post

বিশ্বব্যাপী ইসলামের পুনর্জাগরণে সাইয়েদ কুতুবের ভূমিকা

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান

০৫ আগস্ট ২০২৩

সাইয়েদ কুতুব ঈমানি চেতনা, দ্বীনি প্রেরণা আর ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। তিনি ইতিহাসের অংশ নন, নিজেই এক আলোকিত ইতিহাসের রচয়িতা। স্বাভাবিকভাবে প্রতিটি মানুষ পৃথিবীতে আগমন করে, এর আলো হাওয়া ও বাতাসে বেড়ে ওঠে, নিজের জীবন এবং সমাজের জন্য কিছু দায়িত্ব পালন করে এরপর একদিন নিয়তির নির্দিষ্ট বিধানে এ পৃথিবী হতে তার অবসান ঘটে। ইতিহাসের পাতায় যারা স্বীয় কীর্তি আর ভূমিকার অনবদ্য স্বাক্ষর রাখেন তারা অন্য আর দশজন মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন নিয়ে দুনিয়ার ঘটনা মঞ্চে আবির্ভূত হন না। তারা ইতিহাসের অংশ হন না, বরং নিজেরাই ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সাইয়েদ কুতুব শহীদ এমনই এক ইতিহাসের অনবদ্য কারিগর। যিনি তাবৎ দুনিয়ার ঈমানি আলোয় আলোকিত যুব, তরুণ বৃদ্ধদের প্রেরণার মিনার। উজ্জ্বল আলোর মশাল নিয়ে যিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের চিত্র পাল্টে দিতে চেয়েছিলেন। জালিমের তখতে তাউসে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন মুমিনের কাছে কেবল তার জীবনই বড় নয়, বরং তার কাছে তার ঈমানই অনেক বড়। মুমিনের বিশ্বাসের ভিত মাটির অনেক গভীরে প্রোথিত আর এর উচ্চতা সীমাহীন সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় মঞ্জিলে মকসুদের পানে। জালিমের জ্বালানো অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আর তার ঔদ্ধত্য ম্লান হয়ে যায় বিশ্বাসী হৃদয়ের সাহসী প্রশ্বাসে। তাদের জুলুমের কারাগারের দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ে যায় মুমিনের তাওহিদি রণ হুঙ্কারে। পাহাড়সম বাধা প্রতিবন্ধকতা আর নির্যাতনের তুফানগুলো অকেজো হয়ে ফেরত যায় কুরআনের কর্মীদের ধৈর্যের বাঁধের কিনারে এসে। জুলুম, নির্যাতন সয়ে সয়ে তারা যে ইতিহাস সৃষ্টি করে যান, আগামী দিনের জন্য তা প্রেরণার আলোকোজ্জ্বল নিশানা বরদার হয়ে জাতিকে পথ দেখাতে থাকে। সাইয়েদ কুতুবরা প্রতি ক্ষণে ক্ষণে পৃথিবীতে আসেন না। হয়তো শতাব্দী বা বহু শতাব্দীতে তারা পৃথিবীর ইতিহাসে ধ্রুবতারা হয়ে আলোর চিহ্ন রেখে যান। যে আলোয় অনাগত দিনের জন্য পথ রচনা করেন বিশ্বাসী মানুষেরা। 


পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার দুঃসাহস সবাই করে না। সাহসের ভেলায় যারা সমুদ্রের অশান্ত গর্জনকে থামিয়ে দেয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারে তারাই পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দেয় অথবা পরিবর্তনের সূচনাবিন্দু রেখে যায়। সাইয়েদ কতুব রহ. এবং তাঁর সাথীরা ফাঁসির রশিতে ঝুলে প্রমাণ করে গেছেন মুমিনের জীবনে ঈমানের চেয়ে বড় কোনো সম্পদ নেই, শাহাদাতের চেয়ে উচ্চতম কোনো মর্যাদা নেই। প্রেরণার বাতিঘর এই মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম মিসরে হলেও গোটা দুনিয়ার যেখানেই কুরআনের আন্দোলন আছে সেখানকার মানুষেরা তাঁকে তাদের আপনজন মনে করেন। তিনি একদিকে ত্যাগ এবং কুরবানির অত্যুজ্জ্বল নমুনা রেখে গেছেন অপরদিকে তাঁর লেখনী যুগ ও কালের সীমানা পেরিয়ে মানুষকে ঈমানি চেতনায় শাণিত করছে।

আধুনিক জাহেলিয়াতের আবিষ্কার কমিউনিজম এবং ক্যাপিটালিজমের উত্থান যুগে সাইয়েদ কুতুবের জন্ম। তিনি অনেক কাছ থেকে আধুনিক দুনিয়ার ভোগবাদ্বী সমাজের কদর্যতা এবং তাদের ব্যর্থতাগুলো অবলোকন করার সুযোগ পেয়েছেন। একইভাবে কমিউনিজমের নাস্তিক্যবাদ্বী চিন্তার দর্শনকে জ্ঞান এবং যুক্তির আলোকে অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি তাঁর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার আলোকে কুরআন-হাদিসের যুক্তির মাধ্যমে এ সকল দর্শনের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরেছেন। তার লেখনীগুলোতে আছে চৌম্বকীয় আকর্ষণ। যে একবার তাঁর লেখার সাথে পরিচিত হয়ে যায়, সে দ্বীন ইসলামের একনিষ্ঠ কর্মীতে পরিণত হয়। যার কারণে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদ্বী মোড়ল এবং কমিউনিস্ট গোষ্ঠী সকলেই তাঁকে শত্রু আখ্যায়িত করেছে। ব্রিটিশ শাসনের সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর পোপতন্ত্রের ব্যর্থতার বেলাভূমিতে জন্ম নেয় সোস্যালিজম। বিশ্বব্যাপী ব্রিটিশ শাসনের পতনের প্রেক্ষাপটে  শূন্যস্থান পূরণ করে পশ্চিমা গণতন্ত্রের মোড়কে ভোগবাদ এবং পুঁজিবাদ। এর বিপরীতে ইসলামই যে একমাত্র কার্যকর জীবনব্যবস্থা তা তিনি বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। 


ইমাম হাসানুল বান্নার নেতৃত্বে ইখওয়ান তার কার্যক্রম শুরু করে ১৯২০ সালে আর সাইয়েদ কুতুবের জন্ম হয় ১৯০৬ সালে। ইখওয়ানের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সাইয়েদ কুতুব কৈশোর এবং তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে অবস্থান করছেন। তিনি ১৯০৬ সালে মিসরের উস্ইউত  জেলার মুশা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী কুতুব বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী ইবরাহিম কুতুব, মায়ের নাম ফাতিমা হোসাইন ওসমান। একটি দ্বীনি পরিবেশে তাঁর আঁখি উন্মীলিত হয়। পরহেজগার মায়ের আদর সোহাগ ভালোবাসার মাঝেই তিনি দ্বীনের মূল স্পিরিট অর্জন করেন। তার পিতাও ছিলেন একজন স্বনামধন্য আলেম। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।  পিতার ঐকান্তিক আগ্রহে শৈশবেই তিনি কুরআন হিফজ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি মিসরের রাজধানী কায়রোর তাজহিয়াতু দারুল উলুমে ভর্তি হন। তাজহিয়াতুল উলুমের শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি কায়রোর বিখ্যাত মাদরাসা দারুল উলুমে ভর্তি হন। তিনি ওই মাদরাসা থেকে ১৯৩৩ সালে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ওই মাদরাসায়ই অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। কিছুদিন অধ্যাপনা শেষে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কুল ইন্সপেক্টর নিযুক্ত হন। স্কুল ইন্সপেক্টর থাকা অবস্থায় উক্ত জেলায় নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই সরকারের মদদে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে ইখওয়ানের প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়। এ সময় তিনি ইখওয়ান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন এবং ইখওয়ান-প্রকাশিত পুস্তকাদি পাঠ করে এ আন্দোলন সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন। 

ইতোমধ্যে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপরে উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে দু’বছরের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স সমাপ্ত করে তিনি দেশে ফিরে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি পুঁজিবাদ্বী দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ভোগবাদ্বী ও বস্তুবাদ্বী সভ্যতার অবক্ষয়িত রূপ অবলোকন করেন। আধুনিক সভ্যতার অসারতা দেখে তাঁর হৃদয়ে দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে যে, একমাত্র ইসলামী সমাজব্যবস্থাই মানবসমাজকে কল্যাণের পথে নিয়ে যেতে পারে। আমেরিকা থেকে দেশে  ফিরেই তিনি ইখওয়ানের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত হয়ে ১৯৫৩ সালে এর সাধারণ সদস্য হন। ১৯৫৪ সালে তাঁকে ইখওয়ান পরিচালিত সাময়িকী ‘ইখওয়ানুল মুসলিমুন’-এর সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। পত্রিকাটিতে মিসর সরকারের সাথে ব্রিটিশ সরকারের চুক্তির কড়া সমালোচনা করা হয়। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি দ্বীর্ঘ কয়েকশ বছর ব্রিটিশ শাসনের ফলে সেই শাসন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে ওঠা মিসরের প্রশাসনে কর্মরত সেবাদাস শ্রেণি। ব্রিটিশ সরকারের চাপে এবং মিসরের প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের ইন্ধনে  কর্নেল নাসের সরকার পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয় এবং সাইয়েদ কুতুবকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে হাজার হাজার ইখওয়ান কর্মীকে গ্রেফতার করে তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের এমন চরম স্টিমরোলার চালানো হয়- ইতিহাসের এ নির্মম নির্যাতনের কিঞ্চিৎ আলোচনা পাওয়া যায় ইখওয়ানের কর্মী আহমদ রায়েফের লেখা ‘ফেরাউনের দেশে ইখওয়ান’ এবং জয়নাব আল গাজালীর লেখা ‘কারাগারে রাতদিন’ বইয়ে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চলে প্রহসনের বিচার। কোনো সাক্ষী প্রমাণ ছাড়াই হাজার-হাজার ইখওয়ান কর্মীকে নানা মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আইন ও মানবাধিকার পরিপন্থী কায়দায় কারাগারের অভ্যন্তরে তাদের ওপর চলে বর্বর ও পৈশাচিক নির্যাতন। সাইয়েদ কুতুবকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন তিনি ছিলেন প্রচণ্ড অসুস্থ। কিন্তু  সামরিক অফিসার তাঁকে ঐ অবস্থায় হাতে পায়ে শিকল পরিয়ে কোনো গাড়িতে না চড়িয়ে জেল পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য করে। অত্যধিক অসুস্থতার কারণে চলতে গিয়ে তিনি বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে এলে তিনি উচ্চারণ করতেন : আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ। জেলে  প্রবেশ করার সাথে সাথে হিংস্র কারা রক্ষীরা তাঁকে নির্মমভাবে মারপিট করতে থাকে এবং তাঁর ওপর একটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর লেলিয়ে দেয়। রক্তাক্ত বেদনায় জর্জরিত শরীর এসব শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করার মতো ছিল না। কিন্তু ঈমানের বলে বলীয়ান পাহাড়ের মতো অবিচল মর্দে মুজাহিদ এসব ভয়াবহ অত্যাচার অকাতরে সহ্য করেন। এ অবস্থায় তাঁর মুখে উচ্চারিত হতে থাকত আল্লাহ আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। 

কখনো লাঠি পেটা করা, কখনো রশিতে ঝুলিয়ে রাখা আবার কখনো প্রচণ্ড তাপ দেয়া এবং পরক্ষণেই ঠাণ্ডা পানি শরীরে ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমে বর্বর সামরিক অফিসাররা তাঁর ওপর নির্যাতনের এমন কোনো পন্থা নেই, যা অবলম্বন করেনি। এভাবে ধারাবাহিক নির্যাতনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে  তাঁকে সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই বছরের ১৩ জুলাই সামরিক আদালতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। পরে এ দণ্ড বাতিল করে তাঁকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক বছর কারাভোগের পর সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়-  তিনি যদি ক্ষমার আবেদন করেন, তাহলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ প্রস্তাবের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ প্রস্তাব শুনে অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হচ্ছি যে, মজলুমকে জালিমের নিকট ক্ষমার আবেদন জানাতে বলা হচ্ছে। আল্লাহর শপথ, যদি ক্ষমা প্রার্থনার কয়েকটি শব্দ আমাকে ফাঁসি থেকেও রেহাই দিতে পারে, তবুও আমি এরূপ শব্দ উচ্চারণ করতে রাজি নই। আমি আল্লাহর দরবারে এমন অবস্থায় হাজির হতে চাই যে, আমি তাঁর প্রতি এবং তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট। পরবর্তীকালে যতবারই তাঁকে ক্ষমা প্রার্থনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ততবারই তিনি একই জবাব দিয়েছেন। তিনি এ সময় বলেছেন, ‘যদি আমাকে যথার্থই অপরাধের জন্য কারারুদ্ধ করা হয়ে থাকে, তাহলে এতে আমি সন্তুষ্ট আছি। আর যদি বাতিল শক্তি আমাকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে থাকে, তাহলে আমি কিছুতেই বাতিলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো না।’ এর পরে সরকার পক্ষ থেকে তার কাছে প্রস্তাব আসে যে, তিনি যদি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হবে। সাইয়েদ কুতুব এ প্রস্তাবের জবাবে বলেন, ‘আমি দুঃখিত। মন্ত্রিত্ব গ্রহণ আমার পক্ষে সে সময় পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না মিসরের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামী ছাঁচে ঢেলে সাজাবার এখতিয়ার দেওয়া না হবে।

১৯৫৪ সাল থেকে  ১৯৬৪ পর্যন্ত তিনি কারাগারেই অন্তরীণ ছিলেন। এ বছর ইরাকের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম আরিফ কায়রো সফর করেন। উল্লেখ্য ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ইউরোপের অনেক দেশে সাইয়েদ কুতুবের লেখা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর লেখায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পৃথিবীর দেশে দেশে অসংখ্য মানুষ দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে শামিল হতে থাকেন। বিভিন্ন দেশে গড়ে ওঠে স্বতন্ত্র ধারার ইসলামী সংগঠন আবার কোথাও ইখাওয়ানের শাখা সংগঠন। ইরাকও এর ব্যতিক্রম নয়। সেখানকার আলিম ও উচ্চ শিক্ষিত লোকজন তাঁর লেখা পড়ে দ্বীনি আন্দোলনের কাজ করছিলেন অত্যন্ত তীব্রতার সাথে। ইরাকি আলিমদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইরাকি প্রেসিডেন্ট জামাল নাসেরের সাথে বৈঠককালে সাইয়েদ কুতুবকে মুক্তি প্রদানের অনুরোধ জানান। তাঁর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সাইয়েদ কুতুবকে কারামুক্তি প্রদান করে তাঁরই বাসভবনে অন্তরীণ করে রাখে। সাইয়েদ কুতুবকে কারাগার হতে মুক্তি দেওয়ার কারণে মিসরের কমিউনিস্টরা এবং তাদের মুরব্বিরা নাখোশ হয়। কমিউনিস্টরা আবার নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।  কমিউনিস্ট পার্টি জামাল নাসেরের সহযোগিতার জন্য একটি শর্ত আরোপ করে। তা হচ্ছে মিসর থেকে ইখওয়ানকে নির্মূল করতে হবে। ১৯৬৫ সালে জেনারেল নাসের রাশিয়া সফরের জন্য আমন্ত্রিত হন। এ সফরে তিনি মস্কোয় আরব ছাত্রদের এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন যে, মিসরের ইখওয়ানুল মুসলিমুন তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। 


মস্কো থেকে নাসের  দেশে ফেরার সাথে সাথেই কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন শুরু হয় । গ্রেফতার করা হয় হাজার হাজার ইখওয়ান কর্মীকে। পুনরায়  গ্রেফতার হন  সাইয়েদ কুতুব। এবার গ্রেফতারি পরওয়ানা দেখে নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, আমি জানি জালেমরা এবার আমার মাথাই চায়। তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই। নিজের মৃত্যুর জন্য আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমারতো বরং সৌভাগ্য যে আল্লাহর রাস্তায় আমার জীবনের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। আগামী দিনের ইতিহাস প্রমাণ করবে যে, ইখওয়ানুল মুসলিমুন সঠিক পথের অনুসারী ছিল, নাকি এই জালেম শাসকগোষ্ঠীই সঠিক পথে ছিল। শুধু তাঁকেই নয় তাঁর ভাই মুহম্মদ কুতুব,  বোন হামিদা কুতুব ও আমিনা কুতুবসহ বিশ হাজারেরও বেশিসংখ্যক লোককে  গ্রেফতার করা হয়েছিলো। এদের মধ্যে প্রায় সাতশ’ ছিলেন মহিলা। এ সময় সাইয়েদ কুতুব ও ইখওয়ানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয় তা হচ্ছে, ইখওয়ান একটি গোইন সশস্ত্র সংগঠন কায়েম করেছে। যারা মিসরের উন্নয়ন অগ্রগতি থামিয়ে দিতে চায়। যারা ট্রেন, বাস এবং কল কারখানায় হামলার জন্য সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর প্রধান হচ্ছেন সাইয়েদ কুতুব। তাঁরা সাইয়েদ কুতুবের লেখনী থেকে উদ্বৃতি দিয়ে উল্লেখ করে যে, তিনি মিসরের আইন ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে স্বীকার করে না। যারা সশস্ত্র ট্রেনিং নিচ্ছে তাদের অর্থ সহায়তা প্রদান করছেন সাইয়েদ কুতুব। সরকারের এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাইয়েদ কুতুব বলেন, আমাকে ১৯৫৪ সাল হতে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কারাগারেই অন্তরীণ করে রাখা হয়েছিলো। কারাগার হতে মুক্তির পর আমি নিজ গৃহেই অন্তরীণ ছিলাম। এ সময়ে এই সকল কার্যক্রম কীভাবে করলাম? কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষ এ সকল জবাব শোনার জন্য আদৌ প্রস্তুত ছিলো না। তারা প্রহসনের বিচারকার্যক্রম চালিয়ে যায়।

ইখওয়ানের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র জমা করা, গোইন সংগঠন পরিচালনা করা, নাশকতামূলক কার্যক্রম করার অসংখ্য মিথ্যা অভিযোগে বিচারকার্যক্রম তারা শুরু করে। মূলত এ সকল অভিযোগ সবই ছিলো সর্বৈব মিথ্যা। বিচার ছিল মূলত একটি প্রহসন। একটি আবদ্ধ কক্ষে তাদের বিচার চলতে থাকে। আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। অন্য দেশ থেকে আইনজীবীগণ আসামিপক্ষ সমর্থনের আবেদন করেন। মিসর সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে।  ফরাসি বার অ্যাসোসিয়েশনের ভূতপূর্ব সভাপতি উইলিয়ম থরপ ও মরক্কোর দু’জন আইনজীবী আসামিপক্ষ সমর্থনের জন্য যথানিয়মে আবেদন করেন। কিন্তু তা নামঞ্জুর করা হয়। সুদানের দু’জন আইনজীবী কায়রো পৌঁছে মিসরের বার অ্যাসোসিয়েশনে নাম রেজিস্ট্রি করে আদালতে হাজির হন। পুলিশ তাদের আদালত  থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় এবং তাদেরকে মিসর ত্যাগ করতে বাধ্য করে। সাইয়েদ কুতুব ও অন্যান্য আসামিগণ ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি ও  ফেব্রুয়ারি মাসে বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনালের সামনে বলেন যে, ‘অপরাধ স্বীকার’ করার জন্য তাদের ওপর অমানসিক দৈহিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সামরিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাদের এ কথায় আদৌ কর্ণপাত করেনি। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এ বিচারকাজ তাঁরা এগিয়ে নিয়ে যায়।  


১৯৬৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালের এ বিচার নামক নাটক মঞ্চস্থ হয়। যেহেতু বিচার ছিল একটি প্রহসনের নাটক, তাই কোনো তথ্য-উপাত্ত নয়, বরং  ট্রাইব্যুনালের বিচারক জামাল নাসেরের সাথে দ্বীর্ঘ আলোচনা করে ১৯৬৬ সালের ২১ আগস্ট রায় ঘোষণা করে। ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাত জনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। যাদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়, তারা হচ্ছেন, সাইয়েদ কুতুব, মুহাম্মদ ইউসুফ, আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল, শবরী আরাফাহ, আহমদ আবদুল মজিদ, আব্দুল আজিজ ও আলী উসমাভী। সাইয়েদ কতুবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ শোনার পর আদালত সংশ্লিষ্ট লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। অথচ সাইয়েদ কতুব রায় শোনার পর খুশি মনে বলে উঠলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। তিনি হাসতে হাসতে বললেন ‘‘আমার কাছে এটা কোনো বিষয় নয় যে, আমি কোথায় মৃত্যুবরণ করবো আর কীভাবে জালিমরা আমার মৃত্যুদণ্ড দেবে। আমিতো এতেই সন্তুষ্ট যে, আমি আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা হিসেবে শাহাদতের পেয়ালা পান করতে যাচ্ছি।’’ এ যেন আল্লাহর রাসূলের সাহাবি জুবায়ের রা. এর মা আসমা রা.-এরই উচ্চারণ। জালিম শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদে যাওয়ার আগে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রা. তাঁর মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, সাক্ষাতের সময় তাঁর শরীরে লোহার বর্ম ছিল। আসমা রা. তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, বর্ম পরেছো কেন? আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের উত্তর দিলেন, ‘মা, আমার শাহাদাতের পর যদি আমার শরীর ক্ষত বিক্ষত করা হয়, এ সংবাদ শুনে আপনি কষ্ট পেতে পারেন তাই বর্ম পরেছি, যাতে শত্রুরা আমার লাশের কোনো বিকৃতি ঘটাতে না পারে’। ছেলের জবাব শুনে আসমা রা. বলেছিলেন, ‘বেটা কোনো বকরি বিক্রি করার পর ক্রেতা সেই বকরি আগুনে ঝলসাবে, নাকি কাবাব বানাবে তাতে বিক্রেতার কী আসে যায়! মুমিন তো জীবন আল্লাহর কাছেই বিক্রি করে দিয়েছে’। তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয় ২৯ আগস্ট ১৯৬৬। সাইয়েদ কুতুব হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে উঠলেন। চারদিক থেকে ভেসে আসছে ফজরের আজান। এমনি এক পবিত্র পরিবেশে কার্যকর করা হলো ইতিহাসের ঘৃণ্যতম আয়োজন, সাইয়েদ কুতুব ও তাঁর সঙ্গীদের ফাঁসি। সারা বিশ্বের অগণিত মানুষকে কাঁদিয়ে সাইয়েদ কুতুব পৌঁছে গেলেন মহান মাবুদের সান্নিধ্যে। 


সাইয়েদ কুতুবের শাহাদাতের মাধ্যমে জালিমরা মনে করেছিলো সব কিছু শেষ হয়ে যাবে কিন্তু যে আলো এক মহা হেরার রাজতোরণ থেকে আগত সেই আলোর কোনো লয় নেই, ক্ষয় নেই। যারা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত তাদেরকে ফাঁসি দিয়ে শেষ করা যায় না। সাইয়েদ কুতুবের শাহাদাত গোটা দুনিয়ায় ইসলামী বিপ্লবের ঝাণ্ডাবাহীদের নব চেতনায় শাণিত করেছে। তাঁর শাহাদাত, অমিত ত্যাগ আর শাহাদাতের আগ পর্যন্ত কঠিন কঠোর নির্যাতনের পরেও ঈমানের দৃঢ়তা যুগ যুগান্তরে বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের পথে জাতিকে পথ দেখাবে। সাইয়েদ কুতুবের লেখনী যুগ ও কালের গণ্ডি পেরিয়ে তা অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছে। মিসরে ইখওয়ানকে নিষিদ্ধ করার কারণে এ আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দুনিয়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশে যে ইসলামী আন্দোলন তা সবই ইখওয়ানের শাখা কিংবা ইখওয়ানের প্রেরণা এবং চেতনায় পরিচালিত। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন হামাস ইখওয়ানেরই শাখা সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাতার, কুয়েত, মরক্কো, সিরিয়া, লেবানন, সুদানসহ আরব ও অফ্রিকার অধিকাংশ দেশে ইখওয়ানের নামে অথবা ভিন্ন নামে সংগঠন রয়েছে। সিরিয়া এবং সুদানে ইখওয়ান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। তুরস্কের ইসলামী সংগঠনগুলো অনেকাংশে ইখওয়ানের কার্যক্রম দ্বারা উদ্বুদ্ধ।  ইখওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্না শাহাদাত বরণ করেছেন, সাইয়েদ কুতুবসহ শত শত নেতা কর্মীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করা হয়েছে কিন্তু এ আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত। মালাক্কা থেকে সোমালিয়া পর্যন্ত। শুধু আরব আর আফ্রিকা নয়। ইউরোপের দেশে দেশে সাইয়েদ কুতুবের সাহিত্য আলোর ঝলক ছড়াচ্ছে। তার রচনার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে, কালজয়ী তাফসীর- ‘তাফসির ফি জিলালিল কুরআন’। ফি জিলালিল কুরআন আরবি ভাষায় রচিত হলেও পৃথিবীর অসংখ্য ভাষায় এ তাফসিরের অনুবাদ হয়েছে। তাঁর রচিত পুস্তকের মধ্যে বিখ্যাত একটি ‘মাআলিমু ফিত তরিক’ যার ইংরেজি অনুবাদের নাম THE MILE STONE বাংলা ভাষায় এ বইটি অনুবাদ করেছেন জনাব আবদুল খালেক। এ বইয়ে লেখক কালিমা তাইয়্যেবা এবং আল্লাহর একত্ববাদের বিপ্লবী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। 

সাইয়েদ কুতুব তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনে বিখ্যাত তাফসির ফি জিলালিল কুরআন রচনা ছাড়াও কুড়িটির বেশি বই লিখেছেন। তাঁর রচনাগুলো আরবি সাহিত্যে অনন্য সংযোজন। শিশুদের জন্য তাঁর একটি বই হচ্ছে, ‘আত তিফলু ফিল কারইয়া। যার ইংরেজি অনুবাদের নাম A BOY FROME VILLAGE। তিনি একজন কবি, গল্পকার এবং উপন্যাস রচয়িতাও। তাঁর এ সকল রচনা হতে পারতো মিসরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবশ্যকীয় পাঠ্য। কিন্তু যারা তাঁর সাহিত্যকে যমদূত মনে করে, তারা তো এ সাহিত্য সহ্য করতে পারে না।

সাহিত্য একটি আদর্শের জন্য  সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যা যুগ থেকে যুগান্তরে প্রেরণা দেয় বিপ্লবী কাফেলার কর্মীদের। প্রেরণার বহ্নি জ্বালায় এক হৃদয়  থেকে অন্য হৃদয়ে। সাইয়েদ কুতুব নেই, তাঁর চিন্তার মানস আলো জ্বেলে চলছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। তাঁর শাহাদাত আর দৃঢ়চেতা ঈমানের আলোচনা হয় দেশ হতে দেশান্তরে। যা শুনে মানুষ নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাইয়েদ কুতুবের চিন্তা ও দর্শন ঘুমিয়ে পড়া নর-শার্দূলদের জাগিয়ে তোলে। নব প্রভাত আনার জন্য জাগিয়ে তোলে যুগের নকিবদের। ইখওয়ানের প্রেরণার বাতিঘর ইমাম হাসানুল বান্না ছিলেন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দায়ী। তিনি তাঁর বক্তৃতা আর ছোটো ছোটো পঙক্তিমালা দ্বারা জনগণকে এ আন্দোলনের দিকে আকৃষ্ট করেছেন। তিনি নিজে তেমন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেননি। আন্দোলনের এ অভাব পূরণ করেছেন সাইয়েদ কুতুব শহীদ। সাইয়েদ কুতুবের লেখনীতে কোনো জড়তা, আপসকামিতা, নতজানু নীতি স্থান পায়নি। ঈমানের বলে বলীয়ান একজন সিংহ শার্দূলের বক্তব্য তাঁর লেখার প্রতিটি লাইনের মূল উপজীব্য। পাশ্চাত্য দর্শন পুঁজিবাদ, গণতন্ত্র, সোস্যালিজম, ন্যাশনালিজম সবই তাঁর দৃষ্টিতে গায়রুল্লাহ। গায়রুল্লাহর বিপরীতে এক আল্লাহর দাসত্ব এবং তাঁর রবুবিয়াতের প্রতিষ্ঠাই মানব মুক্তির একমাত্র পথ। এ কথাগুলো হৃদয় আকর্ষী ভাষায় তিনি তুলে ধরেছেন। অর্ধ শতাব্দী পার হয়ে গেছে সাইয়েদ কুতুবকে শহীদ করা হয়েছে, কিন্তু এখনো তিনি কালের সাক্ষী হয়ে চিন্তা আদর্শের মাধ্যমে বেঁচে আছেন ইসলাম প্রতিষ্ঠাকামী প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে। তিনি জাগরূক থাকবেন পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে ততদিন। 

লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

তথ্যসূত্র :

১. উইকিপিডিয়া

২. ইখওয়ানের ওয়েবসাইট

৩. ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা - সাইয়েদ কুতুব

৪. ইখওয়ানুল মুসলিমুনের ইতিহাস- ইউসুফ আল কারযাভী

৫. ফেরাউনের দেশে ইখওয়ান- আহমদ রায়েফ

৬. কারাগারে রাতদিন- জয়নাব আল গাজালী

আপনার মন্তব্য লিখুন

Muhammad Ridwanur Rahman miazi

- 9 months ago

মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই মনীষীর রেখে যাওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন।

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির