সম্পাদকীয় – অক্টোবর’ ২০১৮

দেখ মানবতা করে হাহাকার
অনেক রাত্রি শেষে একটু প্রভাত চায়
রুদ্ধ শ্বাসের পর শান্তির স্বাদ চায়
ডানা ভেঙে পড়ে আছে শান্তির শ্বেত কবুতর।
(খন্দকার রাশিদুল হাসান তপন)
সত্যিই আমাদের চারপাশে প্রতিদিন লঙ্ঘিত হচ্ছে মানুষের মানবিক অধিকার। মানবতা হারিয়ে যাচ্ছে তেপান্তরে। ভারী হয়ে উঠছে বুকের ভেতর; বেড়েই চলেছে হাহাকার। অধিকারহারা মাজলুমানেরা দু’হাত তুলে ফরিয়াদ করছে মহান প্রভুর কাছে। তাদের আর্তনাদে কেঁপে ওঠে গাছের পাতা, ঢেউ খেলে সাগরের পানি। স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো পৃথিবী। মহান আল্লাহর ঘোষণা :
‘তোমাদের কী হলো, তোমরা আল্লাহর পথে অসহায় নর-নারী ও শিশুদের জন্য লড়বে না, যারা দুর্বলতার কারণে নির্যাতিত হচ্ছে, তারা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব! এই জনপদ থেকে আমাদের বের করে নিয়ে যাও, যার অধিবাসীরা জালেম এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের কোনো বন্ধু, অভিভাবক ও সাহায্যকারী তৈরি করে দাও।’ (সূরা নিসা : ৭৫)
এই অসহায়, নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সুশাসন ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচন। যতদিন এই কাজটি করতে আমরা ব্যর্থ হবো ততদিন আমাদের স্বপ্নেরা রয়ে যাবে অধরা।

২.
আমাকে যখন কেউ প্রশ্ন করে/ কেন বেছে নিলে এই পথ/কেন ডেকে নিলে বিপদ
জবাবে তখন বলি/ মৃদু হেসে যাই চলি/ বুকে মোর আছে হিম্মত।
(মতিউর রহমান মল্লিক)
আমরা কেউই প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে আবদ্ধ করতে চাই না। নিজেকে একটু উন্মুক্ত আকাশে মেলে ধরতে চাই। হাঁটতে চাই মসৃণ সবুজ ঘাসে। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য সেটা কি খুব সহজ? না, বরং প্রতিক্ষণই একজন মুমিনকে পার হতে হয় কাঁটাযুক্ত হাজারো গলিপথ। শুধুমাত্র ঈমানের দাবি পূরণের পথে নিজেকে সঙ্গী বানানোর অপরাধে। তবে এ পথে সবাই টিকে থাকতে পারে না। যারা মিথ্যের বিরুদ্ধে বুক টান টান করে দাঁড়াতে পারে কেবল তারাই টিকে থাকে শেষমেশ এবং তারা উদ্বেলিত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেÑ আমাকে দাও সে ঈমান/ আল্লাহ মেহেরবান/ যে ঈমান ফাঁসির মঞ্চে অসংকোচে/ গায় জীবনের গান।

৩.
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যাসন্ন। পুরোদমে চলছে প্রস্তুতির কাজ। ইতোমধ্যে সরকার ইভিএম কিনে ফেলেছে। অন্যান্য আয়োজনও হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবে বিরোধী দলসমূহে সরকারি দলের মতো নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রস্তুতির তেমন কোনো আমেজ দেখা যাচ্ছে না। অবশ্য কিছু কারণও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রীতিমতো চাপে রাখা হয়েছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের। প্রতিদিন গণ-গ্রেফতার হচ্ছে জামায়াত-শিবির, বিএনপি-ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী। আজগুবি সব মামলায় জড়িয়ে দেয়া হচ্ছে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে। নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উত্তেজনা নেই সাধারণ জনমনে। আবারো ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা করছে সবাই। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারগঠনের কোনো উদ্যোগ নেই। আবারো বিনাভোটে সরকারগঠনে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। যে-ই পরীক্ষার্থী সে-ই পরীক্ষক; যে-ই খেলোয়াড় সে-ই রেফারি হলে, ফলাফল যেমনই হয় তেমনটি হবে এবারের নির্বাচনেও- সেটাই লক্ষ করা যাচ্ছে। অবশ্য যারা জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চায়, একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, তাদের আর বসে থাকার সুযোগ কোথায়? বরং এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ সময়ের দাবি। আর এটিই এখন জনগণের প্রত্যাশা। আর এই আহবানের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন কবি কাজী নজরুল ইসলামও। তিনি লিখেছেন-
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল,/ ভুলিতেছে মাঝি পথ-
ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মত।
কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যৎ
এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি,/ নিতে হবে তরী পার।

SHARE

Leave a Reply