post

আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস ও বর্তমানে এর উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য করণীয়

ড. মুহা. রফিকুল ইসলাম

০৯ জানুয়ারি ২০২৪

আলিয়া মাদরাসা যে উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করুক না কেন পরবর্তীকালে বাংলাদেশে এর প্রয়োজন অত্যন্ত অনিবার্য হয়ে পড়ে। এ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝে সেতুবন্ধ করতে পারে। দুনিয়ার কর্মের মাধ্যমে আখিরাত অর্জন করতে হবে- এ বোধ যতটা আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়, বাংলাদেশে চলমান অন্যান্য শিক্ষার মাধ্যমে তা করা যায় না। এজন্য খুব সংক্ষেপে এ শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস ও সমকালীন প্রয়োজনটা জানা খুবই জরুরি।

ভারতবর্ষে মাদরাসা শিক্ষার সূচনা হয় ৭১১ সালে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের পরপরই। সিন্ধু বিজয়ের হাত ধরে ভারতে মাদরাসা শিক্ষা বা ইসলামী শিক্ষার যাত্রা শুরু হলেও প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয় এরও বেশ কিছুকাল পর। ১৭৮০ সালে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের (১৭৩২-১৮১৮ সালে) অনুমোদনক্রমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক শিক্ষার সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা আলিয়া মাদরাসা। অতঃপর ১৮৫৪ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজি শিক্ষার নতুন ধারা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। আর উপমহাদেশের প্রথম কওমি মাদরাসা দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৬ সালে। 

ইংরেজদের অসৎ উদ্দেশ্য

এ জেড এম শামসুল আলম লিখেছেন : ‘ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮০ সালে কলকাতা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা প্রবর্তনের উদ্দেশ্য কী ছিল তা আলিয়া মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ইয়াকুব শরীফ “আলিয়া মাদরাসার ইতিহাস” বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, ‘মুসলমানরা ছিল বীরের জাতি, ইংরেজ বেনিয়ারা ছলে-বলে-কৌশলে তাদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাদের প্রচলিত ধর্ম, শিক্ষা ও মর্যাদা হরণ করার জন্য পদে পদে যেসব ষড়যন্ত্র আরোপ করেছিল, আলিয়া মাদরাসা তারই একটি ফসল। বাহির থেকে যদিও মনে হয় এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা করা হয়েছিল আলাদা জাতি হিসাবে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের নিমিত্তে, যাতে মুসলমানদের ধর্ম, কৃষ্টি ও আদর্শ রক্ষা পায়। বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়াই ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য।’ এর প্রমাণ হচ্ছে মুসলমানদের ধর্ম শেখানোর জন্য কলকাতা আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হলেও এ মাদরাসার মুসলিম অধ্যক্ষ ছিলেন মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ১৪৭ বছর পর ১৯২৭ সালে নিযুক্ত শামসুল উলামা কামালুদ্দিন আহমদ। এর আগে প্রথম অধ্যক্ষ ড. এ স্পেনজার থেকে আলেকজান্ডার হেমিলটন হার্লি পর্যন্ত ২৫ জন খ্রিস্টান ইংরেজ অধ্যক্ষ ছিলেন। তারাই এর যাবতীয় সিলেবাস-কারিকুলাম নিয়ন্ত্রণ করতেন। ১৭৮০ সাল থেকে অনুসৃত মাদরাসার সিলেবাস থেকে হাদিস ও তাফসির বাদ দেয় অতঃপর ১১৮ বছর পর ১৯০৮ সালে কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় হাদিস ও তাফসির শিক্ষা চালু করা হয় এবং সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে নাম দেয়া হয় টাইটেল।

তাদের ধোঁকার শিকার মুসলিম জাতি

আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে ক্ষতি করল তা হলো ব্রিটিশ পণ্ডিতরা অনেক গবেষণা করে একটি বিকৃত ইসলাম তৈরি করেছিল যা থেকে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনাকে (জিহাদ) বাদ দেওয়া হয় এবং ব্যক্তিগত জীবনের মাসলা-মাসায়েল, ফতোয়া, দোয়া-কালাম, মিলাদের উর্দু-ফার্সি পদ্য, বিশেষ করে দ্বীনের যে বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন মাজহাবের ফকিহদের মধ্যে বহু মতবিরোধ সঞ্চিত ছিল সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় যেন সেগুলো নিয়ে মাদরাসা শিক্ষিতরা তর্ক, বাহাস ও মারামারিতে লিপ্ত থাকে এবং ইসলামের আসল চেতনা তথা দ্বীনের প্রচার প্রসার থেকে বিরত থাকে। (আলিয়া মাদরাসার ইতিহাস, মূল- আ: সাত্তার, অনুবাদ- মোস্তফা হারুন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

তারা সে সময় মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাসে গণিত, ভূগোল, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদির কোনো কিছুই রাখেনি, এর ফলে আলেমরা বাস্তব জীবনে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে নিমজ্জিত হলেন। কিন্তু জীবিকা ছাড়া তো মানুষ চলতে পারে না। অগত্যা তারা ধর্মের বিভিন্ন কাজ করে রুজি-রোজগার করাকেই নিয়তি হিসেবে গ্রহণ করলেন। ব্রিটিশরা এটা এই উদ্দেশ্যে করল যেন তারা সর্বদা পরনির্ভরশীল হয়ে থাকে এবং মেরুদণ্ড সোজা করে কখনো তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে। ইংরেজরা তাদের এ পরিকল্পনায় শতভাগ সাফল্য লাভ করল। 

এ ষড়যন্ত্রের পরিণামে তাদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞানের অহঙ্কার যেমন সৃষ্টি হলো, পাশাপাশি তাদের হৃদয়ে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের গতিশীল জগৎ থেকে পিছিয়ে থাকার দরুন একপ্রকার হীনম্মন্যতাও সৃষ্টি হলো। তাদের অন্তর্মুখিতা, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে গোঁড়ামি, বিভক্তি, নিস্পৃহতা, স্বার্থপরতা, ইসলামের নামে অন্ধত্ব, অযৌক্তিক, কুসংস্কার ও অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি প্রচণ্ডবিদ্বেষের মূল কারণ এই শিক্ষাব্যবস্থার গোঁড়াতেই প্রোথিত রয়েছে। শত শত বছর আগের সামাজিক পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সমস্যাবলির সমাধান ওই সময়ের আলেমরা কিভাবে করেছিলেন সেটা তাদের লেখা ফতোয়ার বইগুলোতে ঠাঁই পেয়েছে। কিন্তু সমকালীন নানা সমস্যার সমাধান প্রদান করতে না পারায় আলিয়ায় পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাসে চির ধরা শুরা করল। ইংরেজরা শিক্ষাব্যবস্থার এ মারপ্যাঁচের মাধ্যমে একটি আত্মাবশ্বাসী জাতিকে নেতিবাচক মনোভাবের দাসে পরিণত করল। 

আলিয়া মাদরাসার কারিকুলামে উন্নয়ন

১৮২৯ সালে আলিয়া মাদরাসায় ইংরেজি বিভাগ খোলা হয়। ১৮৫৯ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৩৪ বছরে এ বিভাগে ১৭৮৭ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন। তাদের মধ্যে নওয়াব আবদুল লতিফ ও সৈয়দ আমীর আলী বিশেষ কৃতিত্ব লাভ করেন। ১৮৬৩ সালে কলকাতা মাদরাসায় এফ.এ পর্যায়ের ক্লাস সংযোজিত হয়। ১৮৫৪ সালে মাদরাসায় একটি পৃথক ইনস্টিটিউট হিসেবে ইঙ্গ-ফার্সি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮২১ সালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও মাদরাসায় প্রথাগত পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। ইংরেজরা যে সকল বিষয় বাদ দেয় তা আবার যুক্ত হয়। এতে প্রতীয়মান হয় উপমহাদেশে সাধারণ শিক্ষা ও বেসরকারি পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষা তথা কওমি ধারার শিক্ষাব্যবস্থা চালু হওয়ার আগেই আলিয়া নেসাবের শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। তাই গোটা ভারতবর্ষে আলিয়া মাদরাসা নেসাবের শিক্ষাব্যবস্থাটিই এই অঞ্চলের প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চতর ধারার সর্বপ্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা। সময়ের ব্যবধানে কলকাতা আলিয়া মাদরাসা ভারত ভাগের পর ১৯৪৭ সালে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।

আলিয়ায় শিক্ষা লাভে বিখ্যাত যারা 

লক্ষণীয়, সে সময়ে যারা বড় বড় রাজনীতিবিদ বা সমাজ সংস্কারক ছিলেন তাদের অনেকেই মাদরাসা পড়ুয়া। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ মাওলানা মীর নিসার আলী তিতুমীর, সৈয়দ আমীর আলী এবং ভাষা শিক্ষার নিমিত্তে রাজা রামমোহন রায়ও পাটনা মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলেন (তথ্যসূত্র: বঙ্গদর্শন)। তাদের সমাজ সংস্কার ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অবদান স্বর্ণাক্ষরে আজও ইতিহাসে লেখা। অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও কলকাতা আলিয়া মাদরাসার আরবি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। এছাড়াও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীও মাদরাসার ছাত্র ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তাজউদ্দীন আহমদও তার বাবার সরাসরি তত্ত্বাবধানে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়েছিলেন। এছাড়াও মওলানা আকরম খাঁ, আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশদের মতো ইতিহাস-অলংকৃত বাঘা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন মাদরাসার শিক্ষার্থী। কালের ধারাবাহিকতায় এ দেশে যেভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সাধারণ শিক্ষার প্রসার ঘটেছে সেই তুলনায় মাদরাসা শিক্ষায় প্রসার ঘটেনি। এর ফলে মাদরাসা শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিন দিন কমেছে বৈ বাড়েনি।

মূলত এ উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা। ইংরেজ এবং তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্রে এ ব্যবস্থা ধ্বংসে নিপতিত হয়। ম্যাক্সমুলারের মতে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৮০ হাজার মাদরাসা চালু ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার বাংলা দখল করে মসজিদ-মাদরাসার খরচ নির্বাহের জন্য বরাদ্দকৃত ‘ওয়াক্ফ সম্পত্তি’ বাজেয়াপ্ত করলে মাদরাসাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাকে নিঃশেষ করার অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হলেও তা আজও বিদ্যমান ও চলমান এটাই বড় আশার ব্যাপার।

বর্তমান বাংলাদেশে আলিয়া মাদরাসার অবস্থা 

২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে দাখিল মাদরাসা প্রায় ৬৫৪৪, আলিম মাদরাসা ১৩৯৮, ফাজিল ১০৯০ ও কামিল ২৬০টিসহ মোট ৯২৯২টি মাদরাসা রয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী যার মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ নারী। এছাড়াও প্রায় ১৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এর সাথে যুক্ত কয়েক লাখ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য মূলস্রোত ধারায় চলে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮৫ সালে দাখিল এসএসসি সমমানের সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৮৭ সালে আলিম এইচএসসি সমমান। আর ২০০৬ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধিত আইন-০৬ জাতীয় সংসদে পাস হলে ফাযিল ও ¯œাতক ও কামিল স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মর্যাদা লাভ করে। এছাড়া ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ হতে দেশের ৩০টি আলিয়া মাদরসায় ফাযিল অনার্স কোর্স চালু হয়।

আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে করণীয়

এই বিপুল সংখ্যক মাদরাসাশিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের প্রশাসনিক এবং অ্যাকাডেমিক বিষয়ে মনিটরিংয়ের সার্বিক দায়িত্ব মাদরাসা শিক্ষা অধদিফতরের। ওপর থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের খোঁজ-খবর রাখার জন্য সরকারি নানা উদ্যোগ চলমান। তবে সব কিছু সরকারে ওপর ন্যস্ত না করে স্থানীয়ভাবে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সামনে লেখাপড়ার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে আলিয়া, কওমি, সাধারণ স্কুল-কলেজ। দেশের সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার আলোকে শিক্ষার্থীরা নানা দিকে চলে যায়। এমতাবস্থায় আলিয়া মাদরাসার উন্নয়ন ও টেকসই করার লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ খুবই অত্যাবশ্যক

১. খুব যোগ্য, মেধাবী ও মাদরাসায় শিক্ষকতা করতে চান এমন ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে বাছাই করা

২. শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলে মাদরাসার নিয়ম-নীতি মেনে চলা

৩. মাদরাসার নিয়মিত সিলেবাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু বিষয় শিক্ষা প্রদান করা

৪. শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের জন্য আরবি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিতর্ক ক্লাব, রক্ত প্রদান ক্লাব, সাংস্কৃতিক ক্লাব, বিএন সিসি, গ্রিন ইনভায়রনমেন্ট ক্লাব, ছাত্রী নিরাপত্তা ক্লাব, পরিবেশ সংরক্ষণ ক্লাব নামে নানা ধরনের ব্যবস্থা থাকা। যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার পাশাপাশি মানবসম্পদে পরিণত হবে।

৫. মাদরাসায় পড়ানোর জন্য অভিভাবকদের মোটিভেশন করতে হবে। 

৬. যারা মাদরাসায় পড়েছেন বা চাকরি করছেন তাদের সন্তানদের অবশ্যই মাদরাসায় পড়ানোর চেষ্টা করা।

৭. এ শিক্ষাব্যবস্থা হলো ‘টু ইন ওয়ান।’ এর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই অর্জন করা যায়। সেটা যত বুঝানো যাবে ততই এটা অগ্রসর হবে।

৮. স্থানীয়ভাবে প্রতিটি মাদরাসার পরিচালনা বোর্ড, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষেরা যারা মাদরাসার জন্য অনেক অবদান রাখতে পারেন তাদেরকে কমিটিভুক্ত করা।

৯. মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি নানা ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা করা।

সর্বোপরি বলা যায়, ইংরেজদের আলিয়া মাদরাসার সূচনার চিন্তা ইতিবাচক ছিল না। কিন্তু কালক্রমে বাংলাদেশ তথা এ উপমহাদেশে আলিয়া মাদরাসার অবদান সর্বত্র বিরাজমান। এ মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন লেভেলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সচিব, বিচারক অসংখ্য পেশাদার মানুষ রয়েছেন যারা আলিয়া মাধ্যমে লেখাপড়া করেছেন। সাময়িক সঙ্কট কেটে যাবে এবং আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা তার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবে। সে জন্য যারা সরাসরি আলিয়া মাদরাসার পঠন-পাঠন, চাকরি ও তত্ত্বাবধানের সাথে যুক্ত তাদের সবসময় এ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করতে হবে। 

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির