post

সাহিত্যপত্র সম্পাদনায় মতিউর রহমান মল্লিক

ড. ফজলুল হক তুহিন

০১ আগস্ট ২০২৩

সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিল্পকলা চর্চা উন্নত সভ্যতার পরিচায়ক। এই চর্চার ধারা বাংলা অঞ্চলে সুলতানি আমলে শুরু হয়ে মোগল আমলে বিকাশ লাভ করে। পলাশীতে স্বাধীনতা অস্তগামী হওয়ার পর আধুনিক ও উন্নত সভ্যতার নামে আসলে পশ্চিমের বৈষম্যমূলক ও অধীনতাবাদী সভ্যতার বিস্তারে এই অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব জ্ঞানকাণ্ড, জীবনধারা ও সংস্কৃতির ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে। সাতচল্লিশে স্বাধীনতা ফিরে পেলেও বিকৃত, পশ্চিমা ও জীবনবিমুখ এক মনোভঙ্গি ও সমাজধারা এখানে প্রভাব বিস্তার করে। পূর্ব-পাকিস্তান পর্বে সত্য, সুন্দর, কল্যাণমুখী ও উন্নত জীবনাদর্শের চর্চা শিল্প-সংস্কৃতিতে দৃশ্যমান হয়; তবে তা একাত্তরের পর আবার কলকাতাকেন্দ্রিক বেঙ্গল রেনেসাঁর প্রভাবে জনসংস্কৃতি ও শিল্পকলা বাংলাদেশকেন্দ্রিকতা হারিয়ে আত্মঘাতী, ঐতিহ্যবিমুখ ও সেক্যুলার পথে অগ্রসর হয়। এই ধারা এখনো দেশে সাংস্কৃতিক হেজিমনি কায়েম করে চলছে। আশির দশকে সরাসরি ইসলাম ও ইসলামের ইতিহাস থেকে প্রেরণা ও নির্দেশনার আলোকে ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিসরে নতুন সাড়া জাগে। এই নতুন সাড়ার অন্যতম প্রধান কারিগর মতিউর রহমান মল্লিক (১ মার্চ ১৯৫৪-১২ আগস্ট ২০১০)। তাঁর বহুমুখী কাজের মাঝে সাহিত্যপত্র সম্পাদনা ও পত্রিকাকেন্দ্রিক সাংগঠনিক তৎপরতা এখানে স্বল্প আয়তনে হাজির করা হলো; নতুন প্রজন্মের জন্য যা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে মননশীল ও সৃজনশীল সৃষ্টির ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’ অসামান্য ভূমিকা পালন করে। বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষে, জ্ঞান ও চেতনাগত প্রভাব বিস্তারের জন্য গবেষণামূলক বই প্রকাশ, ‘মাসিক পৃথিবী’ পত্রিকা, গানের প্রচারে ‘ইসলামী সঙ্গীত’ অডিও ক্যাসেট এবং সাহিত্যের জন্য ‘মাসিক কলম’ সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশ দেশে ইসলামী সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। বিশেষভাবে সৃজনশীল ও গবেষণামূলক পত্রিকা হিসেবে ‘কলম’ পত্রিকার আছে ঐতিহাসিক অবদান। 

ঢাকার নিউ এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’ অধ্যাপক এ. কে. এম. নাজির আহমদের পরিচালনায় গতিশীল ছিলো। ১৯৮৫ সালে কবি মতিউর রহমান মল্লিক ‘কলম’ পত্রিকায় যোগদান করেন সহকারী সম্পাদক হিসেবে। এই সময়ে পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন চিন্তাবিদ, গবেষক ও বহু গুণের অধিকারী আবদুল মান্নান তালিব। প্রথম দিকে মতিউর রহমান মল্লিকের নাম পত্রিকায় প্রকাশিত হতো না। ১৯৮৮ সালের মার্চ সংখ্যা থেকে ‘নির্বাহী সম্পাদক’ হিসেবে মতিউর রহমান মল্লিকের নাম প্রকাশ হতে থাকে। পরের সংখ্যা থেকে ‘ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক’ হিসেবে নাম লেখা হতে থাকে। এই সময় থেকে কবি পত্রিকাটির সার্বিক দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। ১৯৯৬ সালে ‘কলম’ পত্রিকার নিবন্ধন জটিলতার কারণে ‘নতুন কলম’ ‘সৃজনশীল সাহিত্য সঙ্কলন’ হিসেবে মতিউর রহমান মল্লিকের সম্পাদনায় প্রকাশ হতে থাকে নতুন আঙ্গিকে। ১৯৯৬-এর শেষ থেকে ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘নতুন কলমে’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীকালে ‘নতুন কলম’ নামে প্রকাশ পেতে থাকে কবি মোশাররফ হোসেন খানের সম্পাদনায়। সেখানেও কবি মল্লিক দীর্ঘদিন উপদেষ্টা [১৯৯৮-২০০৫] ছিলেন।

‘কলম’ পত্রিকাটি সেই সময়ে বিশ্বাসী ও ঐতিহ্যবাদী সাহিত্যের ধারা সৃষ্টিতে এবং প্রচার-প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। এই ভূমিকার যিনি প্রধান কারিগর, কান্ডারি ও অগ্রপথিক, তিনি হচ্ছেন কবি ও সংগঠক মতিউর রহমান মল্লিক। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা ও বাস্তব কর্মসূচির মাধ্যমে ‘কলম’ একটি কার্যকর ও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। ঐতিহ্যবাদী সৃজনশীল ও মননশীল সাহিত্য প্রবাহে ‘কলম’ সম্ভাবনা ও উদ্দীপনার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। একদিকে ‘বিপরীত উচ্চারণে’র নিয়মিত সাহিত্য আসর ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ লেখকদের সৃজনশৈলীর দক্ষতা অর্জন; অন্যদিকে ‘কলমে’র মাধ্যমে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের আত্মবিকাশ, পরিচিতি ও প্রতিষ্ঠা পায়। ঐতিহ্যবাদী প্রবীণ ও অগ্রজ লেখকদের একত্রিত করে নতুন উদ্যোগ ও উদ্দাম সৃষ্টি এবং নবীন-তরুণ লেখকদের মাঝে আশা, আত্মবিশ^াস ও সম্ভাবনা সৃষ্টির গুরু দায়িত্ব পালনে কবি ছিলেন কর্মমুখর, উদ্যমী ও নিবেদিত। ফলে ‘কলমে’র মাধ্যমে যেমন একদল প্রতিশ্রুতিশীল নতুন লেখক সৃষ্টি হয়েছে যারা একটি সাহিত্যধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। অগ্রজ ও অনুজ লেখকদের সমন্বয়ে সমবায়ী একটি বিশ্বাসী ও ঐতিহ্যবাদী সাহিত্য আন্দোলন সৃষ্টি হয় ঢাকায়। এই সাহিত্য স্ফুরণ ও প্রকাশের স্রোত সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল-কুমিল্লা-যশোর-বগুড়াসহ দেশের সর্বত্র ‘কলমে’র পাঠক, লেখক, গ্রাহক ও শুভাকাক্সক্ষী গড়ে ওঠে। ফলে বাংলাদেশে বিরাজমান বুর্জোয়া, পুঁজিবাদী, অবিশ্বাসী ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক সাহিত্যে একটি বিশ^াসী ও ঐতিহ্যবাদী সাহিত্যধারার সৃষ্টি হয়। অসংখ্য লেখক ‘কলমে’র মোহনায় এসে সম্মিলিত হয়ে সুস্থ প্রবাহ নির্মাণ করেন। ‘কলমে’ লিখেছেন, লিখে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ও সংশ্লিষ্ট দেশের বিখ্যাত সব কবি ও সাহিত্যিকবৃন্দ। 

মতিউর রহমান মল্লিক নিবেদিত চিত্তে ও আন্তরিক নিষ্ঠায় সাহিত্যপত্রটি সম্পাদনা করেন। কোনো লেখক অফিসে আসলে আন্তরিক অভ্যর্থনায় আলিঙ্গন করে গ্রহণ, আবশ্যিক আপ্যায়ন, প্রয়োজনে লেখার সম্মানী প্রদান, নতুন লেখকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি, প্রাণবন্ত আড্ডা, প্রবীণ লেখকদের সম্মানজ্ঞাপন ও টার্গেট করে সম্পর্ক স্থাপন ও লেখা আদায় করা, সম্পাদনা ও সাহিত্যচর্চাকে আন্দোলন হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে একটি সার্বাত্মক কর্মসূচি পালন করেন। ‘কলম’ ও মতিউর রহমান মল্লিককে কেন্দ্র করে সেই সময়ে লেখকদের একটা আড্ডা, যোগাযোগ ও মিলনমেলা তৈরি হয়েছিলো। প্রায় প্রতিদিন তাঁর সাথে সারা দেশ থেকে দেখা করতে আসতেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির কর্মীরা। একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত সাহিত্য ধারা গড়ে ওঠে কবিকে কেন্দ্র করে। 

মতিউর রহমান মল্লিক ‘কলম’ পত্রিকায় বিষয় বৈচিত্র্য নিয়ে আসেন ব্যাপকভাবে। সাহিত্যের সকল বিভাগ ও মননশীল অনেক বিষয় সংযোজন করেন এখানে। ‘কলমে’র পাঠকদের নিয়ে গঠন করেন ‘কলম পাঠকবৃত্ত’; লেখকদের নিয়মিত সাহিত্যচর্চার জন্য শুরু করেন ‘কলম সাহিত্য সভা’- যেখানে জমায়েত হতেন লেখকবৃন্দ এবং একটি সম্পর্ক গড়ে উঠতো পরস্পরের সঙ্গে। 

আশির দশকের শেষে ইসলামী আন্দোলন ক্রমাগত সমগ্র দেশে বিস্তার লাভ করেছে। বিশেষভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র আন্দোলন জনপ্রিয়তা অর্জন এবং ছাত্রসংসদে শিক্ষার্থীদের ভোটে জয়লাভ করেছে। এই সময় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলন নতুন গতি পায় কবি মতিউর রহমান মল্লিকের অক্লান্ত পরিশ্রম, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা ও বাস্তব কর্মসূচির মাধ্যমে। সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা ‘কলম’ এই আন্দোলনে সম্ভাবনা ও উদ্দীপনার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। একদিকে ‘বিপরীত উচ্চারণে’র নিয়মিত সাহিত্য আসর ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ লেখকদের সৃজনশৈলীর দক্ষতা অর্জন; অন্যদিকে ‘কলমে’র মাধ্যমে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের আত্মবিকাশ, পরিচিতি ও প্রতিষ্ঠা পায়। ঐতিহ্যবাদী প্রবীণ ও অগ্রজ লেখকদের একত্রিত করে নতুন উদ্যোগ ও উদ্দাম সৃষ্টি এবং নবীন-তরুণ লেখকদের মাঝে আশা, আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনা সৃষ্টির গুরু দায়িত্ব পালনে কবি ছিলেন কর্মমুখর,  উদ্যমী ও নিবেদিত। ফলে কলমের মাধ্যমে যেমন একদল প্রতিশ্রুতিশীল নতুন লেখক সৃষ্টি হয়েছে যারা একটি সাহিত্যধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। অগ্রজ ও অনুজ লেখকদের সমন্বয়ে সমবায়ী একটি বিশ্বাসী ও ঐতিহ্যবাদী সাহিত্য আন্দোলন সৃষ্টি হয় ঢাকায়। এই সাহিত্য স্ফুরণ ও প্রকাশের স্রোত সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশালসহ দেশের সর্বত্র ‘কলমে’র পাঠক, লেখক, গ্রাহক ও শুভাকাক্সক্ষী গড়ে ওঠে। ফলে বাংলাদেশে বিরাজমান আধুনিক, প্রগতিশীল, সেক্যুলার, পুঁজিবাদী ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক সাহিত্যধারার সমান্তরালে একটি বিশ্বাসী ও ঐতিহ্যবাদী সাহিত্যধারার সৃষ্টি হয়। অসংখ্য লেখক ‘কলমে’র মোহনায় এসে সম্মিলিত হয়ে সুস্থ প্রবাহ নির্মাণ করেন। ‘কলমে’ লিখেছেন, লিখে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ও সংশ্লিষ্ট লেখকদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন: 

দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, সৈয়দ আলী আহসান, কাজী দীন মুহাম্মদ, আবু রুশদ, আশরাফ সিদ্দিকী, আবদুল মান্নান তালিব, আল মাহমুদ, আবদুস সাত্তার, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, আফজাল চৌধুরী, মাহবুবুল হক, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জয়নুল আবেদীন আজাদ, আতা সরকার, আবুল হোসেন মজুমদার, আশরাফ আল দীন, ইমদাদুল হক নূর, মতিউর রহমান মল্লিক, সোলায়মান আহসান, মোশাররফ হোসেন খান, বুলবুল সরওয়ার, আসাদ বিন হাফিজ, আহমদ আখতার, সৈয়দ রফিক, ফজল মুহাম্মদ, আবু আহমদ ফজলুল করিম, জামেদ আলী, মিন্নাত আলী, হাবীবুল্লাহ, হোসেন মাহমুদ, শামসুন্নাহার সাকী, ইব্রাহিম মণ্ডল, বেনজীর আহমদ, মোস্তফা আযম, ইউসুফ হায়দার, নাজিব ওয়াদুদ, আবদুল ওয়াহিদ, চৌধুরী গোলাম মওলা প্রমুখ।

‘কলমে’ প্রকাশিত লেখার বিষয় বৈচিত্র্য ছিলো ব্যাপক। যেমন: বিশেষ রচনা, কবিতা, গুচ্ছকবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, সাক্ষাৎকার, বিশ্বসাহিত্য, ধারাবাহিক উপন্যাস, গান, ভ্রমণ, জীবনকথা, পুনর্মুদ্রণ, স্মৃতিকথা, অনুবাদ, রম্য রচনা, সাহিত্য কোষ, সাম্প্রতিক, সাহিত্য-সংস্কৃতি-জীবন, শিল্পমাধ্যম, অপ্রকাশিত লেখা, চিঠিপত্র, গ্রন্থালোচনা, পাঠক মন্তব্য, সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সাহিত্য সংবাদ, পাঠকের কলম ইত্যাদি। কলমের পাঠকবৃন্দ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গঠন করা হয় কেন্দ্রীয় ‘কলম পাঠকবৃত্ত’। প্রতিটি অঞ্চলে আলাদা নামে নামকরণ করা হয় এই পাঠকবৃত্তের শাখাগুলোর। পাঠকবৃত্তের সংবাদ আবার কলমে প্রকাশিত হতো। কয়েকটি নাম এ-রকম: ‘পল্লব কলম পাঠকবৃত্ত’, ‘হাসানুল বান্না কলম পাঠকবৃত্ত’, ‘প্রবাহ কলম পাঠকবৃত্ত’, ‘মুজাহিদ কলম পাঠকবৃত্ত’ ইত্যাদি। 

‘কলম’ পত্রিকায় যে-সকল লেখক লিখতেন এবং ঢাকায় থাকতেন তাদের নিয়ে প্রতি মাসে ‘কলম সাহিত্য সভা’র আয়োজন করা হতো। মতিউর রহমান মল্লিকের নেতৃত্বে এই সভায় লেখকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সাহিত্য সভাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রতিটি লেখকের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যোগাযোগ ও উৎসাহ দেয়া থেকে শুরু করে মতিউর রহমান মল্লিক একটি সার্বিক সংযোগ ও আয়োজনের ব্যবস্থা করতেন। সভায় লেখকদের লেখা পাঠ ও পর্যালোচনা করে পারস্পরিক পরামর্শও দেয়া হতো। ফলে কলমকেন্দ্রিক শক্তিশালী একটি সাহিত্যধারা সৃষ্টি হয়। নতুন লেখক সৃষ্টি এবং অগ্রজদের একত্রিত করার মাধ্যমে তিনি একটি পূর্ণ সাহিত্যান্দোলনে রূপান্তরিত করেন ‘কলম’কে কেন্দ্র করে। ঐতিহ্যিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে সম্পাদনা করেন তিনি। ফলে কলম হয়ে ওঠে বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের পৃষ্ঠপোষকতার ও মূল্যায়নের একটি মূল্যবান মাধ্যম। 


মতিউর রহমান মল্লিক সম্পাদিত ‘কলম’ পত্রিকার অসামান্য ভূমিকা এভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়: 

কলম বাংলাদেশের সাহিত্যে একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ঐতিহ্যবাদী ও বিশ্বাসী সাহিত্যধারার পুনর্জাগরণ ঘটে এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে। 

সাজজাদ হোসাইন খান ও আবদুল মান্নান তালিবের মাধ্যমে শুরু হওয়া কলমকে মতিউর রহমান মল্লিক নিজস্ব ভঙ্গিতে অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক নিষ্ঠায় সমগ্র বাংলা সাহিত্যে নতুন প্রবাহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।

অগ্রজ সাহিত্যিকদের পুনর্গঠিন করা, সমকালীন লেখকদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং প্রত্যেককে আলাদা আলাদা অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে লিখিয়ে নেয়া, পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া এবং নবীন-তরুণ লেখকদের মাঝে আশা জাগানিয়া ভূমিকা রেখেছেন কবি মতিউর রহমান মল্লিক। 

পাঠকের মনে নতুন ভাব, ভাবনা ও চিন্তা জাগ্রত করার মতো লেখা পত্রিকাটিতে প্রকাশ করা হয়। বিশেষভাবে আদর্শিক, ঐতিহ্যিক ও বিশ্বাসী চেতনাসম্পন্ন লেখা প্রকাশে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।  

লেখকের পাশাপাশি একদল বিশ্বাসী পাঠকও সৃষ্টি করেন এই পত্রিকার মাধ্যমে। 

স্বাধীনতা-উত্তর কালে সাহিত্যাঙ্গনে একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি।


মতিউর রহমান মল্লিক সম্পাদিত ‘কলম’ পত্রিকার অসামান্য ভূমিকা। কলম বাংলাদেশের সাহিত্যে একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ঐতিহ্যবাদী ও বিশ্বাসী সাহিত্যধারার পুনর্জাগরণ ঘটে এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে। স্বাধীনতা-উত্তর কালে সাহিত্যাঙ্গন এতো বেশি অবিশ্বাসী ও যৌনতায় সমৃদ্ধ হয় যে, সাহিত্য বলতেই নেতিবাচক কিছু- এমন ধারণা বদ্ধমূল হয়। সেই জায়গা থেকে একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং পূর্বতন জমিনকে উর্বর করার মহৎ কাজ করেন সম্পাদক মতিউর রহমান মল্লিক। লেখক, সম্পাদক, সংগঠক ও পাঠকের জন্য অনন্য নজির স্থাপন করে কবি ও সম্পাদক মল্লিক সমকালেও প্রচণ্ড প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন। 

লেখক : কবি ও গবেষক

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির