সর্বশেষঃ
post

রোহিঙ্গা নির্যাতন প্রেক্ষাপট ও পরিণতি

প্রফেসর মো: মোসলেম উদ্দীন শিকদার

০৭ জুন ২০২২

আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক সময়ে (খ্রি: পূ: ২৬৬৬-১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত স্বাধীন রাষ্ট্র আরাকান গত দু’শ বছরের অধিককাল যাবৎ শক্তিমান প্রতিবেশী বার্মার জবরদখলীকৃত এবং ১৯৭৪ সাল থেকে রাখাইন নামে অভিহিত একটি প্রদেশে অধিভুক্ত।১ আরাকানের মুসলিম অধিবাসীগণ রোহিঙ্গা নামে পরিচিত এবং বার্মা সরকার কর্তৃক কাশ্মির, ফিলিস্তিন ও ফিলিপাইনের মরো মুসলিমদের ন্যায় দফায় দফায় আক্রমণ নির্যাতন এমনকি মাতৃভূমি থেকে কপর্দকহীন অবস্থায় নির্মূল ও নির্বাসনের শিকার। অন্যান্য দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের চেয়ে বার্মার মুসলমানদের অধিক দুর্ভাগ্য যে অন্যদের নাগরিকত্বের পরিচয় আছে কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলমানেরা পুরুষানুক্রমে হাজার বছরের অধিককাল ধরে আরাকানে বাস করেও তারা পরবর্তীকালে সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি হারিয়েছে। তারা এখন নিজ দেশে পরবাসী এবং বাংলাদেশসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে নাগরিক অধিকারবিহীন উদ্বাস্তু হিসেবে দুঃসহ জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

আরাকানের অবস্থান ৯২০ থেকে ৯৫০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ২২০ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে, আরাকানের উত্তরে চীন ও ভারত, দক্ষিণ ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পশ্চিমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ইতিহাসবিদ ও গবেষক ড. আব্দুল করিম (১৯২৮-২০০৭) তাঁর রোহিঙ্গাদের হাজার বছরের ইতিহাস শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধে আরাকানের লোকসংখ্যা ৪০ লাখ বলে উল্লেখ করেন।২ তার মধ্যে বৌদ্ধ ২০ লাখ, মুসলমান ১০ লাখ, জরবাদী ৮ লাখ, হিন্দু ও খ্রিস্টান ২ লাখ। অপরমতে ১৯৫০ সালে আরাকানে ৪০ লাখের মধ্যে ২০ লাখই মুসলমান বলে উল্লিখিত আছে। ২০.০৬.২০১২ তারিখে জাতিসংঘ প্রকাশিত তথ্য মতে আরাকানের মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ এবং ১৯৩১ সালে বার্মার মুসলিমসংখ্যা ছিল ৫,৮৪,৮৩৯। গণহত্যা, গণধর্ষণ ও বহিষ্কারপূর্বক বার্মা (মিয়ানমার) সরকার কর্তৃক বার্মা ও আরাকানে মুসলমানদের অবস্থান পরিকল্পিতভাবে প্রান্তিক পর্যায় নিয়ে যাচ্ছে। 

রোহিঙ্গা নামকরণ ও রোহিঙ্গা জনসংখ্যা নিয়ে ইতিহাসবিদের মধ্যে কিছু মতানৈক্য থাকা স্বাভাবিক। রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি আলোচনার জন্য উহার বিশদ বিবরণ অত্যাবশ্যক বিবেচনা না করে আমরা মূল বক্তব্য সীমিত রাখতে ইচ্ছুক। ওয়াকিফাল মহলের মতে বিগত বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে হত্যা, নির্যাতন ও দেশ থেকে বিতাড়নের লোমহর্ষক তৎপরতায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রায় অর্ধেকে ঠেকেছে। ইতোমধ্যে নির্যাতিত ও নির্বাসিত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বিশ্বজনমত যাই সৃষ্টি হোক এই ইস্যুটি নিয়ে বাংলাদেশের ভাবনা ও দায়বদ্ধতা সঙ্গত কারণে অপর যে কোন দেশের চেয়ে বেশি। ১৯৪২, ১৯৫৮, ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নির্যাতিত মুসলিম নর-নারীর সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ। বার্মা সরকার যত বৈরী ও বর্বর হোক, প্রতিবেশী আরাকান শরণার্থীদের ব্যাপারে আমাদের নীরব দর্শক হয়ে থাকার উপায় নেই। বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ শরণার্থী রাখা জনসংখ্যা প্রপীড়িত বাংলাদেশে বহু জটিল সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা।

নির্যাতনের প্রেক্ষাপট

রোহিঙ্গাদের পরিচিতি প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে প্রাচীনকালে আরাকানের নাম রোহং বা রোসাঙ্গ এবং রাজধানীর নাম ছিল ম্রোহং। তাদের পূর্বপুরুষদের একাংশ বিহারের মগধ থেকে বিতাড়িত হীনযান বৌদ্ধ যারা মুসলিম শাসন আমলে ধর্মান্তরিত হয়। কথিত আছে, ৮ম শতকে রণবী দ্বীপের সাথে সংঘর্ষে নিমজ্জমান আরব বাণিজ্য তরীর নাবিকদের ‘রহম’ শব্দ বিকৃত হয়ে ‘রহম্যা’ কিংবা ‘রোয়াইঙ্গ’ থেকে রূপান্তরিত ‘রোহিঙ্গা’ মুসলিমদের উৎপত্তি। নানা জাতির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গারাই ইতিহাসখ্যাত রোসাঙ্গ সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারকবাহক বটে। আরাকানের রাজদরবারে বাংলাকাব্য ও সাহিত্যের যে সমৃদ্ধ চর্চা হতো তা বাংলা ভাষার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে। ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতকে আরাকানের রাজদরবার ছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার একমাত্র প্রাণকেন্দ্র। আরাকান রাজদরবারে নন্দিত প্রবাসী বাঙালি কবি আলাওল, দৌলত কাজী, মর্দান শাহ প্রমুখের প্রণীত কাব্যসাহিত্যের আমরা গর্বিত উত্তরাধিকারী। শেকড়সন্ধানী  ইতিহাসবিদদের মতে আরাকান তথা রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস, তাই আমাদের অতীত ঐতিহ্যের  ইতিহাস, বাঙালি মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।৩

আরাকানের রোহিঙ্গাদের ইতিহাস সহস্রাধিক বছরের মুসলমানদের সুখ দুঃখের ইতিহাস। আরাকান স্টেটকে মুসলিম জাতিসত্তা থেকে আলাদা কল্পনা করা সমীচীন নয়। কারণ আরাকানে মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির আবির্ভাব ঘটে সপ্তম শতকে আরব দেশে ইসলামি সভ্যতা ও প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে প্রায় ১৪শ বছর আগে। ১৭৮৫ সাল থেকে বার্মা রাজ রোধপায়া (১৭৮২-১৮১৯) সশস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে আরাকানের শেষ স্বাধীন রাজা থামোডাকে (১৭৮২-৮৫) পরাজিত ও নিহত করে আরাকানকে বার্মাভুক্ত করার পরও ১৯৪২ সালের আগ পর্যন্ত আরাকানের মুসলমানেরা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মোটামুটি ভোগ করে আসছিল। আরাকানের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাথে মুসলমানদের সামাজিক ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ৭২ মাইল দীর্ঘ ইয়োম পাহাড়ের উত্তুঙ্গ শৃঙ্গের অপার পারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে প্রতিবেশী মুসলিমদের তারা বেশি আপনজন মনে করত। ইসলামী বহু মুবাল্লিগ (ধর্মপ্রচারক) ও শত শত আরব বণিক এসে আরাকানে বৈবাহিক সম্পর্কসহ বসতি স্থাপন করে এবং একটি অসম্প্রদায়িক সামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে। কিন্তু হীন স্বার্থান্ধ মানবতার দুশমনদের ইহা সহ্য হয়নি। হিং¯্র হায়েনারা ১৯৪২ সালে এক আঁধার রাতে দল বেঁধে ইয়েম পাহাড় ডিঙিয়ে নেমে আসে আরাকানে। স্থানীয় কতিপয় নরখাদকের যোগসাজশে সশস্ত্র হামলাকারীরা ঘেরাও করলো মুসলিম জনবসতি। মাসাধিককাল ধরে চললো সে উন্মত্ত ও পৈশাচিক গণহত্যা, গণধর্ষণ ও অগ্নিকাণ্ড। তাদের ধ্বংসযজ্ঞের স্বাক্ষর বহন করে প্রায় লক্ষাধিক নিরীহ মুসলমানের লাশ ভস্মীভূত হয় হাজার হাজার বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অতঃপর কয়েক বছর পর পর ‘মুসলিম খেদাও’ বার্মা বার্মীদের ইত্যাদি উসকানিমূলক শ্লোগান ও আন্দোলনের মাধ্যমে লাখ লাখ নিরপরাধ মুসলমানদেরকে তাদের হাজার বছরের পৈতৃক বসতি থেকে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকে। ইতঃপূর্বে বার্মারাজ বোধপায়া কর্তৃক আরাকান দখলকালে কতিপয় মগ ও রাখাইনরা পাশর্^বর্তী বাংলাদেশে এসে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। কক্সবাজারের টেকনাফ ও পটুয়াখালীস্থ কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায় এবং বান্দরবানের মারমার (মগ) সম্প্রদায় ঐ সময়ে বাংলাদেশের আশ্রিতদের উত্তরসূরি। 

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা

মোগল স¤্রাট শাহজাহানের (১৬২৮-৫৬) পুত্রদের মধ্যে সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে সংঘটিত গৃহযুদ্ধে নির্ভীক ও ধার্মিক আওরঙ্গজেব (১৬৫৭-১৭০৭) অপর তিন ভাইকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন। স¤্রাটের দ্বিতীয় শাহজাদা শাহসুজা পরাজিত ও ভীত হয়ে ১৬৬০ সালের ২৬ শে আগস্ট আরাকানের প্রভাবশালী মুসলমানদের সমর্থন লাভের প্রত্যাশায় আরাকান রাজদরবারে আশ্রয়গ্রহণ করেন। তৎকালীন আরাকানরাজ চন্দ্র সুধর্মা (১৬৫২-৮৪) শাহসুজার সাথে থাকা বিপুল পরিমাণ ধনরতেœর লোভে এবং অনিন্দ সুন্দরী যুবতী কন্যা আমিনাকে বিয়ে করতে চাইলে সঙ্গত কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। শাহ সুজার অসম্মতি জ্ঞাপনে ক্রুদ্ধ আরাকান রাজ শাহ সুজাকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করে (১৬৬১ ৭ই ফেব্রুয়ারি মতান্তরে ১৬৬৪)। এই অবাঞ্ছিত দুর্ঘটনার সুযোগ গ্রহণ করে আরাকানের মানবরূপী দানবেরাও কতিপয় অপরিণামদর্শী মুসলিম নামধারী দালালেরা ভারতের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত মুসলিম শাহি পরিবারকে দিনের পর দিন অভুক্ত রেখে নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে শত শত বিক্ষুব্ধ মুসলমান আরাকান গিয়ে জমায়েত হয়। ১৬৬৬ খ্রি. প্রতিরোধকারী মগ জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্তপূর্বক বাদশাহ আওরঙ্গজেবের মাতুল নবাব শায়েস্তা খান রোসাঙ্গ রাজার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও রামু দখল করে। এভাবে নিরপরাধ মুসলমান নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের যে অশুভ ঘটনার সূত্রপাত হয় পরবর্তী প্রায় তিনশত বছর প্রায় একই পৈশাচিক নাটকের পুনারাবৃত্তি ঘটতে থাকে। আর এ সুযোগেরই অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে ছিল তদানীন্তন সম্প্রসারণবাদী বর্মী রাজারা। তারা বারবার আরাকানে আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালিয়েছে। দীর্ঘকাল অনাকাক্সিক্ষত ও অনেকটা অঘোষিত গৃহযুদ্ধে স্বাধীন আরাকান রাজের সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বিপর্যস্ত হওয়ার দরুন তার প্রতিরোধশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলম্বিয়া বিশ^বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা নির্যাতন সম্পর্কে অনুষ্ঠিত এক গণসেমিনারে বিশ^বিখ্যাত বাঙালি দার্শনিক, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেনের একটি ঐতিহাসিক সত্য ভাষণ উল্লেখ্য, “রোহিঙ্গারা বার্মা যায়নি কিন্তু বার্মিরা আরাকানে রোহিঙ্গাদের কাছে এসেছে।”৪

প্রতিরোধের প্রয়াসজনিত অপরাধে? নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি

বার্মার রাজনৈতিক ইতিহাস সাক্ষী সেখানকার সংখ্যালঘু জাতিসমূহের মধ্যে একমাত্র রোহিঙ্গারাই কেন্দ্রীয় সরকার কাঠামোর অধীনে সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাধান চেয়েছে। অথচ বার্মার প্রচারমাধ্যমে রোহিঙ্গাদেরকে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ২০ লক্ষ মজলুম মানবতা যুগের পর যুগ নির্যাতিত ও নিষ্পেশিত হলে এবং গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের নাগরিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই তারা তাদের স্বীয় মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় সচেতন ও সক্রিয় হয়ে R.I.P, R.P.F, R.L.P, R.S.O ইত্যাদি নামে মুক্তি সংগ্রামে যাবতীয় প্রয়াস ব্যর্থ হবার কারণ মুজাহিদদের সমস্যার সমাধানের চেয়ে প্রতিপক্ষের প্রতারণা ও নিষ্ঠুরতা। মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মংদু উপশহরে স্বল্পশ্রুত আকামুল মুজাহিদীন নামীয় উগ্রবাদী সংগঠনের অতর্কিত হামলার অজুহাতে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা জাতিগত নিধন ও নিশ্চিহ্নকরণ প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সম্প্রতি চরমরূপ পরিগ্রহ করে।

১৮২৬ সালে প্রথম ব্রহ্মযুদ্ধে ইংরেজরা বিজয়ী হলে আরাকানসহ বার্মা ইংরেজদের শাসনাধীনে আসে। প্রায় শতবর্ষ পরে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে (১৯৩৯-৪৫) জাপানিরা বার্মা দখল করলে পালিয়ে যাওয়া ইংরেজ সৈন্যেরা মগদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে যায়। এ সুযোগের অপব্যবহার পূর্বক স্থানীয় মগরা শত শত মুসলমানকে হত্যা করে এবং হাজার হাজার মুসলমানকে বার্মা থেকে বিতাড়ন করে।

১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলনে আরাকানি মুসলমানরা বার্মিজ সৈনিকদের সাথে একাত্ম হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করলেও বার্মা স্বাধীনতার পরে (৪ জানুয়ারি ১৯৪৮) বার্মিজ সৈন্য ও পুলিশের প্রত্যক্ষ সমর্থনপুষ্ট স্থানীয় মগ ও বৌদ্ধরা আবার রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরু করলে তাদের মধ্যে আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধের চেতনা শাণিত হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষে ও স্বাধীনতা লাভের পরে আরাকানকে পদানত রাখার অবিমিশ্রকারিতার জবাবে রোহিঙ্গারা জাপানিদের পরিত্যক্ত কতিপয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ কাশিম নামক জনৈক মুজাহিদের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী গঠনপূর্বক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পূর্বে জেনারেল অংসানের আশ্বাস বাণীর অমর্যাদা ও বর্মি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল নে-উইনের চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও কশাঘাতে মুজাহিদ বাহিনী নামে মুক্তিবাহিনী তথা রোহিঙ্গাদের জীবনে নেমে আসে অমানিশার কালো রাত যার ভোগান্তি আজও শেষ হয়নি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, বার্মার স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা জেনারেল অংসান ছিলেন কট্টর ব্রিটিশবিরোধী ও উদারতাবাদী। কিন্তু দুঃখজনক ১৯৪৭ সালের ১৯ জুলাই সর্ববার্মার স্বাধীনতা লাভে পূর্বে AFPFL (Anti Facist Peoples Freedom League) এক সভায় আততায়ীর বুলেটে অংসান, উ. আবদুর রাজ্জাকসহ প্রথম কাতারের সাতজন নেতার আকস্মিক মৃত্যুতে বার্মা আরাকারেন সকল জাতি গোষ্ঠীর শান্তি ও সমঝোতা চুক্তি তথা আরাকানের স্বাধীনতার প্রয়াস বাস্তবায়িত হতে পারেনি। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত অংসান সূচি (অংসান পত্নী) নিজ দেশেই শান্তি বজায় রাখতে নির্বাক, শক্তিহীন ও দুর্বল।

জেনারেল নিউইন ১৯৫৮ সালে বার্মার তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হয়ে আরাকানের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে বিশ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম পূর্বক কক্সবাজার এলাকায় পালিয়ে আসে। তদানীন্তন পূর্বপাক গভর্নর জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পাক বার্মা সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনাক্রমে বর্মীপক্ষ সকল উদ্বাস্তুকে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়। তৎপূর্বে ১৯৫৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী উনু রেডিও বার্মার মাধ্যমে মুসলমানদের সদ্য সংগঠিত মুজাহিদ আন্দোলনকে বন্ধ করার প্রথম রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আরাকানিদেরকে স্বদেশী হিসেবে ঘোষণা দেন। ১৯৫৭ সালের জাতীয় নির্বাচনে রহিঙ্গারা প্রথম ও শেষ ভোটাধিকার লাভ করে ৭টি আসনে পার্লামেন্টারি সদস্য হিসেবে বিজয়ী হয়। অথচ ১৯৬২ সালে জেনারেল নিউইন আরও শক্তভাবে ক্ষমতায় এসে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনপূর্বক নির্মূলের জন্য আরাকানের মগদের উসকে দেয়। রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার্থে গঠিত সকল আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহসহ দেশে সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তার পূর্ববর্তী শাসক উনুর আমলে বার্মার কেবিনেটে মুসলিম সদস্য ও মন্ত্রী ছিল। কিন্তু নেউনের দীর্ঘ শাসনে আরাকানের মুসলমানদেরকে আর কোন মন্ত্রী বা রাষ্ট্রদূত করা হয়নি। বরং তিনি আরাকানের প্রশাসনকে বৌদ্ধীকরন এবং মুসলমানদেরকে পাইকারি হারে চাকরিচ্যুত করেন। মুসলমানদের চাকরি রক্ষা কিংবা পদোন্নতির জন্য স্বধর্ম ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ অত্যাবশ্যক করা হয়। ১৯৬২ সাল থেকে বার্মা আরাকানের কোন মুসলিমকে হজে¦ যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পবিত্র কুরআন মজিদসহ ধর্মীয় বইপুস্তকসমূহ নষ্ট করে ফেলা এবং প্যাকিং সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কুরবানির ক্ষেত্রেও নানারূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ১৯৫৫ থেকে ৭৮ সালের মধ্যে অন্যূন ত্রিশ সহস্রাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা এবং পাঁচ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের শরণার্থী হতে বাধ্য করা হয়। জেনারেল নেউইনের শাসন আমলে কয়েকবার মুদ্রা অচল ঘোষণার ফলে মুসলমানেরা এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পতিত হয়। ১৯৬৬-৬৭ সালে বার্মার খাদ্যঘাটতি পুরনে সরকারিভাবে জোরপূর্বক রোহিঙ্গাদের গোলা শূন্য করে দেয়া হয়। একদিকে অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, খাদ্যশস্য লুণ্ঠন, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ এবং সর্বোপরি বারবার মুদ্রা অচল ঘোষণায় অর্থনৈতিক দৈন্যতা, অন্যদিকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ফলে মৃত্যুবরণ ব্যতীত রোহিঙ্গাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না। যত্রতত্র শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, সহায়-সম্পত্তি লুটপাট এবং বিনাদোষে কারা নির্যাতন ইত্যাদি জুলুমের শিকার হয়ে অসংখ্য নারী-পুরুষ জন্মভূমির মায়া ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।৫

১৯৭৮ সালের ৬-২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বর্মিবাহিনীর নির্মম অত্যাচারে ৫০ সহস্রাধিক রোহিঙ্গা নিহত এবং আড়াই লক্ষাধিক বাংলাদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। শরণার্থীদের এহেন বিপজ্জনক ঢল ও অপমৃত্যুতে জাতিসংঘসহ বিশ^ বিবেককে নাড়া দেয় এবং রাবেতা আলমে ইসলামীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণসংস্থার তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার, রামুসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের মাথাগোঁজার ঠাঁই দেওয়া হয়। বর্মি সামরিকজান্তা ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত ১৪টি বিভিন্ন নামে বেনামে বড় রকমের অপারেশনে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে পঙ্গু এবং লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের মাতৃভূমি থেকে নির্মমভাবে উচ্ছেদ করা হয়। রোহিঙ্গাদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করার লক্ষ্যে তাদের বাজেয়াপ্ত ভূমিতে নতুন নতুন মগ বসতি দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক আমানউল্লাহ প্রণীত এবং বিশিষ্ট লেখক এস এম নজরুল ইসলাম সঙ্কলিত ‘সা¤্রাজ্যবাদী চক্রান্তে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও আরাকান’ শীর্ষক গ্রন্থের শুরুতে সঙ্কলিত প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতি নিম্নরূপ: “Accusutions of rape, torture, forced removals, forced labour, child labour, detention and killings are wide spreed and have been well documented. Further, their have been major restrictions placad upon the Rohingas reproductive right, the ability to move freely and access to besic social services… of all the ethnic, racical, and religious minoritis in the world wrote the Eeconomist recent year, the Rohingga, a Muslim ethnic group, may well be the most persecuted people on the planet. Their problem is one of the long standing and deeprooted problems of the world.”৫ক

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর এশিয়া বিভাগীয় নির্বাহী পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্মৃত ও নিগৃহীত’ এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর Schabas বার্মা কর্তৃক রোহিঙ্গা নির্যাতনকে চরম অমানবিক গণহত্যা বলেছেন।

বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক এ প্রদত্ত সর্বশেষ তথ্যমতে রাখাইন রাজ্যে ‘মুসলিমমুক্ত এলাকা’ বিল বোর্ডের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বার্মার বৌদ্ধদেরকে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের শূন্যস্থানে সরকারি ভাবে পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে।

আজকের আরাকান : ব্রিটিশ চক্রান্তের শিকার

বিশ শতকে আরবদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের সবচেয়ে নির্মম আঘাত মধ্যপ্রাচ্যের মারণঘাতী বিষফোড়া ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। এই দুষ্ট ক্ষতটির বিষক্রিয়া এক দিনের জন্যও স্থগিত রয়েছে এমনটি ভাববার কোনো সুযোগ দেখছি না। মুসলমানদের জাতশত্রু খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা অষ্টাদশ শতকে আরাকান ও বার্মা দখল করার পর এতদঞ্চলে প্রশাসন ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে মুসলমানদেরকে অপসারণপূর্বক তদস্থলে ভারতীয় হিন্দুদেরকে পদায়ন করে এবং বার্মা ও আরাকানের অধিবাসীদেরকে বৌদ্ধ ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ শিক্ষা দেয়। ফলে কালক্রমে বার্মা ও আরাকানে বৌদ্ধরা ব্রিটিশনীতির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং মুসলিম খেদাও কার্যক্রম শুরু করে। বার্মার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের স্লোগান ছিল, ‘বার্মা, বার্মীদের জন্য’। ব্রিটিশ সরকার এটাকে শাণিত করতে প্রচার করে বর্মা, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বর্মীদের জন্য। তদসঙ্গে বার্মার মুসলিমরা বহিরাগত ইত্যাকার সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক তৎপরতায় মুসলিমদের অবস্থান ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। ১৯৩০ সালে বর্মি-ভারতীয় দ্বন্দ্ব, ১৯৩৮ সালের বৌদ্ধ ও মুসলিম দাঙ্গা, ১৯৪২ সালের আরাকানের নৃশংস রোহিঙ্গা হত্যা ও নারকীয় ধবংযজ্ঞ ইত্যাদি ব্রিটিশ সরকারের সৃষ্ট বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ফলশ্রুতি।৬  এই ফলশ্রুতিতে রোহিঙ্গা মুসলিমরা পর্যায়াক্রমে বার্মা ও আরাকানের অনাহূত আগন্তুক ও রাষ্ট্রহীন নাগরিকে পরিণত হয়। রোহিঙ্গারা ব্রিটিশের নিকট থেকে স্বায়ত্তশাসনের  প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাদের পক্ষে যুদ্ধ করে জাপানিদের তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তীকালে ব্রিটিশের ভূমিকা বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার শামিল হয়ে দাঁড়ায়। 

ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের পরেও ব্রিটেন মিয়ানমারকে Ethnic Cleansing এর জন্য অর্থ ও প্রণোদনা দান করে আসছে। ২০১৪ সালে ব্রিটেনে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থানুকূল্যে পরিচালিত আদমশুমারিতে বার্মা সরকার আরাকানের ৮-১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে বাঙালি অভিবাসী হিসেবে গণনাপূর্বক তালিকাভুক্ত করে। উপনিবেশবাদী ব্রিটেন বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে ১৮৬০ সাল থেকে। ঐ বছর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চট্টগ্রাম জেলাকে বিভক্ত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে আলাদা জেলা করে। উক্ত নতুন জেলায় ১৮৭২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মুসলিম সংখ্যা ছিল ৭০%। নবগঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা যাতে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, সে জন্য আবার তিন সার্কেলে বিভক্ত পূর্বক উপজাতি নামের সাথে সংশ্লিষ্ট নাম দেয়। সর্বশেষে ১৯৩৫ সালে ইন্ডিয়া অ্যাক্ট করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্নপূর্বক দেশীয় রাজ্যে পরিণত করা হয়।৭ ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী প্রথমে বার্মাকে ভারতবর্ষ থেকে আলাদা করে, পরে আরাকানকে বাংলাদেশের সীমানা থেকে বিভক্ত করে বার্মার সাথে জুড়ে দেয় এবং একই সাথে নাফ নদী বরাবর বাংলাদেশের সাথে আরাকানের সীমানা নির্ধারণ করে। অথচ প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে আরাকানের লাখ লাখ মুসলমান বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাথে সর্বক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ১৯৪৭  সালে উপমহাদেশ বিভাগের সময় সীমানা নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যার র‌্যাড ক্লিফ পার্বত্য চট্টগ্রামকে কলকাতার বিনিময়ে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ করার প্রস্তাব দেন। অর্থাৎ অখণ্ড বাংলার রাজধানী হিসেবে কলকাতার দাবিদার পূর্বপাকিস্তানকে কলকাতা না দিয়ে বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পূর্ব-পাকিস্তানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কংগ্রেস নেত্রীবৃন্দ ভারতপন্থী চাকমাদের সাথে গোপন আঁতাত করে আপাতত পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানভুক্তি মেনে নেয়। একেই বলে ফিরিংঙ্গিবাজি ব্রিটিশ শয়তানি। আমাদের চট্টগ্রামকে ভাগ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম করা হলো এবং তা আমাদের রাজধানী কলকাতার বিনিময়ে পুনরায় আমাদেরকে ফেরত দেওয়া হলো। এ প্রসঙ্গে ভিন্নমত হলো পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার ভারতভুক্তির বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ করা হয়।৮

রোহিঙ্গা সঙ্কট সুরাহায় আসিয়ানের ভূমিকা

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জটিল রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর আন্তরিক ভূমিকা একান্তভাবে প্রত্যাশিত। দুঃখজনক যে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সঙ্কট নিরসনে জোটটিকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এমনকি জোটভুক্ত কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সমাজতান্ত্রিক চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আসিয়ানের অন্যতম সদস্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোন প্রস্তাব কার্যকর হচ্ছে না। এটা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশসমূহের ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।

নববর্ষের (২০২২) শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে নেতিবাচক প্রভাব ও পরিণতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আসিয়ানের অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্র মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, টিমুর ও লাওসের সাথে ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যথাসাধ্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার সর্নিবন্ধ অনুরোধ জানান। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সম্পতি (এপ্রিল ২২) প্রতিবেশী থাইল্যান্ড কর্তৃক মিয়ানমার শরণার্থীদেরকে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে জোরপূর্বক স্বদেশে ঠেলে দেওয়ার অপপ্রয়াসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ।৯

বার্মা ও আরাকান : বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

আরাকানসহ মিয়ানমারের স্বৈরাচারী বর্মী সরকার ও স্থানীয় নরখাদকদের নির্যাতনের গুরুদণ্ড সহ্য করেও চৌদ্দপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে যারা অনেকে পৈতৃক ভূমিতে এখনও আঁকড়ে রয়েছে কিংবা বিদেশে হিজরত করতে সক্ষম হয়নি। এসব রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে স্বদেশে নিরাপত্তার বিষয়টাও উপেক্ষিত হতে পারে না। বার্মা সামরিক জান্তার নিñিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে মিডিয়ার সুচিসমছিদ্র থেকে প্রকাশ, এখনো এমন দিনটা কমই যায় যে রোহিঙ্গারা যান মাল ও ইজ্জত উভয়দিকে নির্যাতিত না হচ্ছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বার্মার চেইনখার গ্রামে মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকায় সামরিক জান্তার জ্বালিয়ে দেয়া প্রায় সাতশত আবাসিক ভবনের উপগ্রহ থেকে ধারণ করা ছবি তুখোড় সাংবাদিক ও গবেষক এস এম নজরুল ইসলামের সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও আরাকারেন মুসলমান শীর্ষক গ্রন্থের শেষ প্রচ্ছদে প্রদত্ত। উক্ত প্রচ্ছদে ভিতরের পাতায় আরাকানে মুসলিম শাসনামলে প্রচলিত স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার একাধিক চিত্র উৎকীর্ণ রয়েছে। দেশী নৌকা ভরে অজানা ভিনদেশের উদ্দ্যেশে পাড়ি জমানো কিংবা অযাচিত শরণার্থী হওয়ার ঘটনা এখনো মাঝে মাঝে নজর কাড়ে। ইতোমধ্যে যারা বাংলাদেশসহ বিদেশে উদ্বাস্তু হয়েছে, আরাকান ও বার্মায় বসবাসরতদের সংখ্যা বোধ করি বেশি বৈ কম হবে না। এই হতভাগ্য মুসলমান অধিবাসীদের আর যাতে ভিনদেশি অভিবাসী হতে না হয় এবং যাতে স্বদেশে জান মাল ও ইজ্জত নিয়ে অনাগত ভবিষ্যতে যথার্থ নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে থাকতে পারে তৎপ্রতি সংশ্লিষ্ট সকলের সহৃদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাগমন না বাংলায় পুনর্বাসন?

‘জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও গরীয়সী’ চৌদ্দপুরুষের ভিটেমাটিকে সহজে ছাড়ে আর সুযোগ পেলে ১৯৭১ সালে ভারতের শরণার্থী বাংলাদেশীদের ন্যায় স্বদেশ পুনর্বাসনের সুযোগ কত জনেই না হাত ছাড়া করে? বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নিবাসিত ও আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গাদেরকে স্বদেশে ফিরে গিয়ে নিরাপত্তার আস্থা তথা নাগরিক অধিকার না পাবার আশঙ্কায় তারা বাংলাদেশে অভুক্ত থেকে মরে যেতে রাজি। কিন্তু আরাকানের মাতৃভূমিতে প্রত্যাগমনের কোনো সাহস কিংবা ভরসা পাচ্ছে না। কয়েক বছর পূর্বে আরাকান থেকে সপরিবারে চলে আসা একজন গেরিলা নেতার সুচিন্তিত অভিমত ‘আমাদেরকে কোনো হিংস্র নরখাদকদের কাছে ঠেলে না দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বসবাসের সুযোগ দেওয়া হলে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেভাবে জঙ্গল সাফ করে ও পাহাড় কেটে আরাকানকে আবাদ করেছিল, পার্বত্য চট্টগ্রামকে আমরা সেভাবে আবাদ করবো, বেপরোয়া ও ছিন্নমূল রোহিঙ্গারা শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামকে আবাদ ও সম্পদশালী করতে সক্ষম হবে না, পুনর্বাসিত হলে তারা তথাকথিত শান্তি বাহিনীর প্রতিরোধে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ। সম্প্রতি ভাসানচরসহ বাংলাদেশের কোনো কোনো দ্বীপাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের যে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে (এবং এখনো চলছে) উহা চীন-বার্মার স্বার্থে বেইজিং এর অর্থায়নে হচ্ছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।১০ ইতঃপূর্বে স্বীকৃত তিক্ত বাস্তবতা যে জনসংখ্যা প্রপীড়িত ক্ষুদ্রায়তন বাংলাদেশের একার পক্ষে সুদীর্ঘকাল লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভার বহন করা দুঃসাধ্য প্রায়। কিন্তু যতই কষ্টদায়ক হোক না কেন, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশ কোন অবস্থাতেই তার নিকটতম বিপন্ন প্রতিবেশী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী (যাদের সাথে রয়েছে হাজার বছরের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও বিশ্বাসগত সংযোগ) নির্মম নির্যাতন ও নির্মূলকরণে নীরব সাক্ষী হতে পারে না। বাংলাদেশ সরকার ও সচেতন জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্যাতিত মানবতার পক্ষে নিতে হবে সুদৃঢ় অবস্থান। রাঘববোয়ালদের ভ্রুকুটি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে চেচনিয়া, বসনিয়া ও মরো মুসলিমদের ন্যায় রোহিঙ্গাদেরকেও তাদের মাতৃভূমিকে মুক্ত করার জন্য, সেখানে পুনর্বাসিত হবার দুর্বার আকাক্সক্ষা ও পরিকল্পনা নিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে যেতে হবে।

তাদের ধারণা, পরিশ্রমী ও অকুতোভয় এ জাতিগোষ্ঠী ১৭২ মাইল দীর্ঘ বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানার নিশ্চয়তা পেলে সীমান্ত আর অরক্ষিত থাকবে না এবং বাংলাদেশ আর্থসামাজিকভাবে লাভবান হবে।

অপরদিকে সা¤্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তিসমূহের নানামুখী চক্রান্ত ষড়যন্ত্র সুচিন্তিত ও শক্ত হাতে প্রতিহত করতে ব্যথ হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আর একটি ইসরাইল রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটবে এবং আল্লাহ না করুন অদূর ভবিষ্যতে চীন-ভারত রুশ-মার্কিন মহাযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশ (তৎসঙ্গে মিয়ানমার) বাফার স্টেটে পরিণত হবার আশঙ্কা দেখা দিবে।১১ আঞ্চলিক ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সজাগ ও দায়িত্বশীল করতে আমাদের  সরকার, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দল, লেখক-গবেষক, সাংবাদিক, সুশীলসমাজ ও সকল প্রকার গণমাধ্যমকে এই মর্মে পালন করতে হবে ঈপ্সিত সাহসী ও সংগ্রামী ভূমিকা।১২

পরিশেষে ধর্মীয় ও মানবিক দৃষ্টিতে আলোচ্য রোহিঙ্গা ইস্যুর ন্যায় একটি সংবেদনশীল ও আন্তর্জাতিক সঙ্কটে বহু সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রবন্ধকার উপরোক্ত মসিচিত্র এঁকেছেন। সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সূরা নিসার (০৪:৭৫) সহ মুমিনদেরকে উদ্দেশ করে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন কোনো মজলুম জনপদের নর-নারী ও শিশুদের আর্তচিৎকার শুনে কিংবা তাদের জুলুম নির্যাতনের কথা জেনে তাদের সাহায্যে তথা উদ্ধারকল্পে এগিয়ে যায়। ইসলামের সোনালি যুগের ইতিহাস এ ধরনের উদ্যোগ সংক্রান্ত বহু ইতিকাহিনীতে পরিপূর্ণ। 

টীকা ও তথ্য নির্দেশ-

১. ১৯৭৪ সালে বার্মা সরকারপ্রধান জেনারেল নেউইন আরাকানকে রাখাইন স্টেট নামকরণপূর্বক একটি অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা দান করেন। ১৯৮৯ সালের ১৮ই জুন সরকারিভাবে বার্মার নাম পরিবর্তন পূর্বক মিয়ানমার রাখা হয়েছে এবং রাজধানী রেংগুনের নাম পরিবর্তিত হয়েছে ইয়াংগুন নামে।

২. বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ইতিহাসবিদ ও গবেষক হিসেবে বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি কর্তৃক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. অব্দুল করিম নিজেই বলতে গেলে একজন রোহিঙ্গা মুসলিম। তাঁর পিতা মৌলভী সৈয়দ ওয়াইজুদ্দীন মিয়ানমারে বেসিন শহরের বড় মসজিদের সম্মানিত মুয়াজ্জিন ছিলেন। আজ থেকে প্রায় শতবর্ষ পূর্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে সম্ভবত ১৯২১ সালে বাংলাদেশে হিজরতপূর্বক চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ইলশা ইউনিয়নের চাপাছড়ি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন- মোঃ জাফর উল্লাহ, সম্পাদক, মাসিক দ্বীন দুনিয়া, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স চট্টগ্রাম

৩. বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চায় আরাকানের ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করা অভিজ্ঞ ইতিহাসবিদদের অভিমত। সবিস্তারে জানতে দ্রষ্টব্য: (১) ড. মু. এনামুল হক ও আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ প্রণীত আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য, কলকতা ১৯৩৫।  (২) ড. আহম্মদ শরিফের বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য। (৩) অধ্যপক এন এম হাবিব উল্লাহ প্রণীত রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস চট্টগ্রাম ঢাকা ২০১৫ বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি প্রকাশিত। (৪) ঢা.বি.র ভিসি ড. মোঃ আখতারুজ্জামানের প্রবন্ধ “আরাকানি রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর উৎস ও ক্রমবিকাশ: একটি ঐতিহাসিক সমীক্ষা (১২০৪-১৭৮৫) (৫) এস এম নজরুল ইসলাম সঙ্কলিত ও সম্পাদিত সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকানের মুসলমান ইত্যাদি গবেষণামূলক রচনাবলী।

৪. (আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক ও গবেষক মি. হাবিব সিদ্দিক প্রণীত দি লেটেস্ট ক্রাইসিস ইন আরাকান শীর্ষক প্রবন্ধ ও প্রগুক্ত এস এম নজরুল ইসলাম সঙ্কলিত গ্রন্থের শেষে উদ্ধৃতি পৃষ্ঠা ২০৭) সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকান চট্টগ্রাম- ২০১৭, নামাঙ্কিত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি।

৫. ড. মাহফুজুর রহমান ও মোঃ ইউনুছ “রোহিঙ্গাদের স্বাধিকার আন্দোলন : বর্তমান প্রেক্ষিত” শীর্ষক প্রবন্ধ (সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও আরাকান সঙ্কলন, পৃষ্ঠা ১৫৪-৫৫)   

৫ ক. আমানউল্লাহ The Rohingays Genocide, ২০১৭

৬. এন এম হাবিব উল্লাহ্- রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস তৃতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১১৫, ২০১৫

৭. জিলানী- আরাকানে রোহিঙ্গা পৃষ্ঠা ২৪৭,২৬৮, ৩৩৩, দৈনিক  ইত্তেফাক ২১ জুন ১৯৬১, ২৬ জানুয়ারি ১৯৯২।

৮. সূত্র: এস এম নজরুল ইসলাম অশান্ত পাহাড় বিপন্ন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পৃষ্ঠা- ১৮০ সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকান

৯. এবিসি নিউজ, দৈনিক নয়া দিগন্ত, তারিখ: ২২ এপ্রিল-২০২২

১০. মাসুম খলিলী- রোহিঙ্গা ইস্যুর মৃত্যু ঘটাতে চায় চীন? দৈনিক নয়া দিগন্ত ১২ জানুয়ারি ২০২২

১১. এস এম নজরুল ইসলাম-অশান্ত পাহাড়: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা (সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও আরাকান পৃষ্ঠা ১৯০)

১২. ১৯৯৭ সালের ২৯ অক্টোবর অপরাহ্নে ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অতন্দ্রজনতা বাংলাদেশ আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অখণ্ড বাংলাদেশ পর্যায়ে এক জমজমাট সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ঐতিহাসিক সেমিনারে দলমত নির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পক্ষে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীসহ সচেতন জনতা উপস্থিত ছিলেন এবং সাহসী বক্তব্য পেশ করেন। সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহম্মদ, তালুকদার মনিরুজ্জামান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ ইবরাহিম, ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরী, ড. মো: আব্দুর রব, ড. এবনে গোলাম সামাদ, নির্মল  সেন, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, গিয়াস কামাল চৌধুরী প্রমুখ সুধীমণ্ডলী। এসব ক্ষণজন্মা পণ্ডিতদের কেউ কেউ ইতোমধ্যেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

লেখক : সাবেক অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির