সুন্দরভাবে কথা বলুন; পারসোনালিটি স্ট্রং । করুন এম.এ. কায়েস

সুন্দরভাবে কথা বলুন; পারসোনালিটি স্ট্রং । করুন এম.এ. কায়েসপা পিছলে গেলে মানুষ মরে না, মুখ পিছলে গেলে অনেকেই মারা যায়! আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সৃষ্টির সেরা জীব বা আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। তিনি মানুষকে দিয়েছেন সবচেয়ে সুন্দর আকৃতি, গঠন ও সৌন্দর্য। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন- ‘অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে!’ (সূরা ত্বীন : ৫)
মানুষকে দেয়া অগণিত নেয়ামতের মধ্যে অন্যতম হলো- কথা বলার শক্তি! কথা বলতে পারা যে কত বড় নেয়ামত তা একজন বোবা লোককে দেখলেই বোঝা যায়! আলহামদুলিল্লাহ্, আমরা ইচ্ছা করলেই মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি। পক্ষান্তরে একজন বোবা লোক শত প্রচেষ্টার পরেও প্রকাশ করতে পারে না সে আসলে কী বোঝাতে চাচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত এ নেয়ামতটিকে ব্যবহার করে একদিকে যেমন বিখ্যাত হওয়া যায়, নাজাতের পথ পাওয়া যায়, জান্নাতের আশা করা যায়, তেমনি কেবলমাত্র এই কথা বলার মাধ্যমেই হিতে বিপরীতটাও ঘটে! জিহ্বাকে ব্যবহার করে বা কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণেই লাঞ্ছিত হতে হয় ইহকালে, শাস্তি পেতে হবে পরকালেও। রাসূল (সা) বলেন, “যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মধ্যবর্তী স্থান (লজ্জাস্থান) হেফাজতের দায়িত্ব নিবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হলাম।” (বুখারি)
অধিকাংশ রোগ নির্ণয় করা হয় জিহ্বা দ্বারা। আর অধিকাংশ ঝামেলাও বাঁধে লম্বা-জিহ্বার (বাড়াবাড়ি) দ্বারা। পক্ষান্তরে অল্প কথা বলা জ্ঞানীর লক্ষণ। চুপ থাকলে আহমককেও অনেক সময় জ্ঞানী মনে হয়। যার মুখে জ্ঞানের লাগাম আছে, লোকে তাকেই নেতা নির্বাচন করতে পছন্দ করে।
শেখ সা’দী বলেন, ‘কথা বলতে পারার জন্য মানুষ জন্তু-জানোয়ার থেকেও শ্রেষ্ঠ। কিন্তু মানুষ যদি কথা ঠিক না বলে, তাহলে সে জানোয়ার থেকে নিকৃষ্ট নয় কি?’
আল্লাহ আমাদের দেহে একটি মাত্র জিভ এবং দু-দুটো কান দিয়েছেন। যাতে আমরা কম করে বলি এবং বেশি করে শুনি। শোনাতে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, আর কথা বলাতে অনুতাপ সৃষ্টি হয়।
কিন্তু অনেক সময়ই ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অজ্ঞতার বশে আমরা আমাদের জিহ্বাকে বিপথে পরিচালিত করি! এই অসাবধাবতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য এবং সুন্দরভাবে কথা বলার জন্য কোরআন হাদিসের আলোকে কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে! যেমন-

কথা বলার আগে সালাম দেয়া
কারও গৃহে প্রবেশের সময় কথা বলার আগে সালাম দেয়া উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করো, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।” (সূরা নূর: ৬১)
রাসূল (সা) বলেন ‘আগে সালাম, পরে কালাম (কথা)।’

সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা
আমাদের প্রতিটি কথাবার্তা ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করছেন। তাই আমাদের সতর্কতার সঙ্গে কথাবার্তা বলা কর্তব্য। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী (ফেরেশতা) রয়েছে।” (সূরা ক্বাফ: ১৮)
নবী (সা) বলেন, “বান্দা নির্বিচারে এমনও কথা বলে, যার দরুন সে পূর্বে ও পশ্চিমে বরাবর স্থান দোজখে পিছলে যায়।” (বুখারি : ৬৪৭৭)
তিনি বলেন, “মানুষ এমনও কথা বলে, যাতে সে কোনো ক্ষতি আছে বলে মনেই করে না; অথচ তার দরুন সে ৭০ বছরের পথ জাহান্নামে অধঃপতিত হয়।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
রাসূল (সা) আরো বলেন, ‘মানুষ সকালে ঘুম হতে ওঠার সময় তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনীতভাবে জিহবাকে বলে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর। আমরা তো তোমার সাথে সম্পৃক্ত। তুমি যদি সোজা পথে দৃঢ় থাক তাহলে আমরাও দৃঢ় থাকতে পারি। আর তুমি যদি বাঁকা পথে যাও তাহলে আমরাও বাঁকা পথে যেতে বাধ্য।’ (মিশকাত: ৪৮৩৮)

সংক্ষিপ্ত ও পয়েন্টভিত্তিক কথা বলা
যে বেশি কথা বলে, তার ভুল বেশি হয়। যার ভুল বেশি হয়, তার লজ্জা কমে যায়। যার লজ্জা কমে যায়, তার সংযম কমে যায়। আর যার সংযম কমে যায়, তার হৃদয় মারা যায়। তাই কথা বলা উচিত সংক্ষিপ্ত ও পয়েন্টভিত্তিক!
হযরত আয়েশা (রা) বলেন, “রাসূল (সা) এমনভাবে কথা বলতেন যে, কোন গণনাকারী গুনতে চাইলে তাঁর কথাগুলি গণনা করতে পারত।” (মুসলিম)

উত্তম কথাবার্তা বলা
মানুষের সঙ্গে উত্তম কথাবার্তার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “মানুষের সঙ্গে উত্তম কথাবার্তা বলবে।” (সূরা বাকারা : ৮৩)

অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা
সফলকাম মোমিনের অন্যতম গুণ হচ্ছে অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “মোমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী, যারা অনর্থক কথাবার্তায় নির্লিপ্ত।” (সূরা মোমিনুন: ১-৩)
রাসূল (সা) বলেন, “মুসলমানের সৌন্দর্য হলো অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা।” (তিরমিজি ২৩১৭)

কণ্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা
আল্লাহ তায়ালা সাহাবিদেরকে (রা) নবীজির (সা) সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মোমিনরা, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সঙ্গে যেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বল, তাঁর সঙ্গে সেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না।’ (সূরা হুজুরাত: ২)

পরনিন্দা না করা
কারও সম্মুখে ও পশ্চাতে পরনিন্দা করা উচিত নয়। যারা এ কাজ করে আল্লাহ তায়ালা তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা ঘোষণা করেন, “প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ।” (সূরা হুমাজাহ: ১)

সঠিক কথা বলা
সবসময় সঠিক কথা বলা উচিত। এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মোমিনরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।” (সূরা আহজাব: ৭০-৭১)

গাধার মতো কর্কশ স্বরে কথা না বলা
কারও সঙ্গে গাধার মতো কর্কশ ও উচ্চৈঃস্বরে কথাবার্তা বলা উচিত নয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।” (সূরা লোকমান : ১৯)

উত্তম কথা বলে শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করা
উত্তম কথার মাধ্যমে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করা যায়। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “সমান নয় ভালো ও মন্দ। মন্দের জওয়াবে তাই বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার সঙ্গে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।” (সূরা হা-মিম সাজদাহ: ৩৪)

কথা ও কাজ এক হওয়া
কথা ও কাজে মিল থাকা জরুরি। এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মোমিনরা! তোমরা যা করো না, তা কেন বল? তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।” (সূরা সফ: ২)

ক্ষমার নীতি অবলম্বন করা
ক্ষমা করা মহৎ গুণ। কেউ ভুল করলে তার সঙ্গে রাগারাগি না করে ক্ষমা করা উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।” (সূরা আরাফ: ১৯৯)

মূর্খ ও অজ্ঞদের সাধ্যমতো এড়িয়ে চলা
মূর্খ লোকেরা তর্ক করতে এলে তাদের সঙ্গে তর্ক করা উচিত নয়। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রকৃত বান্দার গুণাবলি বর্ণনায় বলেন, “রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সঙ্গে যখন মূর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম।” (সূরা ফোরকান: ৬৩)

মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা
মিথ্যা বলা মহাপাপ। তাই আল্লাহ তায়ালা এর জঘন্যতা বোঝানোর জন্য মূর্তিপূজার মতো জঘন্য পাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশের পাশাপাশি মিথ্যা কথা বলা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হজ: ৩)

কথা বলার উদ্দেশ্য হতে হবে উত্তম এবং কল্যাণকর
যদি উত্তম কথা বলার উদ্দেশ্য বজায় রাখতে না পারেন, তবে চুপ থাকাই আপনার জন্য উত্তম এবং চুপ থাকাটাও একটি উত্তম কাজ। বুখারি এবং মুসলিম কর্তৃক সঙ্কলিত একটি হাদীসে রাসূল (সা) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, নয়তো চুপ থাকে।” (বুখারি)

জ্ঞানসীমা ও দক্ষতার নিরিখে কথাবার্তা
জ্ঞানসীমা ও দক্ষতার নিরিখে কথাবার্তা বলা উচিত এবং যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে কথা না বলাই শ্রেয়। আল্লাহ্ বলেন, “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, (অযথা) তার পেছনে পড়ো না।” (সূরা আল-ইসরা: ৩৬)

নিশ্চিত হয়ে কথা বলা
যাচাই-বাছাই ও নিশ্চয়তা ব্যতীত কারো কাছ থেকে কিছু শুনে তা অন্যকে বলে বেড়ানো উচিত না! এমনও তো হতে পারে সে মিথ্যা বলেছে, আর আপনি তাই বলে বেড়াচ্ছেন! হাদিসে রাসূল (সা) আমাদের সতর্ক করেছেন এইভাবে- “কোনো ব্যক্তির জন্য গুনাহ্ করার জন্য এটা যথেষ্ট যে; সে যা শোনে, তাই প্রচার করে।”

অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলা
অপ্রয়োজনীয় তর্ক (যার মুখ্য উদ্দেশ্যই থাকে অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা অন্যের ওপর জয়লাভ করা) জড়িত হওয়া হতে বিরত থাকা। কারণ উদ্দেশ্যহীনভাবে তার্কিক হওয়া বিপথগামিতার লক্ষণ (আমরা আল্লাহর নিকট এর থেকে পানাহ্ চাই)। তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত একটি সহীহ্ হাদীসে রাসূল (সা) আমাদের সতর্ক করেছেন এই বলে, “আল্লাহর পক্ষ হতে হিদায়াত পাওয়া সত্ত্বেও তারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল, কেননা তারা অযথা তর্কে জড়িত হতো।”

সত্য হলেও অযথা তর্ক করা পরিহার করা
অযথা তর্ক করা পরিহার করা উচিত যদিও তা সত্য হয়। ইমাম আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত আরেকটি সহীহ্ হাদীসে রাসূল (সা) বলেন, “আমি সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাত পরিবেষ্টিত একটি গৃহের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে সঠিক হওয়া সত্ত্বেও অকারণ বিতর্কে লিপ্ত হয় না।”

সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল বক্তব্য
সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল বক্তব্য দেয়া এবং বুঝতে অসুবিধা হয় এমন শব্দ ও অপ্রয়োজনীয় বাকপটুতা পরিহার করা উচিত। এছাড়া অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করে কিছু না বলা! কেননা রাসূল (সা) এই ধরনের কথাবার্তা বলা ঘৃণা করতেন। তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসে রাসূল (সা) বলেন, “সেই সকল লোককে আমি চরম ঘৃণা করি ও কিয়ামত দিবসে তারা আমার নিকট হতে সর্বাপেক্ষা দূরে থাকবে, যারা অপ্রয়োজনে কথা বলে ও অন্যদের হেয় প্রতিপন্ন করে এবং কথা বলার সময় যারা লোকপ্রদর্শনী করে।”

কারো কথা বলার সময় তাকে বাধা না দেয়া
কারো কথা বলার সময় তাকে বাধা না দেয়া ও তার বক্তব্য সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শুনতে থাকুন এবং পরবর্তীতে তার বক্তব্যের ভালো ও উপকারী দিক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করতে পারেন, এমন নয় যে আপনি অযথা উদ্দেশ্যহীনভাবে কথা বলবেন।

সুন্দরভাবে কথা বলা ও বিতর্ক করা
সুন্দরভাবে কথা বলা ও বিতর্ক করা; যা কিনা অন্যের প্রতি ক্ষতি, আঘাত, হেয়-প্রতিপন্নতা ও উপহাস প্রদর্শন বর্জিত হয়। এই ধরনের কথা বলা সকল আম্বিয়া-রাসূল কর্তৃক আদেশ করা হয়েছে। মূসা (আ) ও তাঁর ভাই হারূন (আ)কে ফেরাউনের নিকট প্রেরণের সময় আল্লাহ্ বলেছিলেন, “(হেদায়াত পেশ করার সময়) তোমরা তার সাথে নম্রভাবে কথা বলবে, হতে পারে সে তোমাদের উপদেশ কবুল করবে অথবা সে আমায় (ভয়) করবে।” (সূরা ত্বাহা: ৪৪)
“তোমার রবের পথে ডাকো প্রজ্ঞা এবং সুন্দর উপদেশ দ্বারা; এবং বিতর্ক কর উত্তম আচরণ দ্বারা। (সূরা নাহল: ১২৫)

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকে দূরে থাকা
লোকের সামনে নিজেকে পরিপূরক কিংবা সিদ্ধান্তে অটল হিসেবে উপস্থাপন না করা, কেননা এটা ঔদ্ধত্যের ফল যা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে করতে নিষেধ করেছেন সূরা নাজমের ৩২ নং আয়াতের মাধ্যমে; “অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনি ভালো জানেন কে সংযমী।”

মিথ্যা প্রশংসা না করা
সামনাসামনি কাউকে প্রশংসা করা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে তাকে অতি-আত্মবিশ্বাসী করে তোলা হয়। এতে সে সীমালঙ্ঘন করে এমন সব কাজ করতে শুরু করে যেগুলোর যোগ্য সে নয়। এভাবে সে নিজের ওপরও যুলুম করে, অন্যদের ওপরও যুলুম করে। নবীজীর (সা) সামনে একজন আরেকজনকে প্রশংসা করলে তিনি প্রশংসাকারীকে বলেন, “তুমি তো তোমার সঙ্গীর গলা কেটে দিলে।” (বুখারি: ২৫১৯, মুসলিম:৭৬৯৩)
আর সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো শাসকের প্রশংসা করা। সাধারণ মানুষের প্রশংসা করা মানে তার গলা কেটে ফেলা। আর শাসকের প্রশংসা করা মানে উম্মাহর গলা কেটে ফেলা। কারণ এর ফলে শাসক অহঙ্কারী হয়ে ওঠে, নসিহত শুনতে চায় না এবং শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অবিচার করে।

প্রয়োজন ব্যতীত কসম করা হতে বিরত থাকা
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “তোমরা তোমাদের (এমন) শপথের জন্য আল্লাহর নামকে কখনো ঢাল হিসেবে ব্যবহার করো না।” (সুরা বাকারা : ২২৪)
একজন মানুষকে খুব সহজেই চেনা যায় তার কথার মাধ্যমে। মানুষের চরিত্র ফুটে উঠে তার কথার মাধ্যমে। একজন মানুষ কেমন তা খুব সহজেই বুঝা যায় তার কথা বলার ধরন দেখে। তাই মানুষের মানবিক গুণাবলীগুলোকে ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত ও রাসূল (সা) প্রদর্শিত পথে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলে কম কথার মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্বকে ইতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তোলা। এতে নিশ্চিত হবে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি। তাই আসুন, অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলি। এতে মাথা ঠাণ্ডা থাকবে, গুনাহ্ কম হবে, personality স্ট্রং হবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply