post

ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে রিজার্ভ বাড়ানোর উপায়

এম এ মাসুম

০৪ ডিসেম্বর ২০২৩

স্বাধীনতার পর প্রায় এক দশক বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নের (রিজার্ভ) কোনো তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেই। হয়তো ওই সময়ে পণ্য রফতানি থেকে তেমন কোনো আয় দেশে আসেনি। রেমিট্যান্সও আসা শুরু হয়নি; বিদেশি ঋণসহায়তাও মেলেনি। তাই রিজার্ভে কোনো বিদেশি মুদ্রার মজুদও ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৮১-৮২ অর্থবছর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে বিদেশি মুদ্রার মজুদ জমতে শুরু করে, মূলত রিজার্ভের গল্প শুরু হয় তখন থেকেই। ওই অর্থবছর শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার। 

পাঁচ বছর পর ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছর শেষে সেই রিজার্ভ বেড়ে হয় ৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ১৯৯১-৯২ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। পরের ১৯৯২-৯৩ অর্থবছর শেষেই রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছর শেষে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছর শেষে তা কমে ২ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর ১৯৯৭-৯৮ থেকে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর পর্যন্ত রিজার্ভ দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।

২০০০-০১ অর্থবছরে রিজার্ভ কমে ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। ওই অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থাকলেও অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে তা ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল। এরপর অবশ্য কখনই রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আসেনি। ২০০১-০২ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ বেড়ে হয় ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। পরের বছর ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ২০১৬ সালের জুনে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এরপর ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা ছিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকলে ২০২৩ সালের শেষে ৬০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিট রিজার্ভের পরিমাণ হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ২১ বিলিয়ন ডলার। 

রিজার্ভ কী

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বলতে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বা মুদ্রাবিষয়ক কর্তৃপক্ষের কাছে বৈদেশিক মুদ্রায় গচ্ছিত সম্পদের মজুদকে বোঝায়। রফতানি, রেমিট্যান্স, ঋণ বা অন্যান্য উৎস থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রা থেকে আমদানি, ঋণ ও সুদ পরিশোধ, বিদেশে শিক্ষা ইত্যাদি নানা খাতে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বাদ দেয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চিত থাকে, সেটাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। মূলত পণ্য ও সেবা রফতানি এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের স্বদেশে পাঠানো অর্থ ইংরেজিতে যাকে রেমিট্যান্স বলে, তা থেকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ গড়ে ওঠে। এর সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের অর্থ, স্বর্ণের মজুদ, স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) রিজার্ভ পজিশনও হিসাবে ধরা হয়। সাধারণত শক্তিশালী বা অনমনীয় মুদ্রা, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে বিনিময়যোগ্য, ইংরেজিতে যাকে বলে হার্ড কারেন্সি, সেটিতেই বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ গড়ে তোলা হয়। যেমন ডলার, ইউরো, পাউন্ড ইত্যাদি। কোনো দেশ স্বীয় দেশেরই কোনো ব্যাংকে বা বিদেশে অবস্থিত কোনো ব্যাংকেও বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সংরক্ষণ করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিজার্ভ সংরক্ষিত হচ্ছে মার্কিন ডলারে। আমদানি ব্যয় মেটানো, দেশের আর্থিক বিপর্যয় মোকাবিলা, স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন রোধ, মুদ্রানীতি শক্তিশালীকরণ, বাজেট বাস্তবায়ন, বৃহৎ প্রকল্পে অর্থের জোগানসহ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে এ ধরনের রিজার্ভ হাতে রাখে যে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশে রিজার্ভ সংরক্ষণের পদ্ধতি

বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করে, একটি হলো গ্রস হিসাব পদ্ধতি অপরটি হলো নিট হিসাব পদ্ধতি। নিট হিসাবে রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন তহবিল বাদ দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রিজার্ভ গণনার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ব্যবহারযোগ্য যে তহবিল থাকে, সেটাকেই দেশের নেট রিজার্ভ হিসেবে হিসাব করা হয়। তবে বাংলাদেশে এতদিন রিজার্ভ হিসাব করার সময় হাতে নিট রিজার্ভের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ বা ঋণ হিসাবে যে ডলার রিজার্ভ থেকে দেয়া হয়েছে, সেটাকেও যোগ করে দেখানো হয়। ইডিএফ ৬০০ কোটি, এলটিএফ ৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার ও জিটিএফ ২০ কোটি ডলার, বাংলাদেশ বিমানকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং পায়রা বন্দরের জন্য ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রিজার্ভ থেকে দেয়া হয়েছে। আইএমএফের ভাষায় এগুলো ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড সিকিউরিটিজ। সেখান থেকে প্রায় ১৬০ কোটি ডলার আদায় হয়েছে। ফলে প্রকৃত রিজার্ভ হিসাব করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব খাতের মোট ৬৪০ কোটি ডলার বাদ দিয়েছে। আইএমএফের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ব্যবহারযোগ্য যে তহবিল রয়েছে সেটাই রিজার্ভ হিসাবে দেখাতে হবে। ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যালান্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন (বিপিএম-৬) ম্যানুয়াল অনুযায়ী বাংলাদেশের রিজার্ভ তহবিল গণনা শুরু হয়েছে।

রিজার্ভ কেন গুরুত্বপূর্ণ

১৯৪৪ সালে ৪৪টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ব্রেটন উডস শহরে একটি চুক্তি করে। সিদ্ধান্ত হয়, এসব দেশের মুদ্রার বিনিময়মূল্য মার্কিন ডলারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। আর ডলারের মূল্য নির্ধারিত হবে স্বর্ণমানের ভিত্তিতে। ১৯৪৭ সালে বিশ্বের মোট মজুদ স্বর্ণের ৭০ শতাংশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। স্বর্ণের মজুদ এবং ডলারের স্থিতিশীল মূল্যের কারণে সেসব দেশ রিজার্ভ কারেন্সি (মুদ্রা) হিসেবে ডলার রাখতে একমত হয়। মূলত ডলারের আধিপত্য তখন থেকে শুরু।

এই ব্রেটন উডস চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক। ঐতিহ্যগতভাবে আইএমএফের প্রধান নির্বাচিত হন ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আর বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাচিত হন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর এবং জাপানের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। তারা ডলার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সোনা কিনতে থাকে। এতে কমতে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার মজুদ। আবার ভিয়েতনাম যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ওয়াশিংটন বিপুল পরিমাণ মুদ্রা ছাপায়। ফলে ডলারের সঙ্গে সোনার সংযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ডলারের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আরেক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ১৯৭১ সাল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ঘোষণা দেন, স্বর্ণমানের ভিত্তিতে ডলারের মূল্য আর নির্ধারিত হবে না, বিশ্ব অর্থনীতিতে যা ‘নিক্সন শক’ নামে পরিচিত। তবে এরপরও ডলারের গুরুত্ব কিন্তু কমেনি।

বিশ্বজুড়ে ডলারের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়, সৌদি আরব থেকে জ্বালানি তেল কিনলে যেকোনো দেশকে মার্কিন ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। বিনিময়ে সৌদি আরবকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র। দুই বছর পর ১৯৭৫ সালে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক সৌদি আরবের মতোই সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবে দিনে দিনে বিশ্বব্যাপী ডলারের আধিপত্য বাড়তে থাকে।

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ছাড়া একটি দেশ জ্বালানি তেল, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধের মতো জরুরি পণ্য আমদানি করতে পারে না। একটি দেশের বিদেশি ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয় রিজার্ভ থেকে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মুদ্রার বিনিময় হারকেও নিয়ন্ত্রণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার মাধ্যমে মুদ্রার বিনিময় হার ঠিক রাখে। আবার সঙ্কটকালে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস জোগায় রিজার্ভ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে জমা রাখে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, কোনো একটি দেশের অন্তত তিন মাসের আমদানির সমপরিমাণ অর্থ রিজার্ভ রাখা নিরাপদ। রিজার্ভের অর্থ দুর্দিনে কাজে লাগে। যেমন বন্যা-খরার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসলহানি হলে রিজার্ভের অর্থ দিয়ে খাদ্য আমদানি করা যায়। তবে এর মধ্য দিয়ে গরিব দেশগুলো থেকে অর্থ ধনী দেশে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে এসব দেশের সুদহার ও মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোতে বিপর্যয়ের শঙ্কা থেকে যায়। মনে করা হয়, ধনী দেশ থেকে ঝুঁকি উল্টো দরিদ্র দেশে চালান হচ্ছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎস মনে করেন, গত চার দশকে বিশ্বে যত সঙ্কট হয়েছে, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে, তার একটি কারণ এই রিজার্ভ-ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার কিছুটা সংস্কার করা হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরো স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হতো।

বাংলাদেশে রিজার্ভ কমছে কেন

প্রতি মাসেই কমছে বিদেশি মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ নভেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৫০ কোটি (১৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন) ডলার। তবে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আইএমএফকে যে হিসাব দেয়, তাতে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি বা ১৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ অক্টোবর, ২০২৩ তথ্যানুসারে, আগস্টে এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক কর্মী বিদেশে যাওয়ার পরও গত ৪১ মাসে দেশে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে সেপ্টেম্বর মাসে। অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের বাইরে গেছেন রেকর্ড ১১.৩ লাখ কর্মী। অর্থনীতিবিদদের হিসাবে, গত ২৪ মাস বা দুই বছরে প্রতি মাসে ১০০ কোটি ডলার করে রিজার্ভ কমেছে। ২০২২ সাল থেকে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহও কমছে। ২০২২ সালে যেখানে মাসে ২০০ কোটি ডলার আসত, সেখানে ২০২৩ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে দেশে প্রতি মাসে গড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। অন্যদিকে ইপিবির তথ্যানুসারে, সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ৪.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা গত পাঁচ মাসে সর্বনিম্ন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের রফতানি আয়। এই রফতানি আয় আগের অর্থবছরের (২০২২-২৩) একই সময়ের ১৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের চেয়ে ৩০০ কোটি ডলার কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিজার্ভ কমে যাওয়ার মূল কারণ নীতিগত সমন্বয়হীনতা ও নেতৃত্বের অভাব। বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের কথাও বলেছেন অনেকে। রিজার্ভের অর্থ যেখান থেকে আসে ও ব্যয় হয়, এই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য নেই। ফলে রিজার্ভ ধরে রাখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাণিজ্য ভারসাম্য গত দুই-এক মাসে কিছুটা ভালো হয়েছে, যদিও তার অন্য তাৎপর্য আছে। আর্থিক ও চলতি হিসাবে ঘাটতি আছে। সরকারের দায়-দেনা শোধ করতে হচ্ছে। সে কারণে আর্থিক হিসাব মিলছে না।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, রিজার্ভ কমার বড় কারণ হলো, টাকার মূল্যমান কৃত্রিমভাবে ধরে রাখা। টাকার মান কৃত্রিমভাবে ধরে রাখা হলে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির রাশ কিছুটা টেনে ধরা যাবে। কিন্তু এই ব্যবস্থা টেকসই নয়। অর্থশাস্ত্র বলে, মুদ্রানীতির সঙ্গে আর্থিক নীতির সমন্বয় করতে হয়। মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে সুদের হার বাড়াতে হয়, কিন্তু সরকার তা পারেনি। রিজার্ভের অর্থ যেখান থেকে আসে ও ব্যয় হয়, এই দুটোর মধ্যে ভারসাম্য নেই। ফলে রিজার্ভ ধরে রাখা যাচ্ছে না। আর্থিক ও চলতি হিসাবে ঘাটতি আছে। সরকারের দায়-দেনা শোধ করতে হচ্ছে। সে কারণে আর্থিক হিসাব মিলছে না। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কোভিডের পরপর ২০২৩-২৪ সালে দায়-দেনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা আসছে। সেই ধাক্কা এখন এসেছে। বড় বড় প্রকল্পের জন্য যে বিভিন্ন সুদে অর্থ নেওয়া হয়েছে, তা পরিশোধের সময় এসেছে। কিন্তু এসব প্রকল্প থেকে রাতারাতি আয় আসছে না। এলেও তা বিদেশি মুদ্রায় নয়। বিশেষত বিদেশি দায়-দেনা শোধ করার কারণে মজুদের ওপর চাপ আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের অপরিশোধিত দেনা শোধ করতে হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স আনতে সরকারের ২.৫ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত দেবে আরও ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা। অর্থাৎ বৈধপথে দেশে বৈদেশিক আয় পাঠালে মোট ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন তারা। কিন্তু লক্ষণীয় যে প্রণোদনা সত্ত্বেও প্রবাসীরা বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে আকৃষ্ট হচ্ছেন না। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশানুরূপ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। হুন্ডিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের সংগঠন এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক অনুষ্ঠিত তৃতীয় গ্লোবাল বিজনেস সামিটে বক্তারা বলেন, দেশে প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশ আসে হুন্ডির মাধ্যমে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি খেয়ে ফেলছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তারা বলছেন, বিদেশে শ্রমিক যাওয়া বাড়লেও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছে তুলনামূলক কম। হুন্ডিতে রেমিট্যান্স বেশি আসায় ওইসব ডলার চলে গেছে কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে। এতে কার্ব মার্কেটে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। ডলারের দর বাজারভিত্তিক না করার কারণে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ অবৈধ হুন্ডিতে চলে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে ব্যাংকগুলো যে দর দিচ্ছে, হুন্ডিওয়ালারা তার চেয়ে বেশি দামে বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে। যে কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে হুন্ডি চ্যানেল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক রফতানি বেড়েছে। অথচ রেমিট্যান্স বাড়ছে না। 

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে রেমিট্যান্সের বিপরীতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজের ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের অর্থ পাঠাতে ব্যাংক হিসাব পরিচালনায়ও অর্থ খরচ হচ্ছে। এতে বাংলাদেশে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ এখনও সর্বোচ্চ পৌঁছেছে। যে কারণে রেমিট্যান্সের একটি অংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে চলে যাচ্ছে। এতে প্রবাসীদের লোকসান হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অবৈধ হুন্ডিতে চলে যাচ্ছে প্রবাসীদের অনেকেই। হুন্ডিতে ডলারের দাম বেশি পাওয়ার কারণে হুন্ডির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে যাদের মাসিক আয় কম এবং যারা অবৈধ অভিবাসী তারা হুন্ডিতেই টাকা পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকে অবৈধ এমটিএফইর মতো অনলাইন বিজনেস করে হুন্ডির আশ্রয় নিচ্ছে। অনেকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে ফি দিতেও হুন্ডির মাধ্যমকে কাজে লাগাচ্ছেন। এর ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমেছে। এ কারণে ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, হুন্ডির সাথে বাড়ছে বিদেশে অর্থ পাচার যা দেশের রিজার্ভ কমার জন্য অন্যতম দায়ী। ওয়াশিংটন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বা জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকার মতো। এই হিসেবে প্রতি বছর গড়ে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়। মূলত আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের মাধ্যমে মূল্য কমবেশি দেখিয়ে অর্থ পাচারের কাজটি করা হয়। অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করেন, এমন সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে টাকা বেরিয়ে যায় দুই ভাবে- একটি উপায় হচ্ছে, পণ্য আমদানির সময় কাগজপত্রে বেশি দাম উল্লেখ করে টাকা পাচার, আরেকটি হচ্ছে, পণ্য রফতানি করার সময় কাগজপত্রে দাম কম দেখানো। এমনকি অনেক সময় খালি কন্টেইনার যাওয়া আসা করেছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে। তবে শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে তাদের অভিনব পন্থা রয়েছে। সেটা হলো, ক্রেতাদের কাছে নমুনা হিসেবে পণ্য পাঠানোর কথা বলা হলেও আসলে তার মাধ্যমে টন টন পণ্য পাঠানো হয়েছে, যার কোনো মূল্য দেশে আসেনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ অনেকটা কমে যাওয়ার কারণে লেনদেন ভারসাম্য বা ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) নিয়ে মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি আছে বলে মনে করছে বৈশ্বিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা মুডিস ইনভেস্টরস সার্ভিস। মুডিস বলছে, বাংলাদেশের বাজার অতটা উন্মুক্ত নয়, রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য তেমন একটা নেই; তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও উচ্চ রাজনৈতিক ঝুঁকি। এসব কারণে দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে।

রিজার্ভ বৃদ্ধির পরামর্শ

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দামের কোনও মিল নেই। এ কারণে অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে বা হুন্ডিতে রেমিট্যান্স বাড়ছে। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রবাসী আয় বাড়াতে হলে বাজারদর অনুযায়ী ডলারের বিনিময় হার ঠিক করতে হবে। খোলাবাজার ও নির্ধারণ করা দামের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি। এই অবস্থা যত দিন চলবে, তত দিন আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে আসা প্রবাসী আয় বাড়ার সম্ভাবনা কম। এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ডলারের দর বাজারভিত্তিক না করার কারণে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ অবৈধ হুন্ডিতে চলে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে ব্যাংকগুলো যে দর দিচ্ছে, হুন্ডিওয়ালারা তার চেয়ে বেশি দামে বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে। যে কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে হুন্ডি চ্যানেল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক রফতানি বেড়েছে। অথচ রেমিট্যান্স বাড়ছে না। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে দর এক শতাংশ বেশি হলেই সাড়ে ৩ শতাংশ রেমিট্যান্স হুন্ডিতে চলে যায়। রিজার্ভ বাঁচাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। এদিকে রিজার্ভের পজিটিভ টার্নিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমদানি বা রফতানির নামে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও অবৈধ রেমিট্যান্স হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন অর্থনীতি বিষয়ক গবেষকরা। এর সাথে ব্যাংক রেট এবং কার্ব মার্কেটে ডলারে রেটের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে হবে। এটা করা গেলে ডলার সঙ্কট অনেকটাই দূরীভূত হবে।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, সরকারের উচিত সকল বাংলাদেশী নাগরিককে (আবাসিক বা অনাবাসিক) তাদের অ্যাকাউন্টে বা বিদেশে বসবাসকারী তাদের বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা জমা ও প্রেরণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেওয়া উচিত। এটি বিমান ক্রু, পাইলট, মেরিনার, আইনজীবী, হিসাবরক্ষক, আইটি পেশাদার, আর্থিক উপদেষ্টা, স্থপতি এবং অন্যান্য পেশাদারদের তাদের বেতন, ফি এবং কমিশন সরাসরি বাংলাদেশী ব্যাংকগুলোতে আনার অনুমোতি দেয়া উচিত। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রায় মেয়াদি ও ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম চালু করা যেতে পারে।

২০২২ সালের শুরু থেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে থাকা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে দেশটি দেউলিয়া হওয়া থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে, কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো দিকে চলছে। রিজার্ভ সঙ্কট কাটাতে বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন অর্থনীতিবিদরা। তারা জানান, নানা দুর্বলতার কারণে গত অর্থবছর অর্থছাড় কম হয়েছে। অর্থছাড়ের বিষয়টি নির্ভর করছে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর দক্ষতার ওপর। তাই তাদের দক্ষতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ডলারের উপর চাপ কমানোর জন্য ভারতের সঙ্গে রুপি-টাকা লেনদেন চালু হয়েছে, কিন্তু লেনদেনের গতি আসছে না। এই লেনদেন চালু করতে হলে ভারতকে বড় অঙ্কের লাইন অব ক্রেডিট দিতে হবে। বড় ধরনের ঝুঁকি সামলাতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি মুদ্রার অদলবদল (সোয়াপ) করতে হবে। এসব উদ্যোগে ভারতকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি উভয় দেশকে করনীতি পরিবর্তন করতে হবে। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে ইউয়ান ও রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যে রুবল ব্যবহার শুরু হলেও এসবে দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি থাকায় বাংলাদেশ সুবিধা নিতে পারছে না।

এখন মার্কেটের রেটের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ৩ মাস পরপর ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়। মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। কার্ব মার্কেটে ডলারের যে বিনিময় হার থাকে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকিং চ্যানেলে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংকিং চ্যানেলের সঙ্গে কার্ব মার্কেটের রেটের ব্যবধান এক শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে আনা যেতে পারে। কোনোভাবেই ব্যাংকিং চ্যানেল এবং কার্ব মার্কেটের ডলারের মূল্যের যে পার্থক্য তা বাড়তে দেওয়া যাবে না।

আইএমএফের পরামর্শ হচ্ছে, কার্ব মার্কেট এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হারের মধ্যে যে পার্থক্য বিদমান আছে, তা একবারে কমিয়ে আনতে হবে। কিন্তু এটা এক স্টোকে করা হলে মূল্যস্ফীতি রাতারাতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই একবারে না করে কার্ব মার্কেট এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হারের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে।

লেখক : ব্যাংকার এবং ‘বৈদেশিক বিনিময় বাণিজ্য অর্থায়ন’ গ্রন্থের লেখক

ইমেইল: [email protected]

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির