সম্পাদকীয়

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাস ও মানসিক অশান্তির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা কবে কাটিয়ে উঠবে জানে না কেউ। চাকরিপ্রার্থী ছাত্রদের টিউশনি-কোচিং বন্ধ থাকায় বুকের মধ্যে চাপা কষ্টগুলো নিয়ে এই সভ্যতাকে ধিক্কার দিচ্ছে অবিরত। সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘স্বৈরাচার সরকার সব সময় আন্দোলনের ভয়ে ভীত থাকে। তারা যেকোনো কায়দায় আন্দোলন দমিয়ে রাখতে চায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্ররাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বৈরাচার পতন; সব ধরনের অবৈধ শক্তির বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজ তৎপর। দেশকে মেধাহীন করার হীন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই দুরবস্থা সৃষ্টি করেছে সরকার নিজেই।’ সিলেট-নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের ধর্ষণবাজি গোটা ছাত্রসমাজের জন্য কলঙ্কের বিষয়। পুলিশ কর্তৃক সিলেটের রায়হান; কক্সবাজারের মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড, হাজী সেলিম পুত্র ইরফান সেলিম কর্তৃক নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর শেষে দাঁত ফেলে দেয়ার ঘটনায় দেশের জনগণ হতভম্ব।
সম্প্রতি বিশ^নবী সা.-কে নিয়ে ফ্রান্সের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ও মুসলমানদের নির্যাতনের জন্য বিশে^র চারদিকে প্রতিবাদের দামামা বেজে উঠেছে। স্বৈরাচার ও জালেমদের ধৃষ্টতার কারণে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বই আজ জাহান্নামের এক বিষাক্ত নিঃশ্বাসে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম হিসেবে আমাদের অনেক বেশি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আছে।
ভয়াবহ এই দুঃসময়ে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সঙ্কটটি হচ্ছে নেতৃত্ব সঙ্কট। তবে আমাদের নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যগুলো হতে হবে অমুসলিমদের তুলনায় একেবারেই আলাদা। আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি অঙ্কিত হবে কুরআন ও হাদিসের আলোকে। আদর্শ মুসলিম হওয়ার পাশাপাশি আমাদের আদর্শ নেতা হতে হবে। মানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে। রাসূল সা.-কে মদিনায় সকল মত ও পক্ষ-বিপক্ষের লোক নেতা হিসেবে মেনে নেয়ার কারণ হচ্ছে, জনগণের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে যেসকল গুণাবলি একজন নেতার মধ্যে থাকা দরকার; বাল্যকাল থেকেই তাঁর মধ্যে সব ধরনের গুণাবলি প্রস্ফুটিত হয়েছে। তখনকার মদিনায় নানা সঙ্কট ও সমস্যাকে ধাপে ধাপে সমাধান করে মদিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। একজন আদর্শ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে আমাদের প্রয়োজন- লোকজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, বিশুদ্ধতা, জবাবদিহিতা, মমত্ববোধ, বিনয়, সহনশীলতা, সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা, সমাজে প্রভাব সৃষ্টি, ইতিবাচকতা, প্রতিনিধিত্ব নিরূপণ ইত্যাদি নানা ধরনের গুণাবলি।

SHARE

Leave a Reply