৭১তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস গর্জন এবং অর্জন -অধ্যক্ষ ডা. মিজানুর রহমান

মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার নিয়ামকের ওপর যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে মানবাধিকার বা Human rights। মানবাধিকার কথাটি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিকট অতি পরিচিত ও তাৎপর্যবহ একটি শব্দ। এ শব্দের দু’টি অংশ Human-মানব অপরটি rights-অধিকার।

বিশে^ প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গৃহীত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের আদর্শ ও দর্শন পরবর্তীকালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে বিস্তারিতভাবে সন্নিবেশিত ও কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার দিবস হিসেবে সারা বিশে^ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিবন্ধনকৃত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জাতীয় সদর দফতর ঢাকাসহ প্রতিটি বিভাগে জেলা-উপজেলায় দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিপালন করে থাকে। র‌্যালি, মানববন্ধন, আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, পোস্টার প্রদর্শনী, রক্তদান কর্মসূচি, স্মরণিকা প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি প্রতিপালন করা হচ্ছে। সেই সাথে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্র্রনিক মিডিয়াতে প্রচার হচ্ছে মানবাধিকার বিষয়ক লেখা ও অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- “The Republic Shall be a democracy in which fundamental human rights and freedoms and respect for the dignity and worth of the human person shall be guaranteed, and in which effective participation by the people through their elected representatives in administration at all level shall be ensured-” অর্থাৎ ‘প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে, এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে’। আমাদের দেশের সরকারও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। কিন্তু সংবিধানের ধারায় বর্ণিত বিধান অনুযায়ী আমাদের দেশে বর্তমানে গণতন্ত্রের আবরণে চলছে একদলীয় স্বৈরতন্ত্র। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা কিতাবে আছে বাস্তবে নেই। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। এক মেরুতে সরকার পক্ষ এবং আরেক মেরুতে বিরোধী দল। দুয়ের মাঝে মনে প্রাণে বড় টান কিন্তু মাঝে বহু ব্যবধান। এই ব্যবধানই মানবাধিকার পৃষ্টিত হওয়ার প্রধান কারণ।

সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, আইনের শাসন, শ্রমের মর্যাদা, সুশিক্ষা, নাগরিক সচেতনতা, কর্তব্যবোধ, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সভ্যতা, জননিরাপত্তা, খাদ্যনিরাপত্তা, নিরপেক্ষতা, মানবতাবোধ, মানবাধিকার, স্বাধীনতাসহ নানাবিধ বিষয়ে মূল্যবোধ সমুন্নত হলে বুঝতে হবে সে দেশের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো সুদৃঢ়। এমন মজবুত রাষ্ট্রকেই গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র বলা যেতে পারে। একদিকে গণতন্ত্র অপরদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন একসাথে চলতে পারে না। উপরে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যহীন রাষ্ট্র যতই গণতন্ত্রের তর্জন-গর্জন করুক না কেন তা হবে বুমেরাং। কোথায় আছে গর্জনের চেয়ে অর্জন বড়। কাজেই গণতন্ত্রের তর্জন-গর্জনের চেয়ে মানবাধিকার অর্জনের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মূলত সামাজিক মূল্যবোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও মানবাধিকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রোল মডেল। এর ব্যত্যয় ঘটলে কাগুজে গণতন্ত্রের পক্ষাঘাত ঘটে রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দিতে পারে, সুশাসনের পরিবর্তে দুঃশাসনের চর্চা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হলো- সরকারি কাজে দক্ষতা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, বৈধ চুক্তির প্রয়োগ, জবাবদিহিতামূলক সুশাসন, স্বাধীন সরকারি নিরীক্ষক, আইন সভার কাছে জবাবদিহিতা, আইন ও মানবাধিকার সংরক্ষণ, বহুমুখী সাংগঠনিক কাঠামো এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ তাদের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন দেখতে পায়। তাদের চাহিদা ও ভোগাধিকার প্রাপ্ত হন। সুশাসনের ফলে সামাজিক সাম্য, নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক সমাজ এবং স্থিতিশীল কল্যাণ রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব হয় এবং টেকসই হয়।

গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত সুশাসন এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রচার যতটা তুঙ্গে ততটা বাস্তবে নেই। দুর্নীতি, সুশাসন ও সরকারি ব্যয় এই তিনটি বিষয়ে এখনও বাংলাদেশের যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করেন প্রধান প্রধান দাতা সংস্থাগুলো। তারা বলছেন- বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। কিন্তু এর পরের ধাপে বাংলাদেশকে যেতে হলে এবং সে উন্নয়ন টেকসই করতে হলে শক্ত হাতে দুর্নীতি দমন করাই হবে প্রথম কাজ। এজন্য বিভিন্ন খাতে সুশাসন ও সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে আর্থিক খাতে সুশাসন খুবই জরুরি। এজন্য সবার আগে সরকার এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো যৌথ প্রচেষ্টায় দুর্নীতি দমনসহ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্নীতি দূর করে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ মুখ থুবড়ে পড়বে।

বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ পূর্বের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয়। উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হলে সর্বক্ষেত্রে মান নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি এবং সুশীলসমাজ একযোগে দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে কাজ করতে হবে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন চাই ঝাং বলেন- দুর্নীতি দমন, সরকারি ব্যয় ও সুশাসনে বাংলাদেশের এখনও যথেষ্ট দুর্বলতা আছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব দুর্বলতা দূর করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিথিয়াও ফান বলেন- বাংলাদেশ দ্রুত এগুচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় বৈষম্য বাড়ছে। এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বিনিয়োগ দরকার। আমাদের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সুশাসন। গণতন্ত্রকে সসংহত করতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন।

এদেশের গণতন্ত্রকামী মেহনতি মানুষ সুশাসন ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণেই পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং সবশেষে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে ৯ মাস যুদ্ধ করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র কায়েম করতে সক্ষম হয়। সুশাসন এবং গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। সুশাসন বলতে আমরা এও বুঝি যে, রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে দেশের যেকোন দুর্যোগে, বিপদে সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণের মানসিকতা বজায় রাখা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের দেশের সমাজের যেদিকেই তাকাই আইনের শাসন তো নাই? যেখানে মানুষকে তুলে নেয়া হয় আর খুঁজে পাওয়া যায় না, সেখানে মানবাধিকার কতটা আছে, তা নিয়ে তো প্রশ্ন করাই যায়? এটা যে খুব একটা উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজ নয়, সেটা তো যে-কোনো সাধারণ মানুষই বলবে? মানুষের যে মর্যাদা, তা আইনের শাসন এবং মানবাধিকার রক্ষার মাধ্যমে সমুন্নত রাখতে হবে? সেই মর্যাদাই তো প্রশ্নের মুখে? মানুষের মৌলিক অধিকারের সামষ্টিক রূপ হলো মানবাধিকার।

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা লাভের পাশাপাশি ন্যায়বিচার, প্রাপ্তির অধিকার, নাগরিক সুবিধাপ্রাপ্তির অধিকার, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র সমাজকে শাসন করার অধিকার একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের জনগণের। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া মৌলিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। সেইসাথে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন এবং মানবাধিকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য বিষয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে নিরাপত্তা রাষ্ট্রের গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী মতের মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। গুম ও অপহরণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক গত ১৫ অক্টোবর ২০১১ সালে আমার দেশ পত্রিকায় আয়োজিত মানবাধিকারের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন- মানবাধিকার শুধু লিপিবদ্ধ কিছু অধিকার নয়, মানবাধিকার হচ্ছে মানুষে মানুষে বৈষম্যহীন জীবন। সর্বক্ষেত্রে, সর্ববিষয়ে, সর্বজনস্বীকৃত একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ভ্রাতৃত্ববোধসম্পন্ন আচরণ করাই হচ্ছে মানবাধিকার।

আদালতের কাজ হচ্ছে মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার সুরক্ষা করা। আদালত যদি কারও প্রতি ন্যায়বিচার করতে না পারে, সেটাও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। আদালতের কাজই হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষা করা। কিন্তু আজ আদালতেও মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মামলা নিয়ে উচ্চ আদালতের ভূমিকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিচারের ক্ষেত্রে সবাই সমান। কোন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ভেদাভেদ আইনে নেই। আদালতেও সেটা থাকার কথা নয়, কিন্তু দুর্ভাগ্য ইদানীং আমাদের দেশের আদালতে বিচারেও বৈষম্য দেখা যায়।

রাষ্ট্র দার্শনিক ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক, ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান ঐ একই সংখ্যায় উল্লেখ করেন- মানবাধিকার সব মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার সর্বত্রই বিবেচ্য। এ সহজাত অধিকার সভ্য যুগে আইন দ্বারা স্বীকৃত হলেও সম্পদ এবং ক্ষমতাকে ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ক্ষমতা বা শক্তি প্রয়োগের ঘটনা কখনও রাজনৈতিক, গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ে ঘটছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, ইরাক, আফগানিস্তান বা ইসরাইলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম অবস্থা বিরাজ করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের তোয়াক্কা না করে পৃথিবীর বহু দেশে সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার-এর বিপরীতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। জাতিসংঘ দুঃখ প্রকাশ ও বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। মোটকথা বিশে^র বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কজনক অবস্থা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশের বয়স ৪৭ বছর হলেও এদেশের উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট আইন প্রণীত হয়নি। ১৯৭৮ সালে প্রথম আইন করার বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এরপর এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালতের পাশাপাশি সংসদ ও আইন কমিশন থেকে বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য তাগিদ দিলেও তা কার্যকর করা হয়নি। উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন করার জন্য সাংবিধানিক নির্দেশনা থাকলেও বিগত ৪০ বছরেও তা কার্যকর হয়নি।

২০১৪ সালে প্রথম আইন তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার, তবে বিগত চার বছরেও আইনটির খসড়া চূড়ান্ত হয়নি। এ অবস্থায় আইন ছাড়াই আবার উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বিচারপতি নিয়োগে আইন না করার জন্য রাজনৈতিক সরকারগুলোকেই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সংবিধানের রচয়িতা বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন।

সাবেক বিচারপতি এম. আমিরুল ইসলাম বলেন- সরকারে যখন যে দলই থাকুক না কেন- তারা চায় তাদের প্রশাসনে যেন তাদের প্রাধান্য থাকে। কোন রাজনৈতিক সরকারই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় না। সে কারণেই বিচারপতি নিয়োগের নীতিমালা হচ্ছে না। তথ্য মতে জানা যায় স্বাধীনতার পর ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো বিচারপতি নিয়োগে গাইড লাইন দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তাও কালের বিবর্তনে চাপা পড়ে যায়।

শুধু তাই নয় দেশের সর্বস্তরের বিভিন্ন পেশাজীবী মুসলমান জনগণ তাঁদের এলাকার যে মসজিদগুলোতে সালাত আদায় করেন সেসব মসজিদের ইমাম নিয়োগের বিষয়েও আজ অবধি সরকারি কোন নীতিমালা নেই। এ থেকেই বুঝা যায় দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি। কাজেই বলা যায় মানবাধিকার প্রশ্নে দেশের ক্ষমতাসীন সরকার কিংবা আমলা শ্রেণি যতই তর্জন গর্জন করুক না কেন শেষ কথা হলো গর্জনের চেয়ে অর্জন বড় কথা।

লেখক : প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply