সুনিশ্চিত বিজয় দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে আমাদের পানে ছুটে আসছে – মো: দেলাওয়ার হোসেন

নানান সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশ। তথাপি তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে দেশের বরেণ্য আলেম ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রহসন চালানো হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যেনতেনভাবে তাদেরকে সাজা দিতে চায় বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার। গণতন্ত্রের নামে বিরোধী দলের প্রতি চরম অগণতান্ত্রিক আচরণ সাধারণ মানুষেরও সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবির কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চাইলে পুলিশ ও সরকারের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ-ছাত্রলীগ তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সরকারে মন্ত্রী-এমপিরা জামায়াত-শিবির নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে এক অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করেছে। এসব নিয়েই কথা হয় এদেশের ছাত্র ও যুবসমাজের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: দেলাওয়ার হোসেনের সাথে। এখানে তার উল্লেখযোগ্য অংশসমূহ তুলে ধরা হলো।

ছাত্র সংবাদ : বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলুন।
মো: দেলাওয়ার হোসেন : জাতির এক ক্রান্তিকালে আমরা উপনীত হয়েছি। বাংলাদেশের আকাশে আজ কালো মেঘের ছায়া। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ১০ টাকা কেজি চাল, ঘরে ঘরে চাকরি আর ফ্রি সার দেয়ার মিথ্যা আশ্বাসে ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় চেপে বসে। ক্ষমতায় আসার পর আমরা দেখেছি ১০ টাকার চাল এখন ৪২-৪৫ টাকায় খেতে হচ্ছে। ফ্রি সারের পরিবর্তে নগদ টাকা দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। ঘরে ঘরে চাকরি দেয়া তো দূরের কথা দিন দিন দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। এরপর রয়েছে সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী আর দলীয় নেতাকর্মীদের সীমাহীন দুর্নীতি, লুণ্ঠন আর দখলবাজি। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকা লুটপাট করে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পথে বসিয়েছে তারা। এমনকি শেয়ারবাজারে নিজের সর্বশেষ পুঁজি হারিয়ে আত্মাহুতির ঘটনাও ঘটেছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি ও পদ্মাসেতুর দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আগামী এপ্রিলে কানাডাতে এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে পদ্মাসেতুর দুর্নীতির উঠবে আদালতে। তখন দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট বহু লোকের নাম ফাঁস হয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক আজ নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। ঘরের বাইরে নিরাপত্তা নেই। ঘরের ভেতরেও নিরাপত্তা নেই। আবার প্রধানমন্ত্রী কি না বলেন, আমি কারো বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে পারব না। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য মানুষের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা আরো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়ে অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধমে বিশেষ করে বিরোধী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে মানুষ গড়ার আঙিনাগুলোকে কলুষিত করেছে। একের পর এক হামলা-ভাঙ্চুর আর সহপাঠীদের রক্তে নিজেদের হাত রাঙিয়ে ক্যাম্পাসগুলো ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করে পরনির্ভরশীল জাতিতে পরিণত করার হীন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। ভারতীয় উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল সংস্কৃতি আমদানি করে নিজেদের সমৃদ্ধ ও পরিশীলিত সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে পরাধীন বানাতে চায় তারা।
কেয়ারটেকার তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যেটি ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণ সরকার পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একমাত্র ব্যবস্থা ছিল এই সরকার তা পরিবর্তন করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এর প্রতিবাদে উক্ত ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবি যখন গণমানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে, তখন সরকার একের পর এক নতুন নতুন ইস্যু জনগণের সামনে ছুঁড়ে দিয়ে তাকে আড়াল করতে চাইছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এই গণ-দাবিকে সরকার প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
ছাত্র সংবাদ : অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার কারাগারে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে যেনতেনভাবে সাজা দিতে চাচ্ছে। অথচ এই জামায়াতের সাথেই তারা যুৎপদ আন্দোলন করেছে। এখন কেন তাঁদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে? সরকারের মূল উদ্দেশ্য কী বলে মনে করছেন?
মো: দেলাওয়ার হোসেন : বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল, ক্ষমতায় গেলে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ তারা নেবে না। কিন্তু আমরা দেখলাম বাংলাদেশের কোটি মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত করে প্রতিনিয়ত এই সেকুলার সরকার ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংসের কাজ করে যাচ্ছে। সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে নিয়েছে। শিক্ষানীতিতে ইসলামী শিক্ষাকে ঐচ্ছিক বানিয়ে ব্রতচারিতার নামে লাম্পট্য শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এমনকি নারী-নীতি, সম্পদ বণ্টনের মিরাসি আইন, পর্দার ব্যাপারে কুরআনের শাশ্বত বিধানের পরিবর্তন করে, হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ধর্মহীন মনগড়া আইন চালু করার হীন প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং এখন চালিয়ে যাচ্ছে।
এখানেই শেষ নয়, দেশের শীর্ষ আলেমদের হাস্যকর অভিযোগে গ্রেফতার করে তাঁদেরকে কথিত মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী সাজানো হয়েছে এবং গায়ের জোরে সাজা দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। যাঁদের কুরআনের তাফসির মাহফিলে লক্ষ লক্ষ মুক্তিকামী মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এসে বিনিদ্র রাত তন্ময় হয়ে থাকত, তাঁদেরকে ধর্ষণ, টিন চুরি, লুটপাট, খুন, অগ্নিসংযোগের মতো জঘন্যতম মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে অমানুষিক জুলুম ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এ মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নামে পক্ষপাতদুষ্ট ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান “আমরা ন্যায় বিচার করবো না” বলে নিজেই তাদের উদ্দেশ্য অকপটে স্বীকার করেছেন। চিহ্নিত রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের বিচারকের পবিত্র আসনে বসিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসঙ্ঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশন একবাক্যে এই ট্রাইব্যুনাল ও আইনকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন। সাক্ষীরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তাদের দেয়া কল্পিত জবানবন্দীকে তাদের সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার মতো পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা এই ট্রাইব্যুনালে ঘটেছে। পরবর্তীতে এমনকি সরকার পক্ষেরই কোনো কোনো সাক্ষী অভিযুক্তদের নির্দোষিতার ব্যাপারে স্পষ্ট বলিষ্ঠ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এজন্য সাক্ষীদের কণ্ঠরোধ করতে আসামিপক্ষের আইনজীবীর গাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ সাক্ষীকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুম করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ব্যাপারে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং অবিলম্বে গুম হয়ে যাওয়া সাক্ষীকে ফেরত দিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। তথাপি সরকার সেদিকে কর্ণপাত করেছে বলে এখনও প্রতীয়মান হয়নি। আরো নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আদালতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রায় ঘোষিত হয়েছে। বিপরীত দিকে সরকারের মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি কর্তৃক বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আইন অবমাননাকর মন্তব্য ও বক্তব্য প্রদান করার পরও কেবলমাত্র মৌখিকভাবে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে মাত্র। এতে করে সমগ্র বিচারপ্রক্রিয়ায় সরকারের দেউলিয়াত্ব, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ ও ষড়যন্ত্রের বিকট চিত্রই ফুটে উঠেছে। সরকার কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করে এক তরফাভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছে। “শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম মিথ্যাচার”-এর নাটক ট্রাইব্যুনালদ্বয়ে মঞ্চস্থ হয়ে চলেছে।
ছাত্র সংবাদ : সরকার যেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জিহাদ ঘোষণা করেছে। দেশব্যাপী জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হচ্ছে। কেন হচ্ছে এসব? আপনার দৃষ্টিতে এর পেছনে সরকারের কী উদ্দেশ্য আছে বলে মনে হয়?
মো: দেলাওয়ার হোসেন : বাংলাদেশের মতো একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশে এই পৈশাচিক বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করারও কোনো সুযোগ আমাদেরকে দেয়া হচ্ছে না। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। আমাদেরকে কোনো জায়গায় সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও আমাদেরকে করতে দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন দলীয় বৈঠক থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে গোপন বৈঠকের নামে নাশকতার মামলায় জড়ানো হচ্ছে। বাসা-বাড়ি ও মেস থেকেও একইভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে ‘নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। বাসা, মেস ও অফিস থেকে পবিত্র কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্যের বইপত্র নিয়ে গিয়ে কথিত ‘জিহাদী বই’ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। সাইয়েদ কুতুব, আল্লামা বা’দী সাকার, আল্লামা ইউসুফ আল কারযাবী (রহ) কোনো নিষিদ্ধ লেখক নন। সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা তাঁদের লিখিত জ্ঞানগর্ভ বই অধ্যয়ন করে।
গ্রেফতার ও তল্লাশির নামে আমাদের বাসাবাড়ি ও মেসগুলো থেকে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীরা কম্পিউটার, আলমারি প্রভৃতি দামি জিনিস লুট করে নিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। সম্প্রতি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও লুটপাট চালিয়েছে সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনগুলোর উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মীরা। আমাদের বাসাবাড়ি ও মেসে গ্রেফতার ও তল্লাশির সময় অনেক সাধারণ ছাত্রকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে ‘শিবির’ ধরার কোটা পূরণ করার জন্য। সাধারণ অভিভাবক যাদের সন্তান মেসে থেকে পড়াশোনা করে তারা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষমতার মসনদে বসার পর মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে সরকার সাজানো মামলা দিয়েছে প্রায় ২ হাজার। এখনও প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও একাধিক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে যারা নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন চাকরি বা ব্যবসার উদ্দেশে, তাদের বিরুদ্ধেও তাদের নিজ এলাকায় ‘পুলিশের কাজে বাধা দেয়া’র হাস্যকর মামলা দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে আমাদের ২ লাখের অধিক নেতা-কর্মীকে। বিভিন্ন সময়ে কারাবাস করেছেন বিশ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তো এখন জেলে। এর বাইরে যারা এখন নেতৃত্বে আছেন তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে হুলিয়া। গণতান্ত্রিক দেশে একটি রাজনৈতিক দলের ন্যূনতম কর্মসূচি পালনেও কোনো সুযোগ দিচ্ছে না সরকার। ৮০ জন নেতা-কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। হাইকোর্টের রুল জারির পরও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন মেধাবী ছাত্রনেতা ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসকে এখনও কোর্টে হাজির করা হয়নি। তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬শ’। বইয়ের দোকানে বই কিনতে গিয়েও পুলিশের হয়রানি ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন পর্দানশীল ছাত্রীবোনেরা। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় শতাধিক কার্যালয়ে। ৮৫ ভাগ মুসলমানের দেশে পবিত্র কুরআনে আগুন জ্বালিয়েছে মানুষ নামের ঘৃণ্য কীটেরা। কুরআন-হাদিসকে ‘জিহাদী বই’ বানিয়ে দিয়ে সেই বই সাথে রাখার ‘অপরাধে(!)’ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছে ১২ বছরের কিশোর থেকে অশীতিপর বৃদ্ধও।
এ জালেম ও মানবতাবিরোধী সরকারের এ বারের শাসনামলে এ পর্যন্ত নির্মমভাবে খুন হয়েছেন ছাত্রশিবিরের ৯ জন তাজাপ্রাণ নেতা-কর্মী। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের সামনাসামনি গুলিতে নিহত হয়েছেন আমাদের প্রিয় ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র মা-বাবার একমাত্র সন্তান হাফিজুর রহমান শাহীন। এবার জয়পুরহাটে মিছিলে বাধাপ্রদান করে পুলিশ গুলি করে খুন করল শিবিরনেতা বদিউজ্জামানকে। শুধু তাই নয়, শহীদ বদিউজ্জামানের মা-কে জোর করে থানায় ধরে নিয়ে অত্যাচার করে বাধ্য করা হয়েছে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে। এই বর্বরতা উপাখ্যানকেও হার বানায়।
ছাত্র সংবাদ : মিডিয়া ও সরকারের পক্ষ থেকে জোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে, জামায়াত ও ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে কোনো পূর্ব ঘোষণা বা অনুমতি নেয়া ছাড়াই ঝটিকা জঙ্গি মিছিল বের করছে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখছি ছাত্রশিবির বা জামায়াতের কর্মীরা কোথাও প্রথমেই পুলিশের ওপর হামলা চালায়নি। বরং অনেকটা নিরুপায় হয়েই প্রতিরোধ হিসেবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। আপনার বক্তব্য কী?
মো: দেলাওয়ার হোসেন : দেখুন, আপনার প্রশ্নের মধ্যেই এর জবাব রয়েছে। ছাত্রশিবির কখনও প্রথমেই কারোর ওপর আক্রমণ করে না। শিবিরের দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে না। আমরা কখনোই কারোর সাথে সংঘর্ষে জড়াতে চাই না। তবে দেয়ালে পিঠ থেকে গেলে কী করার আছে বলুন। পুলিশ আমাদেরকে বাধা না দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দিক। তাহলে কোথাও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু পুলিশ তো এখন সরকারের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। তাদের সাথে যোগ দিচ্ছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা পুলিশের সাথে আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা তাকিমের ওপর নিজেরা হামলা চালিয়ে এখন তার দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। যেমনটি করেছিল ফারুককে হত্যা করে তার লাশ ম্যানহোলে ফেলে দিয়ে। আগেই বলেছি, ছাত্রশিবির কখনো কোনো হত্যা-নির্যাতনে বিশ্বাস করে না। আদর্শবাদী এই সংগঠনটি সর্বদা ক্যাম্পাসে সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনেক আগেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আমাদের সংগঠনের কোনো ভাই কর্তৃক একজনেরও রগ কাটা হয়েছে এমন প্রমাণ দেখাতে। কিন্তু কেউ সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেনি। কাজেই এখন নতুন করে হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়ার নাটক সাজিয়ে তার দায় শিবিরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে যে ফায়দা তারা নিতে চাচ্ছে, তা সফল হবে না ইনশাআল্লাহ। জনগণ তাদের এই মিথ্যা কথা আর বিশ্বাস করে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তো দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট থেকে ‘রঙহেডেড’ উপাধিপ্রাপ্ত।
ছাত্র সংবাদ : সম্প্রতি সারা দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন সম্পর্কে বলুন।
মো: দেলাওয়ার হোসেন : সকল বাধা উপেক্ষা করে আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু সেটাকেও সরকার বানচালের হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এটি চলতে পারে না। আওয়ামী লীগ মূলত গণতন্ত্রের নাম নিয়ে অগণতান্ত্রিক উপায়ে বিরোধী শক্তিকে দমন করে একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে। এখন মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা নেই। প্রতিবাদ করতে গেলেই আমাদেরকে দমন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। আপনারা সবাই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন গত ৫ ও ৬ নভেম্বর সারা দেশব্যাপী আমাদের পূর্বঘোষিত, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষ সেদিন বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছে আমাদের প্রতিটি কর্মসূচিতে সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী আচরণ করেছে। মিছিলে বাধা দেয়া হয়েছে, নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। ব্যাপক টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও গুলি চালানো হয়েছে। এতে প্রায় দেড় সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫ জনের চোখ চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো অনেক ভাই আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে দিনাতিপাত করছেন। এই ঘটনার রেশ ধরে সারাদেশে আমাদের ওপর এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ আমাদের ২ হাজারের বেশি ভাইকে গ্রেফতার করেছে। সরকারের এই সীমাহীন অগণতান্ত্রিক আচরণ দেশের মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই অবস্থা বেশিদিন চলতে পারে না। অথচ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চাপ প্রয়োগ করে আমাদেরকেই বরং পুলিশের ওপর আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করার হীন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। জয়পুরহাটে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ বদিউজ্জামানের হত্যার প্রতিবাদে হরতাল চলাকালীন সময়ে পুলিশের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুরিয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ আমাদের ওপর দেয়া হয়েছে। অথচ এটা যে সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা তা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ এর কোনো প্রমাণ হাজির করতে এই ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কোনো টিভি চ্যানেল বা পত্রিকায় কথিত আহত পুলিশ সদস্যের কোনো ফুটেজ বা ছবি আপনারাও দেখেননি। পুলিশের মধ্যে অতি উৎসাহী কিছু দলীয় ক্যাডার ও পুলিশের পোশাকধারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী আগ বাড়িয়ে আমাদের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নির্বিচারে লাঠিচার্জ, টেয়ার শেল নিক্ষেপ এমনকি গুলি পর্যন্ত করেছে। গায়ে পুলিশের পোশাক ও পায়ে চামড়ার স্যান্ডেল পরিহিত অবস্থায় আমাদের ওপর গুলি বর্ষণরত একাধিক যুবকের ছবি ইন্টারনেটে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে। ডিউটিরত অবস্থায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা চামড়ার স্যান্ডেল পরেন না। পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা দেখি ব্যক্তিগত স্বার্থে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের গুণ্ডা বাহিনীকে পুলিশকে পেটাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসন নির্বিকার। অথচ শিবিরের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ রক্ষার তাগিদে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সেটার নাম দেয়া হচ্ছে ‘জঙ্গি’ হামলা। দ্বৈতনীতিরও বোধ হয় একটা সীমারেখা থাকে। এ ক্ষেত্রে সকল সীমরেখা অতিক্রম করে যাচ্ছে। বন্ধুরা, আমরা মনে করি এ অন্যায়, অবিচার ও নির্যাতন শুধু ছাত্রশিবিরের ওপরেই হচ্ছে না। ছাত্রশিবিরের জন্ম এ দেশেই। এর জনশক্তি সবাই এ দেশের আলো-হাওয়াতে বেড়ে উঠেছে। যে ছাত্র ও যুবক ভাইটির ওপর সরকারের অমানবিকতা চলছে, তারা আপনারই পিতা, ভাই, সন্তান অথবা নিকটতম কেউ কিংবা একই দেশের নাগরিক হিসেবে আপনারই জাতির একজন। তাই এ কথা এখন পরিষ্কার যে, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর সঙ্কটে আপতিত হয়েছে। ক্রমে গভীরতর হচ্ছে এই সঙ্কট। উত্তরণ তাই আশু প্রয়োজন।
ছাত্রশিবির একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপ্রিয় সংগঠন। অতীতের যে কোনো সঙ্কটে বিশেষ করে ’৫২, ’৬৯, ’৭১ ও সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে বাংলাদেশ সেইসব সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছিল। তাই অতীতের ধারাবাহিকতায় ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পথ ধরে ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে বর্তমান সঙ্কট থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সকল ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসমাজকে এই অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসনের হাত থেকে দেশবাসীকে উদ্ধারের জন্য এই গণ-আন্দোলনের সাথে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতির বিবেক সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি আমরা এই আহ্বান করি না যে আপনারা আমাদের পক্ষে সাফাই গান, বরং আমরা অনুরোধ করি যখন কলম ধরবেন ইনসাফের সাথে ধরুন।
ছাত্র সংবাদ : পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আপনার কোনো বক্তব্য আছে কি?
মো: দেলাওয়ার হোসেন : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে শিবিরের সম্পর্কের ইতিহাস সহযোগিতার ইতিহাস। ইসলামী নৈতিকতা অনুসারে আপনাদের জীবন ও রক্তকে আমরা আমাদের জীবন ও রক্তের সমান মূল্য দেই। আপনাদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। এ কথা আপনাদের চেয়ে আর কে বেশি জানে! কিন্তু সেই আপনারাই যদি ক্ষমতাসীন সরকারের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে রাজপথে আমাদের গলা টিপে ধরতেই থাকেন, আমাদের বুকের ওপর বুট দিয়ে চেপে ধরতেই থাকে, আমাদের ওপর মুহুর্মুহু গুলি চালাতেই থাকেনÑ তাহলে আপনাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, তীব্র গণআন্দোলনের মুখে আপনাদের আগ্নেয়াস্ত্র আপনাদেরকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে পারবে না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। কোনো স্বৈরশাসকই শেষ শাসক নয়। গ্রামের যে নিরীহ ছেলেটিকে আপনি পিটাচ্ছেন, যে মায়ের বুক থেকে তার প্রিয় সন্তানকে ছিনিয়ে নিচ্ছেন, আল্লাহর কুরআনকে ‘জিহাদী’ বই বলে সেসব রাখার ‘অভিযোগে’ যেসব আল্লাহপ্রেমিককে গ্রেফতার করে ‘জঙ্গি’ তৎপরতা বলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করছেন, যে বাবা-বোন-ভাইয়ের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেনÑ তাদের অভিশাপ থেকে কেউ আপনাদের বাঁচাতে পারবে না। আল্লাহকে ভয় করুন। অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন বন্ধ করুন।
ছাত্র সংবাদ : বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু বলুন।
মো: দেলাওয়ার হোসেন : আজ রাজপথে দলবাজ আওয়ামী পুলিশ আর মানবরূপী ছাত্রলীগ-যুবলীগের হায়েনাদের তাণ্ডব দেখে আপনার চোখের কোনা কি ভিজে ওঠেনি? অঝোর ধারায় নেমে আসেনি কষ্টের অশ্রুধারা? ওরাও তো কোনো না কোনো মমতাময়ী মায়ের নাড়িছেঁড়া ধন, কারো একসাথে চলার ভালোবাসায় সিক্ত প্রিয় সাথী! সহ্য করতে পারছেন কি এই নির্মমতা? দিনের বেলা কারো শরীর থেকে পাঞ্জাবি খুলে নেয়া, কারো গলা দুই হাত দিয়ে টিপে ধরা, কারো বুকের ওপর বুট দিয়ে চেপে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে কি আপনার মানবিকতাও চিৎকার করে ওঠে না? আপনার ঈমানে কি রক্তচ্ছ্বাস তৈরি হয় না? ইসলামপ্রিয় এই যুবকগুলোর ওপর এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দেখে কি আপনি চোখে পানি ধরে রাখতে পারছেন?
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, দীর্ঘ প্রায় ৪ বছরের আগল থেকে মুক্ত হয়ে আমরা যে গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেছি সে আন্দোলনে প্রাণ দিয়ে, পঙ্গুত্ব-অন্ধত্ব বরণ করে, জেল-জুলুম-হুলিয়া, হামলা-গুম, মামলা, রিমান্ড পরোয়া না করে ইতোমধ্যে আমরা ইতিহাসের পাতায় পাতায় লিখে ফেলেছি এই মিছিল ফেরত যাবে না কোনো দিন- হয় বিজয় আনবে, না হয় ফিরবে কফিন। ইতিহাস আমাদের কানে কানে এসে বলছে- সুনিশ্চিত বিজয় দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে আমাদের পানে ছুটে আসছে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here