post

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন হত্যা রহস্যের অন্তরালে রহস্য

এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের ইচ্ছা ছিল শিক্ষক হওয়ার। শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার পাঠ শেখাতে চেয়েছিল। অত্যন্ত মেধাবী ফারদিনকে এজন্য পরিবারের সবাই খুব আদর করতেন। বুয়েটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ছিল সে। ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য রিভারাইন’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। ফারদিনের মা ফারহানা ইয়াসমিন গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার নয়ামাটি এলাকায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ফারদিন। তার মেজো ভাই আব্দুল্লাহ নূর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। ছোট ভাই তামিম নূর এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পরিবারের তেমন উপার্জন না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর কোচিং করিয়ে বাড়িতে খরচের টাকা পাঠাতো ফারদিন। 

গত ৪ নভেম্বর ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। কোনো খোঁজ না পেয়ে গত ৫ নভেম্বর সাধারণ ডায়েরি করে তার পরিবারের সদস্যরা। ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিন নূর পরশের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ফারদিনের ময়নাতদন্ত হয়। পরে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ ফরহাদ সাংবাদিকদের জানান-ফারদিন নূর পরশকে হত্যা করা হয়েছে। তিন সদস্যের চিকিৎসক দলের প্রধান বলেন, “নিহতের মাথা ও বুকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিন দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ওই ছাত্র। এটি হত্যাকাণ্ড বলেই ময়নাতদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।”

বুয়েটে জানাজা : ফারদিন নূর ওরফে পরশ ক্যাম্পাসে ফিরলেও সশরীরে নয়, বরং লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে চেপে ফিরেছে। অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় বন্ধুকে চিরবিদায় জানিয়েছে সহপাঠীরা। বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে হত্যার প্রতিবাদে এবং দ্রুত তদন্তের দাবিতে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে ফারদিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে বুয়েটে তার সহপাঠীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিত বিবৃতি পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট যে, এটা একটা হত্যাকাণ্ড। আমরা বুয়েট শিক্ষার্থীরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে প্রশাসন এবং মিডিয়াসহ সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। ফারদিন ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত মেধাবী এবং নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ ছিলেন।


রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ‘ফারদিনের মোবাইল ফোনের লোকেশন চেক করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। কে ওই ফোন বহন করেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।’ র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘অন্যান্য বাহিনীর মতো র‌্যাবও ফারদিনের মৃত্যু রহস্য বের করতে কাজ করছে।’


বান্ধবীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ : রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিকুল বলেন, ‘বুয়েটের শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় আমরা বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এর মধ্যে তার বান্ধবী বুশরা, যাকে রামপুরা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে নামিয়ে দিয়েছিল ৪ নভেম্বর রাতে। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী বুশরাকে মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করে পুলিশ। বুশরাকে তার রামপুরার বাসা থেকে গ্রেফতার করে রামপুরা থানা পুলিশের একটি দল। ১০ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা বাদি হয়ে রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বান্ধবী বুশরাসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে ১০ নভেম্বর হাজির করা হয় বুশরাকে। পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে রামপুরা থানা পুলিশ। আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে বুশরাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আতাউল্লাহ বুশরার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ১০ নভেম্বর বেলা পৌনে ২টায় রাজধানীর রাজারবাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশকে (২৪) হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনার দিন ফারদিনকে বিভিন্ন লোকেশনে পাওয়া গেছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ফারদিন আত্মহত্যা করেছে- দাবি ডিবির : ফারদিন নূর পরশকে হত্যা করা হয়নি; বরং সে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি। হারুন অর রশীদ বলেন, বিভিন্ন আলামত পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যাচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়নি, আত্মহত্যা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

ডিবির বক্তব্যের প্রতিবাদে বুয়েটে সমাবেশের ডাক ও ডিবি কার্যালয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীরা : বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ ডেমরা এলাকায় সেতু থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব। দু’টি সংস্থা গতকাল ১৪ ডিসেম্বর আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায়। এরপর কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ডিবি পুলিশ তাদের মামলার তদন্ত প্রমাণ দেখে তারপর কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানায়। সেই অনুরোধ রাখতে ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টার কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে ফারদিন নূরের আত্মহত্যার ‘তথ্য-প্রমাণ’ দেখতে রাজধানীর মিন্টো রোডে সংস্থাটির কার্যালয়ে যান একদল শিক্ষার্থী। 

ফারদিনের বাবার বক্তব্য : ফারদিন ডেমরা এলাকায় সেতু থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব। দু’টি সংস্থা ১৪ ডিসেম্বর আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায়। তবে এতে একমত পোষণ করেননি ফারদিনের বাবা। বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ফারদিনের বাবা বলেছেন, ‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি, তাকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। পুলিশের এই তদন্ত আমি বিশ্বাস করি না।’ পরিবারের দেওয়া কোনো তথ্য প্রমাণ আমলে নেয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই ফারদিন আত্মহত্যা করতে পারে না।

ডিবি-র‌্যাবের পরস্পরবিরোধী তথ্যে তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ : র‌্যাব ও ডিবি মিডিয়াতে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে ফারদিনের মৃত্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে শুধু বিভ্রান্তিই তৈরি করেনি, মৃত্যুর তদন্তকেও করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। 

ফারদিনের মৃত্যুর পর র‌্যাব দাবি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে আর ডিবি জানায় যে সে আত্মহত্যা করেছে। র‌্যাব দাবি করে ফারদিন তার বাসা চনপাড়া বা তার আশপাশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। অন্য দিকে, ডিবি দাবি করে তিনি চনপাড়ায় ওই রাতে যাননি।

ফারদিনের মৃত্যুর কিছুদিন পর র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার মঈন জানিয়েছিলেন যে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে তারা শনাক্ত করেছেন, যাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হত্যায় ৮ থেকে ১০ জন অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং হত্যার মোটিভ জানার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি বলেছেন। এমন কোনো তথ্য ডিবির তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানান ডিবি প্রধান হারুন।

দুই সংস্থার ‘ভিন্ন তথ্য’ সম্পর্কে সাবেক আইজিপির মন্তব্য : একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিষয়ে এমন ভিন্ন-ভিন্ন তথ্যে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে সমাধান কী জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফারদিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল তদন্ত সংস্থা ডিবি। এ ঘটনায় তাদের জবাবদিহিতা বেশি। আর এই ঘটনায় র‌্যাব ছায়াতদন্ত করতেই পারে। কিন্তু তাদের সেই তদন্ত রিপোর্ট মিডিয়াতে না আনাই ভালো। তিনি বলেন, ‘ডিবি হোক আর র‌্যাব হোক, কেউ পয়েন্ট নেওয়ার জন্য সব মিডিয়াতে দেবে; এটা ঠিক না। কোনও ঘটনার একটা গ্রহণযোগ্য অগ্রগতি হবে, তখন সেটা মিডিয়াতে আসবে। এ ছাড়া মিডিয়ায় বলতে হবে আমরা তদন্ত করছি, কোনও গ্রহণযোগ্য তথ্য পেলে জানাবো। তা না হলে এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।’

ফারদিন হত্যা প্রতিবেদন পিছিয়ে ১৫ জানুয়ারি : ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। ১২ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্ত ইসলাম মল্লিক প্রতিবেদন দাখিলের এই দিন ধার্য করেন। এদিন মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) খিলগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মজিবুর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তাই বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ দিন ঠিক করেন।

দেশের সর্বোচ্চ প্রকৌশল বিদ্যাপীঠে অধ্যয়নের জন্য শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবক দীর্ঘদিনের অপেক্ষা লালন করে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই দেশের উজ্জ্বল নাগরিক বেরিয়ে আসে এক-একজন প্রকৌশলী। যারা ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরে, নেতৃত্ব দেয়। বড় বড় আবিষ্কার, নির্মাণ, স্থাপনার নকশা কত কী করে। আজকের যে বাংলাদেশের যান্ত্রিক, অযান্ত্রিক নির্মাণ, অবকাঠামোগত স্থাপনা তার মূলে রয়েছে এ দেশের মেধাবীদের চিন্তা, চেতনা, যা বুয়েটের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসে।

ফারদিন সম্পর্কে বাবা, পরিজন ও স্বজন যা বলছে, তাতে বোঝা যায় যে, ফারদিন পড়াশোনা ও ডিবেট নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে। কদিনের মধ্যেই তার আন্তর্জাতিক ডিবেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের কথা ছিল। পরিবার বলছে, আবরার হত্যাকাণ্ডের পর ফারদিন বুয়েট হোস্টেলে থাকতে চাইত না। বাসায় থেকেই পড়াশোনা করেছে। ব্যক্তি যা প্রত্যক্ষ করে, জানতে পারে সেই অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করে। ব্যক্তি নিজেকে নিরাপদ রাখতে চায়, নিরাপদ থাকতে চায়, এটি ব্যক্তির সহজাত ও মৌলিক প্রত্যাশা। খুব স্বাভাবিকভাবে আবরার হত্যাকাণ্ড অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মনে ভীতির জন্ম দিয়েছে। অভিভাবক ও তাদের সন্তানরা ভীত হয়েছে। 

এমনকি নৃশংস আবরার হত্যাকাণ্ডের পর অনেক অভিভাবক তার সন্তানকে বুয়েটে পড়তে দিতে চাননি, উপরন্তু দ্বিধাান্বিত হয়ে পড়ে যা দেশের জন্য এক দুঃসংবাদ বৈকি! প্রচলিত রাজনীতির বেপরোয়া আচরণ আবরারের জীবন প্রকাশ্যে কেড়ে নিয়েছে। শিক্ষার্থীর জীবনাবসান মানেই একটি সম্ভাবনার মৃত্যু। জন্মের মতো মৃত্যু একটা নিশ্চিত বিষয়। কিন্তু জীবনাবসান যদি স্বাভাবিক না হয়ে অস্বাভাবিক হয়, অর্থাৎ হত্যাকাণ্ড হয়, তাহলে তা হয় অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত এবং ভীতির। কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডই মেনে নেওয়া যায় না। 

সমাজে হত্যাকাণ্ড সহজ একটি কাজে পরিণত হলে, আদতে কেউই নিরাপদ নয় বলে মানতে হবে। যিনি এমন পরিস্থিতির শিকার হননি, তিনি যদি ভেবে বসেন, তিনি নিরাপদ, তাহলে তা হবে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। ফারদিনকে যে বা যারা হত্যা করে থাকুক, তা ইতঃপূর্বে সমাজে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা, পরিণাম। হত্যাকাণ্ডের মতন জঘন্যতম অপরাধের বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত এবং দৃশ্যমান করা না গেলে হত্যাকাণ্ড, খুন চলবেই। খুন ও হত্যা বন্ধের জন্য আইনের সুশাসন ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া দরকার। আশা করছি, গোয়েন্দা বিভাগ ফারদিনের মূল হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। পরিশেষে বলব, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও আন্তরিক হতে হবে, শক্ত অবস্থান নিতে হবে, যেন অপরাধীরা ভীত হয়, নতুন অপরাধ সংঘটিত না হয়, আর ফারদিনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা অকালে ঝরে না যায়।

লেখক : প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির