স ম্পা দ কী য়

দীর্ঘ এক মাস সিয়ামের সংযম শেষে ঈদের শুভাগমন আনন্দের নতুন বার্তা নিয়ে আসে। বিশ্বের দেড়শত কোটিরও বেশি মুসলমান একই বিশ্বাস ও বিধানের অনুসারী হওয়ায় সাংস্কৃতিক একই মূল ধারায় বিশ্বাস করে। ধনী-গরিব বিত্তবান-বিত্তহীন সাদা-কালো সকল ব্যবধান ঘুচিয়ে সাম্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ঈদের ভূমিকা অনন্য। ভৌগোলিক সীমানার প্রাচীর মুসলমানদের ভালোবাসায় বিভক্তি ধরাতে পারে না। একই স্রােতে প্রবাহিত এ ভালোবাসা চারদিক ভরে তুলে আনন্দ-কোলাহলে ভ্রাতৃত্ব ও প্রেমের সৌরভ বিতরণে। এই আনন্দ ইবাদতকেন্দ্রিক ধারণাপ্রসূত এক পবিত্র আমেজ, যা অন্য কোনো বিনোদন সংস্কৃতি থেকে আশা করা যায় না। পবিত্র কুরআনের হক যথাযথভাবে পালন করে মুসলমানরা যদি তথাকথিত অনুষ্ঠান সর্বস্বতা থেকে মুক্ত থাকে এবং ঈদ সংস্কৃতিকে শরিয়াহ নির্দেশিত পন্থায় পরিচালনা করে তবে ঈদ ভাস্বর হয়ে উঠবে আপন মহিমায়। বয়ে আনবে জীবনে অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির সোনালি সিঁড়ি। রমাদানের পরে আরবি বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়াল। রমাদানের পর এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা রক্ষায় খুবই কল্যাণকর ও আল্লাহ পাকের কুদরত এবং নৈকট্য লাভে ধন্য হওয়ার উপযোগী। এ মাসে ছয়টি নফল রোজা রয়েছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাময়। মহান আল্লাহ আমাদের রমাদানের শিক্ষা গ্রহণ করে সারাটি বছর সঠিকভাবে আমল করার তাওফিক দান করুন।

দেশে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য এত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সারাদেশে এখন নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। তার ওপর বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, গ্যাস বিল/ সিলিন্ডার খরচ, গাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা খরচ, বিভিন্ন সেবা প্রাত্যহিক নানা খরচসহ জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট সব খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ। এই নাজুক পরিস্থিতিতে মানুষের আয় না বাড়ায় দুর্যোগ ও দুর্ভোগ এখন চরমে। এ বিষয়ে সরকার মহলের সুদৃষ্টি তো নেই বরং কুৎসিত মন্তব্য, অযৌক্তিক এবং হাস্যকর নানাবিধ কথা জনসাধারণের হৃদয়কে করে ব্যথিত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ধকল সুন্দরভাবে কাটিয়ে ওঠার চিন্তা না করে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন করে গুম, গ্রেফতার ও ক্রসফায়ার শুরু করেছে। গত ৯ এপ্রিল ইফতারের পূর্বে রাজশাহী কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ মাস্টার্সের ছাত্র মিজানুর রহমান মিজানকে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। প্রায় পাঁচ দিন পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। অপরদিকে গত ২৪ মার্চ মধ্যরাতে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানার ধুপখোলা এলাকায় একটি মেস থেকে শিবির সন্দেহে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থীকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ৩০ মার্চ-২০২২ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের উপর দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর ঠুনকো অভিযোগ এনে তাদেরকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিনাভোটের সরকারের দালালি করা কতটুকু যৌক্তিক তা এখন প্রশ্নসাপেক্ষ ব্যাপার। ছাত্রদের প্রতি সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন, প্রশাসনের একপেশে আচরণ বাংলাদেশ সংবিধান ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী কাজ। সুতরাং স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দেশের আপামর জনতাকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সকল ধরনের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।

SHARE

Leave a Reply