মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ বিনির্মাণ -ড. ফজলুল হক তুহিন

মুসলিম সমাজে ইবাদতের মূলকেন্দ্র মসজিদ। মুসলিম বিশ্বাস, সামাজিক কর্মকাণ্ড, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় মসজিদের ভূমিকা অনন্য। কুরআনে নামাজ কায়েমের যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার বাস্তবায়ন মসজিদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। ইসলামের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশ মসজিদে হয়ে থাকে। সেইসাথে পারস্পরিক যোগাযোগ, সামাজিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি, আরবি ও দ্বীনি শিক্ষা এবং সাপ্তাহিক ও বার্ষিক নামাজের কারণে মসজিদের গুরুত্ব ব্যাপক। তাই মসজিদকে বলা হয় আল্লাহর ঘর। মসজিদের আভিধানিক অর্থ সিজদার জায়গা। খোলা প্রাঙ্গণ, গম্বুজ ও উঁচু মিনারবিশিষ্ট মসজিদ সমাজ ও সংস্কৃতিতে ভূমিকা রাখে কার্যকরভাবে। পবিত্র কাবা শরীফ ও মসজিদে নববী ইসলামী সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কেন্দ্র হিসেবে বিরাজমান। ইব্রাহিম (আ)-এর নির্মিত আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবার পর পৃথিবীর যেখানেই ইসলামের প্রচার ও প্রসার হয়েছে সেখানেই মসজিদ তৈরি ও আবাদ করা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আবির্ভাবের পরেই মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস পাওয়া যায়। বিশেষভাবে সুলতানী আমলে নান্দনিক স্থাপত্যের অসংখ্য মসজিদ বাংলায় ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। পরবর্তীকালে মুঘল আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশে মসজিদ সংস্কৃতির বিকাশ মূলত মুসলিম সংস্কৃতির বুনিয়াদ হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতিকে বিবেচনায় রেখে আরো কার্যকরভাবে মসজিদকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব। আল্লাহর রাসূল সা. যেভাবে মসজিদে নববীকে কেন্দ্র করে মদিনার সমাজ নতুনভাবে বিন্যাস্ত করেন সেভাবে বর্তমানেও তাকে আদর্শ ধরে যুগের আলোকে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। আর সমস্ত কাজের লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

ক. ইবাদত

ইসলামে আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মূল কেন্দ্র হলো মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুম্মার নামাজ, বিশেষ ক্ষেত্রে ঈদের দুই নামাজ, রমজান মাসে তারাবির নামাজ ও কুরবানিসহ যাবতীয় ইবাদত ইমামের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে থাকে। মসজিদের সার্বিক কাজের মূল দায়িত্ব একজন যোগ্য ইমামের। ইবাদতের সাথে সাথে ইসলামের দাওয়াত, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড একটি মসজিদে একজন ইমামের নেতৃত্বে সম্পন্ন হবে। ইসলামের ব্যাপক ও হালনাগাদ জ্ঞান, গণমুখী চারিত্রিক মাধুর্য ও দ্বীনিশিক্ষা প্রদানের যোগ্যতাসম্পন্ন ইমাম সংশ্লিষ্ট সমাজের প্রতিটি পরিবারের ঈমান, আমল ও অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিশেষভাবে দাওয়াতি কাজের কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। কেননা আল্লাহর নির্দেশ: ‘তোমরা আহ্বান করো তোমাদের রবের পথে, হিকমাহ এবং সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে।’ (সূরা নাহল : ১২৫)। তবে এ-ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন ইমামকে অবশ্যই সম্মানজনক সম্মানীর ব্যবস্থা করতে হবে।

খ. আরবি ও ইসলাম শিক্ষা

ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন ছাড়া আমল করা সম্ভব নয়। প্রতি জুম্মা নামাজের আগে নির্ধারিত খুতবায় ইমাম ইসলামের জীবনব্যবস্থার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি দিকের যুগোপযোগী বক্তৃতা করবেন প্রাঞ্জল ভাষায় ও উত্তম পদ্ধতিতে। সেইসাথে শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত, আরবি ভাষার প্রাথমিক নিয়ম ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষার নিয়মিত ব্যবস্থা থাকবে মসজিদে। এই কাজটি প্রতিদিন বাদ-আসর মাসিক বেতনের মাধ্যমে (অসামর্থ্যদের ফ্রি) নতুন প্রজন্মের শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশে পরিচালনা করতে হবে। এ-কাজে সম্মানিত ইমাম নিয়োজিত না থেকে অন্য দক্ষ কেউ করবেন; কারণ ইমাম ও মুয়াজ্জিন এ-সময় এলাকা/গ্রামের মানুষের নির্দিষ্ট তথ্যাবলি সংগ্রহ, জনসংযোগ ও দাওয়াতের কাজে ব্যস্ত থাকবেন।
বিশেষভাবে কুরআনের শিক্ষার প্রতি ও রাসূলের জীবন অনুসরণের দিকে আহ্বান করবেন। কুরআনে এ-বিষয়ে আল্লাহর বক্তব্য স্পষ্ট: ‘আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাজিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ।’ (সূরা নাহল : ৮৯) মসজিদে শিক্ষা তত্ত্বাবধানের কাজটি ইমাম অথবা মসজিদ কমিটির একজন দায়িত্ব পালন করবেন। সেইসাথে কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর একটি প্রাসঙ্গিক হাদিস পাঠ করে নামাজিদের শোনাবেন এবং প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার বাদ মাগরিব দারসুল কুরআনের ব্যবস্থা করবেন ইমাম।

গ. অর্থনৈতিক কর্মসূচি

বর্তমান সমাজ বৈষম্য ও অকল্যাণে ছেয়ে আছে- অশিক্ষা, দারিদ্র্য, সুদ-দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচারের সীমা নেই। বিশেষভাবে অর্থনৈতিক ও অনৈতিক স্খলনে সমাজ আজ জর্জরিত। এই অবস্থায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়শীল দেশে সদকা, জাকাত ও ওশরের গুরুত্ব অপরিসীম। এ-দেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের। বর্তমানে জনসংখ্যার মাঝে দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এই অবস্থায় দরিদ্র জনগণের অর্থনৈতিক জীবনের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। অধিকাংশ জনগণকে দরিদ্র রেখে ও আয়-বৈষম্য বজায় কোনো দেশে বেশিদূর ইসলামের প্রসার লাভ করা কঠিন। আল্লাহ জাকাতের গুরুত্ব দিয়েছেন এভাবে: ‘আমি যদি তাদেরকে (মুমিনগণ) পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি, তাহলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখবে, আর সব কাজের চূড়ান্ত পরিণতি একান্তই আল্লাহর ইচ্ছাধীন। (সূরা হাজ্জ : ৪১) অন্যদিকে সাধারণ জনগণের মাঝে এই ধারণারও বিস্তরণ ঘটাতে হবে যে, ইসলামের আর্থিক ব্যবস্থায় ইনসাফ ও দারিদ্র্য বিমোচনের পথ আছে। সেজন্য মসজিদকেন্দ্রিক ইসলামের আর্থিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিয়মিত সদকা সংগ্রহ ও বণ্টন করতে হবে দরিদ্র জনগণ, মিসকিন ও মুসাফিরের মাঝে; অবশ্য মসজিদ ব্যবস্থানা-ব্যয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে; বিশেষভাবে যাদের তথ্য সংগ্রহে আছে ইমামের কাছে। সপ্তাহে একটি দিন বা প্রতি শুক্রবার সুশৃঙ্খলভাবে কাজটি সম্পন্ন করলে নিম্ন-আয়ের লোকজন উপকৃত হবেন। দ্বিতীয়ত, বার্ষিক জাকাত সংগ্রহ করতে হবে সেই এলাকা/গ্রামের মানুষের কাছে; প্রয়োজনে অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছেও সংগ্রহ করা যেতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে যারা জাকাত দেয় তাদেরকে বিষয়টি বোঝাতে হবে- তাদের থেকে যে অংশটি সংগ্রহ করা হবে তা দিয়ে সামষ্টিক কাজে লাগানো হবে। অন্যদিকে মনস্তাত্ত্বিক একটি দিক আছে যা মানুষের মান-সম্মানের সাথে জড়িত; সেটি হলো মিসকিন বা নিম্ন-মধ্যবিত্তের অভাবী লোকজনের অনেকেই এলাকার পরিচিত কারো থেকে জাকাত নিতে সামাজিক সংকোচ, লজ্জা ও দ্বিধা করেন; তাই মসজিদ কমিটির মাধ্যমে প্রাপ্য লোকজনের কাছে গোপনে জাকাত পৌঁছে দেয়াই সম্মানজনক ও সুষ্ঠু সমাধান এবং এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। কারণ জাকাত গরিব লোকের প্রাপ্য অধিকার, করুণা নয়। তবে জাকাতের অর্থে বেকার-অসহায় লোকজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে সেটা টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ হয়। সেইসাথে ওশর সংগ্রহ করার জন্য লোকজনকে অনুপ্রাণিত করতে হবে এবং প্রতি মৌসুমে তা সংগ্রহ ও প্রাপ্যদের মাঝে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর ঈদুল ফিতরের ফিতরা এবং কুরবানির গোশত ও চামড়ার অর্থ আদায়-বণ্টনে ইসলামের আলোকে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন ইমাম; ফলে একদিকে ইসলামের মৌলিক ইবাদত সম্পন্ন হবে; অন্যদিকে সমাজে আর্থিক বৈষম্য দূর হবে। সেইসাথে ইসলামের সুষম বণ্টনের নিয়মও কার্যকর হবে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সমাজ কল্যাণ সাধিত হবে।

ঘ. সমাজকল্যাণ

আজকের বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের অবস্থা হুমকির সম্মুখীন। দেশের দরিদ্র জনসংখ্যার একটি বড় অংশ অর্থের অভাবে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে না ও ওষুধ কিনতে পারে না। চাহিদার তুলনায় সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থাও অপ্রতুল। দেশের ও দেশের বাইরের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে মসজিদের মাধ্যমে জনগণের জন্য এই সেবাকার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। সমাজে দু-চার জন মহৎ চিকিৎসক নিশ্চয় আছেন যারা মাসে একটি দিন বিনামূল্যে রোগী দেখে চিকিৎসাপত্র বা প্রেসক্রিপশন দিবেন। চারজন চিকিৎসক যদি পাওয়া যায় তাহলে প্রতি মাসে চার সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন এই সেবার ব্যবস্থা করা হবে। সেইসাথে দাতব্য প্রতিষ্ঠান/আগ্রহী ওষুধ কোম্পানি/ব্যক্তি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে বণ্টন করা হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসাপত্র সেবা ও সুপরামর্শ দেয়া হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অনুশীলন ও জীবনযাপন পদ্ধতির প্রতি বিশেষ পরামর্শ প্রদান করতে হবে। কারণ হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে যাওনি। বান্দা বলবে, আপনি তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক- আমি আপনাকে কিভাবে দেখতে যেতে পারি? আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল। তুমি তাকে দেখতে গেলে সেখানে আমাকে পেতে…। (মুসলিম-২১৬২)। তাই মানবসেবার প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

ঙ. সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড

শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরস্পর সম্পর্কিত বিষয়। উন্নত শিক্ষার বিনিময়ে উন্নত সংস্কৃতির সোপান তৈরি হয়। এ লক্ষ্যে মসজিদ প্রশস্ত ও বহু সুবিধাসমৃদ্ধ হতে হবে। কুরআন, হাদিস ও ইসলাম বিষয়ক বইপত্র নিয়ে একটি ভালো মানের পাঠাগার থাকবে মসজিদে। সকাল থেকে এশা পর্যন্ত পাঠের সুযোগ থাকবে সেখানে। এক্ষেত্রে এই হাদিসটি সকলকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে : “কোনো একটি দল যখন আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করতে থাকে এবং তা পরস্পর আলোচনা করতে থাকে তখন আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের ওপর স্বস্তি ও শান্তি অবতীর্ণ হতে শুরু করে, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের কাছে এসব বান্দার আলোচনা (প্রশংসা) করেন। যার কর্ম তাকে পিছিয়ে দেয় তার বংশ মর্যাদা তাকে এগিয়ে দিতে পারে না” (মুসলিম)। পাঠাগারে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে নিয়মিত উৎসাহ প্রদান করা এবং সর্বাধিক বই পড়–য়া কয়েকজনকে পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। পাঠাগারের দেয়ালে কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি টাঙাতে হবে ইসলামিক সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করতে। ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে রাসূলের জীবন বিষয়ে রচনা এবং হামদ, নাত, ইসলামী গান ও আবৃত্তির প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে মসজিদকে শিশু-কিশোর-তরুণদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। সেক্ষেত্রে শিশুদের ‘প্রথম মসজিদ আগমন’ উপলক্ষে একটি আনন্দময় অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। এছাড়া সম্ভব হলে মসজিদ প্রাঙ্গণে শিশুদের খেলাধুলার আয়োজন করা যায়, এতে করে আযানের সময় শিশুরা মসজিদে যেতে পারে সহজে। একইসাথে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন ও অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে মসজিদের উন্নয়নে।
মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রথমে এলাকার সৎ, দায়িত্ববান ও যোগ্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। মসজিদের এলাকা নির্ধারণ করে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে উদ্দীপনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। সব ধরনের দলীয় রাজনীতিকে বর্জন করে শুধুমাত্র দ্বীনি কাজ হিসেবে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয়ে কাজগুলো করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় অর্থ, মতৈক্য ও সুষ্ঠুভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
একুশ শতকে মুসলিম দেশেগুলোতে যে দুঃসময় বিরাজ করছে সেখানে প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলামের সর্বাত্মক প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা হয়ে আছে। কারণ রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ধনিক ও শাসক শ্রেণি ইসলামের প্রতিষ্ঠাকে নিজেদের বিপর্যয়ের কারণ মনে করে। ফলে সেইসব শাসক অধিকাংশ দেশে কর্তৃত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ক্ষমতাকাঠামো টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। স্বাভাবিকভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠাকারীদের প্রতি দমন-পীড়ন নেমে আসে। এই রকম একটি পরিস্থিতিতে ব্যক্তি ও পরিবার ইসলামের আলোকে গঠনের সাথে সাথে সমাজ বিনির্মাণের পথকে অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি। এ-ধরনের কাজে রাষ্ট্রশক্তি সাধারণত বাধা সৃষ্টি করে না। মনে রাখতে হবে সমাজনির্মাণের পথেই সামাজিক বিপ্লব সম্পন্ন হবে; সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আসবে এবং একসময় চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রবিপ্লব সফল হবে। তবে সবার আগে ব্যক্তি ও পরিবার গঠন এবং মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ বিনির্মাণের কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। তবেই মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি আসবে।
লেখক : শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply