সর্বশেষঃ
post

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

১৩ আগস্ট ২০২২

শহীদ আব্দুল মালেক ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের রাহবার। তাঁর রেখে যাওয়া ময়দানের বর্তমান সাথীরা শহীদ মালেকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে কতটুকু অনুসরণ করে তা ভাবার বিষয়! এ সময়ের তরুণরা ভার্চুয়াল মিডিয়ায় সরব। সময় কাটে অ্যান্ড্রয়েড সেটে আঙুল ঘষে। ফেসবুকে আবোল তাবোল ছবি আর ইমোজি নিয়ে পার করে জীবনের মূল্যবান অধ্যায়। বইকেনা এমনকি বই উপহার হিসেবে লেনদেন করাও ভীষণ অপছন্দের বিষয় তাদের কাছে। অথচ শহীদ আব্দুল মালেকের বৃত্তির একটা বড় অংশ ব্যয় হতো বই কেনার পেছনে। ক্লাসের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে ইসলামী আন্দোলন সংক্রান্ত বহুবিধ পুস্তক তাঁর ব্যক্তিগত পাঠাগারে সংগৃহীত ছিল। আমরা যারা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে শপথের কর্মী, আমাদের অবস্থান কোথায়? বই ক্রয়ের নজির তো দূরের কথা প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ার আন্তরিকতা দেখাতে পেরেছি কি? শহীদ আব্দুল মালেকের চরিত্রে আল্লাহ্ ভীতি ও দুনিয়াবি যোগ্যতার যে সমন্বয় ছিল তা আজো আমাদের স্বপ্ন জাগায়। তাঁর ব্যক্তিগত চিঠিগুলো পড়লে আজও শরীরে শিহরণ জাগে। লেখনীতে বাহুল্যতা নেই, সংক্ষিপ্ত অথচ প্রভাব বিস্তারকারী। দায়িত্বশীল হিসেবে তিনি অনুপ্রেরণার উৎস। নিবিড় তত্ত্বাবধানকারী দায়িত্বশীল হিসাবে তাঁর দৃষ্টান্ত ছিল অনন্য। তাঁর অধ্যয়নের গভীরতা এত বেশি যে, ‘ইসলামাইজেশন অব নলেজ’ শব্দটিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রথম যুক্তিসহ উপস্থাপন করেছিলেন। দার্শনিকের মতো স্বপ্ন দেখিয়ে আব্দুল মালেক উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, শুধুমাত্র মুখে মুখে ইসলামী রাষ্ট্র কিংবা সমাজব্যবস্থা কায়েমের স্লোগান দিলেই ইসলামী আদর্শের প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ইসলামী সমাজব্যবস্থা কায়েমের জন্য ইসলামের আদর্শিক চেতনাসম্পন্ন যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। সৎ যোগ্য নেতৃত্ব আসমান থেকে আসবে না। মাটির পৃথিবীতেই সে মানুষটিকে তৈরি করতে হবে। আর এর জন্য ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। তিনি পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নিপা) ভবনে (বর্তমান ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) সাহসের সাথে উচ্চারণ করেছিলেন ‘আমরা এখানে চাই, কমন সেট অব কালচারাল ভ্যালুস, নট ওয়ান সেট অব কালচারাল ভ্যালুস’। সেদিন তাঁর কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়া হলেও সেই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বিশ্বময়। তিনি আমাদের চেতনায় প্রেরণায় আজীবন জীবিত হয়ে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ।

বিগত ১৩ বছরের তথাকথিত উন্নয়নের গালগল্প পথ ধরেছে অন্ধকার চোরাবালিতে। সারা দুনিয়ার রোল মডেল হয়ে থাকা ভৌতিক এই উন্নয়নগুলো এখন জাতির ভাগ্যে এনেছে দুর্দশার পরিণতি। বাংলাদেশের ৫১ বছরের ইতিহাসে এবারই সর্বপ্রথম ডলারের মূল্য ১০০ টাকা অতিক্রম করেছে। অথচ পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিনেই ডলার বিক্রি হয়েছে ৯৯ টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে যে তারা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ৫৭৫ মিলিয়ন ডলার ছেড়েছে। তার আগের বছর তারা ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছেড়েছে। রুটিন করে লোডশেডিং আর পাওয়ার প্লান্টের অক্ষমতা দেখেও লজ্জা হারানো স্বৈরতন্ত্র কায়েমকারীদের চার্জ যেন ফুরাচ্ছে না। জ্বালানি সঙ্কট আর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন দাম বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের জনপদে হাহাকার বাড়িয়েই তুলছে যেন। রাজনৈতিক জমিদারদের সময়জ্ঞান, কাণ্ডজ্ঞান, বুদ্ধিগুলোও যেন লোপ পেয়ে গেছে সেই কবে। এহেন পরিস্থিতিতে জাতির জন্য রাহবার হয়ে দাঁড়াতে হবে তোমাকে, আমাকে, আমাদের সবাইকে। 

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য একমাত্র দ্বীন হিসেবে তথা জীবন চলার পথ হিসেবে ‘ইসলাম’কে নির্ধারিত করেছেন। তাই ইসলাম ছাড়া অন্যকিছু অন্বেষণ করলে বা অবলম্বন করলে যেহেতু আমরা চিরস্থায়ী আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবো, সেহেতু আমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো মতাদর্শকে গ্রহণ করতে পারি না, পারি না কখনোই অন্য কোনো বিধানের দিকে ঝুঁকে পড়তে। সেটা হোক রাজনীতির নাম করে, হোক তা জ্ঞানের নাম করে কিংবা সাহিত্য-সংস্কৃতির নাম করে, অথবা সভ্যতা বিনির্মাণের নাম করে। আমাদেরকে সবকিছু ইসলাম থেকেই নিতে হবে, যেহেতু ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ। বর্তমানে সামাজিকভাবে, অথবা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে, কিংবা অর্থনৈতিকভাবে; এক কথায় কোনোভাবেই এই দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীন কোথাও প্রতিষ্ঠিত নেই। এই অপ্রতিষ্ঠিত ইসলামকে পুনরায় পৃথিবীর জমিনে প্রতিষ্ঠিত করার মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই দ্বীনের পরিপূর্ণ বুঝওয়ালা ঈমানদারেরা ইসলামী আন্দোলনে শামিল হয়। নিজেদের জীবনের মিশন এবং ভিশন হিসেবে আল্লাহর দেওয়া দ্বীনকে গ্রহণ করে। যেহেতু একা একা কোনো মতবাদকে, কোনো চিন্তাকে পূর্ণতা দেওয়া যায় না বা প্রতিষ্ঠা করা যায় না তাই আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় মুসলমানদের সবাইকে সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টায় আমাদের সবাইকে আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। 

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির