post

আত্মহত্যা ও আমাদের সমাজ

কবি ড. কামরুল হাসান

১৪ অক্টোবর ২০২২

জন্ম এবং মৃত্যুই মূলত জীবনসৌন্দর্য। জন্মেছি বলেই জীবনের এত আয়োজন। জীবনকে সাজাবার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। জীবনের সকল আয়োজনকে রাঙাবার প্রয়াস আমাদের সর্বদাই। আর মৃত্যু আছে বলেই জীবন এত সুন্দর। যদি মৃত্যু না থাকত তবে জীবন কেমন হতো? জীবনটা নিশ্চয়ই বিষাদময় হয়ে যেত। জীবনের নিত্য হিসাব গোলমেলে হয়ে যেত। ভাবুন তো- যে একবার জন্ম নিত সে যদি আর কখনও মারা না যায় তবে পৃথিবীর আবাস কেমন দুর্বিষহ হতো? নোবেল বিজয়ী জাপানি ঔপন্যাসিক হোসে মারামাগো তার নোবেল প্রাপ্তির জন্য মনোনীত উপন্যাস ডেথ উইথ ইন্টেরাপশানস-এ মৃত্যুহীনতার ভয়াবহতার দুর্লভ চিত্র অঙ্কন করেছেন। সত্যিই এ এক অনবদ্য চিন্তা। আমাদের নিকট স্বজন-সজ্জন কেউ মারা গেলে আমরা ব্যথিত হই। এটিই মানবিকতার দাবি। তবে তার মৃত্যুকে আমরা মেনেও নিই। এটি কেবল বাধ্যবাধকতা থেকে নয়। বরং এর আবশ্যক প্রয়োজনীয়তা থেকেও। এ প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি যত সহজ ও আগেভাগে হবে ততই ভালো। তাই আল্লাহ কেবল জীবন সৃষ্টি করেননি। সৃষ্টি করেছেন মৃত্যুও। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ ঘোষণা করেন- ‘আল্লাহ সেই মহান সত্তার প্রতিভূ যিনি মৃত্যু এবং জীবনকে সৃষ্টি করেছেন এ বিষয়ে যাচাই করার জন্য যে- কে তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম আমলকারী হতে পারো?” (৭৬ : ০২) এ আয়াত প্রমাণ করে- আল্লাহ কেবল জীবন সৃষ্টি করেননি তিনি মৃত্যুও সৃষ্টি করেছেন। এ আয়াতে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় যে, তিনি মৃত্যুকেই আগে সৃজন করেছেন। আয়াতে মাওত শব্দের পূর্বোল্লেখ থেকে সে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আয়াতের ভাষ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছে আমাদের জীবন ও মৃত্যুর মালিক কে? আসমান ও জমিনের প্রতিপালক আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই জীবন ও মৃত্যুর একমাত্র মালিক। সুতরাং আমার জন্ম যেরূপ আমার ইচ্ছায় হয়নি তেমনি মৃত্যুও আমার ইচ্ছাধীন হবে না সেটিই যৌক্তিক। কারণ মৃত্যুর মালিক তো আমি নই।

জীবনের মালিক যেহেতু আল্লাহ তাই তিনি জীবন পরিচালনার জন্য দিয়েছেন বিধি-বিধান। আর মৃত্যুর মালিকও আল্লাহ। তাই তিনি মৃত্যুর জন্যও বেঁধে দিয়েছেন মৃত্যুর সময়সীমা এবং প্রতিটি মৃত্যুকে সুন্দর করতে দিয়েছেন কতিপয় নিয়মের অনুশীলন। আমরা যদি এই সকল নিয়মের অনুবর্তী থেকে জীবনকে পরিচালনা করি তাহলে সুন্দরতর হবে আমাদের জীবন ও মৃত্যু। সহজতর হবে আমাদের মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের প্রত্যেকটি পরিক্রমা। অঘটন ঘটে তখন যখন ব্যত্যয় ঘটে ¯্রষ্টার দেওয়া অমোঘ বিধান পরিপালনে। তাই জীবন ও মৃত্যুকে দিতে হবে তার আপন পথে চলবার স্বকীয় স্বাধীনতা। সত্য কথা হচ্ছে- এই মৃত্যুই আমাদের পার্থিব জীবনের পরিসমাপ্তি টেনে দেয়। তবে জীবনের পরিসমাপ্তি এটি নয়। জীবনের পরিসমাপ্তি যদি এটি হয় তবে হত্যা ও মৃত্যুর মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না। তাহলে তো হত্যা কিংবা আত্মহত্যার মাধ্যমেই জীবনের যাবতীয় দুর্দশা হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতো।

আলোচনার মূল প্রসঙ্গে আসি। ল্যাটিন ভাষায় একটি শব্দ রয়েছে সুইসেইডেয়ার, যার ইংরেজি রূপ সুইসাইড। বাংলায় যাকে আত্মহত্যা বা আত্মহনন হিসেবে অনুবাদ করা হয়। আরবিতে আল-কাতলু বিন নাফস বা নিজেকে হত্যা করা বলা হয়। আরবি ভাষায় ব্যবহৃত পরিভাষায় আল-কাতলু শব্দটি হত্যা এবং আল-কাতলু বি-ন্নাফসি এক ধরনের হত্যা বা হনন প্রবণতা বুঝায়।

আর হত্যা বা হনন প্রবণতা সব দেশে, সকল ধর্মে, প্রত্যেক শাস্ত্রে নিষিদ্ধ ও দোষের হিসেবে সর্বস্বীকৃত। কুরআনুল কারিমেও হত্যাকে ধিকৃত ও মহাশাস্তির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে- “আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন এমন কাউকে তোমরা হত্যা করো না। তবে সত্যের প্রয়োজনে বা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য হলে তা স্বতন্ত্র কথা।” (১৭ : ৩৩) অন্যত্র আল্লাহ বলেন- “যে কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে তার প্রতিদান হলো জাহান্নামে চিরস্থায়ী বসবাস।” (৪ : ৯৩) শুধু তাই নয় মানুষ তার পূর্ণ অবয়ব প্রাপ্তির আগেই, কিংবা জরায়ুতেও তাকে হত্যা করতে বা ঐ জীবনকে প্রতিরোধ ও প্রবণতা ও প্রয়াসকে নিরুৎসাহিত ও নিষিদ্ধ করে বলা হয়েছে- “আর তোমরা তোমাদের সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করিও না যে সে তোমার খাবারের সাথী হবে।” (১৭ : ৩১) 

হত্যার বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এমনই পরিষ্কার। বিনা প্রয়োজনে কাউকে হত্যার কোনো সুযোগ নেই। আবার প্রয়োজনেও হত্যা যত কমানো যায় সে প্রচেষ্টা ইসলামের সর্বক্ষণের। ইসলামের ইতিহাস এ কথার সাক্ষ্য দেয় রাসূল সা.-এর মাদানি জীবনের দশ বছরে ছোট-বড় প্রায় আশিটি অভিযান পরিচালনা করেছেন। তিনি নেতৃত্বে থেকে বা না থেকে কুড়িটি অভিযানে শত্রুপক্ষের সাথে মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক বড় বড় যুদ্ধের আয়োজন হয়েছে। কিন্তু অতীব বিস্ময়ের বিষয় হলো এই সুদীর্ঘ সময়ে সকল যুদ্ধে মাত্র ২৫৯ জন মুসলমান এবং ৭৫৯ জন শত্রুসেনা নিহত হয়েছে। মাত্র এই কয়টি মানুষের জীবনের বিনিময়ে পৃথিবী পেয়েছে এক সুমহান আদর্শের মমতাময়ী স্পর্র্শ। পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় অর্ধেকের কর্তৃত্ব অর্জন করতে মাত্র ১০১৮ (২৫৯+৭৫৯) জনের জীবনপাত হয়েছিল।

মানুষের জীবনকে এইভাবে মূল্যায়িত করেছে ইসলাম। অথচ হিটলারের আমলে বিপ্লবের জন্য লক্ষ লক্ষ জনতার প্রাণহানি হয়েছিল। সেই হিরোশামা আর নাগাসাকির ভয়াবহতা, বীভৎসতা এখনও বিশ্বমানবতাকে কাঁদায়। ইসলাম তাই মনে করে অন্যকে হত্যা করার চেয়ে নিজেকে হত্যা করা আরও গুরুতর। নিজেকে হত্যা বা হনন করার প্রবৃত্তিই হলো আত্মহত্যা। আমরা সব সময় বলে থাকি- হত্যা সর্বদাই দোষের। প্রশংসার নয়। কেবল সত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন কিংবা গুরুতর কোনো অপরাধের প্রতিবিধানে ইসলাম হত্যাকে সমর্থন করে। তবে এর চর্চা কখনই ব্যাপকতর বা সর্বব্যাপী হয় না। আর মানবতাবাদীরা তো এমন দণ্ডবিধিরও নিন্দা করে।

আত্মহত্যা, আত্মহনন বা সুইসাইড যাই বলা হোক না কেন এটা মানুষের এক ধরনের দুষ্ট প্রবণতা। ইদানীং সর্বত্র যার সম্প্রসারণ পরিলক্ষিত। বলা যায় বিশ্বব্যাপী চলছে আত্মহত্যার মহোৎসব।

সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালায়। আর প্রতি চল্লিশ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। সে হিসেবে এই বিশ্বে প্রতিদিন দুই হাজার একশত ষাট (২৪দ্ধ৬০দ্ধ৬০/৪০=২১৬০) জন মানুষ আত্মহত্যা করে। সংখ্যা বিবেচনায় এটি অতি নগণ্য নয়। মানুষের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব নয়। তবে আত্মহত্যা রোধ করা অবশ্যই সম্ভব। মানুষের যে সকল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা প্রধানতম। দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, প্রসবকালীন মৃত্যু সতর্কতা বা চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে এ মৃৃত্যুর হার কমানো সম্ভব তবে তা নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আত্মহত্যার হার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা সম্ভব। অতি সাম্প্রতিক সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও আত্মহত্যার প্রবণতা হু হু করে বেড়েই চলেছে। গত ২০২০-২১ বর্ষে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ এ যত লোক আমাদের দেশে মারা গেছে তার চেয়ে বেশি মারা গেছে আত্মহত্যায়। ঐ সময়ে আমাদের দেশে চৌদ্দ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যার শিকার হয়েছে। মানবতার চিরন্তন আদর্শ ইসলাম আত্মহত্যার ব্যাপারে স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির বর্ণনা সুস্পষ্টরূপে। ইসলাম মনে করে- 

জীবনের মালিক একমাত্র আল্লাহ- মানুষের জীবনের মালিক একমাত্র আল্লাহ। সুতরাং এ জীবনকে সংহারের অধিকার আর কারো থাকতে পারে না। যেহেতু জীবনের মালিকানা কোনো মানুষের নেই। তাই কোনো মানুষের তার জীবন সংহারে প্রবৃত্ত হবার কোনো সুযোগ বা অধিকার নেই। ইসলাম আরো মনে করে যে, মানুষের জীবন মানুষের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত তার প্রতি আল্লাহর এ অনুগ্রহের যথোচিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সর্বোত্তম পন্থা হলো জীবনের সংরক্ষণ। তাই ইসলাম মনে করে- আত্মহত্যা তো অনেক পরের বিষয় জীবনকে যা ধ্বংসমুখে নিক্ষেপ করে এমন কিছু করাও ইসলামে অবৈধ। আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষণা- আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করিও না। (০২ : ১৯৫)

এ আয়াত থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, জীবনের জন্য ক্ষতিকর, শারীরিক মানসিক অসুস্থতার উপসর্গ এমন যে কোনো অনুষঙ্গের অভ্যাস ও ব্যবহার অনাবশ্যক ও অবৈধ। এজন্যই বোদ্ধা ইসলামি পণ্ডিতগণ তামাক, মাদক, নেশাকর দ্রব্য যা মাতালতা আনে কিংবা উত্তেজনা সৃষ্টি করে তার সবই হারাম। কেননা এসবই মানব শরীরে নানান অসুস্থতার নিরাপদ আশ্রয়। ধূমপান, জর্দা, গুল এমন জাতীয় নেশা যা প্রত্যক্ষ জীবনপাত ঘটায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবধানে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, উদরজ্বালা, আলসার ইত্যাদি ভয়াবহ রোগের সৃষ্টি করে। তাই এসব দ্রব্যের সেবন অসিদ্ধ ও নিষিদ্ধ। তাহলে আত্মহত্যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর নয় কি?

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অবৈধ- আত্মহত্যা এমন এক প্রক্রিয়া যাতে নিজের জীবনকে নিজেই সংহার করা হয়ে থাকে। অন্যভাবে বলা যায়- আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সভ্য আচরণের প্রকাশ হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যেকোনো দেশের সাংবিধানিক আইনেই অপরাধী হিসেবে গণ্য। আল্লাহর আইনেও তাই। সুতরাং আত্মহত্যাকে বৈধতা দানের সুযোগ কোথায়?

আত্মহত্যা-পরবর্তী জীবনে বীভৎসতা ডেকে আনে- আত্মহত্যা নশ্বর পৃথিবীর পার্থিব জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। তবে পরবর্তী জীবনে বীভৎসতার অভিষেক ঘটায়। অর্থাৎ যারা দুনিয়ার জীবনের প্রতি বিদ্বিষ্ট, বিষণ্ন কিংবা হতাশ হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আপন জীবনের উপর প্রতিশোধ প্রবণ হয় পরপারের জীবনে তার জীবনে মর্মান্তিক ভয়াবহতা অপেক্ষমাণ। এ বিষয়ে রাসূল সা. ঘোষণা করেছেন- “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার নিজ প্রাণ সংহার করে কোনো কিছু দিয়ে কিয়ামতের ঐ জিনিস দিয়েই তাকে বারবার শাস্তি দেওয়া হবে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

সংক্ষিপ্ত এ হাদিস থেকে উপলব্ধি করা যায় যে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেই আত্মহত্যা করবে কিয়ামতের পরবর্তীতেও সে ঐভাবেই শাস্তি পেতে থাকবে। সুতরাং কেউ যদি বিষপানে আত্মহত্যা করে থাকে জাহান্নামেও সে বারবার বিষপান করবে এবং মারা যাবে। এ বিষয়ে চমৎকার একটি হাদিসের বর্ণনা আমাদের কাছে রয়েছে- আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত হাদিস। তিনি রাসূল সা. হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূল সা. বলেছেন যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে নিজেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করবে। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। সেখানে সে অনন্তকালব্যাপী এইভাবে শাস্তি পেতে থাকবে। আর যে বিষপানে নিজের প্রাণ শেষ করে দিবে। সেও জাহান্নামে যাবে। তার হাতে থাকবে বিষ। এই বিষ দিয়ে সে জাহান্নামে অনন্তকালব্যাপী নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে। আর যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে। জাহান্নামে তাকে ধারালো ছুড়ি দেওয়া হবে। সেখানে সে ঐ ছুরি দ্বারা বারবার নিজেকে আঘাত করতে থাকবে। (বুখারি-৫৪৪২) হাদিসে পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। অতএব কেউ যদি বহুতল ভবন বা উঁচু বৃক্ষের ডাল থেকে লাফিয়ে পড়ে মরে সেও এই হুকুমের মাঝে শামিল হবে। হাদিসে বিষপানের কথা বলা হয়েছে তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই যুগে কেউ কীটনাশক কিংবা নিদ্রা আনয়নকারী ট্যাবলেট অতিমাত্রায় সেবন করে নিজের প্রাণ সংহার করে সেও এই হাদিসের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে। একইভাবে হাদিসে ধারালো অস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং মাথায় রিভলবার বা পিস্তল ঠেকিয়ে যে আত্মহত্যা করবে সেও এই হাদিসের হুকুমের মধ্যে পড়ে যাবে। রাসূল সা. অপর হাদিসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যাকারীর বিষয়ে সমশাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন। সুতরাং কোনো কারণেই আত্মহত্যার বৈধতা অন্বেষণ করা খুবই অযৌক্তিক ও তা অবশ্যই শরিয়তবিরোধী।

আত্মহত্যার পরিণাম নিশ্চিত জাহান্নাম- উপর্যুক্ত হাদিসে আত্মহত্যার পরিণাম বলা হয়েছে- তারা জাহান্নামি। অতএব জান্নাত প্রাপ্তি তার জন্য অসম্ভব হয়ে যায়। এর বড় কারণ হলো- আল্লাহর অধিকার ও ক্ষমতা খর্ব করার প্রচেষ্টা এবং খানিকটা স্পর্ধা প্রদর্শনের প্রয়াস। এ বক্তব্যের সুস্পষ্ট বিবরণসহ হাদিসে রাসূলে সা. এসেছে- “তোমাদের আগের জামানার এক ব্যক্তি আহত হয়, ব্যথাতুর হয়। ব্যথা সহ্যাতীত হয়। ফলে সে একটা ধারালো চাকু নেয়। তা দিয়ে সে তার হাত কেটে দেয়। অঝোরে তার হাত থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। এক পর্যায়ে সে মারা যায়। আল্লাহ বলেন- আমার বান্দা তার জীবন নিয়ে তাড়াহুড়ো করেছে। আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম। (বুখারি-৩২৭৬)

ইসলামে মৃত্যু কামনাও অবৈধ- আত্মহত্যা তো জীবন সংহার। এটি অনেক দূরবর্তী বিষয়। ইসলামে মৃত্যু কামনাও অবৈধ। তাই বিষণ্নতা, নিষণ্নতা, হতাশা কিংবা নিরাশার প্রাবল্যে কখনও মৃত্যু কামনা করা সমীচীন নয়। কারণ আল্লাহ তাকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ দিয়ে এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। মৃত্যু কামনা এক ধরনের কাপুরুষতা। এটি মুমিনসুলভ আচরণ নয়। তবে অসহনীয় যন্ত্রণা ও দুঃখ-কাতরতা পেয়ে বসলে তার করণীয় সম্পর্কে হাদিসে এসেছে। আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূল সা. অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় ইরশাদ করেছেন- “কেউ যেন বিপদগ্রস্ত হবার কারণে মৃত্যু কামনা না করে। যদি তার মধ্যে এমন অভিপ্রায় জেগেই থাকে তবে যেন সে এ দোয়া করে হে আল্লাহ তুমি আমার জীবনকে এতটা প্রলম্বিত করো যতক্ষণ পর্যন্ত তা আমার জন্য কল্যাণপ্রদ হয়। আর তখনই আমার জন্য মৃত্যু মঞ্জুর করো যখন তা আমার জন্য শ্রেয়তর হয়।” (বুখারি-৫৬৭১) 

এ হাদিস থেকে এ কথা বুঝা যায় শত কষ্টেও নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। বিনা কারণে হতাশ হবারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহর রহমতের ব্যাপ্তি অপ্রশস্ত নয়। আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া কোনো মুমিনের কাম্য নয়। মহান আল্লাহ বলেন- “বলুন, হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের জীবনের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হইও না। অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাপ্রবণ, দয়ার আধার।” (৩৯ : ৫৩) সুতরাং কোনোভাবেই জীবনকে হতাশাচ্ছন্ন করে, তাকে ধ্বংসের অতলান্তে নিক্ষেপ করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।

আত্মহত্যা শাস্ত্র স্বীকৃত মহাপাপ। পরপারে আত্মহত্যাকারীর কপালে নেমে আসবে মহাদুর্যোগের ঘনঘটা। তবে পার্থিব জীবনেও তার দুর্ভোগের কোনো কমতি নেই। এই পৃথিবীতে আত্মহত্যাকারী ও তার পরিবার যে সকল উপেক্ষা ও লাঞ্ছনার মুখোমুখি হয় সেসবের মধ্যে রয়েছে-

- তার জানাযা এক ধরনের সঙ্কটাবর্তে পতিত হয়। সমাজের গণ্য-মান্য ব্যক্তি ও গ্রহণযোগ্য আলিমরা তার জানাযায় উপস্থিত হতে বিব্রত বোধ করে থাকেন।

- তার জন্য দোয়া করা যাবে কি না এ নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগে তার উত্তর প্রজন্ম। আলিমদের মধ্যেও এ নিয়ে আছে মত-বিভক্তি।

- সামাজিক নানা ক্ষেত্রে তার পরিবার নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে থাকে।

- আত্মহত্যাকারীর পরিবারের সদস্যবৃন্দ সর্বতোভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টিকে গোপন রাখার সকল প্রকার চেষ্টা করে থাকে।

- আত্মহত্যা অনাদিকাল থেকেই সামাজিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।

উপরের এই আলোচনা হতে ইসলামের চিন্তা নিরিখে আত্মহত্যার পরিণাম সম্পর্কে জানা গেল যে, এটি মহাপাপ। আত্মহত্যাকারীর অবস্থান হবে জাহান্নামের অতল গহ্বর।

সর্বকালে, সর্বদেশে, সর্বাবস্থায় আত্মহত্যা মানবতা বিধ্বংসী অপরাধ হিসেবে পরিগণিত। প্রাচীনকালে আত্মহত্যাকারীর সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতো। এই পৃথিবীতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী আত্মহত্যাকারীর শেষকৃত্য দিনের বেলায় করা নিষিদ্ধ ছিল। কারণ এই আত্মহত্যা কেবল ব্যক্তিকেই হত্যা করে না। সমাজকেও আশু হত্যার দিকে নিয়ে যায়। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- অতি সম্প্রতিক আত্মহত্যার মতো গুরুতর বিষয়কে কোনো কোনো দেশে আইনি বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। তাদের বৈধতা দান নিঃসন্দেহে কোনো প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে। শিগগির তারা এ মনোবৈকল্য থেকে ফিরে আসবে। আত্মহত্যা হতে পৃথিবীর মানুষকে বাঁচাতে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করবে।

আত্মহত্যার এই প্রবণতা কেন?

আত্মহত্যা বর্তমান পৃথিবীর বড় একটি সমস্যা। বিশেষত দরিদ্র, অনুন্নত বিশ্বে এই সমস্যা আরো প্রকট। এই প্রবণতা প্রবৃদ্ধির সারণি খুবই ভয়াবহ। দিনকে দিন এর হার বেড়েই চলেছে। অধিকাংশ আত্মহত্যার সাথে মানসিক সমস্যা, বৈকল্য, বিকারগ্রস্ততা ইত্যাদির সংশ্লেষ খুঁজে পাওয়া যায়। তাই মনোবিজ্ঞানীরা এর কারণ উদঘাটনে তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। নিরত গবেষণা ও অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণে এর বহুবিধ কারণ চিহ্নিত হয়েছে। আমরা সংক্ষেপে এর কারণ ও তার ইসলামী সমাধান সমভিব্যাহারে আলোকপাত করছি।

স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য- যৌতুক, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক খুনসুটি, যার যার আভিজাত্য বিতর্ক থেকে মনোমালিন্য, তা হতে তিক্ততা। কখনও কখনও যার পরিণতি পায় দুইজনের একজনের আত্মহত্যা। এটি খুবই অনাকাক্সিক্ষত। ইসলামের ভাষ্য হলো- “তারা তোমাদের পোশাক তুল্য, আর তোমরাও তাদের পোশাক তুল্য।” (০২ : ১৮৭) বিদায় হজ্জে নবী সা. বলেছেন- তোমাদের অধিকার রয়েছে তোমাদের স্ত্রীদের উপর। তেমনি তাদেরও অধিকার রয়েছে তোমাদের উপর। এ দুটি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রাখলে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যাবে।

পিতা-পুত্র দ্বন্দ্ব- এটিও আমাদের সমাজের আত্মহত্যার একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত। এর বড় কারণ হলো পিতা এবং পুত্রের যথার্থ ইসলামী জ্ঞানের অভাব। কারণ প্রত্যেক পিতার উচিত সন্তানকে এমন শিক্ষা দান যাতে সে পিতা-মাতার নয়নের পুত্তুলি হতে পারে। আল্লাহর ঘোষণা- “আর যারা বলে- হে আমাদের রব আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন যারা আমাদের জন্য চক্ষুশীতলকারী হবে। আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।” (২৫ : ৭৪) এই পন্থায় স্ত্রী ও সন্তান প্রতিপালন করতে পারলে ঐ পরিবারে কখনও আত্মহত্যার মতো মহাপাপ হানা দিতে পারবে না।

দারিদ্র্য- দারিদ্র্যের কশাঘাত অনেক সময় জীবনকে বিষিয়ে তোলে। যা কোনো কোনো অস্থির বান্দাকে আত্মহত্যার প্রতি উদগ্রীব করে তোলে।

দুরারোগ্য ব্যাধি- দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক কষ্টও মানুষকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। শয়তান এ কাজে বান্দাকে প্রত্যক্ষরূপে সহযোগিতা করে থাকে।

ব্যবসায় লোকসান- এটি তো অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। অর্থনৈতিক ক্ষতি ব্যক্তিকে সমাজ ও পরিবারে ক্রমশ অপাঙক্তেয় করতে থাকে। যা তাকে মনোপীড়ায় ˜গ্ধীভূত করতে থাকে। এক সময় শয়তানের কুমন্ত্রণায় বাঁচার পথ খুঁজতে গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

অসভ্য জ্ঞান- জ্ঞানপূর্ণ কথা জ্ঞানীর হারানো সম্পদ। জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তবে জ্ঞানপাপী হওয়া যাবে না। যে জ্ঞান আপনাকে নাস্তিক বানায়, ¯্রষ্টা সম্পর্কে সন্দিগ্ধ করে সেই জ্ঞান অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এমন জ্ঞান মানুষকে এভাবে তাড়িত করে- যে জীবন মানুষের কল্যাণে আসে না সে জীবন রেখে লাভ কী? তখন সে নিজেকে সমাজের উচ্ছিষ্ট ভাবতে থাকে। এক সময় নিজের জীবন সংহারে প্রবৃত্ত হয়।

এ কয়টি প্রবণতার বিষয়ে ইসলামের বক্তব্য হলো- অভাব, দারিদ্র্য, রোগ-ব্যাধি, লাভ- লোকসান সবই পৃথিবীর প্রকৃতি এবং আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। সুতরাং এসবে অস্থিরতা নয়। ধৈর্য ধারণ, সালাতের মাধ্যমে প্রার্থনা, আল্লাহর সমীপে নিয়মিত ধরনা দিতে পারলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও দেশ আত্মহত্যার করাল থাবা হতে মুক্তি পাবে নিঃসন্দেহে।

অশ্লীলতার সম্প্রসারণ- অনেক সময় অশ্লীলতা আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সমাজ যখন অশ্লীলতায় ছেয়ে যায়। তখন মানুষের মতিভ্রম ঘটে। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আর যাবতীয় অঘটন সংঘটনে প্রবৃত্ত হয়।

জুয়াড়ি- জুয়াড়িদের মধ্যে বড় এক অংশে আত্মহত্যার প্রবণতার প্রাবল্য লক্ষ্য করা যায়। মানসিক ভারসামহীনতা ও হতাশা থেকে মানুষ আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে। সম্প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও গেম, প্রেম, অশ্লীলতা, অসভ্যতার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। আত্মহত্যা প্রবণতার সকল কারণ একত্র করলে মৌলিকভাবে যে কারণগুলো প্রকটরূপে ভেসে উঠে সেগুলো হলো-

- প্রথমত, হতাশা, নিষণ্নতা এবং একাকিত্ব- একাকিত্ব থেকে শুরু হয় নিষণ্ন তা, তা গিয়ে ঠেকে হতাশায়। ফলে সে জীবনের প্রতি হয় ত্যক্ত ও বিরক্ত। অথচ আল্লাহ বলেন- “হতাশ হয়ো না, ভেঙে পড়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।” (০৩ : ১৩৯) অর্থাৎ ঈমানের বটিকা হতে পারে মানুষকে যাবতীয় বিষণœতা, নিরাশ ও অসহায়ত্ব থেকে বাঁচার মোক্ষম দাওয়াই।

- দ্বিতীয়ত, লিপ্সা ও অতিরিক্ত প্রাপ্তির প্রত্যাশা একজন মানুষকে বিকারগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট। অর্থের মোহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা অবশ্যই কঠিন কর্ম। তবে এটি পারতেই হবে মুমিনদের। নতুবা সমাজে জীবন সংহার প্রবণতা বেড়ে যাবে অবলীলায়। আল্লাহ বলেন- “প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরে পেঁৗঁছাও।” (১০২ : ১-২) তাই অতিরিক্ত অর্থ প্রাপ্তির লালসা থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। 

- তৃতীয়ত, ক্রোধ, রাগ ও বিরক্তি থেকে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অন্যায় ও অযৌক্তিক ক্রোধকে ইসলামে অপসংস্কৃতি হিসেবে চিহ্নিত করে তা থেকে বাঁচতে বলা হয়েছে। কারণ আখিরাতে তা হবে সম্মান বৃদ্ধির স্মারক।

আত্মহত্যা প্রবণতা হতে বাঁচতে সমাজের করণীয়-

ক. এ অন্যায় প্রবণতা হতে বাঁচতে হলে সমগ্র মানবতাকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে।

খ. সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

গ. সময় কাটাতে হবে আল্লাহর কিতাবের সাথে, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সান্নিধ্যে।

ঘ. সন্তানকে দিতে হবে ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও জ্ঞান।

ঙ. পরিবার গঠন করতে হবে আদর্শের ভিত্তিতে। মুহাম্মদি আদর্শের আদলে।

চ. রাগ, লোভ, ক্রোধ সংবরণ করতে হবে।

তাই বাংলাদেশের কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের প্রতি বিনীত আবেদন-

- সন্তানকে দ্বীন শিক্ষা দিন। আত্মহত্যামুক্ত জাতি পাবেন। প্রৌঢ়ত্বে পাবেন সন্তানের খেদমত। আখিরাতে আল্লাহর রহমত।

- বেলেল্লাপনা সমাজ হতে অপসারণ করুন। হতাশামুক্ত জীবনের স্বাদ পাবেন।

- লোভ-হিংসামুক্ত জীবন গড়ুন। তুষ্টির স্বাদে প্রফুল্ল থাকবেন।

- জীবনের জন্য দ্বীনের সীমানা নির্ধারণ করুন। বিষন্নতা বায়ু নিঃসরণ করতে করতে দূরে পালাবে।

- কুরআন-হাদিসকে অবসরের সাথী বানান। শত কষ্টের মাঝেও সুখের ঠিকানা খুঁজে পাবেন।

- আপন দায়িত্ব কর্তব্যে ব্যস্ত থাকুন। জীবনের মূল্য উপলব্ধি করবেন।

- সন্তানকে সৎ প্যারেন্টিং দিন। জান্নাতের সুবাস দুনিয়াতেই পাবেন।

- জীবনের জন্য কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নয়, সভ্য, সংস্কৃতিবান, আলেমও তৈরি করুন।

- ক্রোধ-প্রতিহিংসা দমন করুন। আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকুন।

এখনও বিস্ময়ের বিষয় এটিই যে, প্র্যাকটিসিং মুসলিম সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা স্বল্প। তথ্য বলে- ইরানে প্রতি আড়াই লক্ষে আত্মহত্যা করে একজন। সিরিয়ায় প্রতি পাঁচ লক্ষে একজন। আর মিসরে প্রতি দশ লক্ষে একজন। এই পরিসংখ্যান আমাদেরকে বলে দেয়- ইসলামের কঠোর অনুশীলনই পারে আত্মহত্যার মতো জঘন্যতর অন্যায় থেকে আমাদেরকে বাঁচাতে। একটি আত্মহত্যামুক্ত সুশীল বিশ্ব উপহার দিতে। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর- ক্ষতের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়তর। মানবতার ধর্ম ইসলামও এ তত্ত্বে বিশ্বাসী। আসুন আত্মহত্যা প্রবণতার প্রতিটি উৎসমুখ বন্ধ করি। আত্মহত্যার বিষমুক্ত পৃথিবী গড়ি। ওয়া মা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ।

লেখক : প্রফেসর, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির