স ম্পা দ কী য়

জাগতিক অমানিশা ভেদ করে এক কু-লি আলোর বিচ্ছূরণ আছড়ে পড়লো হেরা গুহায়। শান্তির সুশীতল বার্তা এনে পৃথিবী আলোকিত করলেন রহমাতুল্লিল আলামিন। নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের মুক্তির দিশা দিতে নেমে পড়লেন ময়দানে। কেঁপে উঠলো বিশ্বের নামকরা স্বৈরাচারী শাসকদের মসনদ। ইতিহাসের চরম জাহেলিয়াতকে সংস্কারের কাজে তাঁর অবিরত আন্দোলন চলতে থাকলো। চরিত্রগঠন ও সমাজ পরিবর্তনের এ আন্দোলনে হাজারো গোলাপ রক্তেরাঙা হাসি মেখে সুবাসিত পাপড়ি ছড়াল পৃথিবীময়। শত সহস্র যুগের ঘনীভূত জুলমাত কেটে গেল নিমিষেই।

এই পরিবর্তন এমনি এমনি হয়ে উঠেনি। শত জুলুম-পীড়ন-নির্যাতন-বিরোধিতা সহ্য করে যেতে হয়েছে অকপটে। সইতে হয়েছে বিরূপ সমালোচনা, গালি-গালাজ ও শারীরিক নির্যাতন। রাসূল সা.-এর দাওয়াতি কৌশল ছিল পরিবেশের আলোকে ধাপে ধাপে। নবুওয়াতের প্রথম তিন বছরে একান্ত নীরবে এই মিশন চালাতে হয়েছে। একান্ত পারিবারিক এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুমহলে এসময় দাওয়াত দিতে হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে আত্মগঠনের জন্য চলেছে প্রশিক্ষণ। ষষ্ঠ থেকে দশম বছর ইসলামের দাওয়াত খানিকটা সম্প্রসারিত হয়। তখন এই দায়িত্ব বেড়ে যায় খানিকটা বেশিই- “তিনিই ঐ সত্ত্বা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে (তিনি ও তাঁর অনুসারীরা) ঐ দ্বীনকে অন্যসব দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন।” (সূরা তওবা : ৩৩, সূরা ফাতহ্ : ২৯, সূরা সফ : ০৯)

বিপ্লবী এই সময়টাতে অবহেলিত মানুষের পাশাপাশি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষেরাও এগিয়ে আসে ইসলামের ছায়াতলে। ফলে মক্কার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা উত্তেজিত হয় এবং জুলুমের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। আজও যেমন বিশ্বের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত মার খেয়ে যাচ্ছে ইসলামের অনুসারী এবং তার দাঈগণ। ফিলিস্তিন, চীন, কাশ্মির, দিল্লি, আসাম, সিরিয়া বা আরাকান আমাদের সামনে জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। কিন্তু ইসলামকে মহান আল্লাহ চিরবিজয়ী করে পাঠিয়েছেন। ইসলামের বিজয় শাশ্বত ও চূড়ান্ত। মহান আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করেছেন “তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো (নূর) নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তা হতে দিবেন না, তিনি তাঁর সেই আলোকে পূর্ণ না করে ছাড়বেন না, যদিও কাফিরগণ তা অপছন্দ করে। (সূরা তওবা : ৩২)

এই দীপ্ত ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে প্রিয়নবী সা. সর্বাত্মক পরিবর্তন ঘটান। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সব সেক্টরেই কল্যাণ ও সুন্দর ছাড়া অন্য কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় না। তাঁর অনুপম দূরদর্শিতায় কোথাও ছিল না দুষ্কৃতি বা বিকৃতি। তিনি দয়া, করুণা, সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, ভদ্রতা, ক্ষমা, ধৈর্য, ন্যায়পরায়ণতা, বীরত্বের দিক থেকে পরিপূর্ণতার অনন্য দৃষ্টান্ত। অসাধারণ গুণাবলি দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বসেরা একদল পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব, অনুস্মরণীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ।

বাংলাদেশের আকাশে আজকের যে অন্ধকার; মানুষের অধিকার অমানিশার অন্তরালে হরণ করা হয়েছে। তার নব সূচনার নাম ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সাল। দিনের আলো কালো করে ধ্বংস লীলা চালায় আওয়ামী লীগ। তাজা প্রাণ মুজাহিদরা আমৃত্যু স্বপ্ন লালন করে রিসালাতের নূর ছড়ানোর। তাদের রক্ত উহুদের ন্যায় ধূলোয় মিশে কালো বাংলাদেশের যাত্রা আজ পর্যন্ত চলমান। উহুদের শিক্ষা বিপ্লব ত্বরান্বিত করেছিলেন সাহাবাগণ। নতুন বিপ্লবের মুজাহিদদের জাগতে হবে এবার।

SHARE

Leave a Reply