post

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার তথ্য

ছাত্রসংবাদ ডেস্ক

১৭ আগস্ট ২০২৩

১.

স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লুসান

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আংশিক স্কলারশিপের মাধ্যমে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লুসান। ইউএনআইএল (UNIL) মাস্টার্স গ্র্যান্টস এর আওতায় দশজন শিক্ষার্থীকে মেধার ভিত্তিতে এই স্কলারশিপ প্রদান করবে। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরাও এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার শেষ সময় ১ নভেম্বর ২০২৩। এটি সুইজারল্যান্ডের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। ১৫৩৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্কুল অব থিওলজি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৮৯০ সালে  এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। 

সুযোগ-সুবিধা :

নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ১৬০০ সুইস ফ্রাঙ্ক (বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা) আর্থিক সহায়তা পাবে। এ ছাড়া আবাসন ও টিউশন ফি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। অন্যান্য সকল খরচ শিক্ষার্থীকে বহন করতে হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ জুলাই (বছরে ১০ মাস) মাস্টার্সের সম্পূর্ণ সময়কালের জন্য এ স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। 

যোগ্যতা

- UNIL-এ মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরুর আগে UNIL-এ স্নাতকের সমতুল্য বিবেচিত একটি বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করা থাকতে হবে।

- ভালো অ্যাকাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে।

ফ্রেঞ্চ বা ইংরেজিতে কমপক্ষে ই২ (ইউরোপীয় ভাষা পোর্টফোলিও গ্লোবাল স্কেল অনুযায়ী) ভাষার স্তর থাকতে হবে।

- নতুন শিক্ষার্থী হতে হবে।

- CHF ২০০.০০ প্রশাসনিক ফি প্রদান করতে হবে।

নিম্নলিখিত মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলো UNIL স্কলারশিপ এর আওতাভুক্ত 

- স্কুল অব মেডিসিন 

- শিক্ষা

- আইন

- ফৌজদারি আইন এবং ম্যাজিস্ট্রেসি বিশেষজ্ঞ

- শারীরিক শিক্ষা এবং ক্রীড়া শিক্ষাবিজ্ঞান

- স্বাস্থ্য বিজ্ঞান

- টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত (MSc)

সমস্ত এমএএস (পিএইচডি প্রোগ্রাম) শুধুমাত্র আইনের ওপর মাস্টার্সের জন্য, দুটি বিশেষীকরণ রয়েছে-১) আন্তর্জাতিক এবং তুলনামূলক আইন এবং ২) আইনি তত্ত্ব এই দুইটি বিষয় মাস্টার্স এ স্কলারশিপের আবেদনের জন্য উন্মুক্ত।


আবেদন প্রক্রিয়া 

অনলাইনেও আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে ভিজিট করুন:


২.

ফুল-ফ্রিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ 

বর্তমানে প্রায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বেছে নেয় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ কিংবা অস্ট্রেলিয়া। তবে এসব দেশগুলোর সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের প্রায় সব দেশই দক্ষিণ কোরিয়াকে অনুকরণ করে থাকে। উচ্চশিক্ষায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে নানান সুযোগ-সুবিধা। খুব সহজেই স্কলারশিপ পাওয়া যায়। যার ফলে কোনো চাকরি খুঁজতে হয় না। স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিতে তেমনি ফুল-ফ্রি স্কলারশিপের সুযোগ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজু ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জিআইএসটি)। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে কোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। গোয়াংজু ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জিআইএসটি) দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজু প্রদেশে অবস্থিত। এটি ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুযোগ-সুবিধাসমূহ

সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান করবে।  

স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের মাসিক উপবৃত্তি পাবে ১ লাখ ৪০ হাজার ওন (১০ হাজার টাকা) এবং পিএইচডির শিক্ষার্থীরা পাবে ২ লাখ ৯৫ হাজার ওন (২১ হাজার টাকা)।

আগের সেমিস্টারে সিজিপিএ ৩ এর ওপর থাকলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক উপবৃত্তি বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার ওন দেয়া হবে। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ হাজার টাকা।

রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ হিসেবে স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৮ লাখ ওন দেয়া হবে (৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা)।

আর পিএইচডির শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে ১ কোটি ২৩ লাখ ওন (প্রায় ৯ লাখ টাকা)।

খাবার ভাতা বাবদ ১ লাখ ওন (৮ হাজার টাকা)।

৮০ শতাংশ স্বাস্থ্যবীমার খরচ বহন করবে।

দেওয়া হবে বিমানে যাওয়ার খরচও।

আবেদনের যোগ্যতা 

স্নাতকোত্তরের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই স্নাতক ভালো ফলাফলধারী হতে হবে।

পিএইচডি স্কলারশিপের জন্য অবশ্যই স্নাতকোত্তরে ভালো ফলাফলধারী হতে হবে।

আবেদনকারীদের অবশ্যই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।

আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৬.৫ বা টোয়েফল আইবিটিতে কমপক্ষে ৮০ স্কোর তুলতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

অনলাইন আবেদন ফর্মটি পূরণ করতে হবে।

উচ্চমাধ্যমিকের সনদ।

অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট।

একটি রিকমেন্ডেশন লেটার।

পাসপোর্ট।

ইংরেজি দক্ষতা সনদ।

জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)।

ব্যক্তিগত বিবৃতি (এসওপি)।

আবেদন প্রক্রিয়া

অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে ক্লিক করুন নিম্নোক্ত লিংকে :

https://service.gist.ac.kr/admission/graduate/foreigner

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এই লিংকে https://www.gist.ac.kr/iadm/html/sub04/0401.html


৩.

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ, বছরে দেবে ২৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণা এবং পিএইচডি স্নাতকোত্তরে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর। প্রতি বছর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন ডিগ্রির জন্য এ স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত মাস্টার্সের জন্য দুই বছর ও পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ওশেনিয়ার প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল ক্যাম্পাস ক্যাম্পারডাউন এবং ডার্লিংটন শহরতলিতে অবস্থিত। ১৬টি অনুষদ এবং স্কুল নিয়ে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

সুযোগ-সুবিধাসমূহ

সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন ব্যবস্থাসহ, মাসিক হাতখরচ, গবেষণামূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ, সব মিলিয়ে বাৎসরিক ৩৭,২০৭ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা) প্রদান করা হবে । 

আবেদনের যোগ্যতাসমূহ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী  হতে হবে ।

অ্যাকাডেমিকভাবে ভালো ফলাফল থাকতে হবে এবং গবেষণা পরিচালনার যোগ্যতা থাকতে হবে ।  

বর্তমানে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা বা পিএইচডি  স্নাতকোত্তরের অফার লেটার থাকতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া 

অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে এবং বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিম্নোক্ত লিংকে :

https://www.sydney.edu.au/scholarships/e/university-sydney-international-scholarship.html


৪.

ক্ল্যারেন্ডন স্কলারশিপে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় প্রায় সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ যুক্তরাজ্য। ২০০টি দেশ থেকে প্রত্যেক বছর প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা ধরনের নজরকাড়া সব ফুল ফ্রি স্কলারশিপ। তেমনিই একটি ফুল ফ্রি স্কলারশিপ হচ্ছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যারেন্ডন স্কলারশিপ। এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে একটি। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার ভিত্তিতে অক্সফোর্ডের ক্ল্যারেন্ডন ফান্ড এই স্কলারশিপ দিয়ে থাকে বলে প্রোগ্রামটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম বলা হয়। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স এবং পিএইচডির বিভিন্ন সাবজেক্টে বিনা খরচে পড়াশোনার পাশাপাশি আরো অনেক সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। কোর্সভেদে আবেদনের সময়সীমা আলাদা হয়ে থাকে। ২০০১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ক্ল্যারেন্ডন ফান্ডের কাজ শুরু হয়। প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য ফান্ডটি ২০০টির বেশি ফুল রাইড স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে।

সুযোগ-সুবিধা

সম্পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান করবে। 

আবাসন সুবিধা প্রদান করবে।

পার্টটাইম শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাডেমিক কোর্স ফি প্রদান করা হবে।

ক্ল্যারেন্ডন স্কলারদের স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনে যোগদানের সুযোগ। 

আবেদনের যোগ্যতা 

আবেদনকারীর স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। 

ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৭ থাকতে হবে।

অ্যাকাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে। 

যেকোনো সাবজেক্টে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন।

ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। 

আবেদনকারীকে অবশ্যই ফুলটাইম অথবা পার্টটাইম পিএইচডি এবং মাস্টার্সের যেকোনো কোর্সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

অ্যাপ্লিকেশন ফরম।

অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপট ও সার্টিফিকেট। 

পার্সোনাল স্টেটমেন্ট। 

রিসার্চ পেপার। 

ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট। 

রেকমেন্ডেশন লেটার। 

ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট। 


আবেদনের প্রক্রিয়া

ক্যালেন্ডর স্কলারশিপের জন্য আবেদনকারীকে আলাদাভাবে কোনো ধরনের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে না। শিক্ষার্থীরা ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ও মাস্টার্সের জন্য আবেদন করলেই এই স্কলারশিপের প্রার্থী হতে পারবেন। শর্টলিস্ট করার পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। কোনো শিক্ষার্থী যদি স্কলারশিপ অফার গ্রহণ না করে, ভবিষ্যতে অক্সফোর্ডে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আবেদন করতে এবং বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিম্নোক্ত লিংকে :

https://www.ox.ac.uk/clarendon/information-for-applicants

THE DAILY CAMPUS

- ছাত্রসংবাদ ডেস্ক

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির