সম্পাদকীয়

স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষ উদযাপন করলাম আমরা। অর্ধশত বছরে দাঁড়িয়ে এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা অবলোকন করলে গা শিউরে ওঠে। বাংলায় কথা বলা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশ আজ বিশে^ সুপরিচিত। কিন্তু ৫০ বছরে আমাদের অর্জনের কথা বিবেচনা করলে দুঃখ পেতে হয় নিজে নিজেই। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বঞ্চিত শব্দটি আমাদের অভিধান থেকে মুছে যাওয়ার কথা ছিল। পাকিস্তান যেভাবে এ ভূখণ্ডকে শোষণ করেছে, আজো শোষণ-নিপীড়ন চলছে আপন ভূখণ্ডের মাফিয়া শোষকদের দ্বারা। শতবর্ষের পথে হাঁটা শুরু করলাম এবার। আমাদের লক্ষ্য এবং এই পথ ঝঞ্ঝামুক্ত করতে এক হয়ে কাজ করতে হবে সকল নাগরিককে। আগামীর দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে ছাত্রসমাজকে বিগত ৫০ বছর মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রমাদান মুসলমানদের ইবাদতের বসন্তকাল। অবারিত রহমের সুধা নিয়ে বছরের পথপরিক্রমায় ফিরে আসে এই মাস। নিজেকে পরবর্তী সময়ের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণায় মুমিনগণ প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে স্বাগত জানান রমাদানকে। আত্মশুদ্ধির প্রত্যয় নিয়ে আল্লাহর বান্দারা যেমন পুলকিত হয় তেমনি বদরের চেতনায় জাগ্রত হয় জিহাদী মনন। সাহাবায়ে কেরামের জীবনাদর্শ ভেসে উঠে পরতে পরতে। কুরআন নাজিলের এ মাসে একজন কুরআনপ্রেমী মুমিন বিশেষ করে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে কুরআন বুকে ধারণ করা এবং কুরআনের মান সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে কুরআন বিমুখ করে গড়ে তোলার বিশ^ব্যাপী যে আয়োজন, তা অনুধাবন করে উদ্যোগী হতে হবে।
নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে সরকারব্যবস্থার শিথিলতায় বর্তমান সময়ে রমাদানকে কেন্দ্র করে দেশের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি করে যে সঙ্কট ও সমস্যার সৃষ্টি করে তা খুবই দুঃখজনক। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রমাদানের এই কষ্ট লাঘবে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

বাঙালিদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে বৈশাখ জড়িয়ে আছে। ইংরেজি ১৫৫৬ সালে মোগল স¤্রাট আকবর সিংহাসনে বসেন। তাঁর এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজস্ব কর্মকর্তা আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী সর্বপ্রথম বাংলা সন প্রবর্তন করেন। ১৬০৮ সালে স¤্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর রাজ্যের হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য সুবেদার ইসলাম খান তাঁর বাসভবনের সামনে সব প্রজার শুভকামনা করে মিষ্টি বিতরণ এবং বৈশাখকে উৎসব হিসেবে ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন যে সকল কৃষ্টি কালচারকে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। ১৯৮৯ সালের আগে বাংলাদেশে কখনোই পহেলা বৈশাখের সাথে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা হয়নি। বর্তমান সময়ে মঙ্গল প্রদীপ, চারুকলার হুতোমপেঁচার মুখোশ বা অন্যান্য অবান্তর যে অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হয় তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুসলমানদের ইতিহাসকে বিকৃত করে যে অশ্লীল সংস্কৃতি প্রচলন করা হচ্ছে সে সম্বন্ধে সচেতন হওয়া জরুরি।

ইসলাম শুধুমাত্র অনুষ্ঠানসর্বস্ব ধর্ম নয়। ইসলাম মহা সত্য ও পরিপূর্ণ এক জীবনবিধান। যার আদর্শ চিরন্তন, শাশ্বত, চির আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সবক্ষেত্রেই যে আদর্শ পরিব্যাপ্ত। মানবজাতিকে ইহজগৎ ও পরকালে শান্তি ও মুক্তি পেতে ইসলাম ছাড়া আর কোনো জীবনবিধান নেই। শিক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামের রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও সুষ্ঠু দিকনির্দেশনা। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মন-মগজ, ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা ও চরিত্র বিকশিত হয় এবং ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জীবনের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জিত হয়। ইসলামকে তাই আরো বেশি বেশি জানতে হবে, অধ্যয়ন করতে হবে ও জীবনের প্রতিটি বিভাগে বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে।

SHARE

Leave a Reply