post

সরকার তাদের স্বার্থে ২৮ অক্টোবরের ধারা পরবর্তীতেও জিইয়ে রেখেছে

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

০৬ অক্টোবর ২০২৩

বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন ও রাজনীতিতে এক অনন্য নাম অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর। বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সততা, যোগ্যতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তিনি ১৯৫৫ সালের পহেলা জানুয়ারি রাজশাহী জেলার অন্তর্গত পদ্মা নদীর ধারে চর আলাতুলি গ্রামে একটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এলাকার বিশিষ্ট সমাজকর্মী। তিনি দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি। 

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা মায়ের কাছেই গ্রহণ করেন। আলাতুলি প্রাইমারি স্কুল সমাপ্ত করে গোদাগাড়ী হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭০ সালে গোদাগাড়ী হাইস্কুল থেকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি সমাপ্ত করেন। ছাত্র জীবন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সরকারি চাকরির জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও ইসলামী আন্দোলনের স্বার্থে বিসিএস ক্যাডারের চাকরি সেক্রিফাইস করেন। এছাড়া তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মডার্ন অ্যারাবিক সার্টিফিকেট কোর্সে প্রথম বিভাগে ও মডার্ন পারসিয়ান সার্টিফিকেট কোর্সে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থানসহ উত্তীর্ণ হন। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অবস্থা জানতে চেয়ে মাসিক প্রেরণা তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। প্রেরণা পাঠকদের উদ্দেশে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো।


ছাত্রসংবাদ : আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ- মুহতারাম আমীরে জামায়াত, আপনি কেমন আছেন?

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ্। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহতাআলার  মেহেরবানিতে ভালো আছি। 


ছাত্রসংবাদ : দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : আসলে বাংলাদেশের অবস্থা অনিশ্চিত বলতে হবে। বাংলাদেশ যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন এর স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল- স্যোসাল জাস্টিস কায়েম হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত হবে। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং দেশের মানুষকে সুখে শান্তিতে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। দল-মত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার থাকবে। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবিধানিক দিক থেকে এর কোনোটাই সঠিকভাবে মানুষ ভোগ করতে পারছে না। গণতন্ত্র- এটার জন্যই লড়াই করা হয়েছিল প্রথমত। আজকে সেটা নেই। প্রথমে গণতন্ত্র ছিল না, লড়াই করে এটা আনার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপরে দেখা গেল যারাই গণতন্ত্র নিয়ে আসছে তারাই বাকশাল কায়েম করে সব দলকে নিষিদ্ধ করে দিলো। ৪টা পত্রিকা ছাড়া সকল পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হলো। মানুষের কথা বলার অধিকারই থাকলো না। আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে যে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ফলে গণতন্ত্র আবার ফিরে এলো, অতঃপর ভোট-মেজরিটি নিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কেয়ারটেকারের যে বিধান সংবিধানে ছিল, তা বাদ দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা করলো। বলতে গেলে তারা দেশটাকে কুক্ষিগত করে ফেলেছে। জনগণের কোনো অধিকার তারা স্বীকার করে না। কথা বলার অধিকার নেই। মানুষের বেঁচে থাকারও অধিকার নেই। এভাবে মানুষকে খুন করা হলো, কেন খুন করা হলো তাও বলে না। ফলে সঠিক বিচারও পাওয়া যায় না। গুম করা হচ্ছে- পরিবার মনে করছে তার প্রিয় মানুষটি ফিরে আসবে। কিন্তু না! এখন পর্যন্ত ফিরে আসলো না। সে কী বেঁচে আছে না মারা গেছে; কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তারা বলতে চায়- যদি বেঁচে থাকে তাহলে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক অথবা জেলখানায় থাকুক, তবুও আমরা নিজেদেরকে বুঝ দিতে পারবো যে, আমাদের প্রিয়জন বেঁচে আছে। আর যদি মারা যায়, তাহলে অন্তত তার কবরটা আমাদেরকে দেখিয়ে দিলে কবরে গিয়ে একটু দুআ তো করতে পারবো। খুবই মর্মান্তিক অবস্থা। মানে মৌলিক মানবাধিকার বাংলাদেশে নেই। খুবই দুঃখজনক অবস্থায় বাংলাদেশে চলছে। আর সব থেকে বড় ব্যাপার জিনিসপত্রের দাম এত বেড়েছে যে, মানুষ চিন্তাই করতে পারে না যে তারা কিভাবে বেঁচে থাকবে। জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। শ্রমিক মানুষ যারা, তারা এক-আধবেলা খেয়ে কোনোরকম জীবন বাঁচাচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা এত খারাপ হয়েছে- এখানে এখন কোনো আইনও নেই, শৃঙ্খলাও নেই। সরকারের ইচ্ছাটাই হয়েছে এখন আইন। বিষয়টা হয়েছে এমন যে, মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ। এভাবেই দেশটাকে তারা চালাচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, জেলা প্রশাসক বলছে যে নৌকায় ভোট দাও। প্রশাসনের লোক যেখানে নিরপেক্ষতা রেখে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, দেখা যাচ্ছে তারাই দলীয়ভাবে অন্ধ হয়ে এসব কাজ করছে। জনগণ এসব থেকে অব্যাহতি পেতে চায়। মানুষ দেখতে চায়- সত্যিকার জনগণের সরকার কায়েম হয়েছে। মানুষ চায়- এই সরকারকে বাদ দিয়ে একটা নির্বাচিত কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচিত একটা নিরপেক্ষ সরকার দেশে আসুক, যারা জনমতের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং জনগণের ব্যথা বেদনা ও দুঃখগুলো বুঝবে। এখন তো সেটা নেই। সেজন্য বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা মোটেও কোনো দিক দিয়ে ভালো আছে বলে কেউ মনে করতে পারছে না। 


ছাত্রসংবাদ : আমেরিকার স্যাংশনকে কীভাবে দেখেন?

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত :  কোনো একটা দেশ কাউকে স্যাংশন দেবে, এটা তো কাম্য হতে পারে না। 

পৃথিবীর সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে, ঘোরাফেরা করবে- আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো। ঘোরাফেরা করো। দেশ-বিদেশে যাও। আর দেখো মিথ্যাবাদীদের পরিণাম কী হয়েছিল।’ (সূরা আনআম : ১১)।

এটা কিন্তু আল্লাহই বলেছেন। কিন্তু কেউ যদি কোনো দেশকে স্যাংশন দেয়, তাহলে তো যাওয়া যাচ্ছে না। কাজটা খারাপ। এই কাজটা কোনো দেশের জন্য সম্মানজনক নয়, অপমানজনক। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকা যে স্যাংশনটা দিলো-  কেন দিলো? এটুকু একটু বোঝা দরকার। বাংলাদেশে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই।  সুবিচার নেই। বিচারের নামে অবিচার হচ্ছে। জুডিশিয়াল কিলিং করা হচ্ছে। আমাদের আমীরে জামায়াত মাওলানা নিজামীসহ নেতৃবৃন্দকে কথিত যে বিচারটা করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানের তো নয়-ই, বরং তা মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার এক নিকৃষ্ট আয়োজন। বিচারের নামে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছিল। This is Called Judicial Killing.

এখন এসব বিষয়ের বিরুদ্ধে, বা যারা মানবাধিকার পছন্দ করে, ন্যায়বিচারের পক্ষে, যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক চায়, যারা free, fair, and credible election তখন তারা যেসব দেশ এসব করছে না, সেসব দেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। কথা না শুনলে পরে গিয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। খুব সম্ভবত আমেরিকা বর্তমান সরকারের আইন ও মানবাধিকার বিরোধী, সংবিধান বিরোধী এসব কার্যক্রম পছন্দ করছে না। তাই তারা এসব অগণতান্ত্রিক-অমানবিক আচরণ গুলোর জন্যই স্যাংশন দিয়েছে বলে মানুষ মনে করছে। তারা দিয়েছে তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে। যদিও এটা অপমানজনক, তবে এর জন্য সরকার দায়ী। সরকার যদি এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতো, তাহলে এই স্যাংশনটা আসতো না বাংলাদেশে। অনেকের মতে এই স্যাংশনটা আওয়ামী লীগের উপযোগী ছিল। এই সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত এক পদক্ষেপ ছিল বলে অনেকেই মনে করে। সে জন্য অপমানজনক হলেও মানুষ ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য এটা মেনে নিয়েছে।

ছাত্রসংবাদ : আটাশে অক্টোবর নিয়ে আপনার স্মৃতি থেকে কিছু কথা শুনতে চাই

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : আসলে বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। আমার মনে পড়ে সে সময়, ঢাকা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে আমাদের জনসভা ছিল। সে জন্য আগেই আমরা ঢাকা মহানগরের অফিসে গিয়েছিলাম। অনেকে আগের রাতেই গিয়েছিল। সকাল হতেই দেখা গেল যে, আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠাধারী বহুলোক জমায়েত হয়েছে, তাদের একটা ম্যাসাকার করার পরিকল্পনা আছে বলে আমাদের কানে আসলো। 

আমরা পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলেও সরকার তখন সেই পরিস্থিতি ট্যাকল দেওয়ার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। নিলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্নরকম হতো। আওয়ামী লীগ তাদের নৌকার প্রতীক চালানোর লগি-বৈঠা নিয়ে সারা ঢাকায়, বিভিন্ন হোটেলে, জিরো পয়েন্টে জড়ো হলো। বিভিন্ন অগ্নায়াস্ত্রও সাথে নিয়ে জড়ো হলো। 

আমরা সকালের একটু পরেই গিয়ে দেখলাম পুলিশ সব চুপচাপ। কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম আমাদের শফিকুল ইসলাম মাসুদ একজন ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় অফিসে নিয়ে আসছে। তখনই একপাক্ষিক মারামারি শুরু হয়ে গেছে। তাদের হাতে লাঠিসোটা, শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক লগি-বৈঠা আর আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে একে একে জামায়াতে ইসলামী এবং  ছাত্রশিবিরের ভাইদেরকে আহত করা হচ্ছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কাছে কোনো লাঠিসোটা বা আগ্নেয়াস্ত্র কিছুই ছিল না। তাদের আনতেও বলা হয়নি। আর তারা এসবে অভ্যস্তও নয়, বিশ্বাসীও নয়।

যখন সমাবেশ শুরু হয়, তখনও তারা গুলি করে, বোমা হামলা করে। কিছুক্ষণ পর পর শোনা যাচ্ছিল কেউ একজন নিহত হয়েছে। চিৎকার গোলাগুলি তো চলছেই। আরো কিছু পরে জানা গেল কিছু লোককে তারা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটাতে পিটাতে প্রায় মেরেই ফেলেছে। মারছে তো মারছেই, মেরে লাশের ওপর উঠেও নাচানাচি করেছে। এমন ভয়াবহ অমানবিকতা- মানুষকে পিটিয়ে মারার পরও লাশের ওপর উঠে নাচানাচি করার চিত্র পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ কখনো দেখেছে কিনা, আমার জানা নেই। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, তা একটা লোমহর্ষক, অবর্ণনীয়, যা বলার মতো ভাষা আমার জানা নেই।

আওয়ামী লীগের হিংস্র বাহিনী, যারা লগি-বৈঠা দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পিটিয়ে মারলো- তারা একটা প্লট তৈরি করলো, একটা স্পট তৈরি করলো, যার পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক শাসন আসলো। দেখা যাচ্ছে এটা পরিকল্পিত একটা ঘটনা। যেমন পরিকল্পিত স্কাইপি কেলেঙ্কারির ঘটনা। এই যে তখন সামরিক শাসক হিসেবে যারা আসলো, তাদের সাথে চুক্তি করে ঘটনা সৃষ্টি করা, এর মাধ্যমে তাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া। আবার তাদের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতা দখল করা, এটা আমার কাছে মনে হয়েছে একই সূত্রে গাঁথা একটা ইতিহাস। 


ছাত্রসংবাদ : বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আটাশে অক্টোবর নিয়ে আপনার মতামত কী?

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : আসলে আটাশে অক্টোবর তো একটা হিংস্র রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশে এই হিংস্র রাজনীতির আমদানি করছে আওয়ামী লীগই। বাংলাদেশ হওয়ার পরও আমরা দেখি তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। বামপন্থীদের ওপর নির্যাতন করেছে। তাদের বহু লোককে আওয়ামী লীগ হত্যা করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে যাদেরকেই তারা অপছন্দ করেছে, তাদেরকেই তারা হত্যা করেছে।

২৮ অক্টোবরের যে হিংস্র রাজনীতি, মানুষ খুনের রাজনীতি, এই রাজনীতি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই আমদানি করেছে। এমনকি আমি বলবো যে, এটা শুরু করেছে তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানকে তারা নিজেরাই হত্যা করেছে। হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে ক্ষমতার মসনদে গিয়েছে। লাশ ফেলে রেখে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে। ক্ষমতার মোহ আওয়ামী লীগকে সব সময়ই অন্ধ করে রেখেছে। এবং এর পরবর্তী পর্যায়ে যে হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, এটা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হয়েছে বা চলেছে।

পরবর্তী পর্যায়ে আমরা এটিকে বন্ধ করার জন্য কেয়ারটেকার সরকার এনেছি, যাতে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে কেউ মারামারি না করে। মানুষ খুন যাতে না হয়। খুনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল যাতে না হয়। এক নম্বর ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রপতি। তারা নিহত হবেন তারপরে আরেকজন ক্ষমতায় আসবে- এই যে জঘন্য সিস্টেমটা, এটা কারো কাম্য হতে পারে না। বিশেষ করে যারা ইসলামী আন্দোলন করে তারা এটাকে জঘন্যভাবে ঘৃণা করে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলছেন- পৃথিবীতে কোনো একটা মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, গোটা পৃথিবীবাসীকে হত্যা করার শামিল। কুরআন মাজিদে এরকম একটা আয়াত আছে যে, “যারা একটা মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলো সে যেন গোটা পৃথিবীবাসীকে হত্যা করলো।” (সূরা মায়েদা : ৩২)। এটা অনেক বড় একটা অপরাধ।

আমি একটু আগেই বলেছি, বাংলাদেশে খুনের রাজনীতি সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগই। ২৮ শে অক্টোবরে লগি-বৈঠা এটা নিয়েই মানুষ খুন করেই এখন তারা ক্ষমতায় আছে। আগামী দিনেও যে ক্ষমতায় যাবে, সেটাও দেখা যাচ্ছে তারা এভাবেই যেতে চায়। পত্রিকায় দেখলাম তুরস্ক থেকে রবার বুলেট আমদানি করছে। পুলিশের মাধ্যমে বিরোধী দলকে ঘায়েল করার জন্য জন্যই এটাকে এমন সময় আমদানি করা হচ্ছে- যখন সামনে জাতীয় নির্বাচন।  বিরোধী দলকে ঘায়েল করার জন্য পুলিশ, র‌্যাব এবং ডিসি এসপি টিএনও এমনকি বিচারক হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছে সমস্ত ঘাদানিক টাইপের লোকদের। চিকিৎসা জগতেও এমন সব ডাক্তার নিয়োগ দিচ্ছে, যারা ঘাদানিক মানে মানুষকে হত্যা করার পলিসিতে যারা বিশ্বাস করে। আল্লামা সাঈদী রহ.কে চিকিৎসার সময়ে যা দেখলাম- এমন একটা ডাক্তারকে তারা চিকিৎসার জন্য দায়িত্ব দিলো যে কিনা দাবি করেছিল সাঈদীর ফাঁসি চাই। আসলে আওয়ামী লীগ এমন লোকদের নিয়ে রাজনীতি করছে, যারা পরিকল্পিতভাবে মানুষকে হত্যা করে এবং এদের নিয়েই ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে তারা। বিরোধী দলকে দমন করার জন্য এ ধরনের লোককেই তারা ব্যবহার করছে। 


ছাত্রসংবাদ : আটাশে অক্টোবর পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন আপনি?

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : এটা আগের প্রশ্নের জবাবেই কিছুটা এসে গেছে। ২৮ অক্টোবরে যে একটা অন্যায় তারা করলো এর বিচার হওয়া উচি ছিল। জাজ্বল্যমান প্রমাণ আছে- কারা মানুষকে হত্যা করলো, কারা লগি-  বৈঠা দিয়ে পেটালো; কে পেটালো কাকে পেটালো সব দেখা যায়, কিন্তু এর কোনো বিচার হয়নি। আদালতে আইনের কাছে নেয়া হয়েছিল, মামলাও করা হয়েছিল; কিন্তু এই সরকার মামলাটিকে বাতিল করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের এবং তাদের দলের লোকদের মধ্যে এমন একটা মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে যে, মানুষকে মারলেও বিচার করা যাবে না। যার পরবর্তী এফেক্টটা হচ্ছে মানুষ মেরেই যাচ্ছে কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। উল্টো যারা মারছে তাদেরকে জামিন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের খুনিকে দলীয় বিবেচনায় একেবারে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ক্ষমা করে দেওয়া হচ্ছে।

একটা অন্যায় করার পরে যদি অন্যায়টাকে বিচারের মাধ্যমে যদি যারা অন্যায়কারী তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয় তাহলেই কিন্তু দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। মানে একটা কথা আছে না যে, যারা ভালো কাজ করবে তারা পুরস্কৃত হবে আর যারা খারাপ কাজ করবে তারা শাস্তি পাবে। এটাই হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকারের দাবি। কিন্তু এই সরকার এখানে এই কাজটা করছে না। যারা অন্যায় করে তারা শাস্তি পাচ্ছে না, বরং যারা মজলুম তাদেরকেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দেখি একটা মানুষকে তারা নিজেরাই মারলো। আসামি করলো কাদেরকে- বিরোধী দলের লোকজনকে। কত বড় জুলুম হতে পারে এটা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যায়কারীর শাস্তি হলেই তো মজলুম তার অধিকার ফিরে পাবে। 

মানুষকে খুন করা, হত্যা করা, পঙ্গু করা, গুম করার যে রাজনীতি- এটা তারা পরবর্তীতেও অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতার মোহে। ক্ষমতার এই অবৈধ মোহের জন্যই বিরোধী দলসহ দেশের জনগণের দাবি কেয়ারটেকার সরকার তারা মানতে রাজি হচ্ছে না। জনগণ যাতে একটু আরামের সাথে বসবাস করতে পারে সে ব্যাপারেও তারা অগ্রসর হচ্ছে না। তারা অতীতের পথেই চলতে চায়। এবং আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে যারা এই সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী একটি দেশ- তারা একেবারে উলঙ্গভাবে তাদের সমর্থন করছে এই জন্য যে, এই শেখ হাসিনার সরকার টিকে থাকলে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ হবে। অন্য কেউ আসলে এটা হবে না। যার ফলে অন্য কারো ক্ষমতায় আসাকে তারা ভালো চোখে দেখছে না। পত্র-পত্রিকায়ও বিষয়টি এসে গেছে। আমিও এটা ওপেন বলে ফেলেছি।  

এসব কারণেই এ সরকার তাদের স্বার্থে ২৮শে অক্টোবরের ধারা পরবর্তীতেও জিইয়ে রেখেছে, সামনেও কিছু জিইয়ে রাখবে বলে তাদের আচরণে বোঝা যাচ্ছে। তবে আমরা মাঠের সকল বিরোধীদল মিলে চেষ্টা করছি যাতে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয় এবং জনগণের সরকার কায়েম হয়, জনগণ যেন তাদের অধিকার ফিরে পায়। আল্লাহতাআলা যদি কবুল করেন আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করি তাহলে হয়তো পরিবর্তন আসতে পারে। আল্লাহ বলেছেন- “কোনো জাতি অবস্থার পরিবর্তন আল্লাহ তায়ালা করেন না যতক্ষণ না সে জাতি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করে।” (সূরা রা’দ: ১১)। আমরাসহ সকল বিরোধী দল সরকারের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করছে। আমরা আশাবাদী- ভালো আন্দোলন এবং গণবিস্ফোরণ ও গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ অবৈধ সরকারের পরিবর্তন হবে। আমরা জনগণকে আহ্বান করছি- আসুন আমরা সবাই মিলে এই জালিম ও ফ্যাসিবাদী সরকারকে, যারা মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ধারে কাছেও নেই বরং মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদেরকে সরিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচিত সরকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, মানুষ যাতে একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে শামিল হন। 

আমি দুই একটা কথা বলি তাহলে আরও সুন্দর হবে। সেটা হলো যে ছাত্রলীগের ছেলেরা কোনো অন্যায় করলে সে অন্যায়টাকে অন্যায় মনে করা হয় না। ধর্ষণের সেঞ্চুরি করলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের এক ছাত্র- তার কি বিচার হয়েছে? না! তার বিচার হয়নি। যারা ধর্ষক তাদেরকে বিদেশে পার করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। 

কোনো প্রতিষ্ঠান তারা দখলমুক্ত রাখেনি। যেগুলো ছিল সেগুলো গায়ের জোরে তারা নিয়ে নিচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক জনগণের ব্যাংক। টাকা কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের না। সাধারণ মানুষের টাকা। লক্ষ লক্ষ-কোটি কোটি টাকা কিভাবে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে চুরি করালো দেশের মানুষ তার সাক্ষী। যে ব্যাংকটা ছিল এক নম্বর ব্যাংক, আদর্শ ব্যাংক, নামকরা ব্যাংক, পৃথিবীতে নাম করেছিল ইসলামী ব্যাংক। অথচ সেটাকে আজকে কোন জায়গায় নিয়ে গেছে! শুধু ইসলামী ব্যাংকই না, আজকে মানুষ একটা ভালো প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে পারছে না। চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় নাম করছিল সেই ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়কে জোর করে দখল করে নিলো। আবার মানারাত বিশ^বিদ্যালয়ও অবৈধভাবে দখল করে নিলো।

আসলে সারা দুনিয়াতেই এখন জুলুমতন্ত্র চলছে। এরাও জুলুমের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছে। এই জুলুমতন্ত্রের পরেই খিলাফতে আলা মিনহাজিন নুবুওয়্যাহ তথা নবুওয়্যাতের আদলে খিলাফত ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। ইসলামী আইন আবার চালু হবে। আবার মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। ইনশাআল্লাহ সেদিন খুব বেশি দূরে নয় কাছেই আছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই দিনের জন্য কাজ করে যাওয়ার তৌফিক দান করুন। 


ছাত্রসংবাদ : যদি আটাশে অক্টোবর না ঘটতো, অথবা আওয়ামী লীগের এমন বর্বরতা ঠেকানো যেত- তাহলে বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় থাকতো বলে মনে করেন?

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : আটাশে অক্টোবর গণতন্ত্র, সুশাসন ও মৌলিক মানবাধিকারকে ধ্বংস করার দিন। আটাশে অক্টোবর আসলে পরিকল্পিতভাবেই তারা করেছে তো, তাই ঠেকিয়ে দেওয়া যায়নি। এটা সংঘটিত না হলে মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, ভোট ও অধিকার এভাবে নস্যাৎ হতো না। বাংলাদেশ সকল দিক থেকেই উন্নতি করতো। এভাবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে চালু হতো না।


ছাত্রসংবাদ : ডেঙ্গুর প্রকোপে কয়দিন আগেই একজন বাবার দু’জন সন্তান, তথা একই পরিবারের দু’জন ভাইবোন আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই যে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, বিষয়টা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতাকে আপনি কিভাবে দেখেন? 

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : কুরআন মাজিদে আছে আল্লাহ তাআলা যেকোনো বিপদ পরীক্ষার জন্য দেন। আবার মানুষের পাপের কারণেও বিপদ-আপদ হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা পাপ থেকে সরে আসার জন্য মাঝে মাঝে একটু পরীক্ষা করেন। ডেঙ্গু এক ধরনের পরীক্ষা। আমি মনে করি যে এখান থেকেও শিক্ষণীয় বিষয় আছে। আবার এটা হওয়ার কারণও আছে। অপরিষ্কার থাকলে তো এটা হবেই। পানি পচে থাকে বিভিন্ন জায়গায় মশা তৈরি হয়, সুতরাং এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও জনসচেতনতা দরকার ছিল। মশা নিধনের জন্য সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির কারণে এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে এসব পরিবেশ তৈরি হয় এবং সেখানে মশা তৈরি হয়। মশার কারণেই ডেঙ্গুর প্রকোপটা বাড়ছে। আগের চেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেজন্য এটা সরকারের ব্যর্থতাও দায়ী। তারা এই কাজগুলো ঠিকমতো করলে এটা হতো না। এগুলোর জন্য যে মানের চিকিৎসা হওয়া দরকার, যেভাবে হাসপাতালগুলোতে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার; এখন পর্যন্ত সরকার পর্যাপ্তভাবে সেটা নিচ্ছে না। এজন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে। মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর সেই সাথে সাথে আল্লাহর আইনের দিকে মানুষকে ফিরে আসতে হবে। বড় আজাব দেওয়ার আগে ছোট আজাব দিয়ে আল্লাহ তায়ালা শিক্ষা দিতে চান। এটা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় হলো, আমাদের জীবনকে ভালো করতে হবে, আমাদের শিক্ষা নিতে হবে আমরা অন্যায় করবো না, চুরি করবো না, জেনা করবো না, অবিচার করবো না। এ সমস্ত অন্যায়-অবিচারের কারণেই কিন্তু বালা-মুসিবত আসে, এটা কিন্তু হাদিসের বক্তব্য। এক নম্বর সরকারের ব্যর্থতা। দুই নম্বর জনগণের অসচেতনতা। তিন নম্বর জনগণের অপরাধপ্রবণতা, মানুষ ভয়াবহভাবে পাপে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া সরকার জনগণের স্বার্থ বড় করে দেখে না। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে সরকারকে দলীয় স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যায় থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে। একবার করোনার মতো ভয়াবহ একটা বিপদ ছিল, আল্লাহ দয়া করে আমাদের কিছুটা হলেও নাজাত দিয়েছেন। এখন ডেঙ্গুর একটা বড় প্রকোপ চলছে। এর থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতা অর্জন করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সরকারও অচিরেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। তাহলে আমরা এর থেকে বাঁচতে পারবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন। 


ছাত্রসংবাদ : বাংলাদেশের মানুষের জানমাল, ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে জামায়াতে ইসলামীর পদক্ষেপ জানতে চাই।

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নৈতিকতা নির্ভর ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক একটি সার্বজনীন ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য তার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। লোক তৈরি জনমত তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছে। কুরআন-সুন্নাহর আইন অনুযায়ী ছেলেদের, যুবকদের, ছাত্রদের চরিত্র তৈরি করার জন্য, আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। আমরা বিশ্বাস করি মানুষের তৈরি করা আইন ক্ষতি। এটায় ভুল আছে। আর আল্লাহর আইনে কোনো ভুল নেই। আল্লাহর আইন যদি চালু হয় তাহলে নির্ভুল আইন চালু হবে। মানুষ সুখ শান্তি পাবে। আল্লাহর আইন এবং সৎ লোকের শাসন; এটাই হচ্ছে একমাত্র রেমিডি। এই রেমিডি করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। 

এছাড়া সৎ মানুষ ছাড়া, সোনার মানুষ ছাড়া সোনার বাংলাদেশ গড়া যায় না। অমরা সেই সোনার মানুষ তৈরির কাজ অব্যাহত রাখছি। মানুষকে তার অধিকার ও কর্তব্য সচেতন করছি। আর এ পথে জামায়াতে ইলসামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সীমাহীন ত্যাগের নজরানা পেশ করতে হয়েছে। যা এদেশে অন্য কোনো দল বা সংগঠনকে দিতে হয়নি। ১২ জন শীর্ষ দায়িত্বশীলসহ অসংখ্য ভাই-বোনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলকে সর্বোচ্চ মর্যাদার শহীদ হিসেবে কবুল করুন। অসংখ্য সহকর্মীকে পঙ্গু করা হয়েছে। হাজার হাজার মিথ্যা মামলার জালে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ওপর জুলুম করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় আমাদের বর্তমান আমীরে জামায়াতকেও বন্দী করে রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, রাষ্ট্রের সর্বশক্তি নিয়োগ করে জনগণের মুক্তির এই কাফেলাকে শেষ করে দেওয়া। আল্লাহ তাআলার হাজারো শুকরিয়া তাদের সকল প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে এবং আগামীতেও ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ! কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে ন্যায় এবং ইনসাফপূর্ণ সার্বজনীন একটি আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে তোলার পথে স্বৈরশাসন প্রধান বাধা। মহান আল্লাহ তাআলার একান্ত সাহায্য এবং  জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আপামর কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতাকে সঙ্গী করে দেশ গড়ার কর্মসূচি জামায়াত অব্যাহত রেখেছে, এবং তা চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ।


ছাত্রসংবাদ : একটি আদর্শ ইনসাফপূর্ণ ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে নিজেদের প্রস্তুত করতে ছাত্রসমাজের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

ভারপ্রাপ্ত আমীরে জামায়াত : আল্লাহর রাসূল সা. সাত শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহ তাআলা আরশের ছায়া দান করবেন। তার ভেতরে একটা শ্রেণি হচ্ছে- ওই সমস্ত যুবক, যারা তাদের যৌবন আল্লাহর আইন মেনে চলে আল্লাহর ইবাদাতের মাধ্যমে কাটিয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ যারা ইসলামকে জীবনাদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের প্রতি আমার আহ্বান হলো- হাদিস অনুযায়ী তোমরা সবাই রাসূল সা.-এর এই সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা যদি যৌবনকে আল্লাহর ইবাদাতে কাটাতে পারো, তাহলে আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। এটা একটা অনেক বড় সুসংবাদ আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে। সেজন্য নিজেদেরকে তৈরি করো। যেমন এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা, কুরআন অর্থসহ বুঝে বুঝে পড়া, এবং কুরআন-হাদিসের বাণী অনুযায়ী চরিত্র গড়ে তোলা। পিতা-মাতার কথা মেনে চলা, তাদের সাথে সুসম্পর্ক করা, মানুষের প্রতি দয়া এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা রাখা। আরো বৃহৎ পরিসরে বেশি বেশি দাওয়াতি কাজ করা। সময়কে কাজে লাগানো। আল্লাহর ভয়কে ধারণ করা। দ্বীন মেনে চলা। আল্লাহর ইবাদাতে নিয়োজিত থাকা।

আল্লাহ তায়ালা বৃদ্ধ বয়সের চাইতে যুবক বয়সের ইবাদতকে বেশি পছন্দ করেন। আল্লাহ নিজের কাজের জন্য যে শ্রেণিটা বাছাই করেন- তা বৃদ্ধও না আবার ছোটও না। এমন শ্রেণিটা হচ্ছে ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ। এই সমাজ যদি জেগে যায় ইনশাআল্লাহ ইনসাফপূর্ণ একটা ইসলামী সমাজ খুব দ্রুতই প্রতিষ্ঠা পাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির