post

১১ই মে ১৯৮৫ কুরআনের জন্য জীবন উৎসর্গের অনুপ্রেরণা

মাওলানা আবুজার গিফারি

২৪ এপ্রিল ২০২৩

মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়ে। আবার খিলাফত তথা প্রতিনিধিত্বের সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁর ইচ্ছে মানুষ এমনভাবে জীবন যাপন করুক যাতে করে দুনিয়ায় আল্লাহর বড়ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানুষ ইহজীবনে পায় শান্তি; মৃত্যু পরবর্তী অনন্ত জীবনে মহা পুরস্কার জান্নাত। সেখানে তারা অফুরন্ত নিয়ামত উপভোগ করে মহা আনন্দে প্রতিটি মূহুর্ত অতিবাহিত করবে। কিন্তু তারা সে পথ পাবে কোথায়? সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেওয়া হলেও তাদেরকে তো সে জ্ঞান দেওয়া হয়নি। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমাদেরকে সামান্যতম জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে।” (সূরা বনি ইসরাইল : ৮৫)। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসীম জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে মানব জাতিকে অতি সামান্য দান করেছেন। এ জ্ঞান দ্বারা মানুষ ইহকাল-পরকালের কল্যাণের পথ রচনা করতে অক্ষম। সে জন্যই রহমানুর রহীম আল্লাহ তায়ালা দয়া পরবশ হয়ে হজরত আদম (আ) থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ সা. পর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। তিনি ওহী বাহক ফেরেশতা হজরত জিবরাঈল (আ)-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা হিসেবে তাঁর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তবে মহান রব মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য স্বাধীনতা দিয়েছেন আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলা বা অমান্য করার। আর এজন্যই রয়েছে পুরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা। 

আল্লাহর নবী হজরত ঈসা (আ)কে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পৃথিবী ছিল নবীশুন্য। এই সময়ের মধ্যে ইহুদি ও খ্রিস্টান পণ্ডিতরা আসমানী কিতাবকে করেছে বিকৃত। মহান আল্লাহর প্রকৃত বাণী নির্ণয় করে অনুসরণ করা মানুষের জন্য ছিল দুঃসাধ্য। মানুষ চলছিল নিজের ইচ্ছেমত। ফলে মারামারি, কাটাকাটি, হত্যা, লুণ্ঠন, রাহাজানি, জেনা-ব্যাভিচারের মত মারাত্মক অপকর্মে পৃথিবী হয়ে গিয়েছিল কলুষিত। মাজলুম মানবতা আর্তনাদ করছিল, “হে আমাদের রব, জালিম অধ্যুষিত এই জনপদ থেকে আমাদের বের করে নাও; মুক্তি দাও। আমাদের জন্য উত্তম নেতা ও উত্তম সাহায্যকারী পাঠাও। এমনি এক প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহ পাঠালেন সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ সা.কে । তাঁকে প্রদান করলেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন।

মানুষ হিসেবে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা.কে ধনী-গরীব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে শ্রদ্ধা ও সম্মান করতো। তারা তাঁকে উপাধি দিয়েছিল আল-আমিন, আস-সাদিক। বিবাদ মীমাংসার ক্ষেত্রেও তাঁকে বিচারপতির আসনে সমাসীন করতো। গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে অঢেল সম্পদ আমানত রাখতো তাঁর কাছে। কিন্তু যখন কুরআনুল কারীম নাজিল হতে শুরু করলো এবং তিনি কুরআনের কথাগুলো মানুষের নিকট প্রচার করা শুরু করলেন তখন থেকেই শুরু হলো তার বিরোধিতা। অপপ্রচার, জুলুম, নির্যাতন পর্যায়ক্রমে মারাত্মক আকার ধারণ করল। নির্যাতনের ভয়াবহতার কারণে সাহাবায়ে কেরাম প্রথমত হাবশায় হিজরত করলেন পরবর্তীতে মুহাম্মদ সা.সহ সকল সাহাবী মদিনায় হিজরত করলেন। কাফেরদের বিরোধিতা ছিল প্রকৃতপক্ষে কুরআনের সাথে বিরোধিতা। মানুষ হিসেবে নবী বা সাহাবীদের কোনো অপরাধ ছিল না। মহান আল্লাহর উপর ঈমান এনে কুরআনের কথাগুলো প্রচার করাই ছিল তাদের অপরাধ। পবিত্র কুরআনে সে কথাই বর্ণনা করা হয়েছে নিম্নক্ত ভাষায়- “শপথ সুদৃঢ় দুর্গময় আকাশ মণ্ডলের, এবং সেই দিনের যার ওয়াদা করা হয়েছে (অর্থাৎ কিয়ামত)। শপথ দর্শকের এবং সেই জিনিসের যা পরিদৃষ্ট হয়। ধ্বংস হয়েছে গর্তওয়ালারা (সেই গর্ত খননকারীরা যারা ঈমানদার মানুষগুলোকে হত্যা করেছে) যাতে দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন ছিল, তখন তারা সেই গর্তের মুখে উপবিষ্ট ছিল আর ঈমানদার লোকদের কষ্ট চেয়ে দেখছিল। আর এই ঈমানদার লোকদের সাথে তাদের শত্রুতা ছিল কেবলমাত্র এই কারণে যে, তারা সেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল যিনি প্রবল পরাক্রান্ত এবং নিজ সত্ত্বায় স্বপ্রশংসিত। যিনি আকাশমণ্ডল ও ধরিত্রী সাম্রাজ্যের অধিকারী আর সেই আল্লাহ সবকিছু দেখেছেন। যেসব লোক ঈমানদার পুরুষ ও স্ত্রীলোকের উপর জুলুম পীড়ণ চালিয়েছে অতঃপর তা থেকে তওবা করেনি নিঃসন্দেহে তাদের জন্য জাহান্নামের আজাব রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে ভস্ম হওয়ার শাস্তি নির্দিষ্ট। যেসব লোক ঈমান আনলো এবং নেক আমল করল নিশ্চয়ই তাদের জন্য জান্নাতের বাগিচা রয়েছে- যার নিচ হতে ঝরনাধারা সদা প্রবহমান। এটাই বিরাট সাফল্য। মূলত তোমার খোদার পাকড়াও বড় শক্ত। (সূরা বুরুজ : ১-১২)

ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতের ইতিহাস প্রমাণ করে তারা ঈমান, ইসলাম, মুসলমান ও কুরআনের শত্রু। মুসলমানদের পুড়িয়ে হত্যা করা, বাড়িঘর পোড়নো, নির্যাতন করে রক্তাক্ত করা, কুপিয়ে হত্যা করা, কুরবানি করতে না দেওয়া, বোরকা পরিধানে বাধা দেওয়া ইত্যাদি ইসলাম ধর্মের সহিংস বিরোধিতা করা তাদের অন্যতম নেশা। তারই ধারাবাহিকতায় মুসলমান নিধনের উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালের ১০ এপ্রিল কলিকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মিসেস পদ্ম খাস্তগীরের আদালতে কুরআনের সকল আরবি কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়ে বিশ্বের ইতিহাসে জঘন্যতম মামলা দায়ের করে ভারতের দুই উগ্র নাগরিক পদ্মমল চোপড়া ও শীতল সিং। মামলাটিতে অভিযোগ ছিল কুরআনে কাফের মুশরিকদের হত্যা ও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সম্ভাবনা রয়েছে যা ভারতীয় সংবিধানের ২২৩ নং ধারার সি.আর.পি.সি ১৯৫(ক) ও ২৯৯(ক) এর আলোকে সংবিধান বিরোধী। উল্লেখ্য পৃথিবীর ইতিহাসে মামলা দায়ের করে কুরআন বাজেয়াপ্ত করার ধৃষ্টতা এই প্রথম। কিন্তু ইসলাম ও কুরআন বিরোধীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অতীতে হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে এটি স্বাভাবিক। এ বিষয়ে বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারবৃন্দ বই লিখে, ভিডিও অডিও প্রকাশ করে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট আলোচনা করেছেন এবং বক্তব্যের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছেন। আল্লামা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী রহিমাহুল্লাহ রচিত ‘আল জিহাদ’ বইটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ডা. জাকির নায়েক-এর এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর প্রদান খুবই আকর্ষণীয়। 

মামলা দায়ের করার পর সমগ্র পৃথিবীতে মুসলমানদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন জায়গায় আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, সচেতন মুসলিম জনতা মিছিল, মিটিং, বিবৃতির মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ১৯৮৫ সালের ১০ মে ঢাকার বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে বাদ জুমা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ডাকে হাজার হাজার ছাত্র জনতা রাজপথে নেমে আসে। রাজধানী ঢাকার আকাশ বাতাস স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে প্রতিবাদ জানিয়েছে কুরআনপ্রেমিক মানুষ। 

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মহান রব যেমন এই এলাকায় তার বিশেষ নিয়ামত সুমিষ্ট ফল আম দান করেছেন তেমনি দিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে ঈমানী জজবা। অবিভক্ত পাক-ভারত উপমহাদেশের গৌড় অঞ্চলের অংশবিশেষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এখানে আছে পীর আউলিয়া তথা ইসলামী সমাজ সংস্কারকদের পদচারণা। আছে ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ, দরসবাড়ি (মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ), শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার, আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি। এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এই তীব্র প্রতিবাদে তাওহীদি জনতার প্রাণের স্পন্দন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষকে নিয়ে ০৭-০৫-১৯৮৫ ইং তারিখ সকাল ১১টায় নবাবগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসায় একটি প্রতিবাদ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয় উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদকে। প্রতিবাদ কমিটি ১১ই মে ১৯৮৫ শনিবার বিকেল ৩টায় নবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে জনসভা আহ্বান করেন। এজন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটটি ছিল ছোট কিন্তু ঈমান জাগানো। কথাগুলো ছিল নিম্নরূপ-

কলকাতা হাইকোর্টে কুরআন মাজীদ 

বাজেয়াপ্ত করার জন্য রিট আবেদনের প্রতিবাদে

বিরাট জনসভা

নবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান

১১ই মে ৮৫ শনিবার বৈকাল ৩ ঘটিকা

জনাব, 

আসসালামু আলাইকুম। কুরআন মাজীদ বাজেয়াপ্ত করার এক অশুভ চক্রান্তে ভারত সরকার মেতে উঠেছে। ভারত সরকারের এহেন জঘন্য মনোবৃত্তি আমরা ১জন মুসলমান বেঁচে থাকতেও বরদাশত করবো না। ওহে খালিদ, তারিক, মুসা হজরত আলীর (রা.) বংশধরেরা গর্জে উঠুন. বদর, ওহুদ, খন্দক ও হুসাইনের বীর শার্দুলদের বংশধরেরা জেগে উঠুন। ঈদগাহ ময়দানের জনসভায় যোগ দিয়ে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন -

- আল কুরআনের দুশমন! সাবধান -হুশিয়ার

- কুরআনের দুশমনদের রুখবই রুখব।

নিবেদনে

মাওলানা হোসাইন আহমদ

আহ্বায়ক

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা সমাবেশের দাওয়াত ছড়িয়ে দেন পাড়া-মহল্লায়, স্কুল-কলেজে, হাটে-ঘাটে সর্বত্র। কিন্তু সমাবেশ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে আয়োজকদের জরুরি তলব করেন এসপি। সমাবেশ না করার মর্মে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে। জারি হয় ১৪৪ ধারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সমাবেশ না হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে সবার কাছে এ খবর পৌঁছে না। দূর-দূরান্ত থেকে আগত সকল শ্রেণি পেশার মানুষ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই ঐতিহাসিক নিমতলা ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে থাকেন। প্রশাসন এই জমায়েত টের পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে। গালিগালাজ করে তৌহিদি জনতাকে ফিরে যেতে বলে। নেতৃস্থানীয় আলেমরা শুধুমাত্র দোয়া করে চলে যাওয়ার অনুমতি চান। সেই দিনের ঘাতক ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা দেয় না সেই অনুমতিটুকুও। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা। ভারতবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। নির্দয় ম্যাজিস্ট্রেট গুলি চালানোর নির্দেশ দেয় পুলিশকে। এক নাগাড়ে পনেরো মিনিট গুলি চলে। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ঈদগাহ ময়দান ও পাশের রাস্তা। কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন ৮ জন ভাই। আহত হন অর্ধশতাধিক। কুরআনের জন্য জীবন দানের অসীম তৃষ্ণায় সেদিন ছুটে এসেছিলেন দশম শ্রেণীর ছাত্র সংগঠনের কর্মী ভাই আব্দুল মতিন, দশম শ্রেণীর ছাত্র শহীদ রাশিদুল ইসলাম (কর্মী), অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র শহীদ সেলিম উদ্দিন (কর্মী), অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র শহীদ শীষ মোহাম¥দ (কর্মী), ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র শহীদ শাহাবুদ্দিন (সমর্থক), শহীদ আলতাফুর রহমান সবুর (কৃষক), শহীদ মোক্তার হোসেন (রিকশাচালক) এবং শহীদ নজরুল ইসলাম (রেলশ্রমিক)। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর জনতা সেদিন প্রমাণ করেছিল তারা সত্যিই খালিদ, তারিক, মুসা ও হজরত আলী রা.-এর উত্তরসূরী। বদর, ওহুদ, খন্দক ও হুসাইনের বীর শার্দুলদের ঈমানী জজবা স্বীয় বক্ষে ধারণকারী। ভারতীয় এজেন্টদের বুলেটের আঘাতে যেসকল মুজাহিদ আহত হয়েছেন ও শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের রক্ত বৃথা যায়নি। এই ঘটনায় ভারত সরকারের মসনদ কেঁপে উঠেছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ওই মামলাটি খারিজের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়ায় ১৩ মে’৮৫ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বি.সি. বাসকের আদালতে স্থানান্তরিত হলে মামলাটি তিনি খারিজ করে দেন। 

উক্ত ঘটনায় শাণিত হয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিমের ঈমানী চেতনা। কুরআনের জন্য জীবন দিলেন যারা তারা তো পেলেন অমরত্বের স্বাদ! কতই না সৌভাগ্যবান সেদিনের শহীদেরা! “আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না, এসব লোক প্রকৃতপক্ষে জীবন্ত; কিন্তু তাদের জীবন সম্পর্কে তোমাদের কোনো চেতনা হয় না।” (সূরা বাকারা : ১৫৪)। শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত হয়ে হাজারও রাশেদুল, শাহাবুদ্দিন কুরআনের জন্য জীবন দানের প্রেরণা জোগায়। কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় যে জমিন শহীদের পবিত্র রক্তে রঞ্জিত হয়েছে সেই জমিনে কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বিজয়ী হবেই হবে। ইনশাআল্লাহ।

লেখক : ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইসলামী চিন্তাবিদ

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির