সর্বশেষঃ
post

স ম্পা দ কী য়

ছাত্র সংবাদ ডেস্ক

২২ মার্চ ২০২২

রহমত-বরকত-মাগফিরাতের সওগাত নিয়ে পবিত্র রমাদান সমাগত। বিশ্বের বিস্ময় জাগানিয়া এই মাসটি পেয়ে প্রতি বছর বিশ্বাসী হৃদয়গুলো আনন্দে আন্দোলিত হয়; পথহারা মানুষগুলো খুঁজে মুক্তির দিশা। রমাদানের পবিত্রতায় নিজেদের আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সমাজ থেকে সব ধরনের অন্ধকার ও কুসংস্কার দূরীভূত করার প্রত্যয়ে শপথ গ্রহণ করার মোক্ষম সুযোগ এই মুহূর্তগুলো। সিয়ামের সৌরভে সুরভিত হয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হলে মানবজীবনে রমাদান ও সিয়ামের পূর্ণতা পাবে। রমাদানের ১৭ তারিখ ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ আমাদের শিক্ষা দেয় বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে জালিমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার। অন্যদিকে এই যুদ্ধটি বিশে^র বুকে যুদ্ধনীতিতে মানবিকতার সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে থাকবে চিরন্তন।

প্রতি বছর রমাদান শুরুর আগে থেকেই বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকা বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থায় একটা অলিখিত দলিলে পরিণত হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি ও চরম অতিষ্ঠতায় সরকারের আমলাদের সন্তুষ্ট থাকা অমানবিক ও ধৃষ্টতার অন্যতম নিদর্শন। করোনা মহামারীর পর দেশের আপামর মানুষের আয়ের রাস্তাগুলো যখন রুদ্ধ তখন পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ানো স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে কিছু সামর্থ্যবান অবিবেচক মানুষ রমাদান শুরুর পূর্বেই ৩০ দিনের বাজার এবং রান্নার বিশেষ রুটিন তৈরি করেন। এজন্য বিশেষ কেনাকাটার আয়োজন করে সারা মাস খুব ভালোভাবে খাওয়া দাওয়া করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর প্রভাবেও বাজারমূল্য হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় রমাদান মাসকে তারা খাবারের উৎসব হিসেবে প্রদর্শন করে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রমাদান কোনো খাদ্য-উৎসবের মাস নয়, বরং এটি শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ইবাদতের মাস। এখানে নিজের খাবারের প্রতি এত যত্ন আর চিন্তা না করে আশপাশে হাজারো না-খাওয়া মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

বর্তমান সরকার মদের লাইসেন্স দেয়ার মতো জঘন্য কাজ করে আত্মতুষ্টিতে ভোগছেন। মূলত এর মাধ্যমে অশ্লীলতাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা মাদক সেবনকারী, বিক্রেতা ও মাদক বহনকারীদের ওপর অভিশম্পাত করেছেন; পবিত্র কুরআনে কঠোরভাবে মদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার হারাম করা জিনিসকে বৈধতা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। এর মাধ্যমে সমাজের কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তথাকথিত উন্নত সভ্যতার দাবিদার দেশগুলো এখন মাদকের ছোবলে জর্জরিত হয়ে নিজেদের অসহায়ত্ব স্বীকার করে নিয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তারা তাদের সন্তানদের মানুষ করতে পারছেন না। এই যন্ত্রণায় পড়ে বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এর সাথে সরকার ওটিটি নীতিমালা ফ্রেমের মাধ্যমে নির্লজ্জতাকে সামগ্রিকভাবে প্রশ্রয় দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। এটা মাদকতাকে আরো উসকানি দেবে। এই সমস্ত অবৈধ কাজের প্রত্যক্ষ মদদ দেওয়া জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ধরনের সুস্পষ্ট অপকর্ম কোনো দায়িত্বশীল সরকার করতে পারে না। দেশের আপামর জনতাকে এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির