আজ অবধি যারা একই পথে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে তাদেরকেও ক্ষমা করবে না

বাঙালিরা। অপরদিকে মুসলমানদের সম্ভাবনাময়ী দিশারী যারা হবেন তাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে জনগণের সাথে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক না থাকায় পলাশীর পরাজয় যেন তাদেরকেও বরণ করতে না হয়। অনিয়ন্ত্রিত হিসাবের খাতাগুলো নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য সবসময় সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চলছে হতাশার খরা। গণতন্ত্রকে জলাঞ্জলি দিতে বসা এই স্বৈরাচার সরকার অন্যকোনো আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করা তো দূরে থাক জনগণের ন্যূনতম অধিকারগুলোও ভোগ করতে বাধা দিচ্ছে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের অগণিত নেতাকর্মীকে হত্যা করে তা দেদারছে অস্বীকার করার পর প্রচার মিডিয়ার মুখ চেপে ধরে আছে এখনও। সেই থেকে নীরবে নিভৃতে অসংখ্য আলেমদের গ্রেফতার করে এক রাজনীতি আবার জামিনের প্রলোভন দেখিয়ে আরেক রাজনীতি করছে। অথচ সরলমনা আলেমদের অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে, তাদের সাময়িক জামিন দিলেও কোনো মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং সকল আলেম-ওলামা, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যমত হতে হবে এবং এদেশের প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হয়ে স্বৈরাচারের কূটকৌশল থেকে দেশ রক্ষার আন্দোলনে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবী।

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির