সম্পাদকীয়

‘শহীদ আবদুল মালেক’ একটি প্রেরণা, ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৯৬৯ সালে সার্বজনীন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা দাবি করার কারণে ইসলামবিরোধী প্রেতাত্মাদের নির্মম আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান তিনি। কিন্তু তাঁর সেই দাবি যে কত বেশি যৌক্তিক ও মৌলিক ছিল তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়েছে আজ।

ইসলামী শিক্ষার অভাবে নৈতিক অবক্ষয় এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই অবক্ষয় মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা দেখে জাতি শিউরে উঠছে। তিন বছরের শিশু থেকে ৯২ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত এ দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সন্তানরা তার গর্ভধারিণী মাকে হত্যা করছে। উত্তেজিত মূর্খ লোকজন কোথাও কোথাও সন্দেহের বশবর্তী হয়েই অচেনা মানুষকে গণপিটুনিতে হত্যা করছে। স্কুলগামী ছাত্ররা বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, কিশোর প্রজন্ম অল্প বয়সেই নেশা ও অনৈতিকতায় পা দিচ্ছে।
সম্প্রতি ২৬ জুন ২০১৯ বুধবার সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে থেকে ‘বন্ড ০০৭’ গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা হঠাৎ কলেজ থেকে জোর করে রিফাত শরীফকে বের করে নিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
অধিকাংশ জাতীয় দৈনিক পত্রিকার বিবরণ অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনায় সরাসরি ১৫ থেকে ২০ জন জড়িত ছিল। পুলিশ ধারণা করছে যে, জড়িত ছিল রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিও। অথচ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নয়ন বন্ডকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করেছে প্রশাসন। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার এই কারণ- দুষ্টু সমাজপতিদের সন্তানরা যেন বেঁচে যায় বিচারের হাত থেকে; বেঁচে যায় দলীয় সাঙ্গোপাঙ্গরা। বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে বাংলাদেশের। কারণ এর আগে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বিশ^জিতের পরিবার সুবিচার পায়নি। সুবিচার পায়নি সাগর-রুনি, পিলখানা সেনাদের পরিবারও।

একসময় গোটা দুনিয়ার আধিপত্য বিস্তারকারী ব্রিটিশ শাসকরা আমাদের জন্য যে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করেছিল অদ্যাবধি আমরা সেটিরই অনুসরণ ও অনুকরণ করছি। ফলে আমরা এখনো নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস পাই না। আমরা সরাসরি আধুনিক শিক্ষা বাদ দিয়ে অন্যকিছু দিয়ে এর সমাধানে আসতে পারবো না। তাই এই শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠনের জন্য অবশ্যই আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক অনুশীলন করতে হবে। খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে, উসমানী-আব্বাসী শাসনামলে যেমন গবেষণাধর্মী শিক্ষাব্যবস্থা চালু ছিল সেভাবেই চালু রাখতে হবে আমাদের গবেষণার দ্বার।

ইসলামই একমাত্র পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা যার একেকটি ইবাদাত একেকটি প্রশিক্ষণ। সামনে কোরবানির ঈদ তথা ঈদুল আজহা। এই কোরবানি ধনসম্পদের অপবিত্র লিপ্সা ও দুনিয়ার প্রতি গভীর আকর্ষণ দমনের এক মাধ্যম। যার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মুমিন মুসলমান তাকওয়া তথা খোদাভীতির এক অনুপম আদর্শে উজ্জীবিত হয়। এই শিক্ষা বাস্তবায়িত হলে সমাজের প্রত্যেকটি সদস্য মুত্তাকি ও পরহেজগার হয়ে যাবে তাহলে সমাজে থাকবে না কোনো জুলুম, মানবতার প্রতি প্রহসন, সন্ত্রাস, গুম, খুন, হাইজ্যাক, রাহাজানি, কাটাকাটি, ইভটিজিং, মারামারি, আর জেনা ব্যভিচারের সয়লাভ। তাই আমাদের এই মহান কোরবানির মর্মবাণী উপলব্ধি করতে হবে এবং হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ রেখে গড়ে তুলতে হবে সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ইসলামী সমাজ।

SHARE

Leave a Reply