post

দাওয়াতে দ্বীন প্রতিদিন

রাজিবুর রহমান

২৭ জানুয়ারি ২০২৩

হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন রাসূল সা.। নিজ জনপদের মানুষ অন্যায়-অত্যাচার, অশ্লীলতায় নিজেদেরকে ছেয়ে ফেলেছে। এহেন কোনো অপকর্ম নেই, যা তারা করছে না। এমনকি কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো জঘন্য অপকর্মটি নিত্যনৈমেত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের কাছে। চারদিকে জাহেলিয়াতের নিকষ আঁধার। মক্কার পুত-পবিত্র এক যুবক; যাঁকে সবাই চেনে সত্যবাদী হিসেবে, যাঁর কাছে নির্ভাবনায় আমানত রাখে সবাই, যিনি সকলের হৃদয়ে আপনার চেয়েও আপনজন হিসেবে করে নিয়েছেন তাঁর সুদৃঢ় অবস্থান, তিনি গভীর ভাবনায় নিমগ্ন। জাতির মুক্তির চিন্তায় অস্থির তিনি। কী করে তাদের ফেরানো যায় এসকল অপকর্ম থেকে ভেবে ভেবে আকুল হয়ে উঠছে তাঁর মন।

রমাদান মাসের এক গভীর রাতে তাঁর কাছে আবির্ভূত হলেন একজন আগন্তুক। এই আগন্তুক ছিলেন ফেরেশতাকূল শিরোমণি জিবরাইল আলাইহিস সালাম। তিনি নিয়ে এলেন ঐশী আলোকমশাল; আল কুরআন। নাজিল হলো সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত। আল কুরআনের প্রথম বাণীগুলোকে সঙ্গী করে ভীত-কম্পিত হয়ে হেরাগুহা থেকে নেমে এলেন নবিজি। প্রিয়তমা জীবনসঙ্গীনী খাদিজা রা.কে বললেন তাঁকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিতে। স্ত্রী তাঁকে সান্ত¡না দিতে চেষ্টা করলেন অনবরত। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠলেন তিনি। অনেকদিন কেটে গেলে একদিন আবার আকাশে দেখা মিলল সেই ফেরেশতার। ভীত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন নবিজি। বাড়িতে গিয়ে আবারও কম্বল আচ্ছাদিত হয়ে শুয়ে পড়লেন তিনি। তখন নাজিল হলো সূরা মুদ্দাসসিরের সেই আয়াতগুলো- ‘হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন।’ (সূরা মুদ্দাসসির : ১-২)

“উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন”- এটিই মূলত মানবজীবনের সত্যিকার মিশন। পথহারা, পথভোলা বনি আদমকে আলোর পথের সন্ধান দিতে হবে, সতর্ক করতে হবে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে। এর নামই দাওয়াত। কুরআনের ভাষায় ‘আল আমরু বিল মারুফ ওয়ান নাহী আনিল মুনকার।’ অর্থাৎ ভালো কাজের আদেশ করা ও অন্যায় থেকে নিষেধ করা। আদেশ ও নিষেধকে একত্রে আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ বা আল্লাহর দিকে আহ্বান বলা হয়। এ ইবাদাত পালনকারীকে বলা হয় দাঈ ইলাল্লাহ বা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী। ‘দাওয়াত’ শব্দের অর্থ আহ্বান করা বা ডাকা। আরবিতে ‘আমর’ বলতে আদেশ, নির্দেশ, উপদেশ, অনুরোধ, অনুনয় সবই বুঝায়। অনুরূপভাবে ‘নাহী’ বলতে নিষেধ, বর্জনের অনুরোধ ইত্যাদি বোঝানো হয়। কুরআন-হাদিসে এই দায়িত্ব বোঝানোর জন্য আরও অনেক পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আত-তাবলীগ’, ‘আন-নাসীহাহ’, ‘আল-ওয়াজ’ ইত্যাদি। 

যুগে যুগে সকল নবি-রাসূলগণকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েই পাঠানো হয়েছে পৃথিবীতে। তাঁরা ছিলেন একেকজন সতর্ককারী। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন- ‘(শুরুতে) সমস্ত মানুষ একই দ্বীনের অনুসারী ছিল। তারপর (যখন তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল, তখন) আল্লাহ নবি পাঠালেন; যারা (সত্যপন্থীদের) সুসংবাদ শোনাত এবং (মিথ্যাবাদীদেরকে) ভীতি প্রদর্শন করত। আর তাঁদের সঙ্গে সত্যসম্বলিত কিতাব নাজিল করলেন, যাতে তাঁরা মানুষের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়ে মীমাংসা করে দেয়।’ (সূরা বাকারা : ২১৩) সকল নবি-রাসূলই মানুষকে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহীদের এ বাণী তাঁদের প্রতি ওহিরূপে অবতীর্ণ করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। নূহ আলাইহিস সালাম নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিলেন- ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’ (সূরা নূহ : ২) মূসা আলাইহিস সালাম এবং হারুন আলাইহিস সালামকে আল্লাহ আদেশ করে বলেছিলেন- ‘অতএব, তোমরা ফেরাউনের নিকট যাও এবং বল, আমরা তো বিশ্বজগতের পালনকর্তার রাসূল।’ (সূরা শুআরা : ১৬) এমনিভাবে হুদ, সালেহ, লূত, শুআইব আলাইহিমুস সালাম নিজ নিজ উম্মতদেরকে এ দাওয়াত দিয়েছেন- ‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল। অতএব আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।’ (সূরা শুআরা : ১২৫-১২৬)

পূর্ববর্তী সকল নবিকে নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য পাঠানো হলেও সর্বশেষ নবি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.কে পাঠানো হয়েছে গোটা পৃথিবীর জন্য। সূরা মুদ্দাসিসরের মাধ্যমে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তাঁকে দাওয়াতের নির্দেশনা দিয়েছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ‘আপনি মানুষকে দাওয়াত দিন আপনার রবের পথে হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়।’ (সূরা নাহল : ১২৫) মক্কার প্রথম কয়েক বছর গোপন দাওয়াত শেষে প্রকাশ্য দাওয়াতের নির্দেশ এলো আল্লাহর পক্ষ থেকে। নবুওয়াতের তৃতীয় বছরে এই নির্দেশ পেলেন তিনি। একদিন ‘সাফা’ পর্বতের চূড়ায় উঠে অত্যন্ত আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে তুলে ধরলেন সত্যের আহ্বান। কিন্তু কেউই তাঁর আহ্বানে কর্ণপাত করল না। দাওয়াতের প্রকাশ্য এই ঘোষণার পরপরই কুরাইশদের পক্ষ থেকে শুরু হলো ভয়াবহ নির্যাতন আর বিরোধিতা। দরিদ্র এবং দুর্বল সাহাবিগণের ওপর চলতে লাগল জুলুমের স্টিমরোলার। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলল এই নির্যাতন। কিন্তু থেমে গেল না নবিজির দাওয়াতি কার্যক্রম। 

মাক্কী জীবনের একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছে সেখানে আর নতুন কারও ইসলাম গ্রহণের সম্ভাবনা দেখলেন না নবিজি। তাই তিনি যায়েদ রা.কে সঙ্গী করে হেঁটে হেঁটেই চললেন দাওয়াতের নতুন জনপদ তায়েফের পথে। আশা একটাই- সেখানে হয়তো দাওয়াত গ্রহণের কিছু মানুষ পাওয়া যাবে। কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষটির সঙ্গে তায়েফ যা করল, অনাদিকালের ইতিহাসের পাতায় তা লেখা হয়ে রইল কলঙ্কমিশ্রিত কালিতে। এই শহরটি ছিল মূলত বিত্তবানদের শহর। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে আমরা দেখতে পাই- তাওহীদি মিছিলের সম্মুখসারিতে দরিদ্র আর অসহায় মানুষদের মুখচ্ছবি। ধনী আর বিত্তবানরা সকল যুগে, সকল কালেই অসহযোগিতা করে এসেছে বিপ্লবী এই আন্দোলনকে। তায়েফ যেন সেই দৃশ্যপটেরই সূচনামঞ্চ। তারা কেবল নবিজির দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যানই করল না, দুষ্টু ছেলেদের লেলিয়ে দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করে ক্ষত-বিক্ষত করল নবিজির পবিত্র দেহ মুবারক। তায়েফের রাস্তা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষটির শরীর থেকে ঝরা রক্ত বুকে নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। কিন্তু একজন দাঈর চরিত্র লক্ষ্য করুন! এত সবের পরও নবিজি তাদের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন আল্লাহর কাছে। 

রাসূল সা.-এর পর তাঁর সাহাবিগণ দাওয়াতের এ ঝাণ্ডা বহন করে নিয়ে চলেন। তাঁদের মাধ্যমেই ইসলামের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বময়। বিদায় হজ্জের ভাষণের পর যাঁদের ঘোড়ার মুখ যেদিকে ঘোরানো ছিল, তাঁরা সেদিকেই ছুটতে শুরু করেন দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে। ইসলামের সুমহান আহ্বান ছড়িয়ে দেন ইথার থেকে ইথারে। তাঁদের ত্যাগ আর সীমাহীন পরি শ্রমের বিনিময়েই ইসলাম আমাদের পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের কাঁধেও অর্পণ করেছেন দ্বীনি দাওয়াতের এই কঠিন জিম্মাদারি। তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেন- ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল অবশ্যই থাকতে হবে, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে। সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৪) এই দায়িত্ব পালনের দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো মৌখিক সাক্ষ্য এবং অন্যটি বাস্তব সাক্ষ্য। দাওয়াতের ক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষী হওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মৌখিক সাক্ষ্যের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে সমাজে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারা। দাওয়াতের ক্ষেত্রে এটিই অধিক কার্যকর পদ্ধতি।

‘সার্বক্ষণিক দাওয়াত’কে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জীবনের মিশন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। একজন দাঈ সকল অবস্থাতেই দাঈ। তার হাঁটা-চলা, খাওয়া-দাওয়া, ওঠা-বসা, লেন-দেন, ঘুমানো; সবকিছুই দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। দাওয়াতি চরিত্র অর্জনের মাধ্যমে চলতে ফিরতে দাওয়াতের এ দায়িত্ব আমাদেরকে আঞ্জাম দিয়ে যেতে হবে। পরিবার  থেকে শুরু করে প্রতিটি বিচরণক্ষেত্রই হবে আমাদের জন্য দাওয়াতি ময়দান। বিশেষত ছাত্র অঙ্গনে দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে পালন করতে হবে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা। বাংলাদেশের প্রত্যেক ছাত্রের দরজায় কড়া নেড়ে পৌঁছে দিতে হবে দ্বীনের সুমহান বাণী। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু সময়পযোগী কৌশল গ্রহণ করা একান্ত জরুরি-

জনে জনে দাওয়াত : সকল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার ও সম্প্রীতি স্থাপনের মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ করা যায়। পরিচিত বন্ধু, ক্লাসমেট ও প্রতিবেশী ছাত্রদের মাঝে ক্রমধারা অবলম্বন কওে দাওয়াতি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে হেরার আলোয় উদ্ভাসিত হবে অগণিত তরুণের জীবন। 

মেধাবী ও প্রভাবশালীদের মাঝে দাওয়াতি কাজ : নবি-রাসূলগণ পরিকল্পিতভাবে সমাজের প্রভাবশালীদের মাঝে দাওয়াত পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। মক্কার দুজন প্রভাবশালী ব্যক্তি উমর ও আবু জেহেলের হেদায়েতের জন্য দুয়া করেছেন আমাদের প্রিয় নবিজি। উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইসলামে শামিল হয়ে সাহসের সাথে প্রকাশ্য দাওয়াতি কাজ শুরু করলেন। সাহাবিদের জন্য দাওয়াতি কাজের পরিবেশ উন্মুক্ত ও অবারিত হয়ে উঠল এরপরই। আমাদেরও সমাজের প্রভাবশালী অংশটিকে টার্গেট কওে সত্য ও সুন্দরের পথে নিরন্তর আহ্বান জানিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য থাকবে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, Single Digit-ধারী এবং ডিপার্টমেন্টে প্লেসধারী ছাত্রদেরকে আন্দোলনের পথে টেনে আনা। সাধারণভাবে সকল ছাত্রের মাঝে দাওয়াত পৌঁছানোর দায়িত্বও আমাদেরকে পালন করতে হবে।

গ্রুপভিত্তিক দাওয়াতি কাজ :  একক প্রচেষ্টার সাথে সাথে কয়েকজন মিলে এক সাথে দাওয়াতি কাজ নিয়মিত করতে পারলে দা’য়ী হিসেবে আমাদের যোগ্যতা বিকশিত হয়। দাওয়াতি কাজে জড়তা, ভয়ভীতি দূও হয়। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন গ্রুপ দাওয়াতি কাজে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে। ‘সোমবার’ সাপ্তাহিক গ্রুপ দাওয়াতি বার পালনের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সপ্তাহের যেকোন দিন গ্রুপ দাওয়াতি কাজ করা যেতে পারে।

দাওয়াতি প্রোগামাদী আয়োজন : অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক ছাত্রের মাঝে দাওয়াত পৌঁছানোর সর্বোত্তম কৌশল হলো বিভিন্ন দাওয়াতি প্রোগ্রাম আয়োজন করা। সাধারণসভা, কুইজপ্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞানের আসর, গল্প বলা প্রতিযোগিতা, দ্রুত বাদাম খাওয়া প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ক্যারিয়ার গাইড লাইন প্রোগ্রাম প্রভৃতি আয়োজনের মাধ্যমে দাওয়াত পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

মসজিদে দাওয়াতি কাজ : নামাজি ও চরিত্রবান ছাত্রদের সাক্ষাৎ মিলবে মসজিদে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে আদায় করে-এমন অনেক ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। নিয়মিত জামায়াতে নামাজ আদায়, মসজিদে দারসুল কুরআন, হাদিস পাঠ, কুরআন তালিম প্রভৃতি বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে দাওয়াতি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সাথে মসজিদবিমুখ ছাত্রদের মসজিদমুখী করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে।

দাওয়াতি উপকরণ ব্যবহার : অর্থসহ কুরআন, হাদিসগ্রন্থ ও ইসলামী সাহিত্য বিতরণ, দাওয়াত পৌঁছানোর সুন্দরতম কৌশল। অনেকক্ষেত্রে কাউকে সরাসরি সত্য বোঝানো কঠিন হয়। কিন্তু একটা সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে তার চিন্তার অসারতা দূর হয়ে যেতে পারে। কুরআন, হাদিস, ইসলামী সাহিত্য ছাড়াও ছাত্রদের উপযোগী দাওয়াতি উপকরণসমূহ সংগ্রহ ও বিতরণ করতে হবে। 

অনলাইন দাওয়াতি কাজ : অনলাইন বিশেষত সোশ্যালমিডিয়া আমাদেও জীবনের অত্যাবশ্যকীয় উপাদানে পরিণত হয়েছে। ইন্টারনেটের অগ্রগতির সাথে সাথে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও আমাদের দাওয়াতি কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মী অফলাইনে বহুকাল ধরে দ্বীন প্রচারের কাজ করছে। তবে তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের পরিকল্পিতভাবে অনলাইনেও দাওয়াতি কাজে অভ্যস্ততা বাড়াতে হবে।

বর্তমান সময়ের লাখো তরুণ; যারা নিজেদের ধ্বংসের অতল তলে তলিয়ে দিচ্ছে, যারা অশ্লীলতার কর্দমাক্ত পানিতে নিজেদের আকণ্ঠ নিমজ্জিত করেছে, যারা মাদকাসক্ত হয়ে নিজেকে এবং পরিবারকে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে নিপতিত করেছে, যারা আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে নিজেদেরকে নিয়ে গেছে জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে, যারা ভিডিও গেমসে বুঁদ হয়ে নষ্ট করে ফেলছে তাদের যৌবনের শ্রেষ্ঠতম দিনগুলো-তাদের সত্যের পথে, আলোর পথে ফেরাতে আমাদের বিরামহীন দাওয়াতের কাজ করে যেতে হবে। গ্রাম থেকে নগর, মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম; সবখানে পৌঁছে দিতে হবে হেরার আলোকরশ্মি। ঘুমন্ত ছাত্র-জনতাকে জাগিয়ে তুলে আগুয়ান করতে হবে নতুন দিনের পথে। তরুণ সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরই আগামীদিনের বাংলাদেশের কাণ্ডারী। নিজের দায়িত্ববোধকে যথার্থভাবে উপলব্ধি করে সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে পারলেই আমরা পৌঁছতে পারব মানজিলে মাকসুদে ইনশাআল্লাহ। তাই আজ আমাদের স্লোগান হোক- ‘দাওয়াতে দ্বীন প্রতিদিন।’

লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির