মুক্তির মঞ্জিলে দৃষ্টি রাখো -সালাহউদ্দিন আইউবী

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করছি, রাসূল সা.-এর ওপর দরূদ এবং সংগঠনের ২৩৪ জন ভাইসহ দ্বীনের বিজয়ে প্রত্যয়ী অগণিত শহীদের জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করছি। নতুন সেশনে নির্বাচিত ও মনোনীত দায়িত্বশীল ভাইদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে যথাযথভাবে ইসলামী আন্দোলনের এ কঠিন জিম্মাদারি পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
আপনাদের ওপর অর্পিত দ্বীনি আন্দোলনের এই বিশাল আমানতের খেয়ানত যেন না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে, আমাদের সকলকেই এ দায়িত্বের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামী আন্দোলনে দায়িত্বের ব্যাপারে যেমন আকাক্সক্ষা করা যায় না, আবার দায়িত্ব দেওয়া হলে তা ফেলে পালিয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই; বরং অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে এ দায়িত্বকেই পরকালের নাজাতের উছিলা হিসেবে পরিণত করার চেষ্টা করতে হবে।

(দ্রষ্টব্য : সূরা হা-মিম-সাজদাহ : ৩১, সূরা আহকাফ : ১১, সূরা আত-তাওবা : ২০-২২)।
আমরা একটি ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি। যেখানে রাসূল সা.-এর শেখানো পদ্ধতিই হবে আমাদের জন্য একমাত্র অনুকরণীয় পদ্ধতি; পরিপূর্ণ আস্থা নিয়ে দৃঢ়তার সাথে এ পথকে আঁকড়ে ধরতে হবে আমাদের। তার জন্য উপযুক্ত হিসেবে গড়ে উঠতে হবে প্রত্যেক জনশক্তিকে। একজন দক্ষ কর্মীগঠনের প্রস্তুতি হিসেবে ঈমান, ইলম, আমল, আখলাক, মৌলিক মানবীয় গুণাবলি, ক্যারিয়ার, সাংগঠনিক দক্ষতা, সংগঠনের সাথে দৃঢ়-সংযুক্তি, সমাজ পরিবর্তনের দক্ষতা প্রভৃতি কাক্সিক্ষত মানের করতে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
ইসলামী সে সমাজ তৈরির অংশ হিসেবে সর্বাগ্রে আমাদের প্রত্যেককে ইসলামের ধারক হতে হবে। জনশক্তিরা আমাদের জন্য আমানত। তাদের প্রত্যেককে যথাযথভাবে গড়ে তোলা এবং তাদের মাধ্যমে আন্দোলনের কাজকে বেগবান করা দায়িত্বশীল হিসেবে আমাদের কর্তব্য। সে লক্ষ্যে সদস্য ভাইদেরকে ২০২১ সাংগঠনিক সেশন পরিচালনায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ব্যক্তিগত
১. ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব পালনের জন্য যে শক্তি, সামর্থ্য, যোগ্যতা প্রয়োজন সেসবের নিরঙ্কুশ মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহর কাছে ধরনা দিয়েই সেসব যোগ্যতা হাসিল করতে হবে। আর যোগ্যতা হাসিল করতে হলে আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হবে। (দ্রষ্টব্য : সূরা আলে ইমরান : ৩১)
২. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের তিনটি মৌলিক যোগ্যতা অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে, ইসলামী নৈতিক চরিত্র, মৌলিক মানবীয় গুণাবলি ও জাগতিক শক্তি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ইসলামী নৈতিক চরিত্র অর্জন। ইসলামী নৈতিক চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখর হচ্ছে ইহসান। প্রত্যেক সদস্য ভাইকে মুহসিন হিসেবে পরিগণিত হতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।
৩. ছোট বড় সকল প্রকার গুনাহের কাজের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে সে অনুসারে পথ চলতে হবে।
৪. ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি সমাজের নানান দিকের (যেমন : অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষানীতি, সমাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি) রূপরেখা ইসলামের আলোকে কেমন হবে সেটার ব্যাপারেও ধারণা রাখা প্রয়োজন। একই সাথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে অর্জিত জ্ঞানের সব কিছুই আমলে পরিণত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। (দ্রষ্টব্য : হাশরের ময়দানে ৫টি প্রশ্নের উত্তর সংক্রান্ত হাদীস)
৫. সকল জনশক্তিকে দায়িত্ব, পটেনশিয়ালিটি ও সক্ষমতার আলোকে কাজে লাগানো এবং কাজে টিম স্পিরিট নিয়ে আসা প্রয়োজন।
৬. গোটা সংগঠনকে এমনভাবে পরিচর্যা করা যাতে এটি একটি জান্নাতের বাগানে পরিণত হয়। সেজন্য-জনশক্তির নিবিড় তত্ত্বাবধান, অকৃত্রিম সাহচর্য, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার। (দ্রষ্টব্য: সূরা ছফ : ৪, সূরা ফাতহ : ২৯)। সর্বপর্যায়ে আনুগত্য, পরামর্শ ও এহতেসাবের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. আমাদের ক্যারিয়ার হবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য। নিজেদেরসহ সকল জনশক্তির সাংগঠনিক কাজ ও একাডেমিক কাজে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো দরকার। বিশেষভাবে সময় অপচয় রোধে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।
৮. ব্যক্তি হিসেবে পরিবারের হক, আত্মীয়-প্রতিবেশীর হক, বন্ধু-স্বজনের হক আদায়ের চেষ্টা করা দরকার।
৯. আন্দোলনের প্রতিটি কাজ হক আদায় করে করবেন, এমনভাবে করবেন যেন আপনার মাঝে কনফিডেন্স তৈরি হয় যে, এ কাজের মাধ্যমে আপনি আল্লাহকে খুশি করতে পারছেন।
১০. প্রতিটি কাজ গুছিয়ে করবেন যাতে করে পরবর্তীতেও এ কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সহজ হয়। আপনার পূর্বের প্রাপ্ত কল্যাণকর কাজগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবেন।

সেট-আপ ও পরিকল্পনা
১. দ্রুততম সময়ে উপশাখা পর্যন্ত সকল সেট-আপ শেষ করা।
২. ৬-১৪ তারিখের মধ্যে সাংগঠনিক দশক এবং ১৬-২২ তারিখের মধ্যে বায়তুলমাল ও পাঠাগার সপ্তাহ পালন করবেন।
৩. কেন্দ্রের পরিকল্পনার আলোকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন (কেন্দ্রের পরিকল্পনার আলোকে শাখার, শাখার পরিকল্পনার আলোকে থানার, থানার পরিকল্পনার আলোকে ওয়ার্ড/ইউনিয়ন/উপশাখার পরিকল্পনা)। এক্ষেত্রে মূল পরিকল্পনার পাশাপাশি জনশক্তির একাডেমিক আউটপুট ও প্রফেশনাল আউটপুট পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার (কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত ছক অনুযায়ী)। এছাড়াও বার্ষিক ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৪. সংগঠনের সকল স্তরে এক্সিকিউটিভ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট জনশক্তিদের বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
৫. কাজের সকল পরিকল্পনা নিজে ভালোভাবে বুঝা, তদনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা এবং সকল জনশক্তিকে কাজের পরিকল্পনা ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়া দরকার।

দাওয়াত
১. প্রত্যেক জনশক্তি দাওয়াতি কাজে সম্পৃক্ত হবেন, পাশাপাশি সমর্থকদেরও দাওয়াতি কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করবেন।
২. উপশাখাসহ সকল স্তরে ব্যাপকভিত্তিক দাওয়াতি প্রোগ্রাম আয়োজন করা দরকার (যেমন : কুইজ প্রতিযোগিতা, চা চক্র, বনভোজন, গল্প বলার আসর, ইত্যাদি)।
৩. প্রত্যেক জনশক্তি নিজ নিজ ক্লাসমেট ছাত্রদেরকে দাওয়াত দানের লক্ষ্যে ‘আজীবন বন্ধু’ বানাবেন।
৪. মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যাপক হারে দাওয়াতি কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সকল মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে পাঠক ফোরামের কমিটি গঠন এবং প্রতিমাসে কমপক্ষে একটি করে কিশোরকণ্ঠ কুইজের আয়োজন করা প্রয়োজন। নতুন কিশোরকণ্ঠের গ্রাহক বৃদ্ধির জন্য নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
৫. ব্যক্তিগত যোগাযোগে পরস্পরের এবং প্রতিটি বৈঠকে ব্যক্তিগত দাওয়াতের খোঁজখবর নেওয়া প্রয়োজন। সোমবারকে দাওয়াতি বার হিসেবে কাজে লাগানো। দাওয়াতি উপকরণগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। ২০ : ১৫ : ১০ হারে বন্ধু বৃদ্ধি এবং ১২ : ১০ : ৫ হারে সমর্থক বৃদ্ধির চেষ্টা করা। ব্যয়ের ন্যূনতম ২০% দাওয়াতি কাজে খরচ করা।
৬. মেধাবীদের সংগঠনে নিয়ে আসার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাদের উপযোগী আকর্ষণীয় দাওয়াতি প্রোগ্রাম আয়োজন করা। চার ক্যাটাগরির ছাত্রদের (সিঙ্গেল ডিজিট, জিপিএ-৫, প্লেসধারী, প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান) তালিকা করে দাওয়াতি টার্গেটের অধীনে আনা। প্রত্যেক শিশুর জন্মের পর উপহার প্রদানের চেষ্টা করা।

৭. ‘যেখানেই ছাত্র, দাওয়াত দানের লক্ষ্যে সেখানেই আমরা’- এই স্লোগান বাস্তবায়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। অমুসলিম ছাত্রদের মাঝেও বছরের শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে দাওয়াতি কাজ করা দরকার। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক জনশক্তি কমপক্ষে ২ জন অমুসলিম ছাত্রকে টার্গেটের আওতায় নিয়ে আসবেন।
৮. প্রত্যেক জনশক্তি একজন ছাত্রকে কুরআন পড়া শেখাবেন এবং দাওয়াত দানের উদ্দেশ্যে কমপক্ষে একজন নতুন ছাত্রকে একাডেমিক বিষয়ে নিবিড় তত্ত্বাবধান করবেন; প্রয়োজনে তাকে ফ্রি প্রাইভেট পড়াবেন।
৯. খাসভাবে ব্যক্তির প্রতি দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি জনশক্তিদের আম দাওয়াতি কাজে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন (যেমন: প্রবন্ধ লেখা, বই লেখা, ওয়ায়েজিন হওয়া ইত্যাদি)।
১০. বিশেষ গুরুত্বের সাথে পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে অনলাইনে দাওয়াতি কাজ বাড়ানো দরকার।
১১. নীরব বিপ্লবের অংশ হিসেবে আত্মীয়-স্বজন, বিশেষ করে পরবর্তী প্রজন্মকে দীর্ঘমেয়াদি টার্গেটের অধীনে নিয়ে আসা দরকার।

সংগঠন
১. ‘প্রত্যেক জনশক্তি একেকটি স্বপ্নের নাম’। প্রত্যেককে একটিভ রাখা এবং প্রত্যেকের পটেনশিয়ালিটির সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধনের মধ্য দিয়ে সুন্দরতম পর্যায়ে গড়ে তোলার জন্য দায়িত্বশীলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।
২. যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকায় সংগঠন নেই বছরের শুরুতেই সেগুলোয় সামর্থ্যরে আলোকে সংগঠন সম্প্রসারণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। উপশাখার মৌলিক প্রোগ্রামসমূহ নিয়মিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা দরকার। এক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহে কুরআন তালিম, দ্বিতীয় সপ্তাহে সামষ্টিক পাঠ, তৃতীয় সপ্তাহে সাধারণ সভা, চতুর্থ সপ্তাহে কর্মী বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে।
৩. প্রত্যেক সদস্য-শাখার সকল সদস্যদের সাথে বছরে অন্তত একবার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার/ তত্ত্বাবধানকৃত শাখার সকল সাথী ও কর্মীর সাথে নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ করবেন। তত্ত্বাবধায়কের সাথে প্রতি ৬ মাসে একবার করে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করবেন।
৪. জনশক্তির প্রত্যেকেই পারতপক্ষে ক্লাসমুখী হবেন। প্রতিটি ক্যাম্পাস-সংগঠনকে মজবুত করার জন্য পরিকল্পনার আলোকে সবাই মিলে প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।
৫. ছাত্রজীবন শেষ হওয়া সকল ভাই, বৃহত্তর সংগঠন এবং এর বাইরেও অনেক ব্যক্তি আছে যারা ছাত্রশিবিরকে ভালোবাসেন তাদেরকেও সুধী বানানো।
৬. বায়তুলমালের লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আমানতদারিতা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে ‘রসিদ ছাড়া আয় নয় ভাউচার ছাড়া ব্যয় নয়’ এই স্লোগান বাস্তবায়ন করা।

প্রশিক্ষণ
১. নিজের ও জনশক্তির একাডেমিক ও সাংগঠনিক অধ্যয়নের (কুরআন, হাদীস, ইসলামী সাহিত্য ও পাঠ্যপুস্তক) তত্ত্বাবধান আরও বাড়ানো দরকার। ব্যক্তিগত পাঠাগার তৈরিতে জনশক্তিদের উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন।
২. সমর্থক ও কর্মী বৃদ্ধির বছর হবে ২০২১।
৩. সকল জনশক্তিকে মানোন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসা। মান নিশ্চিত করে মানোন্নয়নের বিষয়ে জোর দেওয়া। শুধু কোয়ান্টিটি নয়, বরং কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি উভয়ই নিশ্চিত করা দরকার।
৪. টার্গেটভিত্তিক ৩ : ২ : ১ হারে মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৫. সদস্যদের বিয়ে-চাকরি-ছুটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুমোদন লাগবে।
৬. সকল জনশক্তিকে মানোন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার।
৭. প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতা:
থানা দায়িত্বশীল ওয়ার্কশপ : ফেব্রুয়ারি
ওয়ার্ড দায়িত্বশীল ওয়ার্কশপ : ফেব্রুয়ারি
উপশাখা দায়িত্বশীল ওয়ার্কশপ : ফেব্রুয়ারি
সদস্য ও সাথী টিসি : ফেব্রুয়ারি
সাথী ও কর্মী টিসি : মার্চ-এপ্রিল
৮. সকল জনশক্তিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন। নিষ্ক্রিয় জনশক্তিদের নিষ্ক্রিয়তা দূর করার জন্য মমত্ববোধ সহকারে পদক্ষেপ নেওয়া। ২০২১ সাল হবে ১০০% জনশক্তিকে সক্রিয় করা ও কাজে লাগানোর বছর।
৯. তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে জনশক্তিকে আরও সতর্ক করা। শরীয়তের নির্দেশনা ও সংগঠন কর্তৃক প্রদত্ত অনলাইন নীতিমালা অনুসরণের তত্ত্বাবধান বাড়ানো। সদস্য ভাইয়েরা সিঙ্গেল রুমে থাকবেন না।
১০. সর্বপর্যায়ের জনশক্তির সঠিক চিন্তার ঐক্য নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নিজের মতের কুরবানি দেয়ার মানসিকতা তৈরি করা দরকার।
১১. সকল স্তরে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম হক আদায় করে বাস্তবায়ন করা দরকার। থানা, ওয়ার্ড/ ইউনিয়ন পর্যায়ে একমাসে টিএস অন্য মাসে শব্বেদারি প্রোগ্রাম নিয়মিতভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা প্রয়োজন।
১২. শুদ্ধ তিলাওয়াত শেখার ব্যাপারে জনশক্তিদের উৎসাহী করতে প্রয়োজনীয় মোটিভেশন চালানো প্রয়োজন।
১৩. সংগঠনের সকল পর্যায়ে কুরআনের চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রতি মাসে কুরআন স্টাডি ক্লাস, কুরআন ক্লাস, কুরআন তালিম নিশ্চিত করাসহ কুরআনের ভাষায় কুরআন বুঝার প্রতি জোর দিতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তিদের নিয়ে সাপ্তাহিক দারসুল কুরআন আয়োজনের ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্রসমস্যা সমাধান
১. বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির ব্যাপারে ওয়াকিফহাল হওয়া এবং ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা জানা ও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
২. ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক ও ছাত্রদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ব্লগ প্রভৃতি), পত্রিকা প্রভৃতিতে লেখালেখি করা প্রয়োজন।
৩. ছাত্রদের ব্যক্তিগত সমস্যা নিজ থেকেই বুঝে মমত্ববোধ সহকারে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
৪. ছাত্র-সংশ্লিষ্ট সামাজিক কাজ করা দরকার। অকৃত্রিমভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ
১. সংগঠনের জনশক্তিদের সমাজ/ রাষ্ট্র/ প্রতিষ্ঠানের আগামীর নেতৃত্বদানে যোগ্য করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ব্যাপারে সচেতন রাখা দরকার।
২. দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করা প্রয়োজন।
৩. বৃহত্তর আন্দোলনের সাথে সমন্বয় ঠিক রেখে কাজ করতে হবে।
৪. শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও কারাবন্দী ভাইদের সাধ্যমত খোঁজখবর রাখা দরকার।
৫. ইসলামী সংস্কৃতি ধারণ, বহন, লালন ও ছড়িয়ে দেওয়ায় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিআইসিএস

SHARE

Leave a Reply