post

কণ্টকাকীর্ণ রাজনীতি এবং দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন

মুহাম্মদ নুরুল হুদা

০১ আগস্ট ২০২৩

বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতি খাদের কিনারায় নিপতিত। ২০২২ সালকে যদি একটি বছর না বলে দুটি বছর বলে বিবেচনা করা হয় তবে ভুল হবে না। ২০২২ সালের প্রথম ৬ মাস অর্থাৎ জুন পর্যন্ত রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের দৃশ্যত যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, ডিসেম্বরে এসে তা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে; এ কথা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্বীকার না করলেও তা দলের নেতাদের কথাবার্তা ও আচরণে বোঝা যায়। ইতোমধ্যে আরো ছয় মাস পার হয়ে গেছে অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সার্বিক রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের চিত্র ভিন্নতর বটে, মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত ক্ষমতাসীনেরা বাংলাদেশের অর্থনীতির যে চিত্র স্থাপন করেছেন তাতে বলা হয়েছে দেশ উন্নয়নের পথে এমন গতিতে অগ্রসর হচ্ছে, তা অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু একই বছরের শেষ ছয় মাসে বাংলাদেশের মানুষ মোকাবেলা করছে এমন ব্যাপক অর্থনৈতিক সঙ্কট- দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ খাবার কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে (দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ অক্টোবর ২০২২)। একই বছরে রাজনীতি ও অর্থনীতির দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আর কখনোই দেখা যায়নি।

দেশের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি বাংলাদেশের উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল প্রায় এক দশক ধরেই। ২০১৪ সালের একপক্ষীয় নির্বাচনের পরে এগুলোকে সরকারের নৈতিক বৈধতার ভিত্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। ২০১৮ সালের সাজানো নির্বাচনের পর থেকে দেশের শাসন বলতে এগুলোকেই বোঝানো হচ্ছিল কেবল। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে শতভাগ বিদ্যুৎ যুগে প্রবেশের ঘোষণা, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন, ঢাকায় মেট্রোরেলের আংশিক সূচনা এবং কর্ণফুলী টানেলের উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এগুলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শাসনের সাফল্য হিসেবে হাজির করলে দেশের অর্থনীতির ইতিবাচক চিত্রই কেবল মনে হবে না, বরং তাতে আগামী বছরে নির্বাচনেও সাহায্য করবে-  এমনই প্রত্যাশা ছিল ক্ষমতাসীন দলের।

বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সঙ্কট ২০২২ সালে তৈরি হয়নি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্কটের উৎস তা নয়। এ যুদ্ধ কেবল সঙ্কটের মাত্রাকে বৃদ্ধি করেছে। এর কারণগুলোর সূচনা আরো আগেই হয়েছে, তার একটি উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। এখন দেশের রাজনীতিবিদেরাও স্বীকার করছেন ব্যাংকিং খাত থেকে যে পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছে ব্রিটিশরাও এভাবে এদেশ লুট করেনি।

একই কথা সম্ভবত জ্বালানি খাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উক্ত খাতগুলো নিয়ে অতীতে সমালোচনা ও সাবধান-বাণীকে ক্ষমতাসীনরা কেবল এ কারণেই অগ্রাহ্য করেছেন যে, তাতে তাদের কথিত উন্নয়নের কথাবার্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। শুধু তা-ই নয়, সরকারের উন্নয়ন-নীতির সুবিধাভোগীরাও তা চাইছিলেন না। কিন্তু ২০২২ সালে এসে এসব খাত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।

অর্থনৈতিক যে সঙ্কট, সে সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে রাজনীতির ওপরও। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে সরকার যে দমন পীড়নের নীতি অব্যাহত রেখেছিল এবং করোনা মহামারিকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তা ২০২২ সালের শেষার্ধে এসে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সঙ্কটে পর্যুদস্ত মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রকাশ ঘটতে শুরু করে গত বছরের  জুলাই মাস থেকে ।

দুই বছরে দেশের অন্যতম বিরোধীদল গত বছরের অক্টোবর থেকে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি চলতি বছরের ১০ জুন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যে সমাবেশ করেছে তাতেও তারা যে সুসংগঠিত সেটার প্রমাণ মেলে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তি সঞ্চয় সরকারের ছাড় দেওয়ার কারণে নয়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে  র‌্যাব এবং তার সাত কর্মকর্তার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সরকার অবজ্ঞা করলেও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিদেশি কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে তারা এক ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন। ২০২৪ সালের যে নির্বাচন, সে নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দিতে হলে এখন থেকেই বিরোধীদলকে সমাবেশ করতে দিতে হবে। এটা কূটনীতিকরা বারবার বলেছেন। এর বাইরেও সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসানীতি বিষয়টিকে আরো ত্বরান্বিত করেছে।

দেড় বছর আগে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং এর সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই আর দেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড  লক্ষণীয়ভাবে কমে আসে, বিরোধী দলের পক্ষে প্রায় বিনা বাধায় সমাবেশ করা সম্ভব হয় এবং দেশের আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। অন্যদিকে সরকার এই নিষেধাজ্ঞা ও এটি প্রদানকারী দেশ আমেরিকার বিভিন্ন সমালোচনা শুরু করে।

এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে। আর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে কিনা দিলে কী ধরনের দেওয়া হচ্ছে এ নিয়ে জল্পনা হতে থাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এসব জল্পনার কিছু উত্তর মিলেছে গত ২৪ শে মে গভীর রাতে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে দেশটির অব্যাহত নজরদারির কথা স্পষ্ট করে দেন ।

এ ভিসানীতিতে বলা হয়েছে আগামী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনোরকম অনিয়ম হস্তক্ষেপ ও বাধা দান করা হলে এর সঙ্গে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি ও তার পরিবারকে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এটি অনুসারে ভুয়া ভোট প্রদান, ভোটার ও নির্বাচনী এজেন্টদের বাধা দান, নির্বাচনী সমাবেশে হামলা, গায়েবি মামলা প্রদান, নির্যাতন-নিপীড়ন, মত প্রকাশে বাধা দান; ইত্যাদি কাজ নির্বাচনে অনিয়ম ও হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ সকল কাজে জড়িত থাকলে সরকারের সব পর্যায়ের ব্যক্তিরা (যেমন: মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী) এবং বিরোধী দলেরও যে কেউ এ ভিসানীতির তোপে পড়তে পারেন। নতুন এ ভিসানীতি তাই নিষেধাজ্ঞার চেয়েও অনেক বেশি ব্যাপক। কারণ, এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য সার্বজনীন নীতিও। এ নীতির আলোকে কারো আমেরিকান ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র যেসব দেশ বাংলাদেশের মানুষের প্রিয় গন্তব্যস্থল (অবকাশ, ব্যবসা বা সন্তানদের শিক্ষার জন্য) সেখানে ভিসাপ্রাপ্তিও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন এ ভিসানীতি বেশ কঠোর একটা সিদ্ধান্ত এবং এখানে খুবই স্পষ্ট একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশিয়ান ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলমেনের মতে- বাইডেন প্রশাসন একটা মূল্যবোধ ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা জোরালোভাবে প্রয়োগ করছে। বাংলাদেশের ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছিল কিন্তু তখন যুক্তরাষ্ট্র এরকম কোনো ভূমিকাই গস্খহণ করেনি বা নেয়নি। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি মূল্যবোধ ভিত্তিক ছিল না। কিন্তু বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি মূল্যবোধ ভিত্তিক এবং গণতন্ত্র মানবাধিকারকে তারা অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে রেখেছে।

 বাইডেন সরকার যদি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন আছে বলে মনে করতো- তাহলে নিশ্চয়ই ডেমোক্র্যাসি  সামিটে ঢাকা আমন্ত্রিত হতো। কূটনৈতিকপন্থার বাইরে গিয়ে তারা প্রয়োজনে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতেও ইচ্ছুক এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্র ও অধিকার নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেও প্রস্তুত।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধানাবলি অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিন সময়ের মধ্যে সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী পরবর্তী প্রণীত বিধানাবলির আলোকে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকলেও অতীত অভিজ্ঞতা ধারণা দেয়- ক্ষমতাসীনদের অধীন গঠিত নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের অধীন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষতার ছাপ রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে  কখনো সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেনি।

বাংলাদেশের সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। এ ব্যবস্থাটি প্রবর্তন পরবর্তী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন দু’টির প্রথমটিতে আওয়ামী লীগ এবং দ্বিতীয়টিতে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ তাদের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবির সাথী জামায়াতে ইসলামীসহ বর্জন করে। এর আগে উভয় দল এ দাবির সমর্থনে পঞ্চম সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। এর ফলশ্রুতিতে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের বর্জনের মুখে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ষষ্ঠ সংসদের মেয়াদকাল ছিল খুবই স্বল্পতম অর্থাৎ ১২ দিন। এই সময়ের মধ্যে এ সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিয়ে এ বিষয়ে আইন পাস করে ওই সংসদের বিলুপ্তি ঘটায়।

  এটাতো গেল আগের ঘটনা। কিন্তু পরবর্তী গত দুটি নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে তা জাতির কাছে পরিষ্কার। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল পরবর্তী দশম সংসদ নির্বাচন তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বর্জনে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিরোধীদলের বর্জনের কারণে ভোটার উপস্থিতি নগণ্য হলেও অনুগত নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের বাসনা অনুযায়ী সব ধরনের অনিয়ম অবজ্ঞা ও উপেক্ষা পূর্বক একপেশে ফলাফল প্রকাশ করে তাদের বিজয়ী ঘোষণা করে।

দশম সংসদটি সংবিধানসম্মত পন্থায় গঠিত না হলেও এটি তার মেয়াদ পূর্ণের প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন দল আগেকার মতো তাদের অধীন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের আগে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়- সমসুযোগ সংবলিত মাঠের প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নির্বাচনটিতে অংশগ্রহণ করলেও আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগের রাতে সচেতন দেশবাসীকে হতভাগ ও বিস্মিত করে ক্ষমতাসীনরা ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মেরে ভোটের বাক্স পূর্ণ করলে নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ের ভোট গ্রহণ প্রয়োজনীয়তা হারায়।

গত দুটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং বিষয়গুলো এমনই আলোচিত যে তা নিয়ে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তো বটেই সরকারি মহল এবং বিশ্বব্যাপী দৃষ্টির আওতায় চলে গিয়েছে সামনের নির্বাচনের বিষয়টি। নির্বাচনকেন্দ্রিক সরকার যেভাবেই চিন্তা করুক না কেন এবার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনার- উভয়কেই। সার্বিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কারো জন্যই স্বস্তির বিষয় নয়। সে জন্য এখানে ভালো সমাধানে পৌঁছাতে হবে এবং ইতিবাচক চিন্তা অবশ্যই করতে হবে।

এর পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বৃহৎ ধাক্কা তত্তেও¡ এগিয়ে যেতে হবে, যাতে করে ভালো ফল আসতে পারে। শুধু বিদেশিদের ভিসানীতি এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, জনগণকে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখাতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের দিকে এগোতে হবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির