post

তাকওয়া : মানবজীবনের অনিবার্য অনুষঙ্গ

ড. কামরুল হাসান

২৫ মার্চ ২০২২

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বীয় জবানীতে ঘোষণা করেন- فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ অর্থাৎ এরপর আমার নিকট হতে তোমাদের কাছে পথনির্দেশিকা তথা হিদায়াতনামা যাবে, যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ থাকবে না। ০২: ৩৮; মানবজীবনকে যাবতীয় দুশ্চিন্তা হতে নিষ্কণ্টক ও ভীতি হতে নিরাপদ রাখার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর পাঠানো হিদায়াত অনুসরণ করা। তার পাঠানো হিদায়াত নিঃসন্দেহে সমগ্র মানবজাতির জন্য উপযোগী। আল্লাহর পাঠানো হিদায়াত বলতে আমরা মোটা দাগে বুঝি কুরআনুল কারিমকে। সেই জন্যই কুরআনুল কারিমকে বলা হয়েছে- هُدًى لِلنَّاسِ বা সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াতস্বরূপ। অর্থাৎ আল কুরআনের আলোয় আলোকিত হতে পারে মানবসমাজের প্রতিটি সভ্য। هدى মূল ধাতু আল-কুরআনে ৭৯ স্থানে উল্লেখ হয়েছে। তবে এত অধিক স্থানে هدى শব্দের ব্যবহার থাকলেও هُدًى لِلنَّاسِ রূপে দুই জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন- وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ- مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ অর্থাৎ- আর তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিলকে ইতঃপূর্বে অবতীর্ণ করেছেন মানবতার হিদায়াত গ্রন্থরূপে। ০৩: ০৪; এই আয়াত হতে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায় আল্লাহ প্রেরিত প্রতিটি আসমানি কিতাবই হিদায়াতের আকরগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

এ আয়াতদ্বয়ে هُدًى لِلنَّاسِ বলা হলেও আল-কুরআনের সর্ববৃহৎ সূরা বাকারায় هُدًى لِلْمُتَّقِينَ তথা মুত্তাকি বান্দাদের (যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে) জন্য হিদায়াতস্বরূপ বলা হয়েছে। ০২: ০২; তবে এই দুই আয়াতে বৈপরীত্য অন্বেষণ কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। কারণ এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনোভাবে আল্লাহকে ভয় করেই থাকে। সেটি প্রকাশ্যে হোক বা প্রচ্ছন্নে হোক। যিনি কপট ও নাস্তিক তিনিও মাঝে মাঝে আল্লাহকে ভয় করে থাকেন। সর্বসাকুল্যে বান্দার জন্য অপরিহার্য যে, তাকে আল্লাহকে ভয় করতেই হবে। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর চিরাচরিত বিধি-বিধান তাকে মেনে চলতেই হবে। যেমন তাকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে হবে, কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করতে হবে মেয়াদ শেষে মৃত্যুর কাছে ধরা দিতে হবে। মোটকথা তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মানবজীবনের অনিবার্য অনুষঙ্গ। এই আল্লাহভীতির মাত্রা, বৈশিষ্ট্য, বিশেষত্ব, ধরন, প্রকৃতি ইত্যাদি বিবেচনায় এর তারতম্য ও প্রতিদান বিভিন্ন রয়েছে। তাই তাকওয়া কী? তাকওয়ার মাপকাঠি কী? এর গ্রহণযোগ্যতার মানদ- কী হবে? এর প্রতিদানের প্রকৃতি কেমন হবে? ইত্যাকার বিষয়ে প্রতিটি মানুষের স্বচ্ছ জ্ঞান অতীব প্রয়োজন। কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত কিংবা অধ্যয়নে তাকওয়া শব্দের বহুল ব্যবহার আমাদের আকৃষ্ট করে। তাকওয়া শব্দটি আল-কুরআনে এত বেশি ব্যবহার হয়েছে যেন এটি তাকওয়ার কিতাব। প্রকৃতই আল-কুরআনকে তাকওয়ার কিতাব বলা যায়- কারণ এতদুভয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই সুতোয় গাঁথা।
تقوى তাকওয়া শব্দটি মূল ধাতু তথা মাসদার। এর মূল অক্ষর و-ق-ي। বিভিন্ন বাব, সিগাহ, ক্রিয়া ও বিশেষ্যের নানাবিধ রূপান্তরে শব্দটি ২৫ স্থানে উল্লেখ রয়েছে। যেমন বলা যায়-
وقا শব্দটি একাধিক সর্বনাম সহযোগে পাঁচবার
تق শব্দটি একাধিক সর্বনাম সহযোগে তিনবার
ق শব্দটি একাধিক সর্বনাম ও রূপান্তরে ছয়বার
يوق শব্দটি দুইবার
اتقى শব্দটি একাধিক রূপান্তরে সাতাশবার
تتقوا শব্দটি একাধিক রূপান্তরে ঊনষাটবার
اتقوا শব্দটি একাধিক রূপান্তর ও সর্বনাম সহযোগে ঊনষাটবার
اتقي শব্দটি সর্বনাম সহযোগে দুইবার
واق শব্দটি তিনবার
تقيا শব্দটি তিনবার
تقاة শব্দটি দুইবার
تقوى শব্দটি দুইবার
المتقون শব্দটি ঊনপঞ্চাশবার
উল্লিখিত হয়েছে। কুরআনুল কারিমে তাকওয়া শব্দের বহুল ব্যবহার এর গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও অনিবার্যতার প্রতি ইঙ্গিতবাহী। জীবনের সাথে তাকওয়ার সম্পৃক্তি যেমন জীবনকে অর্থবহ, গতিময় ও মূল্যবান করে তোলে- তেমনই জীবনে তাকওয়ার বিযুক্তি জীবনকে প্রাণহীন, গতিহীন ও মূল্যহীনতায় নিক্ষেপিত করে। মূলত তাকওয়ার সফলতা ও বিফলতা নির্ভর করে জীবনের সাথে তাকওয়ার সম্পৃক্তি ও বিযুক্তির উপর।
তাকওয়ার আলোচনার শুরুতেই আমরা উল্লেখ করতে চাই তাকওয়া কী? তাকওয়া শব্দটি আরবি। মূল ধাতু الوقاية (আল-বিকায়াহ) ও মূল অক্ষর و-ق-ي যার শাব্দিক অর্থ বেঁচে থাকা, বেছে চলা, এড়িয়ে চলা, পরহেজ করা। শাব্দিক অর্থ থেকে স্পষ্টত অনুমান করা যায়- পাপ থেকে বেঁচে থাকা, ন্যায়-অন্যায় বেছে চলা, অপরাধী-কর্মকা- এড়িয়ে চলা, যাবতীয় বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতা পরহেজ করাই তাকওয়ার মূল দর্শন। শব্দটির বহুল ব্যবহার ও সাধারণ্যে এর প্রয়োগ শব্দটিকে অনেক ভাষা তার নিজের ভাষা হিসেবেই আত্মস্থ করেছে। শব্দটি আজ বাংলাভাষা খাজাঞ্চিতে তার অবস্থান নিশ্চিত ও মজবুত করেছে। অবশ্য তাকওয়ার বিকল্প শব্দ হিসেবে আল্লাহ-ভীতি ও খোদাভীতি শব্দের ব্যবহার বাংলা ভাষায় দেখা যায়। মুত্তাকি শব্দের প্রতিশব্দ আল্লাহভীরু শব্দের ব্যবহার থাকলেও বাংলা ভাষা যেন মুত্তাকি শব্দটিকেই বেশি আপন করে নিয়েছে। মুত্তাকি হচ্ছে তাকওয়ার শব্দের কর্তৃবাচ্যীয় রূপ।
তাকওয়া শব্দটির ব্যবহারিক অর্থ- বিবেচনা করলে কুরআনুল কারিমে এর নানাবিধ ও অর্থবহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
ক. আল-কুরআনে শব্দটি তাওহিদ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন- وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا আর আল্লাহর তাদের জন্য অপরিহার্য করে দিলেন তাকওয়ার বাক্য, আর তারাই এর উপযুক্ত এর যোগ্যতার পাত্র। ৪৮: ২৬; আয়াতে স্পষ্টত বুঝা যায় এখানে তাকওয়া শব্দটি তাওহিদ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
খ. তাকওয়া শব্দটি কখনও কখনও ইখলাস বা নিষ্টতা অর্থে এসে থাকে। যেমন আল্লাহ বলেন- أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى অর্থাৎ আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার ব্যাপারে পরীক্ষা করেন। ৪৯: ০৩; আয়াতে তাকওয়া শব্দটি ইখলাস তথা আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
গ. তাকওয়া শব্দটি আল-কুরআনের অসংখ্য আয়াতে ভয় করা অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন- وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ অর্থাৎ- আর তোমরা সেদিনকে ভয় করো যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। ০২: ২৮১; এ আয়াতে তাকওয়া শব্দটি ভয় করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ শব্দটি অনুরূপ অর্থে আল-কুরআনে অনেক আয়াতে এসেছে।
ঘ. তাকওয়া শব্দটি আবার কখনও আনুগত্য ও দাসত্ব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ অর্থাৎ- হে বিশ^াসীগণ তোমরা আল্লাহকে যথাযথরূপে ভয় করো। তার মানে আল্লাহর যথাযথ আনুগত্য করো এবং তার ইবাদাত করো। ১০২; এ আয়াতে তাকওয়া শব্দটি আনুগত্য ও ইবাদাত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
ঙ. তাকওয়া শব্দটি আল-কুরআনে অন্যায় ও পাপ থেকে বেঁচে থাকা অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। এটিই মূলত তাকওয়ার মূল কথা। আল্লাহ বলেন- وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ অর্থাৎ- আর যে আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, আর আল্লাহকে ভয় করে এবং তাকেই ভয় করে তারাই সফলকাম। ২৪: ৫২; আয়াতে তাকওয়া শব্দটি পাপ থেকে বেঁচে থাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ আয়াতে আনুগত্য এবং ভীতির পর তাকওয়া শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং এর অর্থ হবে যেকোনো অন্যায় থেকে মানসকে পবিত্র রাখা।
চ. অনুরূপ তাকওয়া শব্দটি পরপর ব্যবহার করলে তখন তার অর্থেরও বিভিন্নতা সৃষ্টি হয়। কুরআনুল কারিমের এক আয়াতে তিনবার তাকওয়া শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাকওয়ার তিনটি স্তর বা তিনটি রূপ বোঝানো হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন- لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ثُمَّ اتَّقَوْا وَآمَنُوا ثُمَّ اتَّقَوْا وَأَحْسَنُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ অর্থাৎ- যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য দোষের নয় তারা ইতঃপূর্বে যা খেয়েছে। তার জন্য তাদের কোনো গোনাহ নেই। যদি তারা আল্লাহকে ভয় করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে। অতঃপর তারা মুত্তাকি হয় এবং ঈমান আনয়ন করে। অতঃপর আল্লাহকে ভয় করে এবং নিষ্ঠাবান হয়। আর আল্লাহ নিষ্ঠাবানদের পছন্দ করেন। ০৫: ৯৩; এই আয়াতে তিনবার তাকওয়া শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। আয়াতে ব্যবহৃত তিনটি তাকওয়ার অর্থ এক হতে পারে না। তাই আমরা মনে করি প্রথম তাকওয়ার অর্থ হতে পারে শিরকমুক্ত হওয়া, দ্বিতীয় তাকওয়ার অর্থ- বিদআত মুক্ত হওয়া, তৃতীয় তাকওয়ার অর্থ অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা। তাহলে আয়াতের অর্থ যথোচিত ও যুৎসই হয়। একই সাথে এই আয়াত তাকওয়ার তিন অবস্থাকেও প্রকাশ করেছে।
ছ. তাকওয়া শব্দটি কুরআনুল কারিমে তাওবা অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ বলেন- وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ অর্থাৎ- আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনতো ও তাকওয়ার পথ অবলম্বন করত তবে তাদের জন্য আসমান ও পৃথিবীর কল্যাণসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। ০৭: ৯৬; আয়াতে তাকওয়ার অর্থ তাওবা করা অত্যধিক যৌক্তিক।
কুরআনুল কারিমের উল্লিখিত ও ব্যবহৃত তাকওয়া শব্দ সংবলিত আয়াতসমূহ পর্যালোচনা করলে আরো একাধিক অর্থের সন্ধান পরিদৃষ্ট হতে পারে। দিন যত অতিক্রান্ত হবে, যুগ যত বৈজ্ঞানিক ও প্রাযুক্তিক হবে এ সংক্রান্ত গবেষণা ততই পরিপুষ্ট হবে।
আর তাকওয়ার পারিভাষিক অর্থে সমন্বিতভাবে বলা যায়- فعل ما أمر الله به ترك ما نهى الله عنه অর্থাৎ- আল্লাহ যা আদেশ দিয়েছেন তা যথাযথ সম্পাদন করা এবং যা নিষেধ করেছেন তা সচেতনভাবে বর্জন করার নাম তাকওয়া।
কেউ কেউ তাকওয়ার সংজ্ঞায় বলেছেন- الخوف الجليل والعمل بالتنزيل والقناعة بالقليل والاستعداد ليوم الرحيل অর্থাৎ-
ভয় করো তাকে যিনি জালিল
আমল করো যা দিয়েছে তানজিল
তুষ্টি আনো মনে যা কালিন
প্রস্তুতি নাও সামনে আসছে যে দিবসের দলিল।
আমরা যদি কুরআনুল কারিমের অধ্যয়নে নিবিষ্ট হই তবে প্রত্যক্ষত তাকওয়ার নানাবিধ ইঙ্গিত নির্দেশনা, উৎসাহ, প্রেরণা, ফলাফল, প্রয়োজনীয়তা প্রভৃতি বিষয় উপলব্ধি করতে পারি। যেমন-
ক. মানবজীবনে তাকওয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম- কারণ আমরা দৈনন্দিন জীবনে যতই ইবাদত উদযাপন করি এ সকল ইবাদতের মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন করা। যেমন- আমরা রমাদানের সিয়ামব্রত পালন করি এর উদ্দেশ্য হলো তাকওয়ার গুণে নিজেকে বিভূষিত করা। আল্লাহ বলেন- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থাৎ- হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়ামব্রত ফরজ করা হয়েছে যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। ০২: ১৮৩; আয়াতে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য হলো বান্দাকে তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত করা। একইভাবে অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন- يَاأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থাৎ- হে মানবম-লী তোমরা তোমাদের রবের এবাদত করো। যিনি তোমাদেরকে সৃজন করেছেন। যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। ০২: ২১; উপর্যুক্ত আয়াতে বলা হয়েছে সকল ইবাদতের মূল লক্ষ্য তাকওয়ার গুণ অর্জন করা। অন্যত্র আল্লাহ বলেন- وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থাৎ- আর যখন আমরা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং তুর পাহাড়কে তোমাদের উপর উঁচু করে ধরেছিলাম, বলেছিলাম তোমাদেরকে যা দিলাম তা শক্ত করে ধরো। তাতে যা আছে তা স্মরণ করে রাখো যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। ০২: ৬৩; এ আয়াতে থেকে বুঝা যায় তাকওয়ার গুণাবলি কেবল উম্মতে মুহাম্মদির জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং সকল উম্মতের জন্য আবশ্যক ছিল।
খ. তাকওয়ার নির্দেশনা সার্বজনীন- তাকওয়ার নির্দেশনা কেবল উম্মতের সদস্যদের জন্য অত্যাবশ্যক নয়। বরং যুগে যুগে আগত নবীদের জন্যই ছিল এই নির্দেশনা। যেমন আল্লাহ বলেন- يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا অর্থাৎ- হে নবী আল্লাহকে ভয় করো আর কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়। ৩৩: ০১; নবীদের মত নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী যারা তাকওয়া যদি তাদের জন্যই অপরিহার্য হয় তাহলে আমাদের জন্য তা অবশ্যই অতি অপরিহার্য হবে।
গ. সকল পুণ্যের আধার তাকওয়া- আমাদের সকল সৎকর্মের পূর্ণতা প্রাপ্তির আধার তাকওয়া। তাই কোন পুণ্যকর্ম যদি তাকওয়াশূন্য হয় তবে তদ্বারা পুণ্য প্রাপ্তির প্রত্যাশা অর্থহীন। তাকওয়া প্রযুক্ত ইবাদতই কেবল পুণ্যের সংগ্রাহক হতে পারে। আল্লাহ বলেন- وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى অর্থাৎ- পুণ্য কেবল তার যে তার পথ অবলম্বন করে। ০২: ১৮৯; আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেন- وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى অর্থাৎ- পাথেয় সংগ্রহ করো। আর অবশ্যই সর্বোত্তম পাথেয় তাকওয়া। ০২: ১৯৭; এ আয়াতদ্বয় স্পষ্ট প্রমাণ করে যে যেকোনো আমল গ্রহণযোগ্য হওয়ার পূর্বশর্ত তা তাকওয়ার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। কারণ তাকওয়াই ইবাদত ও আমলের সর্বোত্তম পাথেয়।
ঘ. তাকওয়ার অপরিহার্যতা- মানবজীবনকে সফেদ ও সুন্দর করতে তাকওয়ার গুণাবলি এক আবশ্যক গুণাবলি। সে আলোচনা আমরা আগেও করেছি। তবে তাকওয়াহীন মানুষ ইহ ও পরজগতে এক ব্যক্তির উপমা হয়ে যায়। যেমন আল্লাহ বলেন- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ হে ঈমানদার জনগোষ্ঠী। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যথাযথরূপে। আর মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। ০৩: ১০২; এ আয়াতে মৃত্যুঘণ্টা বেজে উঠবার আগেই পরিপূর্ণ মুত্তাকি হতে আদেশ করা হয়েছে। আর মৃত্যু যেহেতু আমার জন্য সদা অপেক্ষমাণ তাই এ কাজে কোনো বিলম্ব নয়। তাকওয়া হতে হবে আমার সর্বক্ষণের সাথী।
ঙ. আল্লাহভীতির গোড়ার কথাই হলো তাকওয়া- আমরা যে সকল ইবাদাত ও আমল করি এ সবের গোড়ার কথা তাকওয়া। এ বিষয়ে অসংখ্য আয়াত আল-কুরআনে রয়েছে। যে ইবাদাতে তাকওয়া নেই সেই ইবাদাত গ্রহণীয় হতে পারে না। يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ আয়াতাংশসমূহ সেদিকেই ইঙ্গিত করে।
চ. ঈমান ও তাকওয়া সমপর্যায়ের- মানবজীবনের সর্বাধিক বড় সম্পদ তাকওয়া। আখিরাতের যাবতীয় অশান্তি ও বিপত্তির মূল কারণ হবে ঈমান না থাকা বা ঈমানের কমতি থাকা। আর তাকওয়াকেও আল্লাহ ঈমানের সমপর্যায়ভুক্ত করে ইরশাদ করেছেন- أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ অর্থাৎ- তোমরা কি আশ্চর্য হয়েছ যে, তোমাদেরই এক ব্যক্তির প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে যাতে তোমাদেরকে সতর্ক করে এবং মুত্তাকি বানায় যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পারো। ০৭: ৬৩; আয়াতে একই সাথে ঈমানের আলো বঞ্চিত না হতে সতর্ক ও তাকওয়াবান হতে পরামর্শ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। এখানে ঈমান ও তাকওয়াকে সমপর্যায়ভুক্ত আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছ. তাকওয়া মুমিন হওয়ার পূর্বশর্ত- তাকওয়া অবশ্যই মুমিনজীবনের আবশ্যকীয়- তাকওয়া অবশ্যই মুমিন জীবনের আবশ্যকীয় গুণাবলির অন্যতম। এখানেই শেষ নয় তাকওয়াকে ঈমানের পূর্বশর্ত হিসেবে বর্ণনা করে তাকওয়ার মাহাত্ম্য অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আল্লাহ বলেন- فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ অর্থাৎ- অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিজেদের পারস্পরিক বিষয় মীমাংসা করে নাও। আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করো। যদি তোমরা মুমিন হও। ০৮: ০১;
জ. মুত্তাকিদের প্রধানতম আমলসমূহ- মুত্তাকি কোনো দাবি করার বিষয় নয়। বরং ইবাদাতের একনিষ্ঠতা, ধরন ও বিভিন্ন দ্বারা বুঝা যায় কে মুত্তাকি আর কে নয়? মুত্তাকিদের নানাবিধ আমলের বর্ণনা কুরআনুল কারিমে ছড়িয়ে ও ছিটিয়ে আছে। মুত্তাকির আমলসমূহের বর্ণনা সমৃদ্ধ কতিপয় আয়াতের উল্লেখ করছি। আল্লাহ বলেন- لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ অর্থাৎ- তোমরা তোমাদের চেহারাকে পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে করাতে কোনো পুণ্য নেই। বরং পুণ্য হলো যে ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি। আখিরাত দিবসের প্রতি, ফিরিস্তাদের প্রতি, কিতাবের প্রতি, নবীগণের প্রতি। আর আল্লাহর ভালোবাসায় নিজ ধনসম্পদ আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপার্থী, দাসত্ব মুক্তির জন্য দান করে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে, বিপদ-আপদ, অভাব-অনটন ও যুদ্ধকালে ধৈর্যধারণ করে তারাই সত্যবাদী, তারাই মুত্তাকি, ০২: ১৭৭; আয়াতে বর্ণিত সকল কাজই মুত্তাকির কাজ।
ঝ. পার্থিব মুয়ামালা ও মুুয়াশারাহ তাকওয়াহর অনিবার্য অংশ- তাকওয়ার কাজ কেবলই আখিরাতকেন্দ্রিক নয়, বরং পার্থিব চেতনা ও দ্যোতনাকে সুন্দরতর করাও তাকওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। দৈনন্দিন মুয়ামেলা ও প্রাত্যহিক মুয়াশারাহ স্বচ্ছ করতে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। আল্লাহ বলেন- نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ وَقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ مُلَاقُوهُ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ অর্থাৎ- তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা যখন চাও তোমাদের ক্ষেত্রে আসতে পারো। নিজেদের আমল প্রেরণ করো আগেভাগে। আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রাখো অবশ্যই তার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। মুমিনদের এ সংবাদ জানিয়ে দাও। ০২: ২২৩; সংসার জীবনে এ স্বচ্ছতা ইসলাম সর্বদা প্রত্যাশা করে। একইভাবে সূরা বাকারার ২৩১, ২৩৩, ২৩৭ নম্বর আয়াতে তালাক, ইদ্দত, সন্তানের দুগ্ধপান, মোহরানা ইত্যাদি সামাজিক, পারিবারিক ও সাংসারিক যা নিরেট পার্থিব মুয়ামালার অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম নির্দেশ করছে ঐ সকল মুয়ামালা সম্পন্ন হবে তাকওয়ার আলোকে। মূলত মানুষের প্রতিটি কাজকে ইসলাম পরিচালিত করতে চায় তাকওয়ার নিরিখে। আল্লাহ বলেন- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ অর্থাৎ- হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর যে সুদ এখনও অবশিষ্ট রয়ে গেছে তা পরিত্যাগ করো। যদি তোমরা মুমিন হও। ০২: ২৭৮; আয়াত বলছে অর্থনৈতিক মুয়ামালায় সুদ বর্জন করাও তাকওয়ার দীক্ষা। একইভাবে অত্র সূরার ২৮২, ২৮৩ নং আয়াতে পারস্পরিক ধার-কর্জ, বাকি লেনদেন সম্পর্কে যে বিষদ বিবরণ দিয়েছেন তাও তাকওয়াভিত্তিক কর্মকা-ের অংশবিশেষ। মূলত দুনিয়াবি সকল কর্মকা- ও মুয়ামালা যদি তাকওয়ার সাথে সন্বিষ্ট না হয় তবে তার প্রতিদান আখিরাতে পাওয়া যাবে না। প্রকৃত পক্ষে আখিরাতের সফলতাই মুমিনের একমাত্র গন্তব্য। আল্লাহ বলেন- أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً وَقَالُوا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ لَوْلَا أَخَّرْتَنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا অর্থাৎ- তুমি কি তাদেরকে দেখনি যাদেরকে বলা হয়েছিল তোমাদের হাত সংবরণ করো। সালাত কায়েম করো এবং জাকাত দাও। অতঃপর তাদেরকে জিহাদের বিধান দেয়া হলো তখন তাদের একদল মানুষকে ভয় করতে শুরু করে আল্লাহকে ভয় করার মতো। বরং তার চেয়েও বেশি। আর তারা বলতে শুরু করে হে আমাদের রব! আমাদেরকে জিহাদের বিধান কেন দিলেন? আমাদেরকে আরো কিছু দিনের অবকাশ দিলেন না কেন? বলুন, দুনিয়ার ভোগ অত্যল্প। যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের জন্য আখিরাতই সর্বোত্তম। তোমাদের কারুর ওপর সামান্যতম জুলুম করা হবে না। ০৪: ৭৭;
একইভাবে সূরা নিসার ১২৮ ও ১২৯ নং আয়াতে দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রী নির্যাতনকে তাকওয়া পরিপন্থী উল্লেখ করে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। সূরা মায়িদার ২ নং আয়াতে হজ্জের বিধি-বিধানকে ও ১১৮ নং আয়াতে ন্যায় বিচারকে, ৯৬ নং আয়াতে ও তার আগে-পরে হজ্জ সংশ্লিষ্ট কার্যাদি ও পার্থিব মুয়ামিলাকে তাকওয়া ঘনিষ্ঠ করার পরামর্শ দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির জন্য কল্যাণকর ভাষ্য প্রদান করেছেন। আমরা তার বিস্তারিত আলোচনার দিকে যাচ্ছি না।
ঞ. মুত্তাকিদের সাথী আল্লাহ- আমরা ক্ষণকালের এই দুনিয়াতে প্রায়শ দেখি যে, মুত্তাকিরা বিপদ, আপদ, ঝঞ্ঝা, সঙ্কটের আবর্তে দিনাতিপাত করে। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, তাদের এ সঙ্কট অতীব অল্পস্থায়ী, আর আল্লাহ তাদের সাথে আছেন এবং থাকবেন। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনায় তাদের কোনো অপ্রাপ্তি ও হতাশার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ বলেন- وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ অর্থাৎ- আর আল্লাহকে ভয় করো, আর জেনে রাখো- আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথেই থাকেন। ০২: ১৯৪; অন্যত্র আল্লাহ বলেন- بَلَى مَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ وَاتَّقَى فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ অর্থাৎ- হ্যাঁ, যে তার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আল্লাহকে ভয় করে নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন মুুত্তাকিদের ভালোবাসেন। ০৩: ৭৬; এছাড়াও সূরা তাওবার ৪ ও ৭ নং আয়াতে আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসার কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে সূরা নাহলের ঘোষণাটি অতীব চমৎকার। আল্লাহ বলেন- إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ অর্থাৎ- নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং আছেন তাদের সাথেও যারা স্বীয় সৎকর্মে আন্তরিক, রুচিশীল। ১৬: ১২৮; আয়াতে যুগপৎভাবে মুত্তাকি ও মুমিনদেরকে আল্লাহর সাথী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের মর্যাদা শাণিত করা হয়েছে উত্তুঙ্গে।
ট. তাকওয়ার প্রতিদান আল্লাহর কাছে- তাকওয়া অবলম্বন বা মুত্তাকি হিসেবে জীবন-যাপনের প্রতিদান কখনও তাৎক্ষণিক নাও হতে পারে। তবে তাকওয়ার প্রতিদান কখনও ব্যর্থ হবে না। আল্লাহর আশাবাদী ঘোষণা- وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ অর্থাৎ- আর যদি তারা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত। তবে অবশ্যই আল্লাহর তরফ হতে লাভ করত উত্তম প্রতিদান। হায়! যদি তারা এ কথা জানত। ০২: ১০৩; সুতরাং তাকওয়ার প্রতিদান দুনিয়ায় কিংবা কোনো সৃৃষ্টিজীবের কাছে প্রত্যাশা না করাই শ্রেয়তর।
ঠ. জান্নাত কেবলই মুত্তাকিদের জন্য- একজন মুমিনের সর্বোচ্চ প্রত্যাশা তার জান্নাত প্রাপ্তি। জান্নাত হলো মুমিনের চিরকালীন শান্তি নিবাস। জান্নাতকে আল্লাহ নিবাস হিসেবে নির্বাচন করে রেখেছেন কেবল মুত্তাকিদের জন্য। কুরআনুল কারিমের অজ¯্র আয়াতে এ সংক্রান্ত ঘোষণা রয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন- لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِنْ عِنْدِ اللّه অর্থাৎ- কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার তলদেশে নদী-নালা প্রবাহিত। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে মেহমানদারি। ০৩: ১৯৮; অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন- وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ অর্থাৎ- আহলি কিতাবগণ যদি ইমান আনত আল্লাহকে ভয় করত তাহলে আমরা তাদের পাপরাশি মিটিয়ে দিতাম আর তাদের নিয়ামত পূর্ণ জান্নাতে প্রবিষ্ট করাতাম। ০৫: ৬৫;
ড. জান্নাত মুত্তাকিদের প্রতিশ্রুত উপহার- আল্লাহ বলেন- مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوْا وَعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ অর্থাৎ- মুত্তাকিদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের উপমা হলো এর তলদেশে নদ-নদী প্রবাহিত। এর ফলাদি ও ছায়া চিরস্থায়ী। মুত্তাকিদের এটিই চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল। আর কাফিরদের চূড়ান্ত গন্তব্য হলো আগুন। ১৩: ৩৫; মুত্তাকিদের আবাস সম্পর্কে আল্লাহ আরো বলেন- إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ অর্থাৎ- নিশ্চয়ই মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাতে, ঝর্ণাবেষ্টিত পরিবেশে। ১৫: ৪৫; আবার বলা হয়েছে- إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ অর্থাৎ- মুত্তাকিরা থাকবে ছায়াদার পরিবেশে ঝর্ণাবেষ্টিত আবহে। ৭৭: ৪১; এছাড়াও সূরা কলম, সূরা শুয়ারা, সূরা ফুরকান, সূরা মারইয়াম, সূরা কামারসহ অসংখ্য সূরায় এতদসংবলিত বর্ণনা ও ভাষ্য পাওয়া যায়।
ঢ. জান্নাতে থাকবে মুত্তাকিদের মনোরম পরিবেশ- জান্নাতে মুত্তাকিদের আভিজাত্য ও স্বতন্ত মর্যাদার উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেন- مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِنْ لَبَنٍ لَمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ অর্থাৎ- মুত্তাকিদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের দৃষ্টান্ত হলো তাতে আছে স্বচ্ছ পানির প্র¯্রবণ, সুস্বাদু সুরার স্রােতস্বিনী, সুপেয় মধুর প্রবাহ। আরো রয়েছে ফল-ফলাদি এবং রবের পক্ষ হতে অনবদ্য ক্ষমা। ৪৭: ১৫; এমন অসংখ্য বর্ণনা ছড়িয়ে আছে কুরআনুল কারিমের সর্বত্র।
ণ. মুত্তাকিরাই সফলকাম- মুত্তাকিদের জান্নাত প্রাপ্তি, জান্নাতে অভিজাত অবস্থান, সুউচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্তি প্রমাণ করে যে তারাই সফলকাম। সে কথাই আল্লাহ বলেছেন এভাবে- إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا- حَدَائِقَ وَأَعْنَابًا- وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا- وَكَأْسًا دِهَاقًا অর্থাৎ- নিশ্চয়ই মুত্তাকিরাই হবে সফলকাম। তাদের জন্য রয়েছে উদ্যানরাজি, আঙুর বিথী, অপ্সরী জীবন সঙ্গী। আর পূর্ণ পানপাত্র। ৭৮: ৩১-৩৪;
ত. তাকওয়া বুদ্ধিমানের অনুসৃত পথ- তাকওয়ার পথ অবলম্বন করে যারা বুদ্ধিমান তারা। যারা জটিল, কুটিল কিংবা প্যাচুক তারা বিঘœ ঘটায় তাকওয়ার পথে। আল্লাহ বলেন- فَاتَّقُوا اللَّهَ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ অর্থাৎ- অতএব হে বুদ্ধিমান সম্প্রদায় তোমরা আল্লাহকেই ভয় করো। তবেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। ০৫: ১০০; একই ধ্বনিতে অন্যত্র আল্লাহ বলেন- فَاتَّقُوا اللَّهَ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ অর্থাৎ- হে জ্ঞানী সমাজ তোমরা আল্লাহকেই ভয় করো। ৬৫: ১০; এ সকল আয়াতের মর্মার্থ হলো- যারা বুদ্ধিমান তারাই সহজ সরল, তাকওয়ার পথ অবলম্বন করে।
থ. মুত্তাকিরাই আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত- আল্লাহর রহমতের প্রশস্ত দুয়ার অবারিত সকল মুত্তাকির জন্য। যেমন আল্লাহ বলেন- وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ অর্থাৎ- যখন তাদেরকে বলা হয় তোমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে সে বিষয়ে তোমরা সতর্ক হও বা আল্লাহকে ভয় করো তবেই তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হবে। ৩৬: ৪৫; একইভাবে তাকওয়া খুলে দেয় অফুরন্ত বরকতের সুপ্রশস্ত দুয়ার। আল্লাহ বলেন- وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ অর্থাৎ- আর যদি ঐ সকল জনপদবাসী ঈমান আনত এবং আল্লাহকে ভয় করত তবে তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতাম আসমান ও পৃথিবীর কল্যাণধারা। ০৭: ৯৬; আরো দ্রষ্টব্য ৫৭: ২৮;
দ. তাকওয়া নেতৃত্বের বড় কারণ- তাকওয়া আমাদের পার্থিব জীবনে নেতৃত্বের এক বড় কারণ। আর সেটি প্রত্যাশারও ব্যাপার। সকল প্রজন্ম তাকওয়াবান হলে সমাজটা শান্তির সমাজে পরিণত হবে। আল্লাহ বলেন- وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا অর্থাৎ- আর যারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন জীবনসঙ্গী ও সন্তান দিন যারা আমাদের চক্ষুশীতল করে দেয়। আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন। ২৫: ৭৪;
ধ. মুত্তাকিরা আল্লাহর মেহমান- তাকওয়া দুনিয়ায় এনে দেয় নেতৃত্ব। আর আখিরাতে আল্লাহর মেহমান হওয়ার সুমহান সুযোগ। মহান আল্লাহ বলেন- يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفْدًا অর্থাৎ- সেদিন মুত্তাকিদেরকে রহমানের নিকটে মেহমানরূপে সমবেত করব। ১৯: ৮৫;
ন. তাকওয়া মনের ব্যাপার- তাকওয়া বা আল্লাহভীতি খুবই প্রচ্ছন্ন একটি বিষয়। তাকওয়ার আমল দেখা গেলেও তা প্রদর্শনমুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক। প্রদর্শনেচ্ছা সমেত আমল তাকওয়া বিনষ্টকারী। তাই আমরা বলি তাকওয়া মনের ব্যাপার। আল্লাহ অতীব স্পষ্ট করে বলেন- ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ অর্থাৎ- এটি আর যে আল্লাহর নিদর্শনাবলির সম্মান প্রদর্শন করে এটিই তার হৃদয়ের তাকওয়া। ২২: ৩২; তাকওয়াকে প্রদর্শনমুক্ত করার বর্ণনায় আল্লাহ বলেন- لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ অর্থাৎ- এদের গোশত ও রক্ত কোনটিই আল্লাহর নিকট পৌঁছে না। আল্লাহর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। ২২: ৩৭; সুতরাং ঘোষণা দিয়ে মুত্তাকি হওয়ার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ ভালো করেই জানেন কে মুত্তাকি আর কে নয়। তিনি বলেন-هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى অর্থাৎ- তিনিই সব থেকে ভালো জানেন কে মুত্তাকি? ৫৩: ৩২;
প. হতাশা, বিষণœতা, যাবতীয় বিপদ থেকে বাঁচার পথ তাকওয়া- সামাজিক, অনিষ্টতা, ব্যাষ্টিক অস্বস্তি, যাবতীয় অশান্তি সঙ্কট ও জটলা থেকে বাঁচাতে পারে তাকওয়ার অনুশীলন। আল্লাহ বলেন- وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا অর্থাৎ- যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য মুক্তির একটি ব্যবস্থা করে দেন। ৬৫: ০২;
ফ. মুত্তাকিরাই সর্বাধিক সম্মানিত- মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলে যে অভিধা প্রযুক্ত করা হয়েছে তার নেপথ্যের বিষয় হচ্ছে আহলুল্লাহ বা আল্লাহর সান্নিধ্য প্রাপ্তি। যা তাকওয়ার আরেক নাম। অর্থ বিত্ত ঐশ^র্য, বংশ ইত্যাদি সম্মানের বিষয় বলে পরিগণিত হবে না আল্লাহর দরবারে, বরং কেবল তাকওয়াই হবে সম্মানের জন্য বিচার্য বিষয়। আল্লাহ বলেন- إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ অর্থাৎ- তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকটে সেই সর্বাধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অতিমাত্রায় মুত্তাকি। ৪৯: ১৩; কুরআনুল কারিমের প্রধান আলোচ্য বিষয় মানুষ। আর মানুষের আত্মশুদ্ধির মূল চালিকাশক্তি তাকওয়া। তাই এই দুইয়ের আলোচনায় ভরপুর কুরআনুল কারিম। কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের জন্য। আর মানুষকে পরিশুদ্ধ মানুষ বানাতে তাকওয়ার অনুশীলন অনস্বীকার্য। সুতরাং তাকওয়ার বিষয়টি এ গ্রন্থে যথাগুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বলা হয়েছে- هُدًى لِلنَّاسِ এটি মানবতার জন্য হিদায়াতগ্রস্ত। আবার বলা হয়েছে- هُدًى لِلْمُتَّقِينَ মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াতগ্রন্থ। তবে এতদুভয়ের সমন্বয় সাধন করে অন্যত্র বলা হয়েছে- هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ অর্থাৎ- এটি মানবজাতির জন্য স্পষ্ট বর্ণনা। এবং মুত্তাকিদের উপদেশ ও পথনির্দেশিকা। ০৩: ১৩৮;
তাকওয়ার আলোচনা অনেক বিস্তৃত। এ নিয়ে গবেষণা প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকবে। এ নিয়ে আলোচনার ব্যাপ্তি, পরিসর, আঙ্গিক কোনোদিনই শেষ হবে না। আল্লাহ আমাদের সকলকে মুত্তাকির গুণে বিভূষিত করুন। দুনিয়াতে মুত্তাকির ইজ্জত-সম্ভ্রম দান করুন। আখিরাতে মুত্তাকির আলো, রহমত ও বরকতের প্রাবল্যে জ্যোতির্ময় করুন। মুত্তাকিদের জন্য নির্মিত জান্নাতের মেহমান তালিকার শীর্ষে আমাদের নামকেও অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।
লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও প্রফেসর, ইবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির