স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে -ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

স্বাধীনতা শব্দটি খুব সহজে উচ্চারণ করা যায়। কবিতার ছন্দে-অন্ত্যমিলে স্বাধীনতার আভার চমক সকলেরই ভালো লাগে। স্বাধীনতা মানেই অন্যরকম ফিলিংস। তাইতো প্রতিটি মানুষই চায় স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে। আজ পঞ্চাশ বছর পেরিয়েছে আমাদের স্বপ্নময় স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার লক্ষ্যেই যুদ্ধ করেছি ইংরেজদের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানের জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে। অবশেষে সফল হয়েছি ১৯৭১ সালে। অনেক রক্ত আর ত্যাগ কুরবানির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। স্বাধীনতার এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তাঁদের জন্য আমরা বীর বাঙালি। তাঁরা জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসে অনেক চড়াই উতরাই পার করেছি। গণতন্ত্র এবং ডাল-ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য করে চলেছি লড়াই। ইতোমধ্যে অন্তত অর্ধেক সময় শিশুগণতন্ত্রের সাহচর্য পেয়েছি। বাকি সময় পার করেছি গণতন্ত্রের মুখোশে। দীর্ঘ সময়ের অগণতান্ত্রিক পরিবেশ সত্ত্বেও জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ সত্যের স্বপ্নে এগিয়ে গেছে। এখনো হাজার সমস্যার ভিড়ে আলোর সম্ভাবনা খুঁজে চলেছি আমরা। মানবিকতার চাষবাস করছি বাংলাদেশের শহর-গ্রামে। ইতিবাচক এ ফসলের দাবিদার অনেকেই। স্বপ্নবাজ তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক কর্মপন্থা আমাদের নতুন স্বপ্নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

সাম্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সামাজিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক গোলামি থেকে মুক্তি লাভের জন্যই আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন। এদেশের আপামর জনসাধারণ দীর্ঘ নয় মাসের মরণপণ মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি নুতন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটিয়েছিল এর স্বাদ আস্বাদন করার জন্য। কিন্তু যে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা পিন্ডির গোলামির শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম সে প্রত্যাশা আমাদের কাছে অধরাই থেকে গেছে। গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র জনগণের শাসন। শাসকগোষ্ঠী জবাবদিহিতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে মোটেই গুরুত্ব না দিয়ে তাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্যই গণতান্ত্রিক সকল রীতিনীতি উপেক্ষা করছে। এটা আমাদের স্বাধীনতার জন্য রীতিমতো অশনিসঙ্কেত। মূলত শাসনকার্যে জনগণের সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নেয়া মোটেই সম্ভব নয়।

পঞ্চাশ বছরে আমরা অনেক কিছুই পেয়েছি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে দেশে প্রাথমিক শিক্ষার হার বেড়েছে। সাক্ষরতার হার বেড়েছে। নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। ঝরে পড়ার হার কমেছে। সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বেড়েছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বেড়েছে প্রকৌশল, কৃষি, মেডিক্যাল, বস্ত্র, চামড়া ইত্যাদি শিক্ষার ক্ষেত্রে। কিন্তু এ কথাও সত্য যে, শিক্ষার অবস্থা এতোটাই পশ্চাৎপদ যে, আজ আমাদের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চশিক্ষার মানক্রমে বিশ্বের তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ছাত্র ও শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তিধারী সংগঠন করছেন। ফলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ব্যাপকতর হয়ে পড়ছে। ভাইবোনকে খুন করছে, সহপাঠী সামান্য কারণে বা কখনো অকারণে অপর সহপাঠীকে খুন করছে। অপরিণত বয়সী কিশোর গ্যাং খুনি ও নির্যাতক হয়ে উঠছে। শিক্ষাদর্শ বলতে আর কোনো মূল্যবোধের ছোঁয়াই চোখে পড়ছে না।

সরকার দাবি করেন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। দৃশ্যমান পদ্মাসেতু, প্রশস্তকরণসহ মহাসড়ক সংস্কার, মেট্রোরেল, ট্যানেল, উড়াল সেতু, ওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার, অসংখ্য ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবন, রেল উন্নয়ন, নৌপথ উদ্ধার, নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পুরনো রাস্তা সংস্কার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষানীতি, নারী উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্যনীতি ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণ সমৃদ্ধ হয়েছে। কিন্তু আসলেই কি সাধারণ মানুষের সমৃদ্ধি এসেছে? সাধারণ মানুষের জীবনধারণের অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, সভা-সমিতি করার অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার, ধর্মীয় অধিকার, আইনের অধিকার, চুক্তির অধিকার, ভাষার অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, শিক্ষা লাভের অধিকারসহ সামাজিক অধিকারসমূহ আজ অধিকাংশ মানুষের জীবন ডায়েরি থেকে নির্বাসিত। ভোটাধিকার, প্রার্থী হওয়ার অধিকার, অভিযোগ পেশ করার অধিকার, সমালোচনা করার অধিকার, চাকরি লাভের অধিকার, স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকারসহ রাজনৈতিক অধিকার এখন কারো কারো জন্য নিষিদ্ধ শব্দমালা। কাজের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভের অধিকার, অবকাশ যাপনের অধিকার, সংঘ গঠনের অধিকার, রাষ্ট্রপ্রদত্ত নির্দেশ প্রতিপালনের অধিকারসমূহ এখন ব্যক্তি বিশেষে প্রযোজ্য। সন্দেহ নেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, নানা খাতে এর প্রকাশ। বেকার সমস্যার কারণে তরুণ প্রজন্মের বিশাল একটি অংশ এখন দিশেহারা। পক্ষান্তরে উচ্চবিত্ত ও বিত্তবান শ্রেণির একটি ‘ভার্টিক্যাল’ উন্নতি ঘটেছে, যা পাকিস্তানের কথিত বাইশ পরিবারকে ছাড়িয়ে গেছে। উন্নয়নের চাবিকাঠি এখন ক্ষমতাসীনদের হাতে। তার সাথে ভাগীদার হিসেবে আছে ভাড়াটিয়া সিন্ডিকেট। পর্দা-বালিশ-চেয়ার কেলেঙ্কারি চলমান, অবৈধ টেন্ডারবাজি, ব্যাংক জালিয়াতি ও শেয়ার ধস, সিন্ডিকেট, বিলাসী বিদেশ ভ্রমণ, কমিশন বাণিজ্যের প্রসার এ সকল দুর্নীতি-দূষণ-অনৈতিকতা এখন প্রকাশ্য বিষয়। কিন্তু বলা যাবে না।

আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশে সন্ত্রাসও এখন দুর্নীতির মতোই পাহাড় সমান। ওসি প্রদীপদের ব্যাপক দুর্নীতি ঢাকতে শেষ পরিণতি মেজর সিনহার। বিলম্বিত বিচার ও বিচারহীনতা এখন গণতন্ত্রী রাষ্ট্রের নীতিনৈতিকতায় পরিণত। এক দশক পেরিয়ে গেলেও সাগর-রুনি দম্পতি হত্যার বিচার হয় না। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মেধাবী ছাত্রী তনু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা, নারায়ণগঞ্জে মেধাবী কিশোর ত্বকী হত্যার মতো অনেক ঘটনায় বিচারের বাণী এখন নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিচার ও অন্যায়ের প্রতিকারে উদাসীনতা, পুলিশের তদন্তে গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতা, পুলিশের প্রশ্রয়ে-আশ্রয়ে নীতিহীন ক্যাসিনো পরিচালনা- এসবই এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। পক্ষান্তরে বিরোধী দলের কোন নিরপরাধ ব্যক্তিও বাড়িতে ঘুমানোর সুযোগ পায় না। নৈতিক মূল্যবোধের চাষবাসকারী তরুণরা এখন সরকারের সবচেয়ে বড় টার্গেট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সার্চলাইট দিয়ে খুঁজে খুঁজে বের করা হচ্ছে তাদের।

মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা ও নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। এতো অগ্রগতির মধ্যেও আর্থিক বৈষম্য প্রবল থেকে প্রবলতর হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কল্যাণে আমদানিনীতি উদার হয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি বৃহৎ শিল্পও হুমকির মুখে পড়েছে। ঋণখেলাপির সাথে অবাধ সম্পদ ও কালো টাকা অর্জনের প্রতিযোগিতায় নৈরাজ্য বেড়েছে। সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে এবং গার্মেন্টসশিল্প নির্ভর কর্মসংস্থানের মধ্যেই জীবন সংগ্রামে নিবেদিত। অবস্থা উত্তরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিকে রক্ষা, নারী পুরুষের মজুরি বৈষম্য নিরসন করা, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রফতানি বাড়ানো, দেশজ শিল্পকে সমৃদ্ধ করা, কৃষির আধুনিকায়ন ও বিজ্ঞাননির্ভর সংস্কার করা, সম্পদের অসম বণ্টন রোধ করা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে জালিয়াতি বন্ধ করা, বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসার ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা, মানবসম্পদ পরিকল্পনা করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা, পরিবেশ দূষণ রোধের উদ্যোগ নেয়া এখন সময়ের দাবি।

বিভেদের রাজনীতির কারণে আমরা অনেক পিছিয়েছি। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্র যখন উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হচ্ছে, তখন আমরা নিজেরাই আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছি। আমরা যে প্রত্যাশা নিয়ে গোলামি থেকে মুক্তিলাভের জন্য মরণপণ যুদ্ধ ও বিজয় অর্জন করেছিলাম প্রতিহিংসা ও অপরাজনীতির কারণে এর সুফল আমরা ঘরে তুলতে পারিনি। দেশে আজও গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকশিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুস্থধারার রাজনীতি চর্চার সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার সুফল অর্জন ও তা জনগণের দ্বারে পৌঁছিয়ে দিতে হলে এসব সমস্যার সমাধানে সকলকে বিশেষভাবে সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে। আমরা সবাই দেশের উন্নতি চাই। দেশে কল্যাণকামী সকলকে, সকল রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। কথায় ও কাজে এক হতে হবে। তবেই হবে দেশের উন্নতি, তবেই হবে দেশের কল্যাণ।

তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তি অধিকার আইন এখন আতঙ্কের নাম। মতপ্রকাশেরর স্বাধীনতা এখন নির্ধারিত বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির আধিপত্য আমাদের স্বদেশ জুড়ে। টিভি খুললেই ভিনদেশী চ্যানেলের আধিপত্য। বিনোদন মানেই ভিন্ন ভাষার গান-নাটক-সিনেমা। সংস্কৃতি মানেই অবিশ্বাসী ঘরানার মডেল। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নামে হিন্দি ভাষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে যে ভাষাগত-সাংস্কৃতিক কালোথাবা আমাদের উপর পড়েছে তা উদ্ধারের কোন বিকল্প নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এ থাবায় অনেকাংশেই পঙ্গু হয়ে গেছে। সেখানকার শিশুরা এখন আর বাংলাভাষা বলতেই পারে না বলা চলে। বাংলাভাষার জন্য এখন সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত করতে পারে একমাত্র বাংলাদেশই। কিন্তু বাংলাদেশে যেভাবে ডোরেমন, মটুপাতলু আর শিবার মতো হাজারো আগ্রাসন চলছে তাতে শিশুরা বাংলার চেয়ে হিন্দিতেই বেশি পারদর্শী হয়ে উঠছে। হিন্দি গান ও সিনেমার কবলে বাংলাদেশের যুবসমাজও আটকে গেছে বলা চলে। হিন্দি ও পশ্চিম বাংলার সিরিয়ালে নারীদের মনমস্তিষ্ক আটকে যাবার কারণে পরবর্তী প্রজন্ম তাদের কাছে ঐতিহ্যের কোনো শিক্ষা পাচ্ছে না।

মূল্যবোধসম্পন্ন জাতিগঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষাপদ্ধতি বড় ধরনের ভূমিকা পালনে সক্ষম। বাংলাদেশের শিক্ষানীতি আমাদের সে দিক থেকে পুরোদমে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বরং সেই কাজটির আঞ্জাম দিতে পারিবারিক প্রয়াস এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের শহর, নগর, গ্রাম-গঞ্জের বাড়ি-ঘর, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সর্বত্র ব্যক্তি উদ্যোগে দ্বীন শিক্ষার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। তরুণরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে চলেছে। অন্ধকারময় পথ মাড়িয়ে আলোর সন্ধানে এ ধরনের কাজকে আরো সমৃদ্ধ পরিসরে এগিয়ে নিতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করেছি। এটি আমাদের অনেক বড় একটি সফলতা। কিন্তু সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো এখনো সোনার হরিণের মতো অধরাই থেকে গেছে। স্বাধীনতার পরবর্তী প্রতিটা জাতীয় বাজেটে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্ব প্রদান করা হলেও পরিস্থিতির অবনতি ছাড়া উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়নি। জনসংখ্যা বেড়েছে। বাজেটের আকার বেড়েছে। যেসব খাতের ব্যয় বরাদ্দ বাড়লে জনগণের মুক্তিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতো তার প্রতিটা খাতে শতাংশের হারে ব্যয় বৃদ্ধি তো ঘটেইনি বরং দিনে দিনে শতাংশ হারে কমে গিয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে জীবন সংগ্রামে পরাজিতবোধের লক্ষণ ফুটে উঠছে। তাইতো বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খতিয়ান নিতে গেলে স্বীকার করতে হয় উন্নয়ন ঠিকই ঘটেছে, তবে তা শ্রেণিবিশেষকে ঘিরে।

‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’-এর ‘গণ’ তার খুদকুঁড়ো পেয়েই মনে হয় সন্তুষ্ট থাকছে বা সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হচ্ছে। রাষ্ট্রটির বয়স এখন পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। অর্থাৎ মধ্য বয়স। সময়টা নেহাত কম নয়। তবু গর্বভরে বলতে পারছি না (কবির ভাষায়) ‘মধ্য বয়সী, তবু তনু তোমার আশ্বিন আলো ছড়ায় আমার মনে।’ এর কারণ একটাই। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি তথা ইতি ও নেতির তুলনায় নেতির ভার বেশি।”
তাই গণতান্ত্রিক উন্মুক্ত আকাশে বিচরণ করার অধিকার প্রদান এখন সময়ের দাবি। হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ, হয়রানিমূলক মামলা থেকে জনগণকে মুক্ত করে বিভেদের রাজনীতি থেকে ফিরে এসে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ার প্রয়াস থাকলেই উন্নয়নের রোডম্যাপে এগিয়ে যাবে আমাদের বাংলাদেশ। এ ধরনের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে আরো বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকায় এগিয়ে যেতে হবে।

লেখক : কবি ও গবেষক; প্রফেসর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply