post

শিক্ষক

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

২০ জুলাই ২০২৩

সমাজ পরিবর্তনের পূর্বশর্ত মানুষের পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের অভিভাবকত্ব শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব। এমন কথাই বলেছেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন। অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী লুনাচারস্কি বলেছিলেন, ‘শিক্ষক এমন এক ব্যক্তি যিনি নতুন প্রজন্মের কাছে যুগ-যুগান্তরে সঞ্চিত যাবতীয় মূল্যবান সাফল্য হস্তান্তর করবেন, কিন্তু কুসংস্কার, দোষ ও অশুভকে ওদের হাতে তুলে দেবেন না।’ সুতরাং কালের পীঠে চমকানো এসব কথার সত্যটা হচ্ছে শিক্ষকই সভ্যতার ধারক-বাহক। আর তাই তো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, ওয়া ইন্নামা বুয়িসতু মুয়াল্লিমান, অর্থ্যাৎ নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। তাঁর মূল কাজই ছিল মানুষের চারিত্রিক উৎকর্ষকতা এবং মানবিক পরিপূর্ণতা দান করা। মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে সত্যিকারের মানুষ তৈরির প্রক্রিয়ায় অনবরত কাজ করেন শিক্ষক। তাঁর কর্মপ্রয়াসকে পরিপূর্ণভাবে আমলে নিয়ে ন্যায় ও সততার সাথে নিজেকে গড়ে তোলার প্রয়াসে এগিয়ে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক দায়িত্ব। দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন, শিক্ষক সমাজ হচ্ছেন প্রকৃত সমাজ ও সভ্যতার বিবেক। এ কারণেই শিক্ষকদের বলা হয় সমাজ নির্মাণের স্থপতি। 

শিক্ষার্থী তারাই, যারা সব সময় জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে আগ্রহী থাকে এবং বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে তৎপর। শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের স্বপ্ন। বিশ্বকে ভালোর পথে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীরাই হবেন আলোকিত মানুষ। মূলত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ভিত্তিই হবে আধ্যাত্মিকতা। একজন ভালো শিক্ষার্থী মানেই একটি প্রদীপ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকা, পড়াশোনায় গভীর মনোযোগী হওয়া, নিয়মানুবর্তীতা মেনে চলা, সময়ের সদ্ব্যবহার করা, সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকা, নিজের মধ্যে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো, সৎ গুণাবলি অর্জনে তৎপর থাকা, সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী নির্বেশেষে সহপাঠীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা, নিয়মিত অনুশীলনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা, মাদকসহ সকল অপরাধমূলক কর্ম থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা, প্রলোভন থেকে বিরত থাকা, সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকা, কঠোর পরিশ্রমী হওয়া, কো-কারিকুলার একটিভিটিজে অংশগ্রহণ করা প্রভৃতি গুণাবলি নিয়ে এগিয়ে যাবে একজন আদর্শ শিক্ষাথী। আমরা তেমন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন দেখি সবসময়।

শিক্ষকও হবেন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। একজন শিক্ষকের পেশাগত জ্ঞান, উপলব্ধি ও পেশাগত অনুশীলন যেমন জরুরি তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ ও সম্পর্ক স্থাপনের কাজকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। পেশাগত জ্ঞান ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞান, শিক্ষাদান সম্পর্কিত জ্ঞান, শিক্ষাক্রম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা, ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্কে ধারণা এবং আইন-কানুন সম্পর্কিত ধারণা থাকা একান্ত জরুরী। পেশাগত অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রত্যাশার সৌধ নির্মাণ, যোগাযোগ দক্ষতা, শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থাপনা, উপকরণের ব্যবহার এবং মূল্যায়নের বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। পেশাগত মূল্যবোধ ও সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে সমতার প্রতি অঙ্গীকার, চিন্তন অনুশীলন ও পেশাগত উন্নয়ন, স্থানীয় জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা এবং সহকর্মীদের সাথে সম্মিলিত প্রয়াসে অভ্যস্ত হতে হবে। শিক্ষক মানেই মডেল, শিক্ষার্থীর জন্য আইডল।

মনে রাখতে হবে, সময় এখন অনেক গড়িয়েছে। বিশ্বব্যবস্থার সাথে অজান্তেই মিশে গেছি আমরা। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদেরকেও পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। প্রেজেন্টেশন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। বই হাতে নিয়ে চেয়ারে বসে পাঠদানের দিন ফুরিয়ে গেছে। একজন ভালো শিক্ষক পাঠ্যপুস্তক ছাড়াই পাঠের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করবেন। উন্মুক্ত প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী করে তুলবেন। বিষয়বস্তু অনুধাবনে জীবনঘনিষ্ঠ উদাহরণ দিবেন। শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও পারঙ্গমতার মাত্রা অনুযায়ী শিখন কৌশল প্রয়োগ করবেন। শিক্ষক সকল শিক্ষার্থীর বোধগম্য ও শ্রবণযোগ্য স্বরে পাঠ উপস্থাপন করবেন। তিনি সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দিবেন। পারতপক্ষে শিক্ষার্থীদের নাম ধরে সম্বোধন ও দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। ইতিবাচক ফিডব্যাক প্রদান করবেন। নিজের উন্নয়নের জন্য সহকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করবেন। সহকর্মীদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখবেন। সকল ধরনের শিক্ষার্থীর অভিভাবকের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবেন। তাহলেই তিনি শিক্ষক হিসেবে সফল। শিক্ষকের লব্ধজ্ঞান সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার নামই শিক্ষকতা। এ সম্পর্কে উইলিয়াম আর্থার ওয়ার্ডের বিশ্লেষণ সত্যিই যথার্থ। তিনি বলেন, ‘একজন সাধারণ শিক্ষক বক্তৃতা করেন, একজন ভালো শিক্ষক বিশ্লেষণ করেন, একজন উত্তম শিক্ষক প্রদর্শন করেন, একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক অনুপ্রাণিত করেন।’ শিক্ষকরাই সুবাসিত বাগানের পুষ্প কারিগর।

শিক্ষকতা পেশায় নৈতিকতা খুবই জরুরি। শিক্ষার্থীদের সত্যের পথে দিকনির্দেশনা দেওয়া একজন শিক্ষকের অন্যতম দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের সাথে আত্মিক বন্ধন তৈরি, আনন্দের সাথে শিক্ষাদান শিক্ষকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শিক্ষাক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, উপস্থাপনের দক্ষতা, পরিবর্তনশীল মনোভাব, মিষ্টভাষী ও সদালাপী হওয়া, কথাকাজে, পোশাক-রুচিতে, পেশা ও কর্তব্য পালনে শিক্ষক হবেন আদর্শবান, ধর্মপ্রাণ, সত্যপ্রিয় অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। শিক্ষক হবেন আদর্শিক জ্ঞানের উৎস, আনন্দের ভাণ্ডার। জ্ঞানতাপস ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যথার্থই বলেছেন, ‘যার মধ্যে ইসলামের জ্ঞান নেই সে যত বড়ো শিক্ষিতই হউক না কেনো; সে তো মূর্খ পণ্ডিত’। নৈতিক মূল্যেবোধসম্পন্ন শিক্ষক ও শিক্ষাই পারে একজন মানুষকে সঠিক ও সুন্দর পথ দেখাতে। এজন্যই প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে হলে প্রকৃত খোদাভীরু, আদর্শ ও নৈতিকতাধারী শিক্ষকের বিকল্প নেই।

পিতৃতুল্য আদরে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলো দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করে যান। স্নেহ, মমতা, ভালবাসা তো বটেই। তাদের শিক্ষার আলো যেমন শিক্ষার্থীদের সামনের পথ চলাকে সুদৃঢ় করে, তেমনি তাদের স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা তাদের অনুপ্রাণিত করে। শিক্ষার লক্ষ্য ভালো মানুষ তৈরি করা। শিক্ষক নিজে মানুষ হিসেবে কতোটা আদর্শবান ও ভালো তার ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীরা ভালো মানুষ হয়ে উঠবে কিনা। শিক্ষকতার পেশায় নৈতিকতা খুবই জরুরি। নীতি-নৈতিকতাবোধ জাগ্রত না হলে কারো পক্ষে এ মহান পেশায় থাকা ঠিক নয়। ছাত্র ও শিক্ষকের সম্পর্কটা হলো আত্মিক। ছাত্রের দেহ, মন ও আত্মার বিকাশ সাধনে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক, পরমবন্ধু, উপযুক্ত পথ প্রদর্শক এবং বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ দার্শনিক। 

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা, পেশাগত অসমতা এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির দৌরাত্ম্যে শিক্ষকগণ হতাশাগ্রস্থ হচ্ছেন ক্রমশ। শিক্ষার্থীদের অমনোযোগিতা, অসদাচরণ, শ্রেণিকক্ষে না আসা, শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি, শারীরিক শাস্তির অনুপস্থিতি, সবকিছু মিলে শিক্ষকতা পেশাকে অসহনীয় পেশায় পরিণত করছে। বই পড়া কমে যাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুশাসনের অভাব, পারিবারিক বন্ধনহীনতা, মূল্যবোধের অভাব, আদর্শহীনতা, সস্তা রাজনীতির প্রভাব, অপরাধীর কঠোর শাস্তি না হওয়া, অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলা ইত্যাদি কারণে কিছু শিক্ষার্থী যেন দিনের পর দিন তাদের সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা পেতে হলে মানসম্মত শিক্ষক তথা দেশ সেরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল কার্যকর করা জরুরি হয়ে পড়েছে। শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও যৌক্তিক বেতনকাঠামো কার্যকর করা হলে শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাবে।

ক্লাসরুম ক্রমশ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং পেশীশক্তির প্রভাব এখন সকল ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলা কঠিন, টিউটোরিয়াল-অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা বিপদজ্জনক, পরীক্ষার সময় নকল ধরলে খবর আছে, ব্যবহারিক-মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করা সমস্যা, ক্লাসে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে ধমক দিতে নেই, চুলের কাটিং বা তথাকথিত ফ্যাশন ও পোশাক নিয়ে কথা বলা যাবে না, শিষ্টাচারের কথা বললে ব্যাকডেটেড। এমন পরিবেশে অনেক শিক্ষকই ক্রমশ হতাশায় ভুগছেন।

পরিবেশের আলোকে গা ভাসিয়ে কিছুসংখ্যক শিক্ষকও এখন শিক্ষা ও গবেষণার চেয়ে ক্ষমতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষমতা যেখানে মুখ্য হওয়ার কথা ছিল, সেখানে শিক্ষকরাও শিক্ষাকে একরকম পরিত্যাগ করে প্রশাসক হওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাচর্চায় নিজেদের যুক্ত করছেন। শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি শিক্ষকদের আগ্রহ কমছে, ক্ষমতার চর্চা বাড়ছে, যা শিক্ষার চিন্তা ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চরম সত্য হলো, শিক্ষকতা পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। সঠিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তার অভাবে তারা এ পেশায় আসছেন না। অন্য সব চাকরির মতো শিক্ষকতা পেশা লোভনীয় ও আকর্ষণীয় না হওয়ার কারণে মেধাবীরা সুযোগ পেলেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের আয় না বাড়ায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই ছুটছেন বিকল্প আয়ের পেছনে। 

প্রশাসনকেও দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাসহ শিক্ষার উন্নয়নে আধুনিক ধ্যান-ধারণার প্রয়োগ সময়ের দাবি। শিক্ষকদের মৌলিক ও অব্যাহত প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, চাকরির নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, শিক্ষা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ, কার্যকর শিক্ষাদান ও শিখনের পরিবেশ এবং সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা এখন অতি জরুরি বিষয়। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধে জাগিয়ে তোলেন। কোমল কচি হাতে বর্ণ লিখতে শেখানো থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দান করতে শিক্ষকদের অনেক বেশি শ্রম বিনিয়োগ করতে হয়। শিক্ষকের লব্ধজ্ঞান সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মন-মগজে প্রবেশ করানোর নামই শিক্ষকতা। আমেরিকার ইতিহাসবিদ হেনরি এডামস শিক্ষকের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, একজন শিক্ষক সামগ্রিকভাবে প্রভাব ফেলেন, কেউ বলতে পারে না তার প্রভাব কোথায় গিয়ে শেষ হয়।

পরিশেষে বলা যায়, ভালোবেসেই শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেছেন অধিকাংশ শিক্ষক। অধিকাংশ শিক্ষকই তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু জীবন চালানোর জন্য তো জীবিকার দরকার! আমাদের দেশে বেসরকারি শিক্ষকেরা সামাজিক ও আর্থিকভাবে আরও বেশি বঞ্চিত। বেতনের জন্য কিংবা নিজেদের মর্যাদা আদায়ের জন্য শিক্ষকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা এখন হতাশাজনক অবস্থায়। শিক্ষকদের সামাজিক, পেশাগত ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে। পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, শিক্ষকতার পেশা উত্তম পেশা হলেও এত বছর পরও বাংলাদেশের শিক্ষকদের প্রকৃত মর্যাদা আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আমাদের সমাজে শিক্ষকদের আর্থিক সচ্ছলতা কম থাকার কারণে বেশিরভাগ শিক্ষকই প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য হন। শিক্ষাঙ্গনসহ নানা জায়গায় শিক্ষকরা আজ অপমানিত হচ্ছেন! গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ আজ সমাজে অনুপস্থিত! শুধু সরকারি নয়; ইবতেদায়ি মাদরাসা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ সর্বস্তরের শিক্ষকসমাজের বেতনসহ নানা প্রতিকূলতায় তাদের মজবুত অবলম্বন দরকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মানেই স্বপ্নফুলের চাষবাস। সকলে মিলেই গড়তে হবে আগামীর সুন্দর পৃথিবী। তাইতো শিক্ষাবিস্তারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উন্নয়নে প্রশাসনকে আরো বেশি আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক; প্রফেসর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির