স ম্পা দ কী য়

ফিলিস্তিন- নির্যাতন নিপীড়নে জর্জরিত একটি ক্ষতবিক্ষত রাষ্ট্র। অসভ্য পরগাছা ইহুদিদের হিংস্র থাবায় মানবতা যেখানে লাঞ্ছিত। ক্লাস্টার বোমার ঝাঁজালো গন্ধে আল-কুদসের পবিত্র আকাশে মেঘের কান্না। ইসলামের ঐতিহ্য ও মুসলমানদের পুণ্যভূমি ফিলিস্তিনকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে সরিয়ে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি মসজিদুল আকসাকে নির্মূল করাই আসলে ইহুদিদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু মুসলমানরা রক্ত দিতে জানে; জীবন দিতে জানে তবু আল্লাহর দুশমনদের কাছে নতি স্বীকার করতে জানে না। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিবিজড়িত মিরাজ ও অসংখ্য আম্বিয়ায়ে কেরামের কেন্দ্রভূমি এই মসজিদ। এর সাথে জড়িয়ে আছে আবেগ, প্রীতি, ঐতিহ্য এবং শেকড়ের টান। পৃথিবীর বরকতময় দেশ ফিলিস্তিনের জেরুসালেম শহরে অবস্থিত মুসলমানদের প্রথম কিবলা খ্যাত এই পবিত্র ভূমি, যা জাতি-বর্ণ উপেক্ষা করে সবার কাছে প্রাণের স্পন্দন। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালিয়েও ঠাণ্ডা হয়নি জায়নবাদীদের কলিজা। গত রমজানের তারাবিহ ও ঈদের নামাজ যেন ওদের কাছে ইবলিসের চেয়েও বেশি বেদনার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাইতো অসভ্যতার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়তেও দ্বিধা করেনি ওরা। নিষ্পাপ শিশুদের লাশের মিছিলে ওরা রক্ত দেখে আনন্দ পায়। তাদের আনন্দের বিপরীতে ফিলিস্তিনি বীর যোদ্ধারা চূড়ান্ত বিজয়ের আনন্দে আল্লাহর পথে সংগ্রামে লিপ্ত। এই সংগ্রাম মুসলিমদের বিশ^ব্যাপী পুনরায় বিজয়ের চেতনা শেখায়। দুনিয়ার সকল জুলুমতন্ত্রের অবসানের এ যেন সূত্রপাত। এই জুলুমের মদদদাতাদের হেদায়েত কামনা ও মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার আশা করছি।

মিশর- ঐতিহ্যের সূতিকাগার; সভ্যতার জননী। বিশ্বের আলোচিত ঘটনার নির্মোহ সাক্ষী আরব বসন্তের দেশ। ‘ইখওয়ান’ এই জনপদের গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্দোলন যা ইসলামের সোনালি সমাজ কায়েমের সংগ্রামে নিবেদিত। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও শত শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে দলটি। কিন্তু মুসলমানদের শত্রু জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ইখওয়ান নেতা ড. মুহাম্মদ মুরসি ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক সহযোগী মার্কিন ডেমোক্র্যাট ব্লকে ‘ইসরাইল সংক্রান্ত’ পলিসির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি। যার খেসারত দিতে হয় কড়ায়-গণ্ডায়। একটি ক্ষমতাসীন দলকে নিশ্চিহ্ন ও হাজার হাজার নেতা-কর্মীর ফাঁসির পাশাপাশি মুরসির শাহাদাতকেও নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় তারা। ২০১৯ সালের ১৮ জুন মুহাম্মদ মুরসির ফাঁসি বিশ্ববিবেকের জন্য এক অশনিসঙ্কেত। আরব বিশে^র মুসলিমদের বিবেক জাগানোর আন্দোলন ইখওয়ানের পুনরুত্থান কামনা করছি মহান আল্লাহর কাছে। সেই সাথে সারা বিশ্বের সকল ইসলামী আন্দোলনকে একাট্টা হতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি মনে করছি। সবুজ বাংলাদেশের অসহায় নর-নারীদের বাঁচাতে আমরা যারা চিন্তা করি, সময় ও শ্রম দিয়ে যাচ্ছি, তাদের ঐক্য এই উপমহাদেশে ইসলামের পুনর্জাগরণে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ। আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।

অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ছাত্রসমাজ। যারা আসলে নতুন বাংলাদেশের কারিগর। বাংলাদেশ সরকার সম্ভবত এই সম্ভাবনার কারিগরদের ব্যতিরেকে বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছে। তা না-হলে মহামারী করোনায় সকল কিসিমের প্রতিষ্ঠান এবং জীবনযাত্রার সকল ক্ষেত্র চলমান রাখলেও ছাত্রসমাজকে নিয়ে ভাবছে না। করোনার যত প্রকোপ, সব যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একমাত্র দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের জাতিবিধ্বংসী এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমাজের সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও তেমন কোনো প্রতিবাদ জানাচ্ছেন না। এ এক আজব ঘটনা। জেনে শুনে নিজ পরিবার কিংবা আশপাশে বেড়ে ওঠা ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের ক্ষতিকে মাথা পেতে নেওয়া যেন জায়েজ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সকল ছাত্রসংগঠন এবং সকল মহলের দায়িত্ববান ব্যক্তিদের প্রতি আহবান; আসুন, ক্ষয়িষ্ণু এই সমাজব্যবস্থা বাঁচাতে আগামী প্রজন্মকে গড়ার ক্ষেত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সংগ্রামে নামি। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই দাবির পক্ষে কণ্ঠ উচ্চকিত না করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম এই জনপদের পিছিয়ে পড়ার খেসারত যুগ যুগ ধরে নয় বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী গুনতে হতে পারে।

SHARE

Leave a Reply